Wednesday, 12 August 2026

ভালোবাসা খোঁজে নিরাপত্তা- ওয়েন ও মজির অসম্ভব বন্ধুত্বের গল্প

ওয়েন ও মজির গল্প: কেনিয়ার এক ছোট জলহস্তী ও এক বৃদ্ধ কচ্ছপের অসাধারণ বন্ধুত্ব

দুর্যোগ 

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর, ভারত মহাসাগরের গভীরে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয় এক ভয়াবহ সুনামি। এই সুনামির ঢেউ এশিয়া ও আফ্রিকার বহু উপকূলীয় অঞ্চল ধ্বংস করে দেয়। মানুষের পাশাপাশি অসংখ্য প্রাণীও এই বিপর্যয়ের শিকার হয়। কেনিয়ার উপকূলের কাছে সাবাকি নদীর (Sabaki River) অঞ্চলে একটি ছোট জলহস্তী তার পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র কয়েক মাস। প্রচণ্ড ঢেউ তাকে তার মা এবং দলের থেকে দূরে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সে একটি ছোট প্রবাল প্রাচীরের কাছে আটকে পড়ে। ভীত, ক্লান্ত এবং একা সেই ছোট্ট জলহস্তীটি তখন সম্পূর্ণ অসহায় ছিল। স্থানীয় মানুষ তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভয় পেয়ে যাওয়া ছোট জলহস্তীটিকে বাঁচানো সহজ ছিল না। অনেক চেষ্টার পর অবশেষে উদ্ধারকারীরা তাকে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন। তার নাম রাখা হয় ওয়েন, একজন উদ্ধারকারীর নাম অনুসারে। কিন্তু ওয়েনের জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষত তখনও রয়ে গিয়েছিল—সে তার মা এবং নিজের পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

হ্যালার পার্কে নতুন জীবন

ওয়েন কে নিয়ে যাওয়া হয় কেনিয়ার মোম্বাসার কাছে অবস্থিত হ্যালার পার্ক (Haller Park) নামের একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে। সেখানকার কর্মীরা জানতেন যে একটি ছোট জলহস্তীর জীবনে মায়ের ভূমিকা কত গুরুত্বপূর্ণ। জলহস্তীরা খুব সামাজিক প্রাণী। ছোট জলহস্তীরা তাদের মায়ের কাছ থেকে নিরাপত্তা, আচরণ এবং বেঁচে থাকার শিক্ষা পায়। কিন্তু ওয়েনের জন্য সেখানে কোনো ছোট জলহস্তী ছিল না। তারপর ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা। হ্যালার পার্কে বাস করত একটি বিশালাকার আলদাব্রা দৈত্যাকার কচ্ছপ, যার নাম ছিল মজি। মজির বয়স ছিল প্রায় ১৩০ বছর। সোয়াহিলি ভাষায় Mzee শব্দের অর্থ হলো "বৃদ্ধ মানুষ" বা "প্রবীণ"। সে ছিল শান্ত, ধীরগতির এবং একাকী জীবনযাপনে অভ্যস্ত। অন্যদিকে ওয়েন ছিল ছোট, চঞ্চল এবং সদ্য পরিবার হারানো একটি শিশু। আকৃতি , প্রকৃতি, স্বভাব, বয়স, জৈবিক কোনো মিলই তাদের মধ্যে ছিল না।

কিন্তু প্রকৃতি কখনও কখনও এমন সম্পর্ক তৈরি করে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারে না।

যখন প্রথমবার ওয়েনকে মজির কাছে নিয়ে যাওয়া হলো, সে অবাক করার মতোভাবে সরাসরি মজির কাছে চলে গেল। সে মজির পাশে দাঁড়াতে শুরু করল। মজিকে অনুসরণ করতে লাগল। তার কাছেই ঘুমাতে লাগল। পরিচর্যাকারীরা বিস্মিত হয়ে দেখলেন, ছোট জলহস্তীটি যেন এই বৃদ্ধ কচ্ছপের মধ্যেই তার হারিয়ে যাওয়া মায়ের নিরাপত্তা খুঁজে পাচ্ছে।

আসলে ওয়েন তখন বুঝত না যে মজি অন্য প্রজাতির প্রাণী।শিশুরা হয় এ পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর , সবথেকে পবিত্র সৃষ্টি। তারা ভালোবাসা অন্য কোনো কিছু দিয়ে বিচার করতে যায়না। তারা তাকেই আঁকড়ে ধরে যার কাছে তারা নিরাপদ বোধ করে। মজির মনে কি চলেছিল কেন সে ওই বৃদ্ধ কচ্ছপ এর কাছে থাকতে শুরু করেছিল এর উত্তর আমার জানা নেই। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ওয়েন হয়তো মজিকে তার মায়ের মতো ভেবেছিল। কারণ মজির বড় শরীর, শান্ত স্বভাব এবং নিরাপদ উপস্থিতি ওয়েনকে তার হারানো পরিবারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল।সে হয়তো শুধু বোধ করেছিল, "এর পাশে থাকলে আমি নিরাপদ অনুভব করি।"

এক অসম্ভব বন্ধুত্ব

ধীরে ধীরে মজিও ওয়েনকে গ্রহণ করে নিল। তাদের দেখা যেত একসঙ্গে হাঁটতে, একসঙ্গে বিশ্রাম নিতে, পাশাপাশি ঘুমাতে, একে অপরের কাছাকাছি থাকতে। ওয়েন মাঝে মাঝে মজির গায়ে মাথা ঘষত বা তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকত। আর ধীর, শান্ত স্বভাবের মজি যেন তার এই ছোট্ট বন্ধুর উপস্থিতিতে অভ্যস্ত হয়ে গেল । দর্শনার্থীরা হ্যালার পার্কে এসে অবাক হয়ে দেখতেন—একটি বিশাল শিশুসুলভ জলহস্তী একটি বৃদ্ধ কচ্ছপের পিছনে পিছনে ঘুরছে, যেন তারা একই পরিবারের সদস্য। তাদের ছবি সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই গল্পে আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন, কারণ এটি শুধু প্রাণীদের গল্প ছিল না—এটি ছিল এক অপূর্ব প্রাপ্তির গল্প , হারিয়ে পাওয়ার মতন ভালোবাসা। জীবন যে ভালোবাসা ছাড়া চলেনা। আর ভালোবাসা আসে সেখানেই যেখানে নিরাপত্তা বোধ থাকে। যেখানে এলে অস্বস্তি নয়, স্বস্তিতে শ্বাস নেওয়া যায়। ভালোবাসা হলো সেই স্পেস যেখানে অন্যজনের সাহচর্যে মানুষ আসলে নিজেকেই খুঁজে পায়। শিশুকাল হচ্ছে সবথেকে স্পন্টেনিয়াস এক সময়। মনের ওপরে তখনো চারপাশের প্রভাব পড়তে শুরু করেনা। ছোট্ট প্রাণ আপনা হতেই যায় সেখানে যেখানে সে স্বচ্ছন্দ। বৈজ্ঞানিকভাবে দেখলে, ওয়েন এবং মজির সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক। জলহস্তীরা সাধারণত নিজেদের প্রজাতির মধ্যেই সামাজিক বন্ধন তৈরি করে। একটি কচ্ছপ কোনোভাবেই একটি জলহস্তীর মায়ের বিকল্প হতে পারে না। কিন্তু ওয়েন তার সঙ্গেই থাকতে শুরু করে যার কাছে সে স্বচ্ছন্দ। আর তার এই ইন্নোসেন্ট ভালোবাসার স্রোতে মজির মতন বৃদ্ধ কচ্ছপের্ পা মেলাতেও বিলম্ব হয়নি।  স্নেহ যে নিম্নগামী।  তার চরিত্রই হচ্ছে বয়ে চলা। এই ছোট জলহস্তী এবং একটি বৃদ্ধ কচ্ছপ প্রমাণ করেছিল যে বন্ধুত্বের জন্য একই রকম হওয়ার প্রয়োজন নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওয়েন বড় হতে লাগল। একটি পূর্ণবয়স্ক জলহস্তী অনেক বড় এবং শক্তিশালী হয়। তাই আকৃতিগত ভাবে তার থেকে অনেক ছোট মজির জন্য তার সঙ্গে থাকা নিরাপদ ছিল না। পরিচর্যাকারীরা ধীরে ধীরে ওয়েনকে অন্য জলহস্তীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, যাতে সে নিজের প্রজাতির সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। পরে ওয়েন একটি স্ত্রী জলহস্তী ক্লিও (Cleo)-র সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করে এবং নিজেদের স্বাভাবিক জীবনাবর্তে চলতে শুরু করে। 

ওয়েন ও মজি আর আগের মতো সবসময় একসঙ্গে থাকেনি, কিন্তু তাদের বন্ধুত্বের গল্প মানুষের মনে চিরকাল থেকে গেছে।

🔻 Savfk - Journey To The Stars is under a YouTube Free license.    / savfkmusic   Music powered by BreakingCopyright:    • ⭐ Copyright Free Epic Music - "Journey To ...   🔎 Find more music here: https://breakingcopyright.com 🔺



Wednesday, 5 August 2026

GOd Help them who help themselves . ভগবান তাকেই সাহায্য করে, যে নিজে নিজেকে সাহায্য করে

 আমাদের জীবনে অনেক রকম phase আসে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রত্যেক মুহূর্তের নিজস্ব কিছু কারণ থাকে, কিছু purpose যা অনেক পরে আমরা বুঝতে পারি। কখনো পারি আবার কখনো হয়তো পারিনা , কিন্তু থাকে। আজ শুনবো এমন একজনের কাহিনী, যাঁর তৈরি চরিত্র আজ আমাদের সবার চেনা, কিন্তু এই মানুষটি ই একসময় দীর্ঘ সময় ধরে clinical ডিপ্রেশন এর মধ্যে দিয়ে চলেছিলেন। একাকী। শুধু যে নিজে একা চলছিলেন তাই নয়, এই াক চলার সময় তাঁর ওপরে ছিল আরো এক ছোট্ট মানুষের দায়িত্ব। তাঁর মেয়ে। যে এতই ছোট্ট যে এই পৃথিবীতে শুধুই তার মাকে চেনে। এমন অবস্থায় কি করলেন তিনি? ঘুরে দাঁড়ালেন। পৃথিবী আর একবার প্রমান করলো সেই বিখ্যাত উক্তি কে , GOd Help them who help themselves . ভগবান তাকেই সাহায্য করে, যে নিজে নিজেকে সাহায্য করে।  আজ শুনবো হ্যারি পটার এর স্রষ্টা J K Rowling এর জীবনের সেই কাহিনী। Rowling বড় হয়েছিলেন England -Wales boarder এর এক ছোট্ট গ্রামে। ছোট থেকেই তাঁর লেখার শখ ছিল। ৬ বছর বয়সে Rabbit বলে এক ছোট্ট খরগোশের গল্প দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু , পরে তাঁর ১১ বছরে তিনি প্রথম নভেল লেখেন। এর পরে তিনি ফ্রেঞ্চ নিয়ে পড়াশুনো করেন। ১৯৯০ সালে তাঁর মায়ের মৃত্যুর পরে তিনি পর্তুগাল এ চলে যান। তিনি বিয়ে করেন ও তাঁর মেয়ে জেসিকার জন্ম হয় সেখানেই। তাঁর সেই বিবাহ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিচ্ছেদের পর তিনি ছোট মেয়েকে নিয়ে আবার ইংল্যান্ডের edinghbara শহরে ফিরে আসেন। এই সময়ে তিনি এক ভয়ঙ্কর কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছিলেন। চাকরি ছিলোনা, অর্থনৈতিক কষ্ট, এছাড়া আমরা যাঁরা মা তাঁরা জানি একজন ছোট্ট মানুষ কে বড় করা খুব সহজ কথা নয় আর সেখানে একা হাতে একজন সিঙ্গেল mother হয়ে তাকে baro করা যে কতটা কঠিন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। মানসিক ভাবে তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘ না ঘুম, প্যারেন্টিং এর অবিছেদ্ধ্য অঙ্গ রাত জাগা , সঙ্গে ভীষণ একাকিত্ব, তার সঙ্গে লণ্ডন এর মারাত্মক শীতল , গ্লুমি weather , একাকী ঘরে ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে তিনি ক্রমশ ডুবে যাচ্ছিলেন অবসাদের অন্ধকারে।  এমন ই একসময়, একদিন ম্যানচেস্টার থেকে লন্ডন যাওয়ার রাস্তায় ট্রেনে তাঁর মাথায় আসে হ্যারি - এলোমেলো কালো চুল এর , গোল চশমা পড়া,  কপালে বজ্রপাতের মতো দাগ থাকা , এক ভীষণ লোনলি এক শিশু, যে হটাৎ জানতে পারে সে আসলে একজন জাদুকর। তাঁর কাছে তখন কোনো কাগজ কলম ছিলোনা, আর লজ্জায় তিনি কাউকে চাইতেও পারেননি তখন তা, শুধু নিজের ভাবনার স্রোতে নিজেকে ছেড়ে দিয়েছিলেন, একের পর এক মনের মধ্যে তৈরি হয়েছে  চরিত্রগুলো—হ্যারি, রন, হারমায়োনি, তাঁদের স্বভাব, বন্ধুত্ব, হগওয়ার্টসের পুরো জাদুর আশ্চর্ষ সে জগত। রাউলিং পরে বলেছিলেন, হ্যারি যেন হঠাৎ করেই তাঁর মনের মধ্যে এসে উপস্থিত হয়েছিল। তাঁর প্রথম দিনের প্রথম কিছু চরিত্র ন্যাপকিনের দেওয়ালেই প্রথম লিপিবদ্ধ হয়। এর পরের প্রায় পাঁচ বছর তিনি তাঁর সেই প্রিয় জাদুগরকে গড়ে তুলতে থাকেন, এক ছোট্ট একাকী শিশু যে সিঁড়ির কোণে থাকতো, একাকী , অন্ধকারে, সে নিজের ভেতরের অসীম ক্ষমতা উপলব্ধি করে কিভাবে ধীরে ধীরে একদিন খুঁজে পে তার পরিবার, গড়ে তুললো বন্ধুত্ব। ভয়ের বদলে সাহস এর লড়াই, ক্ষমতার বদলে ভালোবাসার শক্তি দিয়ে গড়েউঠলো তার চারপাশের জগৎ। পরবর্তী কালে তিনি বলেছিলেন, সেই সময় তাঁর জীবন ছিল খুব কঠিন, কিন্তু লেখালেখি তাঁকে আশা ও বেঁচে থাকার শক্তি দিয়েছিল।ঠান্ডা ঘরের একাকী অন্ধকার থেকে পালিয়ে দিনের অনেক সময় কখনো  তিনি ক্যাফেতে বসে হ্যারি পটার লিখতেন, আর তাঁর ছোট মেয়ে পাশের স্ট্রলারে ঘুমাত। এই সময়ের সঙ্গে জড়িত একটি বিখ্যাত স্থান হলো The Elephant House, যেখানে তিনি হ্যারি পটারের প্রথম দিকের বেশ কিছু অংশ লিখেছিলেন।

১৯৯৫ সালে তাঁর প্রথম বই Harry Potter and the Philosopher's Stone এর পাণ্ডুলিপি শেষ করার পর রাউলিং বিভিন্ন প্রকাশকের কাছে সেটি পাঠান। কিন্তু বারবার প্রত্যাখ্যাত হন। প্রায় এক ডজন প্রকাশক তাঁর লেখা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে Bloomsbury Publishing বইটি প্রকাশ করতে রাজি হয়। কথিত আছে, প্রকাশনা সংস্থার পরিচালকের ছোট মেয়ে প্রথম কয়েকটি অধ্যায় পড়ে এতটাই পছন্দ করেছিল যে সে বইটি প্রকাশ করার জন্য উৎসাহ দেয়। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম বই: Harry Potter and the Philosopher's Stone. তাঁর আসল নাম J Rowling , K  তাঁর দিদিমায়ের নামে। এই পিতৃতান্ত্রিক সমাজে পাবলিশার্স রা কিছুটা সন্দিহান ছিলেন এই নিয়ে যে একজন মহিলা লেখিকার লেখা গল্প যুবক সমাজে সমাদৃত হবে কিনা। তাঁরা অনুরোধ করেন তাঁকে তাঁর নিজের নাম Joanna ব্যবহার না করে নামের ইনিশিয়ালস ব্যবহার করাতে , তাই তিনি J K লিখতে শুরু করেন।

হ্যারি পটার এর সৃষ্টি ও তাঁর স্রষ্টার অপূর্ব দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে তুলে ধরে ভেঙে না পড়ার এক অমোঘ কাহিনী। শেখায়, জীবনে বড় কিছু করতে গেলে ছোটোখাটো কষ্ট নিয়ে অভিযোগ না করে তাকে উপেক্ষা করতে হয়। নিজেকে নিয়োজিত করতে হয় এমন কিছুতে যাতে তুমি সবচেয়ে ভালো আর সবচেয়ে ভালো থাকো। কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়েই হয়তো বড় সৃজনশীলতার ভীত লুকিয়ে থাকে। যা সহযেই করা যায়, পাওয়া যায়, যার মধ্যে কোনো চ্যালেঞ্জ থাকেনা, তা অনেক সময় ই বড় কিছু পেতেও দেয়না। rouling ভেঙে পড়তে পারতেন তাঁর জীবনের কঠিন সময়ে। কোনোরকমে মেয়েকে বড় করতে করতে আজীবন নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ আর আক্ষেপ করতেই পারতেন। কিন্তু তিনি তাই নিয়ে থেমে থাকেননি , অভিযোগ করলেই শুনবেই বা কে সে অভিযোগ। অভিযোগ না করে , নিজেকে টেনে বের করে এনেছেন নিজেই। হ্যারি পটার লেখার পরে প্রায় গোটা পৃথিবী জুড়ে প্রায় কয়েকশো মিলিয়ন কপি বিক্রি হয় এই বই এর। এই লেখা ইতিহাসে এক সফল সাহিত্যকর্ম। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁর গল্পে সাহস, আশা এবং সান্ত্বনা খুঁজে পেয়েছে। হ্যারি পটার এমন একজন মানুষের সৃষ্টি, যিনি নিজে একাকীত্ব ও কষ্টের স্বাদ পেয়েছিলেন। আর সেই কারণেই তিনি এমন একটি জগত তৈরি করেছিলেন, যেখানে কোনো শিশুকে কখনও সম্পূর্ণ একা মনে হয় না। হ্যারি পটার গল্পের শুরু হয় এমন একটি শিশু নিয়ে, যাকে কেউ ভালোবাসত না এবং যে সিঁড়ির নিচে ছোট একটি অন্ধকার ঘরে থাকত। কিন্তু পরে সে আবিষ্কার করে যে তার নিজের একটি মূল্য আছে, তারও একটি জায়গা আছে পৃথিবীতে।আর এই অনুভূতি ই বিশ্বের মন জয় করে নিয়েছিল। একজন প্রত্যাখ্যাত, সংগ্রামী লেখিকার কল্পনা শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছিল। যখন কঠিন পরিস্তিতি আসে, তখন অনেক সময় ই আমাদের মনে হয় ইসঃ, বেশ ম্যাজিক হতো কিছু একটা আমাদের জীবনে। কিন্তু জাদুর ছড়ি হাতে উঠে আসেনা। ম্যাজিক আসলে হয়না , সেই সব ম্যাজিক আসলে লুকিয়ে থাকে, আমাদের ই মধ্যে। আমাদের মননে, কর্মে, প্রতিফলিত হয় সেই জাদুর ছড়ি। যত beautifully  আর gracefully আমরা আমাদের চারপাশের সমস্ত জটিলতাকে সমাধান করতে পারি, তত বড় জাদুকর হয়ে উঠতে পারি আমরা। লেটস ওয়েলকাম this ম্যাজিক ওয়ার্ল্ড। 





অপেক্ষা | পূনর্মিলন RUTH ও MINKA-র সত্য ঘটনা | জীবন থেকে নেওয়া জীবনের গল্প| the waiting

 এবছরের মতন দেবী দূর্গা ফিরে গেছেন কৈলাশে। অস্তমিত হয়েছে কোজাগরীর চাঁদ ও । দূর্গা পুজো আসলে মা মেয়ের গল্প , মেয়ের তার মা এর কাছে ফিরে আসা। আ...