Monday, 19 July 2021

গত বছরে প্যান্ডেমিক এর মধ্যে এক নতুন দেশের নতুন শহরে এসে একলা ঘরবন্দি হয়ে যখন কাজ শুরু করলাম তখন কাজে মনবসানোর জন্যে আশ্রয় নি আমার সেই ছোটবেলার পুরোনো পন্থায়, অর্থাৎ গল্পের বই এর। কিন্তু সময়টা আলাদা, ছোট বেলার মতন সেই অখণ্ড অবসর এখন তো আর নেই। তাই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে খুঁজে ফেললাম বেশ কিছু অডিও বুক এবং শ্রুতি বলে এক প্রবাসী বাঙালির পছন্দের তালিকাতে নিজের পছন্দের লেখক ও লেখণীদের পেয়ে যার পারনাই আল্হাদিত হয়ে উঠলাম। 
একের পর এক ফিরে ফিরে আসতে লাগলো স্কুল থেকে দৌড়ে দৌড়ে বাড়ি ফিরে বই নিয়ে বসার সেই ছেলেমানুষি বিকেল অথবা গ্রীষ্মের ছুটির অলস দুপুরের কাকাবাবু সন্তুর এডভেঞ্চার, শীর্ষেন্দুর মজার ভুত বা এলেমদার চোর অথবা সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এর জীবন বোধ। জীবন যে কত সুন্দর, কোনোরকম কমপ্লিকেশন ছাড়া কত সহজ সিম্পল হয়ে থাকতে পারে, তা যেন আবারো বারবার উপলব্ধি করতে পারলাম। কর্মজগতে তখন আমি সিঙ্গেল সেল এর রহস্য ভেদ করছি আর অল্প অল্প করে কোডিং এর মজার জগতে পা রাখছি, নতুন কিছু শেখার আনন্দ সর্বদাই আমাকে ছেলেমানুষের মতো উছ্বল করে তোলে। সেই উচ্ছলতা সঙ্গে আমার প্রিয় জগৎ কে এতদিন পরে খুঁজে পেয়ে, নিউ ইয়র্ক নিজেই যেন এক অসাধারণ রূপকথার জগৎ হয়ে আমার কাছে ধরা দিলো। 
এমত সময়ে কোনো অজ্ঞাত কারণে আমার প্রিয় সেই অডিওচ্যানেল টি বন্ধ হয়ে যায়। কিছুদিন এদিক ওদিক খুঁজতে থাকি, মনোমতোন গল্প ভান্ডার পুরোপুরি না পেয়ে আমার এই নিজের বাংলা চ্যানেল টিতে নিজের সাথেই এক কমিটমেন্ট করলাম। তা হলো, প্রতিদিন এক ঘন্টা হোক বা আধ ঘন্টা মিন ২০ যাই হোকনা কেন, আমি আমার প্রিয় লেখকদের লেখনীতে নিজেকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যাবো। আর তা নথি বদ্ধ করে রাখবো এই চ্যানেল এ। এতে আমার ব্যক্তিগত লাভ হবে দুটো, এক আবারো সেই রচনার সান্নিধ্য পাওয়া আর দুই পরবর্তী কালে আবারো যখন ই ইচ্ছে হবে এগুলো পড়ার তখন হাতের কাছে বই না থাকলেও এগুলো শুনে নিতে পারবো। আর উপরি পাওনা হবে অবশ্যই আমার মতন কোনো বই প্রেমী যদি আমার এই উদ্যোগের মধ্যে দিয়ে তাদের নিজেদের ভালোলাগা খুঁজে পায়। 
প্রথম গল্পপাঠ হলো শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের "পাগলা সাহেবের কবর" এর পরে ইচ্ছে আছে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এর "ইতি পলাশ" বা "রুকু সুকু" , এবং আরো অনেক অনেক কিছু নিয়ে আসার। 

Saturday, 5 June 2021

চেনা সবুজের মধ্যে দিয়ে অচেনা কে চিনে নেওয়া

আমার permanent address এ সবসময় থাকে vill + post Raghudevbati , Dist Howrah , Nalpur . আমি যে তথাকথিত শহুরে নয়, বরং ভীষণ ই এক গ্রাম্য পরিবেশ এ বড় হয়ে ওঠা একজন মানুষ , একথা ভাবতে এবং বলতে আমার খুব ভালোও লাগে গর্ব ও হয়। শিকড় আলগা করে দিলে সে গাছ যে একদিন ঝড়ে পরেই যায়। তাই পৃথিবীর যেখানেই থাকি সে দিল্লি ই হোক বা ওয়ার্ল্ড/স বেস্ট সিটি তেই হোক খুঁজে ফিরি আমার গ্রাম বাংলার সেই সবুজকে, বৃষ্টি ভেজা গাছের পাতা এখানেও এক ই ভাবে ঝিকমিক করে, চাঁদের আলো কিন্তু এখানেও ওই রকম ই নরম হয়ে পড়ে। নিউ ইয়র্ক এর ক্রিস ক্রস রাস্তা গুলো আমার খুব  ভালো লাগে, হারানর ভয় নেই, কেমন যেন যে পাড়া টা দিয়ে অত্রীদের কাছে ফিজিক্স পড়তে যেতাম সেরকম লাগে যখন ই আমি ম্যানহাটান এর এই ৮থ এভিনিউ এর দিকে আসি, কেমন চুপচাপ। এখানের তুলনায় কিছুটা নিচু বিল্ডিং, এগুলোকে নাকি ফ্লেমিংগো স্টাইল এর বিল্ডিং বলে, কিজানি কেন বলে। 

চেনা সবুজের মধ্যে দিয়ে অচেনা কে চিনে নেওয়া 

কিছুদিন আগে লোটাকম্বল পড়ছিলাম, সেখানেই এই ওয়েস্ট ম্যানহাটান এর একটা বাড়ির এক ঘটনার কথা বলা আছে, দেখতে দেখতে যাচ্ছি, কিছুইনা কখন চোখে পড়ে যায়, আর মেলাতে শুরু করবো হয়তো কত বছর আগের কোনো ঘটনাকে। মানুষ চলে যায়, রেখে যায় তার কীর্তি, ঐতিহ্য বহন করে থাকা কিছু সাক্ষী। নতুন প্রজন্ম আসে, এভাবেই এক প্রদীপ থেকে আর এক প্রদীপ জ্বলতে থাকে। দেখতে দেখতে যাচ্ছি, বিশ্ব যুদ্ধের সময়ের পুরোনো বিল্ডিং কত, আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা হয়তো কত অজানা কাহিনী। যত্নে কোথাও অযত্নে রক্ষিত ফুলের ঝাড়। আর এই হলো এক ভীষণ চেনা ছবি। এগুলো হলো আমার খুব প্রিয় আর চেনা সেই পাখি, দিল্লিতে যারা ছিল নিত্যসঙ্গী, ঠাকুমার মতো করে গুটিগুটি হাঁটা আর নেচে নেচে ঘুরে ঘুরে দানা পাতি খাওয়া। 

Monday, 14 December 2020

 হটাৎ কখন এলোমেলো বৃষ্টি এলো আকাশ জুড়ে ,

হটাৎ কখন বাঁধভাঙা সেই কান্না এলোই কেমন করে ;

আটকে রাখা পাগল আমি ;

বাঁধ ভাঙলেই পাগল পারা। 

ভুল করে আজ আবার তাকাই ,

না হাঁটা পথ ঝরাপাতায়। 

সময় গেছে বদলে অনেক, যাবেও জানি আরো কিছু 

তবুও আমি থেকেই গেলাম পুরোনো আমি আর অনেক অবুঝ। 

আমাদের সেই রূপকথাদের বুকের মাঝে আগলে রেখে,

রইলো তোমার সোনাঝুরি, পথ পাহারায় একলা বসে 

চাঁদের আলোয় শীতের রাতের নিঝুম তারা দেখবে ? এসে?



Saturday, 21 November 2020

 ভালোবেসে বা অভিমান এ কিভাবে যখন চলে এলাম এত দূরে, একা একা কেটে গেল কত গুলো মাস। একা বড় একা। আমার ওই সন্ধ্যে বেলার উষ্ণতা টাকে বড্ড মনে পরে। বড্ড বেশি কান্না পায়। খুব বোকা আমি। 

Saturday, 26 September 2020

বার্তা

রোদ্দুরে ভরা সোনালী বিকেল গুলো হটাৎ কেমন ছোট্ট হতে শুরু করে দিয়েছে। দিন যেন আদুরে অভিমানী প্রেমিকার মতন ঠোঁট ফুলিয়ে অপেক্ষা করছে তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে যেন কেউ আটকে রাখে দুহাতে। তাই এক পা চৌকাঠের বাইরে রেখেও যাবো কি যাবোনা করে আর এক পা চৌকাঠের ভিতরে রেখে অভিমানী মুখ অল্প ঘুরিয়ে আশা করে আছে সে ডাকের। কিন্তু সে ডাক আসেনা, সময়ের আবর্তে ক্রমশ তার অভিমান গাঢ় থেকে গাঢ় তর হতে থাকে, গুটি গুটি পায়ে রাত্রি নামে আর বুকের মধ্যে অস্ফুট কান্না জমতে জমতে রাতের অন্ধকারের কাছে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে একসময়। আলোর প্রয়োজন ক্রমে ম্লান হয়ে এসে রাতের কান্না হয়ে বিলীন হয়ে যায়। অভিমানী মেয়ের আদুরে আবদার গুলোর ওপরে কেমন যেন অবহেলা ভরে ধুলো জমতে থাকে। 
পরিবর্তন অমোঘ এবং অনস্বীকার্য। না চাইতেও আগের সেই অনেকটা লম্বা রোদ ঝকমকে দুপুর হটাৎ করে শেষ হয়ে গিয়ে ঝুপ করে সন্ধে নেমে আসে। আকাশে আজ রং এর খেলাও দেখা যায়না, মনখারাপের জানালা দিয়ে উঁকি দিতে থাকে শুকতারা, আসন্ন শীতের কাঠোরতাকে মেনে নেবার কেমন যেন এক নাবলা প্রস্তুতি চারিদিকে। একটা, দুটো করে আলো জ্বলে উঠতে থাকে। ধূমায়িত কফির কাপ এর আমোদিত গন্ধ ঝকঝকে skyline এর সীমানা পার করিয়ে চোখের ওপর ফুটিয়ে তোলে শীতের ধোঁয়াশা বিকেল, মখমলের মতন সবুজ মাঠের এধার থেকে ওধার পর্যন্ত একটা মোটা হয়ে থাকা ধোঁয়ার লেয়ার। কেমন একটা ধোঁয়া ধোঁয়া ভাব, পুজো পুজো গন্ধের মধ্যে দিয়ে একটা দুটো করে শিউলি ফোটার শুরু, সারারাত ধরে ফুটবে তারা। আর ভোর বেলায় বিছিয়ে পরে থাকবে, কোনো কিশোরী দুটো হাতের নরম অঞ্জলি ভোরে কখন তাদের ঘরে গিয়ে রাখবে সেই অপেক্ষায়। এভাবেই অপেক্ষায় থাকে সময়, ঘরে ফেরার, ঘরে আসার অথবা ঘরে আনার। আলোয় আলো রাস্তা, এ শহর ঘুমায়না, উইকেন্ড এর উচ্চকিত আলো আর জলসার আওয়াজ পেরিয়ে কানে ভাসতে থাকে সামগাছঅধ্যন।.......

Sunday, 19 July 2020

উত্থান

রবীন্দ্রনাথ কে আমি মনে করি, মনে করি, একান্ত নিজের স্বার্থে। যখন ই মনে হয় কেমন দম বন্ধ হয়ে আসছে, বা বিভিন্ন অপ সংস্কৃতির হাত থেকে মন চাইছে একটু সুগন্ধি চিত্ত স্নান , তখন ই মনে হয় স্নান করি ওই গীতবিতান এর পাতায়। নিজের অশান্ত মন কে শান্ত করার জন্যে মনে করি। মনে করি তাতে লাগাম দেবার জন্যে।

হয়তো তাই জন্যেই কখনো কখনো যখন মন সত্যি ই লাগাম ছাড়া হতে চেয়েছে, চেয়েছে সমস্ত ঠিক ভুল এর চিন্তা বিসর্জন দিয়ে আত্ম সম্পর্পন, তখন ও ওই ভালোলাগার গভীর সুপ্তি থেকে নিজেকে বেদনার্ত জায়গায় উত্থিত করে আনতে পেরেছি।

জানিনা, এই জীবন আমাকে কিভাবে কি দেবে, কি এর মানে, কি এর পথ, তবুও সন্ধ্যে পেরিয়ে রাত্রির আলিঙ্গনে আমাদের দিন যখন খুঁজছে নিজের আশ্রয়, করছে সমস্ত দিনের হিসেব , এমন সময়ে , এই চন্দন এর গন্ধে আমাদের ওখানের দখিনা হাওয়ার মতো এলোমেলো হাওয়াতে আমার মন হয়ে চলেছে উদ্বেল। তখন আবার আমি নিজেকে খুঁজলাম ওই রবীন্দ্র সৃষ্টির মাঝে। আজ অনেক দিন পরে লিখতে বসলাম কিছু। সৃষ্টির আনন্দে স্রষ্টার যে আনন্দ, সে আনন্দ অসীম, অক্ষয়। সে যা কিছুই সৃষ্টি হোকনা কেন। যত তুচ্ছ, যত মহৎ ই হোকনা কেন, তবু সে ভীষণ নিজের। আপন মহিমায় মহিমান্বিত। আমরা এক খুব অন্যরকম সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি, পাওয়া না পাওয়া, চাওয়া , ইচ্ছে, এই সমস্ত শব্দ এখন কিরকম যেন থমকে গিয়ে অপেক্ষার মোড়কে নিজেদের বন্দি করেছে। মাঝেমাঝে কেমন যেন ক্লান্ত লাগে, মনে হয়, থাক , আর কিছু ভাববোনা। সমস্ত পৃথিবীর মতন আমিও নিজেকে সকল ভাবনা থেকে বিরাম দি। এমনিতেই সব কিছু কত ভঙ্গুর , কত ক্ষণস্থায়ী, কালকে যা ছিল, আজ তা নেই। কালকের ইমোশন আজ হয়তো অর্থহীন। আবার আজকের অর্থহীনতা আগামী দিনে হয়তো অর্থ পূর্ণ হয়ে সামনে এসে দাঁড়াবে, হতেই পারে। আমি যখন আমার সব থেকে কাছের মানুষ, আমার বাবাকে হারালাম, আর তারপরেও জীবন থিম গেলোনা, তখন ই বুঝেছিলাম জীবন তার নিজস্ব গতিতে চলে। এ মহা বিশ্বের কোনো কিছুতেই কোনো কিছু হয়না। কারোর বিহনে কিছু থেমে যায়না। সেটাই সত্যি।
আমাদের কাজ হলো, জীবনের ওই গতিটাকে ধরতে পারা। তাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলা। প্রতিটা দিন কিছু বলতে চায়, প্রতিটা দিনের নিজস্ব কিছু বার্তা থাকে, সেই বার্তা কে বুঝে নিয়ে এগিয়ে চলা। আর আজকের যা কিছু তাকে গ্রহণ করে আগামীর জন্যে নিজেকে প্রস্তুত করা। হে ঠাকুর আমাকে শক্তি দিও, আমি যেন সেই নক্ষত্রের পথ অবলম্বন করে চির শান্তির পথে নিজের লক্ষে স্থির থেকে এগিয়ে যেতে পারি। আমার সঙ্গে থেকো। বেদনা যেন আমার আনন্দ কে আবৃত না করে ফেলতে পারে। আর আমার আনন্দ যেন পার্থিব আর বস্তুত হয়ে গিয়ে নিজেকে গন্ডি তে আবদ্ধ না করে ফেলে। তা যেন আকাশের মতো উদার হয়, আর এই সকল সৃষ্টি রস এ নিমজ্জিত থাকে।

"তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূরে আমি ধাই
কোথাও দুঃখ, কোথাও মৃত্যু, কোথা বিচ্ছেদ নাই
তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূরে আমি ধাই
মৃত্যু সে ধরে মৃত্যুর রূপ, দুঃখ হয় হে দুঃখের কূপ
তোমা হতে যবে হইয়ে বিমুখ আপনার পানে চাই
তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূরে আমি ধাই
হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে যাহা-কিছু সব আছে, আছে, আছে
নাই নাই ভয়, সে শুধু আমারই, নিশিদিন কাঁদি তাই
অন্তরগ্লানি, সংসারভার, পলক ফেলিতে কোথা একাকার
জীবনের মাঝে স্বরূপ তোমার রাখিবারে যদি পাই
তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূরে আমি ধাই
তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূরে আমি ধাই"

Tuesday, 14 July 2020

কুচ কামিনী, সুধা যামিনী/ বধূয়া, বৃথা বিনে তব
এই গন্ধসলিলা সুখ রজনী

আমাদের মন জল এর মতন, যে পাত্রে রাখবে , যে ঢালে ঢালবে সেই ঢালে সেই মতন ই সে ঢলবে।আবার কি জানো , জল কে যেমন ফোটাতে হয়, ফিল্টার করতে হয় তেমনি মন কেও ফোটাতে হয়, ফিল্টার করতে হয়। ভালো কথা, ভালো গান, সুর, ভালো সঙ্গের মধ্যে দিয়ে তাকে নিয়ে যেতে হয়, সৎ সংকল্পের মধ্যে তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। শিশুর মতন সরল জিজ্ঞাস্য নিয়ে এ পৃথিবীর সকল কঠিন রাস্তা কে অনায়াস এ সহজ করে নিতে হয়। এই ভাবে নিজেকে প্রতিদিন উন্নীত করতে হয়, কেউ আসবেনা তোমার সাধুতা বিচারে, তুমি নিজেই নিজের বিচারক। তবে একদিন সময় তোমাকে এর প্রতিদান দেবে। দেবেই। তাই যদি তুমি এই কঠিন পৃথিবীর সুন্দরতম দিক টি খুঁজে নিতে চাও তবে সেই সুন্দরের কাছে যাও। কিন্তু কোথায় পাবে সেই সুন্দরকে। পাবে তোমার মননে, ভালো সঙ্গে, সুন্দর ফুল, ভালো লেখা।খুঁজে নাও সেই পুরা পুরাতনী পুরাণের ধারা, ঢেলে ফেলো তাকে আধুনিকতার ঢালে। মেঘমল্লার এর সুরে খুঁজে পাও বিরহী যক্ষ আর যোগিনী উমাকে। 

শুধু এখন বলি, হে প্রেমিক, যে উমার কালজয়ী প্রেম মহেশ্বর কে সাধনা করে লাভ করিতে হইয়াছিল, তাহাকে অমন দৈনিন্দিন করিয়া দিওনা। তাহাকে সযত্নে সাজায়ে রাখিয়ো। দেখোনা, সব পূজার সব ফুল হয়না, সব ঋতুতে সব ফুল ফোটেনা, জনিবে রাতের শিউলি রাতে আমন করে ফুটত পারে বলেই ভোরে তা সবুজ ঘাসের গালিচাকে অমন পবিত্র করিয়া তুলতে পারে। অপেক্ষা করিয়ো সেই শুভক্ষণ সুন্দর মুহূর্তের জন্যে।গহীন রাতের তামসাবৃত হয়ে শুধুই কামনার বশবর্তী হয়ে নারী পুরুষের একে অপরের যে কাছে আসা তাতে কামনা অধিক হয়ে ওঠে।প্রেম যায় হারিয়ে সে কাছে আসার মধ্যে কামনা সন্তুষ্ট হয় বটে তবে মনের গহীনে লুকোনো যে সুপ্ত সুন্দর তাহা জাগ্রত হয়না। সে সুধা আস্বাদনের সৌভাগ্যই বা কজনের হয়েছে, সে সুধার খবর জানেই বা কজনে, যে জানে সে মৃগনাভীর সুগন্ধে মাতোয়ারা মৃগ যেমন হন্যে হইয়া শুধুই সেই মৃগনাভিতেই বিলীন হতে চায়, সেও তেমনি করিয়া শুধু ওই সুধাতেই নিজেকে মগ্ন করিতে পারে।শুধু সব কথা, সব ভাব সব জায়গায় অনিয়ো না, তাহাকে যত্নে রাখিয়ো, রাতের মালকোষ যেমন চাঁদনী রাতের গভীরতাতে সম্পূর্ণতা পায় , তেমনি ই প্রকৃত মুহূর্তএ সম্পূর্ণতা পায় তোমার সকল অপ্রাকৃত প্রাকৃত ইচ্ছা কামনা বাসনা। 

বাসনা স্বাভাবিক তবে তাকে ভিতরে রাখো, সেই গভীর রাতের গহীন মোহে যখন চাঁদ নরম হয়ে স্নেহ ভোরে তাকিয়ে থাকে, সেই রাতের নীল আকাশের মতন গভীর রঙের শাড়িতে নিজে হাতে করে তোমার প্রিয়াকে সাজিয়ো। পরিয়ে দিও যুথির মালা, রজনীগন্ধা, বেলি, মোমের আলোয় যত্ন করে তৈরি কোরো সেই পরিবেশ যা জন্ম জন্মান্তেরেও মানুষ পায়না। সব শরীর কবিতা হয়না, সব শরীরে কবিতার ছন্দ রুদ্ধ হয়ে যায়না, সবাই সব ছন্দ খুঁজে নিতেও পারেনা। খুঁজে নিও সেই ছন্দ , চিনে নিও সেই গন্ধ। শুধু অপেক্ষা কোরো সেই প্রকৃত মুহূর্তের জন্যে। তার আগে কিছু বোলোনা। বোলোনা। দিওনা সেই মুহূর্ত, সেই সময় নষ্ট করে। 
সন্যাসীর জীবন আলাদা, মনন আলাদা, আর সংসারের মনন আলাদা। ওরে সংসারী মন, সংসার ই যদি করবি তো সেভাবে কর যেভাবের ঘোরে মহেশ্বর নিজেকে উমা পতি করে উমা চরণে নিবেশিত করেছিল। সেই ভাব খুঁজে নে। সেই মন কে তৈরি কর। 

Thursday, 11 June 2020

আমি ভাবি, এ মানুষ্য জন্মের কারণ, তার উদ্দেশ, তার নির্দেশ। ওই মেঘ এর কথা, চেষ্টা করি শোনার। আমার প্রবাসী জীবনে, একাকী জানালার ধারে ভাবনারা আপন পাখা মেলে দেয় নিঃসংকোচে। কখনো তা মেঘদূতের মতন একের বার্তা পৌঁছে দেয় অপর প্রান্তে। কখনো তা অভিমানে মুখ লুকোয়। আর আমি ভাবতেই থাকি, আমার ভাবনারা ডানা মেলে উড়ে যেতে যেতে আজ আটকে গেছিলো ওই যে নিচের গাঢ় সবুজ ? ওর মাঝখান টাতে , আর বললো, সময় যে বড় কম। অভিমান হলে মুখ লুকোসনে কেমন, বরং বৃষ্টি হয়ে নিঃসংকোচে ঝরে পরিস বুকে, আবার খুশিতে মেঘ হয়ে উড়ে যাস নাহয়। কিন্তু অভিমান নিয়ে দূরে সরে থাকিসনা কেমন। এই ক্ষয়িষ্ণু সময়ে, হাজারো স্মৃতির ভিড়ে এমনিতেই যে সব কেমন হারিয়ে যেতে থাকে, ঠিক ওই মেঘ গুলোর মতন। তাই তার মাঝে আর অভিমান এর দেওয়াল দিয়ে যেটুকু সময় আমাদের হাতে আসে, তাকে আর বাধা দিসনা বরং আপন মনের সবটুকু মাধুরী সাবলীল ভাবে মিশিয়ে দিয়ে এসে দাঁড়ালি নাহয়, নাহয় অনেক ঝগড়া করলি, চিৎকার করে ভুল ধরলি, তবু সামনেই থাকলি নাহয়।  কোন সে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে, মানুষ ভেবে এসেছে, আচ্ছা আমি ই কেন, কি আমার কাজ। আমি ডেটা এনালাইসিস করি, পাইথন এর এক একটা টার্মিনাল এ ঝড় ওঠে, ও আমার ভালোবাসা। আবার এই মেঘ, আমার এই ভাবনার নিঃসংকোচ ভেসে যাওয়া, এও আমার ভালোবাসা। আর এই দুয়ের মধ্যে জাগতিক আমি? সে কোথায় আছে তবে? মানুষ তো নিজেকেই সব চাইতে বেশি ভালোবাসে তাই না, নিজের আমি, নিজের সংসার, সন্তান, এই ঘিরেই আবর্তিত হতে থাকে, আমাদের সকল সুখ দুঃখ , ভাবনা ভালোবাসা, ভালোলাগা।
যাও মেঘদূত দিও প্রিয়ার ও হাতে, আমার বিরহ লিপি, লেখা কেয়াপাতে।...দিনশেষে সূর্যদেব যখন পাটে বসেছেন, তখন আমি বসে এই জানালায়, আবার ডানা মেলতে দিলাম আমার ভাবনাকে। মেঘেদের সঙ্গে সঙ্গে একটার পর একটা প্রেক্ষাপট পাল্টাতে লাগলো, বদলে যেতে থাকলো মেঘেদের রঙ , ধরন , এই কখনো ঘন কালো তো এই আবির রঙে রাঙা তো এই আবার পালক সাদা। মনকেমন করে উঠলো। নিচের সবুজেরা মাথা নেড়ে নেড়ে বলে উঠলো, অভিমানে মুখ লুকিয়ে থাকিসনা কেমন, তার চেয়ে বরং বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়িস, বাজ হয়ে গর্জন করে উঠিস, কিন্তু অভিমানে দূরে সরে থাকিসনা। এমনিতেই সময়ের যে বড় অভাব। এই ক্ষয়িষ্ণু সময়ে, হাজারো স্মৃতির ভিড়ে এমনিতেই যে সব কেমন হারিয়ে যেতে থাকে, ঠিক ওই মেঘদের মতন। তাই তার মাঝে আর অভিমানের আড়াল নাহয় নাইবা রইলো বরং আপন মনের সবটুকু মাধুরী দিয়ে সাবলীল ভাবে সামনে এসে দাঁড়াস। ঠিক ভুল সুখ দুঃখ মহাকালের স্রোতে কালের নিয়মে আপন ছন্দে এই সন্ধের পবিত্র সান্নিধ্য নিয়ে দিশা দেখিয়ে দিয়ে যাবে। শুকতারার নির্দেশে পথ ভ্রষ্ট না হয়ে রচনা হবে নব অধ্যায়। অযথা তাকে অভিমানের আড়াল দিওনা দোহাই আমার। 



Monday, 4 May 2020

বিকেলে রোদ টা এখানেও সোনালী হয়ে নামে। পুরাতন অপেক্ষার মতন ই মধুর হয়ে। আবার বিষণ্ণতায় ঢেকে বিদায় নেয়। সন্ধ্যে নামে। আমার ঠাকুরের সামনে এখনো আমি সবার ভালো থাকার জন্যে প্রার্থনা করি। চারিদিকে চন্দন এর গন্ধ। রাত হয়েছে এখন। গন্ধটা থমকে আছে। নিজেকে আত্মস্থ করেছি ধীরে ধীরে। একটা স্থির নির্লিপ্ততার মধ্যে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা , প্রতিদিন। পল্ অনুপল। টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া মন। ঠিক ভুল এর বিচার। নিজের কাছে নিজে কেমন ছোট হয়ে যাওয়া। ছোট হয়ে যাওয়া।...কিজানি, জীবন টা খুব অন্যরকম। প্রতিদিন যেন নিজেকে চিনতে পারি, চিনতে পারি অন্যকে। পারিপার্শিক কে। এটাই বোধয় বড় হওয়া, বুড়ো হওয়া হয়তো বা। 

ওই দূরে একটা মোটা গুঁড়ির গাছ, কেমন যেন গম্ভীর গায়ের রং। কেমন যেন সমীহ হয় দেখলে, যেন বাবার মতন, দাদুর মতন। মনে হয় ছায়াটার নিচে দাঁড়াই। দুদণ্ড চুপ করে বসি। গাছের পাতায় হাত দিয়ে আদর করি। স্বার্থ ছাড়া নিঃস্বার্থ সম্পৰ্ক গুলোকে প্রাণ ভোরে উপলব্ধি করি। এই মনখারাপ এর গল্প বলি কাউকে, যে আদর করে মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে, শুনবে সেই মনখারাপের গল্প গুলো। বিরক্ত হবেনা। নিজের দরকারে নয়, আমার জন্যে আমাকে বুঝতে চাইবে। কোনো হিসেব নিকেশ ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মুহূর্তরা ফিরে তাকাবে, মুচকি হেসে চাঁদ সেদিন সত্যি উঠবে। ওই মোটা গুঁড়ির গাছটার তলায়। 

Saturday, 2 May 2020

রাজকন্যের আবদারে

আয় তোকে এক গল্প বলি,
রূপকথার ই মতন
এক যে ছিল রাজা রানী
হীরে মানিক রতন
হীরে মানিক তুচ্ছ মা রে,
আজ আছে কাল নেই
ছিল তাদের এমন কিছু
যার কোনো ক্ষয় নেই।

পাহাড় ঘেরা ছোট্ট পুরী ,
বাগান ভরা ফুল।
জল টলমল দীঘি কত
ফুটেছে কমল।
রাজা রানী রাজকন্যে
রাজ্য ভরা প্রজা
সুখী জীবন,আচার ব্যাভার
সুস্থ এবং সোজা।
ভোরের বেলা হাজার পাখি
কোন সুরে গায় গান ,
রাজার সাথে রাজকন্যে
মোহিত হয়ে যান।
ছোট্ট মেয়ে হচ্ছে বড়
শিখছে কিছু কত,
দেখছে যা , জানছে আরো
প্রশ্ন আরো শত।
কোন পাখি , তার নাম কি
গায়ের কেমন রং ,
কেমন করে তাকায় দেখো
বসার কতই ঢং।
আকাশ কখন তারায় ভরা ,
কখনো রোদ ঝলমল।
কখন নদী শুকিয়ে যায় ,
আবার কখনো জল টলমল।
রাজা শেখায় রাজকন্যেকে ,
এসব কিছুর নাম।
ঋতু কত, ফসল কত ,
ফল এর কোথায় কি ধাম।
সব কিছু শেখো মাগো,
হও অনেক বড়
প্রকৃতির মাঝে মানুষ হয়ে
নিজেকে তৈরি করো।
রাজকন্যে বুদ্ধিমতী
শিষ্টাচারে ভরা ,
পিতার কথা মতন
শুরু করলো নিজেকে গড়া।
নিজের কাজ নিজে করে,
গুছিয়ে খেতে বসে,
বাগান করে, গাছ পাখি
আর সবাইকে ভালোবাসে।
পশু পাখি কাঠবেড়ালি
বন্ধু সবাই তার ,
জোরে কথা বলেনা সে,
কখনো করেনা মুখভার।
গুরুজনকে মান্য করে,
ছোটদের কে ভালো ,
এইভাবেই রাজকন্যে
রাজার ঘর করলো আলো।
প্রজা পরিষদ,
সবাই বলে অহ ধন্য ধন্য।
যা কিছু ভালো আমাদের সব ই যে
আমাদের রাজকুমারীর জন্য।
হীরে নয়, মানিক নয়,
আসল রতন মন।
সব কিছু দেখে শিখে, ভালোবেসে
যদি সবাইকে করতে পারো যতন।
যেন তবেই তুমি সব পেয়েছো
হয়েছো ঠিক রাজকন্যে,
চারপাশে সব সাজানো আছে,
শিখে নাও মা, এসব তোমার ই জন্যে।

এইভাবে রাজার কাছে দিন কেটে যায় তার,
সুখী পরিবার, সুখী গৃহকোণ, সোনার সংসার।














বাইরে ঝলমলে রোদ্দুর ভরা একটা দিন , ভীষণ নীল আকাশ। আমার বাড়ির সামনের ম্যাপল গাছের পাতা প্রায় সব ই ঝরে পড়ে গেছে। দুদিনের জন্যে এত সৌন্দর্য্য ন...