Tuesday, 3 November 2026

অপেক্ষা | পূনর্মিলন RUTH ও MINKA-র সত্য ঘটনা | জীবন থেকে নেওয়া জীবনের গল্প| the waiting

 এবছরের মতন দেবী দূর্গা ফিরে গেছেন কৈলাশে। অস্তমিত হয়েছে কোজাগরীর চাঁদ ও । দূর্গা পুজো আসলে মা মেয়ের গল্প , মেয়ের তার মা এর কাছে ফিরে আসা। আর এই স্বর্গ ও মর্ত্যলোকের কল্পনা কেমন যেন আমায় মনে করায় মা বাবাদের সেই চিরন্তন চাওয়া আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাত এ। মা বাবার কোল থেকে বড় হয়ে বৃহত্তর জগতে পদার্পন করে সন্তান যেখানে তার মতন করে তার জগৎ সংসার সামলাচ্ছেন কিন্তু মনের মধ্যে রাখা ছোট্টবেলার বেড়ে ওঠা গুলো ভীষণ যত্নে, ভীষণ আদোরে লালিত , দশদিক সামলিয়ে সবাইকে নিয়ে সেই ছোটবেলার চৌকাঠে পা রাখা বারবার। কিন্তু সবসময় সবার এই সৌভাগ্য হয়না,  সৌভাগ্য হয়না আর পাঁচ জনের মতোনা বেড়ে ওঠার বা এক ই ভাবে ফিরে যাবার, মায়ের বুকে বাবার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার। অনেকসময় কতজনে তাদের সান্নিধ্যে বড় হবার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়। এই পৃথিবী এক অদ্ভুত জায়গা। এখানে মানুষ নিজের কর্মে নিজের জায়গা তৈরি করে কিন্তু কোথাও সে বাঁধা থাকে অদৃষ্টের অদৃশ্য বন্ধনে। অদৃষ্টের সুতোয় কোথাও সে নীরবে , অদৃশ্যে নিয়ন্ত্রিত হয়ে চলে। কর্ম , কর্ম তো করতেই হবে। কর্মের জোড়েই আমরা নিজেরা নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাই।  অদৃষ্ট আর কর্ম এর সংযোগ হলে হয়তো এমন কিছু ঘটে যা আপাত দৃষ্টিতে আমাদের মিরাকেল বলে মনে হয়। আজ শুনবো এমন ই এক অভাবনীয় ঘটনার। সত্যি ঘটনার কথা। শুনি রুথ লি এর কথা, রুথ লি, একজন ৭০ বছর বয়সী ভীষণ ই accomplished এক জন মানুষ। এক মা। ছোটবেলায় তিনি জানতেন যে তিনি দত্তক নেওয়া হয়েছেন, কিন্তু তা কখনোই কোনো আক্ষেপের কারণ হয়নি, দত্তক মা বাবার স্নেহে, তিন ভাই বোনের সঙ্গে আনন্দের সঙ্গে কেটেছে শৈশব, কৈশোর, যৌবন। বিয়ে করেছেন, এক একটি করে ৬ সন্তান এসেছে জীবনে। তারা প্রতিষ্টিত হয়েছেন জীবনে, তারা যেন এক একটি রত্ন, একজন আর্মিতে কর্নেল, একজন নাসার মহাকাশচারী হিসেবে চারটি মহাকাশ অভিযানে অংশ নিয়েছেন। বাকি সন্তানরাও নিজেদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত। ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মা এর সম্পর্ক ও ভীষণ সুন্দর। একজন মানুষের জীবনে আর কিছু কি চাওয়ার থাকতে পারে ? রুথ এর ও ছিলোনা, এত সুখী, সার্থক এক জীবনে কখনো নিজের সেই না দেখা জীবন তাঁর আসল মা বাবার খোঁজ নেবার তাগিদ কখনো অনুভব করেননি তিনি। কিন্তু ৭০ পেরোনোর পরে যখন একের পর এক অসুখ এসে হাসপাতাল আর বাড়ি করতে করতে তাঁর জীবন যখন একেবারে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, প্রাণ নিয়ে টানা পোড়েন তখন ডাক্তার রা বললেন, জেনেটিক সমস্যা হতে পারে, ভালো করে বুঝতে হলে আসল মা বাবার মেডিকেল হিস্ট্রি জানা দরকার। এডোপটেশন এর কাগজপত্র সন্তানকে দেখানোর নিয়ম থাকেনা, কিন্তু মেডিকেল গ্রাউন্ড এ আর্জি জানালে কিছু হতে পারে, রুথ এর একদম ইচ্ছে ছিলোনা আবার এই বয়সে এসে এত হাঙ্গামা করেন। কিন্তু ছেলেমেয়েরা কিছুতেই শোনেনা, তাদের জোরাজুরি তে অবশেষে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বাধ্য হয় রুথকে মেডিক্যাল গ্রাউন্ডে পিটিশন ফাইল করতে হল সরকারি অফিসে, যাতে তার অ্যাডাপশনের পেপার পাঠানো হয়। প্রত্যাশা ছিল না, ইচ্ছেও নয়! এলে আসবে! না এলে রুথের বয়েই গেছে! সেই তো পাঁচ পাতার ডকুমেন্টস!

কিন্তু যেটা এল, সেটা পাঁচ পাতার ডকুমেন্টস নয়। দুই পাউণ্ডের বিশাল বড় একটা পার্সেলে দু'শোরও বেশি ফাইল! কেস নম্বর ৩৫৯ এর অজস্র দস্তাবেজ, আইনি নথি, ফটোগ্রাফ আর ছবি এসে হাজির হল রুথের কাছে। আর তার সঙ্গে এল অজস্র চিঠি। চিঠি, যা বছরের পর বছর ধরে এসে জমেছে 'হাউস অফ মার্সি'র দপ্তরের আর্কাইভে। চিঠিগুলো সব একজন নারীরই লেখা। তার নাম মিনকা ডিসব্রো। রুথের জন্মদাত্রী মা।
সে সব চিঠি পড়ে অভাবনীয় ঘটনার কথা জানা গেল, ইতিহাসে সেরকম ঘটনা প্রায় নজিরবিহীন। আবহমান অপেক্ষার এক অকথিত কাহিনী, যা হয়তো আরেকটু হলে অজানাই থেকে যেত আমাদের কাছে। প্রায় একশো বছর আগের কথা। নেদারল্যান্ডস থেকে আসা বহু অভিবাসী তখন নতুন করে জীবন গড়ার আশায় বসতি স্থাপন করছিলেন সাউথ ডাকোটার বিভিন্ন অঞ্চলে। সেখানে গড়ে উঠছিল একের পর এক ডেয়ারি ফার্ম। কিন্তু নতুন দেশে বসবাস শুরু করলেও তাঁদের জীবনযাত্রা, সংস্কার আর সামাজিক অভ্যাসে পুরোনো দেশের ছাপ তখনও স্পষ্ট। বাইরের সমাজের সঙ্গে সহজে মিশে ওঠা হয়ে উঠত না অনেক পরিবারের পক্ষেই। তাঁদের ছেলেমেয়েরাও তাই নিজেদের পরিচিত গণ্ডির মধ্যেই থাকতে অভ্যস্ত ছিল।

এমনই এক অভিবাসী পরিবারে জন্ম মিনকার। ছোটবেলায় তারও ইচ্ছে ছিল স্কুলে পড়াশোনা করার, কিন্তু সংসার আর খামারের কাজের প্রয়োজনে বেশিদিন সেই সুযোগ পায়নি সে। পরিবারের কাজে হাত লাগাতে গিয়ে অল্প বয়সেই পড়াশোনায় ইতি টানতে হয় তাকে।

মাত্র ষোলো বছর বয়সে মিনকার জীবন যেন বাঁধা পড়ে গিয়েছিল খামারের দৈনন্দিন রুটিনে। সকাল থেকে সন্ধ্যা—কাজ আর দায়িত্বের বাইরে আলাদা করে নিজের জন্য সময় বলতে বিশেষ কিছুই ছিল না। তবে দুপুরের একটা ছোট্ট সময় ছিল একান্ত তার নিজের। সেই সময়টুকুতে বান্ধবীদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ত সে, কখনও বনের পথে হাঁটত, কখনও গাছপালায় ঘেরা নির্জন জায়গায় বসে গল্প করত।

বয়ঃসন্ধির সেই দিনগুলোতে বাস্তবের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মনে কত রকমের স্বপ্ন যে ভিড় করে আসে! এমন সব স্বপ্ন, যেগুলোকে হয়তো নিজেরাই অসম্ভব বলে জানি, অথচ মন থেকে সরিয়ে রাখতে পারি না। অজানা ভবিষ্যতের প্রতি কৌতূহল, অন্য রকম জীবনের আকাঙ্ক্ষা, আর একদিন নিজের মতো করে বাঁচার ইচ্ছে—এসবই ঘুরেফিরে আসত তাদের কথায়।

দুপুরের সেই অল্প সময়টুকুতে বান্ধবীদের সঙ্গে মনের কথা ভাগ করে নিত মিনকা। খামারের চারপাশে সীমাবদ্ধ জীবন থেকে দূরে, সেই মুহূর্তগুলোতেই যেন সে একটু অন্য রকম পৃথিবীর স্বাদ পেত। কিন্তু সে তখনও জানত না, সামনে এমন এক সময় অপেক্ষা করছে, যা তার কিশোরী জীবনের সমস্ত পরিচিত হিসেব বদলে দেবে। এমন ই দুপুরে একদিন হটাৎ করে মিনকা আর তার বান্ধবী শিকার হয় তিনজন পুরুষের লোভের। কিশোরী জীবনের সেই নরম সুন্দর স্বপ্ন গুলোকে এক নিমেষে ভেঙে চুরমার করে দেবার জন্যেই যেন তাদের কাছে এসেছিলো কাউবয় টুপি পড়া কিছু অমানুষ, ভালো করে মুখ ও দেখতে পায়নি তাদের ওরা আর সন্ধ্যে বেলায় বাড়ি ফিরে নিজেদের জীবন তছনছ হয়ে যাবার এই ঘটনাও কাউকে বলতে পারেনি। তাছাড়া বলবেই বা কাকে, চিরকাল ই সমাজে এমন ঘটনায় মেয়েদের সহানুভূতির থেকে দোষারোপ ই শুনতে হয় বেশি, আর সেই সময়কাল যখন শতাব্দী আগের, তখন যে একথা বলা কতটা কঠিন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কিন্তু বেশিদিন চুপ করে থাকতেও পারেনি সে, গর্ভলক্ষন দেখা দিতেই বাড়ি, পারিপার্শিক, মা সবার প্রশ্নবানে জর্জরিত সেই ষোলো বছরের কিশোরী তার জীবনের সবথেকে কালো দুপুরের কথা বলতে বাধ্য হয়। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে, abortion এর আর সুযোগ নেই, উপায়ান্তর না দেখে অসহায় পরিবারটি তখন দ্বারস্থ হয় লুথেরান চার্চ এর, যদি কেউ জন্মানোর পরে সেই নবাগত সন্তান কে দত্তক নিতে রাজি হন। চার্চের হাউস অফ মার্সি সংগঠনের মাধ্যমে এক সহৃদয় ধর্মযাজক ও তাঁর স্ত্রী সেই নবাগত কে দত্তক নিতে রাজি হলেন। মিনকার বয়স তখন সতেরো। পরিবারের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া তার সামনে আর কোনো পথ ছিল না।

১৯২৯ সালের মে মাসে মিনকা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিল। মিনকার বয়স তখন ১৭. আইনি নথিতে মেয়ের নাম রাখা হলো বেটি জেন। শিশুটিকে নিজের কাছে রাখার কোনো পরিকল্পনা মিনকার ছিল না। বরং পুরো গর্ভাবস্থায় সেই দিনকার সেই ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতিই তাকে তাড়া করে ফিরেছে। সে ভেবেছিল, সন্তানটিকে দত্তক দিয়ে দিলেই হয়তো জীবনের সেই দুঃসহ অধ্যায় থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু শিশু টিকে তার কোলে দেবার পরেই সবকিছু যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেলো। গোলাপি গাল , তুলোর মতন নরম চুল, অবাক বিষ্ময়ে মাথা ঘুরিয়ে এদিক ওদিক দেখা। সেই অবাক দৃষ্টি, সে দৃষ্টির মধ্যে যে কি ছিল। বুকে জরিয়ে ধরলো তাকে মিনকা , এই ছোট্ট শিশুটার কাছে সেই শুধু সেই একমাত্র পৃথিবী, আর সে কাউকে জানেনা কিছুনা, আর কি নিশ্চিন্তে তার কাছে ঘুমিয়ে পড়লো শিশুটা। থরথর কেঁপে উঠলো মিনকার সমস্ত শরীর যেন , আনন্দে, বিষ্ময়ে, নিজের কাছে সম্পূর্ণ অজানা এই অনুভূতি তার। কি এই অনুভূতির মানে, এই কি প্রেম? এই কি ভালোবাসা, কিন্তু আর পাঁচজন নারীর জীবনে যেমন ভালোবাসায় , সম্মানে , আদোরে সন্তান আসে, তার সন্তান তো সেভাবে আসেনি, গর্ভাবস্থায় প্রতিটা দিন তো তার কেটেছে ভয় এ, দুশ্চিন্তায়, গঞ্জনায় , তাহলে তবুও কেন সে এমন বোধ করছে, এই নিশ্চিন্ত সমর্পন ই কি তার কারণ অথবা হয়তো তার স্বপ্ন দেখা কল্পনা প্রবন মন যা কিশোরী জীবনে সংসারের স্বপ্ন এঁকে দিয়েছিলো, এ সেই স্বপ্নের ফসল। তার মনে হলো, বেটি যেন তার মেয়ে নয়, এ যেন তার মা, জন্ম জন্মান্তরের যেন এই বন্ধন। মনে হলো সে শুধু এই মেয়েকে নিয়েই সারাজীবন কাটিয়ে দেবে, কিন্তু বাস্তব এসে সামনে দাঁড়ালো, আজকের দিনেও যা সমাজ মেনে নেয়নি, তা সেই উত্তাল সময়কালে আরোই ভাবনার বাইরে ছিল। প্রথম যুদ্ধ শেষ হয়ে দশটি বছর হয়েছে সবে, পৃথিবী তখন ও উত্তাল, প্রহর গুনছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। চারিদিকে অভাব, দারিদ্র, মহামারী। অস্থির এক সময়, এমন এক সময়ে এক অবিবাহিত মেয়ে তার মেয়েকে নিজের কাছে রাখলে সেই মেয়ের জীবন ও ওই এক খামার চক্রে শুরু ও শেষ হবে হয়তো। না না , এমন সোনার টুকরো মেয়ে তার, হয়তো তার কাছে না থাকলেই তার ভালো হবে, একটি মাস ধরে, অনেক যুদ্ধ চললো সেই সদ্য মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়া মেয়েটীর মনে, অবশেষে আগের কথা মতন তুলে দিলো তাকে সেই দত্তক মা বাবার হাত এ। তুলে দিলো, নিজের জীবন ও চলতে লাগলো, পৃথিবী চলতে লাগলো তার নিজস্ব ছন্দে, ১৯২৯ থেকে ২০০৬ এর মধ্যে ঘটে গেছে কত কি, প্রথম উড়োজাহাজ থেকে পেনিসিলিনের আবিষ্কার, কম্পিউটারের বিকাশ তিনি সাক্ষী থেকেছেন , সাক্ষী থেকেছেন বিজ্ঞানের অগ্রগতি আর প্রযুক্তির অভাবনীয় পরিবর্তনের । দেখেছেন শেয়ারবাজারের ভয়াবহ পতন ও মহামন্দার দিনগুলি, দুই বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা, এমনকি মহাকাশযানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনাও। কিন্তু পৃথিবীর এত পরিবর্তন, এত উত্থান-পতনের মধ্যেও তাঁর মনের গভীরে একটি আকাঙ্ক্ষা কখনও ম্লান হয়নি। যে সন্তানকে একদিন পরিস্থিতির চাপে নিজের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে হয়েছিল, তার জন্য প্রার্থনা করা তিনি কখনও থামাননি। মিনকা জানতেন না, তাঁর মেয়ে কোথায়, কেমন আছে। তবু বেটি জেনকে ভুলে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। তিনি নিয়মিত চিঠি লিখতেন ‘হাউস অফ মার্সি’-তে। জানতে চাইতেন, বেটি কি স্কুলে যাচ্ছে? পড়াশোনায় কেমন? নতুন বাবা-মা তাকে কী নামে ডাকেন? জন্মদিন কীভাবে কাটে তাঁর আদরের মেয়ের? প্রতিষ্ঠানটি উত্তর দিত না—নিয়মও ছিল না উত্তর দেওয়ার। কিন্তু মিনকা চিঠি লিখে যায় নিজের মতো! প্রতি সপ্তাহে, প্রতি মাসে এই চিঠি এসে জড় হতে থাকে 'হাউস অফ মার্সি'তে। বছরের পর বছর ধরে। কখনও নিজের জীবনের কথা লিখেছেন, কখনও পাঠিয়েছেন পরিবারের ছবি, পোস্টকার্ড কিংবা ছোটখাটো স্মৃতিচিহ্ন। এর মধ্যে মিনকার বিয়ে হয়েছে, নিজের আরেকটি মেয়েও হয়েছে। তার বড় বড় নীল চোখ আর সুন্দর চুল দেখে বেটির কথা মনে পড়েছে,  চিঠিতে লিখেছেন, বেটি জেনের মতো সুন্দর আর কেউ নয়! মেয়েকে হারানোর প্রায় আঠারো বছর পর, ১৯৪৭ সালেও মিনকার অপেক্ষা ফুরোয়নি। তিনি লিখেছিলেন, “দয়া করে বেটির খবর পেলে জানাবেন। আমি অপেক্ষায় আছি। অপেক্ষা করব, অপেক্ষা করে যাব!”
এরপর আর কোনো চিঠি আসেনি। কিন্তু অপেক্ষা থামেনি।
মিনকা বিভিন্নভাবে মেয়ের দত্তক নেওয়ার নথি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু জানতে পারেনি কিছুই। তাঁর অজানাই থেকে গিয়েছিল, ছোট্ট বেটি জেনের নতুন নাম হয়েছে রুথ লি। প্রতি বছর ২২ মে, বেটির জন্মদিনে, মিনকা তাঁর কাছে থাকা মেয়ের একমাত্র ছবিটির দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতেন—তাঁর মেয়ে যেন ভালো থাকে, সুখে থাকে। এদিকে বেটি জেন ওরফে রুথ লি এর জীবন চলেছে তার নিজস্ব ছন্দে, তার পক্ষে জানা সম্ভব ই নয় যে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে তাঁর জন্মদাত্রী প্রতিটি জন্মদিনে তার জন্য প্রার্থনা করছেন। ২০০৬ সালে, রুথের বয়স যখন ৭৭, আর মিনকার ৯৪, তখন ঘটল সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা। বেটি ওরফে রুথ লি যখন কেস ফাইল সহ চিঠিগুলো পড়তে শুরু করল, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। স্তম্ভিত হয়ে রুথ দেখল, তার আসল মা প্রায় অনন্তকাল ধরে তার জন্য অপেক্ষা করে আছে। কিন্তু সেটা হবে কী করে? হিসেব মতো তার যদি ৭৭ হয়, মিনকার বয়স তো নব্বই পার করে গেছে! সে কি আর বেঁচে আছে? তাও একটা ক্ষীণ আশা নিয়ে ব্যাপারটা ছেলেমেয়েদের জানাল রুথ।
রুথের ছেলে ব্রায়ান দত্তক নেওয়ার নথি থেকে মিনকার জন্মতারিখ, নাম এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করল। এরপর বিভিন্ন সূত্র ধরে খুঁজতে খুঁজতে একসময় তার নাম ও ফোন নম্বর পাওয়া গেল।
Minka Disbrow. Birthdate: November 10, 1911. Age: 94 years
এই নামটা পাওয়ার পর অবশ্য রুথের সাহস হয়নি ফোনটা করার। অ্যাস্ট্রনট ছেলেকে ফোনটা দিয়ে দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা করে রইল সে। ফোন বাজল। অপর প্রান্তে এক বৃদ্ধা ফোন তুললেন। রুথ লির কথা শুনে ফোন রেখে দিচ্ছিলেন, কিন্তু ছেলে তাকে ফোন না কাটার অনুরোধ করে কথা চালিয়ে গেলেন। রুথ অবশ্য কিছুই শুনতে পাচ্ছিল না। সে স্থাণুবৎ বসেছিল ছেলের সামনে। এমন সময় ছেলে তার দিকে রিসিভার বাড়িয়ে দিয়ে বলল, "কথা বলো মা!"
"কে?"
"তোমার মা! আসল মা! সারাজীবন ধরে উনি তার মেয়ের জন্য অপেক্ষা করে আছেন। বেটি জেন...মানে তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছেন।"
রুথ কাঁপাকাঁপা হাতে ফোন তুলে বললেন, "আমি... আমি তোমার বেটি জেন!"
ফোনে মা-মেয়ের প্রথম কথা কীভাবে শুরু হয়েছিল, তার প্রতিটি শব্দ হয়তো আজ আর কারও মনে নেই। কিন্তু সেই ফোনকলের মধ্য দিয়েই প্রায় ৭৭ বছরের বিচ্ছেদের অবসান ঘটল। এই ফোন কলের দু মাস পর মা মেয়ের দেখা হয়েছিল।একজনের বয়স ৭৭, অন্যজনের ৯৪। যে মেয়েকে মিনকা এক মাস বয়সে দত্তক দিয়েছিলেন, সেই মেয়েই এখন সাদা চুলের বৃদ্ধা। এত বছর ধরে মেয়ের যে মুখটি তিনি কল্পনা করে এসেছেন, বাস্তবে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মিনকা, রুথের সাদা চুলে হাত বুলিয়ে পরম বিস্ময়ে বলেছিলেন, "আমার মেয়েটা বুড়ি হয়ে গেল কী করে?"
এরপর মা-মেয়ের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে উঠল। তাঁরা একে অপরের জীবনের গল্প জানলেন, পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হলেন, হারিয়ে যাওয়া সময়ের কিছুটা হলেও ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করলেন। মিনকা তার মেয়ের ছয় সন্তানকেও জানার সুযোগ পেলেন। তাদের মধ্যে একজন মার্ক সি. লি (Mark C. Lee) যে নাসার মহাকাশচারী, একাধিকবার মহাকাশ অভিযানে গিয়েছেন, সেটিও তার কাছে ছিল এক বিস্ময়কর খবর।
২০১৪ সালের ১৮ জুন, ১০২ বছর বয়সে মিনকা ডিসব্রো মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি তার হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে ফিরে পেয়েছিলেন। যে মেয়ের জন্য প্রায় আট দশক ধরে অপেক্ষা করেছেন, অন্তত জীবনের শেষ কয়েকটি বছর তার সঙ্গ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।
মিনকার নাতনি ক্যাথি লার্গো তার দিদার জীবনের এই অসামান্য গল্প নিয়ে লিখেছেন The Waiting বইটি। বইটির সহলেখক সিন্ডি কোলোমা। প্রকাশক Tyndale Momentum। ইচ্ছে হলে পড়ে নিতে পারেন। আর কিছু না হোক, এইটুকু বিশ্বাস জন্মাবে যে, মিরাকল বলে বিষয়টা পৃথিবীতে আজও ঘটে! আর এই পৃথিবীটাকে আবারো ভীষণ ভালোবাসতে ইচ্ছে করবে। কেমন যেন প্রার্থনা, বিশ্বাস এই শব্দ গুলোর ওপরে আর একবার নতুন করে ভরসা করতে ইচ্ছে করবে। বুঝতে পারবো ভাগ্য আমাদের চালিত করে যেমন তেমন আমাদের প্রার্থনা, বিশ্বাস, তার প্রতি ডেডিকেটেডলি পরিবর্তে কি পাচ্ছি না পাচ্ছি সেই সব হিসেব না করে শুধু জুড়ে থাকার শক্তি নতুন করে ভাগ্যকে গড়ে তোলে, আর তখন ই তা আমাদের ভীষণ সাধারণ জীবনে নিয়ে আসে মিরাকেল। ম্যাজিক।

এক অপেক্ষার, পুনর্মিলনের। ডেডিকেশন , কমিটমেন্ট এর। মিরাকেল এর মতন। আশ্চর্য্য হয়ে যাই যা চিন্তা করলে, অভাবনীয় হয়ে অবাক হয়ে ভাবি, এমন ঘটনা ও হয়, আর যার সঙ্গে সেই ঘটনা হয়, সে কি ভাবে? তার ভাগ্য তো সত্যি ই নিয়ন্ত্রিত হয় অদৃষ্ট বলুন , ঈশ্বর বলুন, অদৃশ্য কোনো শক্তি যাই হোক সে, যে রূপেই মানুষ তাকে গ্রহণ করুক, তার অদৃশ্য চালনে , আমরা জানতেও পারিনা। আজ শুনবো এমন ই এক অভাবনীয় ঘটনা, যেখানে অদৃষ্টের অদৃশ্য চালনা অজানা ছিল, কিন্তু ভালোবাসা, কমিটমেন্ট আর এক ই কাজের প্রতি লেগে থাকা ডেডিকেশন কিভাবে সন্তানকে তার জন্মদাত্রী এর সঙ্গে মিলিয়ে দিতে পারে। ৭৭ বছর পরে ফিরে পাওয়ার এক অনন্য ঘটনা। cathey Lagro এর লেখা The Waiting বই এর থেকে নেওয়া  সত্যি ঘটনা। 



Saturday, 19 September 2026

এ পথ গেছে সেইখানে

 দেখতে দেখতে এক বছর হয়ে গেলো, ছোট্ট ছেলেটা স্কুল এ যাচ্ছে। স্কুল মানে playschool বা daycare. এদেশে ওয়ার্কিং পেরেন্টস দের ছোট্ট ছোট্ট ছানা দের take care করার মতন ভীষণ সুন্দর ব্যবস্থা আছে, যদিও দেশে থাকতে এ নিয়ে গুজবের শেষ ছিলোনা, এবং নিজের মনেও খুব ভয় ছিল কিন্তু নিজে এক্সপেরিয়েন্স করে বুঝলাম দূর থেকে কত ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে কত ভয় আমরা নিজেরাও পাই আর তার থেকেও বেশি ভয় ছড়িয়ে দি মানুষের মনে। পরে কখনো সময় পেলে বলবো সে কথা বিশদে কিন্তু তার আগে যে জন্যে আমার মা মন আজ কলম ধরলো সে কথা বলি, এই একটা বছরে আমাদের ছোট্ট ছেলেটার এক এক পা করে এই বেড়ে ওঠা বড্ড সুন্দর। 

এই বিদেশের মাটিতে প্রবাসী জীবনে একা একা একটা ছোট্ট মানুষ কে বড় করে তোলা খুব সহজ কথা নয়। কিন্তু আজ পিছন ফিরে যখন প্রতিটা দিনকে দেখি আর বর্তমানের এই ছোট্ট মানুষটা কে দেখি তখন মনে মনে এটুকু যেন ভরসা পাই পারবো। পারছি। বড় তো সবাই হয়েই যায়, কিন্তু একটা সুন্দর মন নিয়ে বেড়ে ওঠা? সেটা পারবো তো?  প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮ টা তে ব্রেকফাস্ট করে একদম রেডি হয়ে আমরা বাড়ির গেট এ যখন দাঁড়াই তখন প্রচন্ড গ্রীষ্মেও খরতাপ শুরু হয়না, সকাল টা নরম হয়ে যেন আমাদের দিকে তাকায়। এখানে পাওনা urbanization এর পাশাপাশি প্রকৃতি। দুরন্ত আড়াই তখন চায় দৌড়ে যেতে, আর চল্লিশোর্ধ তাকে ধরে বেঁধে stroller এ বসায় । সে তখন বসে বসেই অলমোস্ট নেচে নেচে চলতে থাকে, গাড়ি তে নয়, সকালে স্বেচ্ছায় ছোট্ট ছানা কে নিয়ে টানা দেড় মাইল হাঁটাটা শুধু ওয়ার্ক আউট নয়, দিন শুরুর আগে সব কাজ সেরে, রান্না করে, লাঞ্চ প্যাক করে, একটা ছোট দুরন্ত বাছা কে রেডি করে ব্রেকফাস্ট করিয়ে বেরোনোর যে জানা যুদ্ধ টা প্রায় সব মা বাবা কেই কম বেশি করতে হয় , এটা যেন থাকে তার মধ্যে একটা মেডিটেশন এর মতন। দিনের শুরুতে কাজের দুনিয়াতে ঢুকে যাওয়ার আগে একটা মেডিটেশন। 

দেড় বছরের এই এতটুকু মানুষটা এই সময় থেকে আকাশ কে চিনতে শুরু করেছিল, দিনের শুরুর আকাশ, তার রং, আলাপ হতে থাকলো দিন শুরুর সেই ছন্দের সঙ্গে , ফুল এর রং দেখে দেখে একসময় সে রং চিনতে শিখে গেলো, লাল, নীল, সাদা, হলুদ, পার্পল, শিখে গেলো গাছের পাতার সবুজ। দেখলো আবার সেই পাতার রং কেমন পরিবর্তন হতে থাকে। কিছুটা হাঁটার পরে, পাহাড়ি জঙ্গল এর একটা trail বা হাঁটা পথ এর বাঁক আসে যেখান থেকে জঙ্গল এর শুরু হয়, আমরা সেই বেঁকে যাওয়া পথ টাতে গিয়ে দাঁড়াই। ফিসফিস করে বলি তাকে জঙ্গল এর কথা শোনো, feel the silence . কে বলেছে ছোট রা কিছু বোঝেনা, তাদের কে সবকিছু বোকা বোকা করে বলতে হয়। কখনো না। ওদের কে বুঝিয়ে বললে ওরা ওদের মতন করে সবটা বোঝে। এখন ওই ছোট্ট মানুষটাই আমাকে ডেকে তার আধো আধো কথাতে বলে 'দেখো দেখো আকাশটা কি সুন্দর'। সূর্য্য ওঠা বা তার অস্ত যাওয়া দেখে আমরা একসঙ্গে খুশিতে নেচে উঠি। জঙ্গল এর রাস্তার অনেক আগে থেকেই সে বলে, 'জলগন জলগন'। 

ওই রাস্তাটাতে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে মুখে চুপ করার ভঙ্গী করে বলে, 'পাখি', অর্থাৎ চুপ, পাখির ডাক শোনো। এখন আর তাকে আমায় 'চুপ করে জঙ্গল কে শোনো' বলতে হয়না। এইটুকু একটা অসম্ভব দুরন্ত বাচ্চা নিজে থেকেই কেমন শান্ত হয়ে কিছুক্ষন চুপ করে থাকে। দিন শুরুর আগে ওই একটুখানি সময় এখন আমাদের সত্যি সত্যি meditating pause হয়ে গেছে। ফুলকে দেখে , গাছ কে দেখে সেও আর পাঁচটা বাচ্ছার মতন ই তাকে ছিঁড়তে গেছিলো, কিন্তু যখন শেখালাম গাছের কষ্ট হয়, ফুলকে আদর করতে হয়, বারবার প্রতিদিন করতে করতে কিছুদিন পরে সে ফুলকে আদর করলো, পাতা কে আদর করলো। তাকে না ছিঁড়ে আমার দিকে দুষ্টু দুষ্টু মুখ করে তাকিয়ে বললো, গাছ ভালো। আর আমার বুক থেকে একটা স্বস্তির শ্বাস বেড়িয়ে এলো। আমার screentime ফ্রি ছোট্ট আড়াই এখন নিজেই গাছে জল দেয়। 

এভাবেই ছোট্ট ছোট্ট জয় আমার প্রতিদিন কে ভরিয়ে রাখছে। এ এক অন্যরকম পথ চলা। এখন বুঝি শুধু বাবা মা হয়ে গেলেই প্যারেন্টিং হয়না, প্যারেন্টিং মানে আসলে একটা ছোট্ট শিশুকে বড় করা নয়, প্যারেন্টিং মানে নিজেরাও একটু একটু করে বড় হওয়া, পরিণত হওয়া, নিজেদের কে আরো শান্ত, স্থিত করা, patience এর পরীক্ষা, ইমোশনাল রেগুলেশন করা, কত gracefully আর কত beutifully একটা ছোট্ট প্রাণকে আমরা এই পৃথিবীকে চেনাতে পারি, how gracefully this universe could be unfolded in front a little heart তার টেস্ট। একদিন তো কখন বড় হয়ে যাবে, আর এমন গোটা ঘর জুড়ে খেলনা পরে থাকবেনা, থাকবেনা সব কিছু নিয়ে ব্যালকনি থেকে ফেলে দেওয়ার অভ্যেস, সকালের যুদ্ধ, জামা পড়া থেকে দাঁত মাজা সবেতাই গলদঘর্ম হয়ে যাওয়া, বা খাওয়াতে গিয়ে কখন প্রচন্ড খিদে জল হয়ে গিয়ে পেট ভরে যাওয়া। চিৎকার, কান্না, কোলে নিয়ে সব কিছু করা, এসব কিছুই থাকবেনা একদিন। শান্ত হয়ে যাবে সব ঘর গুলো। ছোট্ট ছোট্ট পা বড় হয়ে প্রবেশ করবে নিজের জগতে। সেই জগৎ ক্রমশ প্রসারিত হবে, তখন তাতে যেন আমার মনখারাপ না হয়, যেন আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করতে পারি সেই বড় হয়ে যাওয়াকে। আমার ওই তখনকার Gen বিটা এর থেকে যেন এই Gen Y  কিছু শিখে নিতে কুন্ঠা বোধ না করে। জীবনের অর্ধেক বা তার ও বেশি পথ পেরিয়ে এসে আজকের দিনে এটুকু বুঝতে শিখেছি যে জীবনে সময় খুব কম। আমাদের চারপাশে অনেক মানুষ থাকতে পারে কিন্তু কানেক্টেড থাকি আমরা সেই গুটি কয়েক মানুষের সঙ্গেই যাদের সঙ্গে একসাথে আমরা মুহূর্ত তৈরি করতে পেরেছি। আর নিজের সন্তান কেই যদি সেই বৃত্তের বাইরে রাখতে হয় তবে বোধহয় সে জীবন ই ব্যর্থ। আমি চাই এই ছোট্ট মানুষটার সঙ্গে মুহূর্ত তৈরি করতে। তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গিয়ে কর্তব্যের কঠোর ফাঁদে নয়,  প্রতিটা দিন, প্রতিটা মুহূর্ত তার সঙ্গে যেন নতুন ভাবে বেঁচে উঠতে পারি। আমার সন্তানের সঙ্গে আমি, যুক্ত নয় তার সঙ্গে যেন কানেক্টেড থাকতে পারি। 

 ইদানিং সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে দু ধরনের পোস্ট দেখতে পাই একদল মাতৃত্বকে অত্যন্ত glorify করতে গিয়ে প্রায় গর্ভের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং তারপরে বাচ্চার চান, পটি, বেড়ে ওঠার পুঙ্খানুপুঙ্খ সব ই সোশ্যাল মিডিয়া তে উঠে আসে আর এক ধরনের পোস্ট থাকে যা আদ্যোপান্ত চেষ্টা করে সন্তানের অযোগ্যতা প্রমাণ করাতে, মা বাবা কে দেখেনা, বৃদ্ধাশ্রম ইত্যাদি হলো সেখানের আলোচ্য। আমি বিচারক নোই , দ্রষ্টা মাত্র । কোনো কিছু দেখে ভালো না লাগলে সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে চলে গিয়ে ভালো লাগার বিষয় খুঁজে নি। এমন এক জেনারেশন এ জন্ম আমার যেখানে পিটিয়ে মানুষ করায় বিশ্বাসী মানুষজন কেও দেখেছি যেখানে যে যত কঠোর সে মনে করে মাতৃত্ব/ পিতৃত্বের মাপকাঠিতে তার স্থান তত ওপরে আবার অতিরিক্ত আদরে উচ্ছন্নে পাঠানো মা বাবাকেও দেখেছি। আমার কোনো বক্তব্য নেই এ ব্যাপারে। যেমন নেই ওই সোশ্যাল পোস্ট এর ব্যাপারে। আমি নিজে একটু প্রাইভেট মানুষ, ব্যক্তিগত জীবনকে একদম খোলা বই এর মতন প্রকাশ করতে পছন্দ না করা, একজন মেয়ে এবং কিছুদিন যাবৎ মাতৃত্বের পথে পা রাখা একজন। প্যারেন্টিং কোনো প্রতিযোগিতা নয়, তুলনারও নয়। পদ্ধতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু প্রতিটি মা-বাবার লক্ষ্য এক—নিজের সন্তানকে ভালোবাসা, যত্ন আর নিজের সেরাটা দিয়ে বড় করে তোলা। তবু কোথাও গিয়ে মনে হয় ওই ভীষণ দুই চরম ও নরম পন্থীর বাইরে গিয়েও কিছু যেন একটা আলাদা পথ আছে, হয়তো তার রূপ টা আমার কাছে পরিষ্কার নয়। কিন্তু এটুকু জানি আমাদের গবেষণার মতন এও এক সাধনা। কোনো একদিন হটাৎ করে আমার মনে হবে আমার হাতে অবসর এসেছে, এখন আমার সন্তান যেন আমার বন্ধু হয়ে ওঠে, অথচ তার ধ্যান ধারণা সব ই নিন্দনীয় আমার কাছে , এ হয়না। শ্রদ্ধা ভীষণ পারস্পরিক। 

ম্যানহাটান এমন এক জায়গা যেদিকে গোটা পৃথিবী তাকিয়ে থাকে। সেই শহর এর টপ tier হসপিটাল এ যার জন্ম সে যে জন্মের আগে থেকেই এডভান্সমেন্ট পেয়ে বড় হচ্ছে বা হবেও সে কথা বলাই বাহুল্য। তাই এডভান্সমেন্ট,টেকনোলজি, খেলনা , জামাকাপড় এসব কিছু নয়, এই ছোট্ট মানুষটাকে মাটিতে পা দিয়ে মানুষের মতন বড় হতে গেলে যা দরকার, তা হয়তো  প্রকৃতি হয়তো তাই প্রকৃতিকেই সেতু করেছি। এই প্রকৃতি দিয়েই হয়তো একদিন ও শিখবে বিজ্ঞানের কেনকে যা আবার উপনিষদের কে এর ও  উত্তর দেবে । খুঁজছি কি তার ওপরে নির্ভর করে কি পাবো 😊 বসে ফোন বা টিভি এর দরকার পড়েনি এখনো, মার্কিনী মুলুকে বসেও দিদুন এর দেওয়া সমস্ত বাংলা বই এর ছবি ছড়া গল্প ই তার ভীষণ প্রিয় সঙ্গী। Cognitive neuroscience-এর এত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে জানি—মাতৃভাষাকে সরিয়ে শুধুই ‘কাজের ভাষা’ শিশুর মনে ঢুকিয়ে দেওয়ার মধ্যে আলাদা কোনো লাভ নেই। বরং ভাষা ও পৃথিবীকে যত স্বাভাবিকভাবে তার সামনে আসতে দেওয়া যায়, তত সহজেই সে সবকিছুকে আপন করে নিতে শেখে।নিজের জানা এর বাস্তব প্রতিফলন দেখি যখন ছোট্ট মানুষটা গাছের পাতা হাতে নিয়ে বলে পাতা, leaf  এক ই এক ই , ফল fruits এক ই এক ই। অবাক হয়ে দেখি কখন নিজেই বুঝে নিয়েছে বাড়িতে কাঠবেড়ালি  বলতে হবে আর বাইরে অন্যদের squirel  না বললে তারা বুঝবেনা। অথচ এই শেখাটা এতটাই স্বাভাবিক যে, সে নিজেও জানে না কী অসাধারণ একটা কাজ সে করে চলেছে। পারতপক্ষে ওর সঙ্গে তাই ইংরাজি তে কথা বলিনা। 

আমি চাই না পৃথিবীকে তার কাছে ভয়ংকর বা কঠিন কোনো জায়গা হিসেবে তুলে ধরতে।চাই সে প্রথমে পৃথিবীকে সুন্দর, সাবলীল , স্বচ্ছন্দ ভাবে চিনুক ভয় নয়, বিস্ময় আর কৌতূহল নিয়ে ওর সমস্ত সত্বা নির্ভয়ে বিকশিত হোক। ওর মতন করে। “Children are not things to be molded, but are people to be unfolded.” — Jess Lair জীবনের এতটা পথ এ কত মানুষের সঙ্গে আলাপ, অভিজ্ঞতার ঝুলিও নেহাত কম নয়, কতজন কে দেখলাম সম্পদের মোহে, ফ্যাশন দুনিয়াত হারিয়ে যেতে, কতজন কে দেখলাম, চোখ আছে, কিন্তু তাতে কোনো দৃশ্যপট নেই, রীল এর দুনিয়াতে কখন real ওয়ার্ল্ড শেষ। এই ছোট্ট মানুষটা এর চোখ এ সেই দৃষ্টি তৈরি হবে কিনা আমি জানিনা, কিন্তু দৃষ্টিপট যেন এনে দিতে পারি। একটা ছোট্ট মানুষকে বড় করতে গিয়ে কি কি স্যাক্রিফাইস করলাম, কি কষ্ট করলাম , কোন রেস্টুরেন্ট এ খাওয়ালাম বা কি কি দিয়ে তাকে বড় করলাম এসবের কিছুই পরে থাকবেনা, থাকবে শুধু তাকে আমরা কিভাবে ভালোবাসলাম, কি কি মূল্যবোধ তার মধ্যে দিতে পারলাম আর কি কি সুন্দর মুহূর্ত তৈরি করতে পারলাম। সময় চলে যাবেই, কিন্তু যে সময় টা সঙ্গে আছি সেটুকু সময় যেন জড়িয়ে থাকতে পারি। যাকে এখন আমি শেখাচ্ছি একদিন যেন তার কাছে শিশুর মতন আমি শিখতে পারি।  ওর প্রশ্ন এখন যেমন আমাকে আনন্দ দেয় পরেও যেন তেমনি ভাবেই ওর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারি। অনেক বছর পরে সেদিন ও আজকের মতন এই ছোট্ট মানুষটা যেন বলতে পারে দেখো মা আকাশটা কি সুন্দর। physical distance যদি থাকেও তা যেন আমাদের কাছাকাছি হতে বাধা না দেয়।  

হয়তো এটাই জীবনের সবচেয়ে সুন্দর যাত্রা—সন্তানকে বড় করতে করতে, নিজে প্রতিদিন একটু একটু করে পরিণত হয়ে ওঠা।এইভাবেই প্রতিটা দিন যেন আগের আমির চোখে একজন বেটার মা, সর্বোপরি একজন বেটার মানুষ হয়ে এসে ধরা দেয় । আমার আজকের আমির চোখের দিকে যেন গতকালের আমি গর্ব নিয়ে মুচকি হেসে তাকাতে পারে, আজকের আমি আগামীর আমির দিকে। “Life isn’t about finding yourself. Life is about creating yourself.” — George Bernard Shaw


উপনিষদের ভাষায় অন্যন্ নবতরং কল্যাণতরং রূপং কুরুতে - প্রতিদিন একটু নতুন, একটু সুন্দর, একটু কল্যাণময় হয়ে ওঠার এই যাত্রাই হয়তো জীবন। 


আর এর সবকিছু আমার সেই একজনের কাছে শেখা। আমার জীবনের সেই বিশেষ একজন এর  কাছে যে আমার আমির  পরিপূরক, বলেছিলাম মনে আছে শ্রদ্ধা ভীষণ পারস্পরিক। আমরা equally একে অপরের কাছে প্রতিদিন শিখি, অকুন্ঠ ভাবে তা আমরা স্বীকার করি, ছেলেমানুষের মতন অভিমান করি, আর হয়তো শুধুই ভালোবাসি। আমরা অনেক ভুল করি, হয়তো অনেক ভুল আর ঠিক করার সময় থাকেনা। জানি যে জীবনে সময় পেরিয়ে গেলে আর তা ফিরে পাওয়া যায়না, তবু যতটুকু সময় পাই সবটুকু উজাড় করে পাইনা, অনেক কিছু prioritize করতে পারিনা, সে আমাকে অনেক দুঃখ ও দেয়। হয়তো আমিও তাকে দি। তবু আমরা একসাথে, আজ অনেকগুলো বছর ও হয়ে গেলো - আমরা বহুদূরে থাকি - তবু  বহুদূরে থেকেও ভীষণ কাছে। 




Friday, 18 September 2026

কেন মেঘ আসে

 কেন এত অবসন্ন লাগে, কেন শুধু তোমায় খুঁজি। কিন্তু পাইনা। তোমার সঙ্গে যুক্ত নয়, কানেক্টেড হয়ে থাকতে চাই। হটাৎ করে চারিদিক সব কেমন অন্ধকার হয়ে যায়, মনে হয় যেন কিছু নেই কেউ নেই, ভয় হয় , খুব , হারিয়ে ফেলার ভয়। আচ্ছা এখনো কি তুমি সেই অতোবছর গুলো আগে যেমন বলতে আমার চোখ দুটো খুব সুন্দর, আজ ও কি সেই এক ই রকম লাগে তোমার? জানিনা। গঙ্গার ধরে বসতে ইচ্ছে করে বড্ডো। ভীষণ ইচ্ছে করে ওই সুন্দর আয়ত দুটো হাতের মধ্যে নিজের ছোট্ট হাত দুটো কে হারিয়ে চড়ুই পাখির মতন হারিয়ে যেতে দেখতে। এখনো কি তুমি আমার হাত আর আঙুলের দিকে তাকিয়ে সেই এক ই রকম ভাবে অবাক হয়ে মুচকি হেসে বলো ? এত simple ? এত ছোট্ট বাচ্ছাদের মতন আঙ্গুল , আমিতো ভেবেছিলাম, বড় বড় নখ রাখা কোনো হাত হবে। 

Wednesday, 12 August 2026

ভালোবাসা খোঁজে নিরাপত্তা- ওয়েন ও মজির অসম্ভব বন্ধুত্বের গল্প

ওয়েন ও মজির গল্প: কেনিয়ার এক ছোট জলহস্তী ও এক বৃদ্ধ কচ্ছপের অসাধারণ বন্ধুত্ব

দুর্যোগ 

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর, ভারত মহাসাগরের গভীরে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয় এক ভয়াবহ সুনামি। এই সুনামির ঢেউ এশিয়া ও আফ্রিকার বহু উপকূলীয় অঞ্চল ধ্বংস করে দেয়। মানুষের পাশাপাশি অসংখ্য প্রাণীও এই বিপর্যয়ের শিকার হয়। কেনিয়ার উপকূলের কাছে সাবাকি নদীর (Sabaki River) অঞ্চলে একটি ছোট জলহস্তী তার পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র কয়েক মাস। প্রচণ্ড ঢেউ তাকে তার মা এবং দলের থেকে দূরে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সে একটি ছোট প্রবাল প্রাচীরের কাছে আটকে পড়ে। ভীত, ক্লান্ত এবং একা সেই ছোট্ট জলহস্তীটি তখন সম্পূর্ণ অসহায় ছিল। স্থানীয় মানুষ তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভয় পেয়ে যাওয়া ছোট জলহস্তীটিকে বাঁচানো সহজ ছিল না। অনেক চেষ্টার পর অবশেষে উদ্ধারকারীরা তাকে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন। তার নাম রাখা হয় ওয়েন, একজন উদ্ধারকারীর নাম অনুসারে। কিন্তু ওয়েনের জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষত তখনও রয়ে গিয়েছিল—সে তার মা এবং নিজের পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

হ্যালার পার্কে নতুন জীবন

ওয়েন কে নিয়ে যাওয়া হয় কেনিয়ার মোম্বাসার কাছে অবস্থিত হ্যালার পার্ক (Haller Park) নামের একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে। সেখানকার কর্মীরা জানতেন যে একটি ছোট জলহস্তীর জীবনে মায়ের ভূমিকা কত গুরুত্বপূর্ণ। জলহস্তীরা খুব সামাজিক প্রাণী। ছোট জলহস্তীরা তাদের মায়ের কাছ থেকে নিরাপত্তা, আচরণ এবং বেঁচে থাকার শিক্ষা পায়। কিন্তু ওয়েনের জন্য সেখানে কোনো ছোট জলহস্তী ছিল না। তারপর ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা। হ্যালার পার্কে বাস করত একটি বিশালাকার আলদাব্রা দৈত্যাকার কচ্ছপ, যার নাম ছিল মজি। মজির বয়স ছিল প্রায় ১৩০ বছর। সোয়াহিলি ভাষায় Mzee শব্দের অর্থ হলো "বৃদ্ধ মানুষ" বা "প্রবীণ"। সে ছিল শান্ত, ধীরগতির এবং একাকী জীবনযাপনে অভ্যস্ত। অন্যদিকে ওয়েন ছিল ছোট, চঞ্চল এবং সদ্য পরিবার হারানো একটি শিশু। আকৃতি , প্রকৃতি, স্বভাব, বয়স, জৈবিক কোনো মিলই তাদের মধ্যে ছিল না।

কিন্তু প্রকৃতি কখনও কখনও এমন সম্পর্ক তৈরি করে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারে না।

যখন প্রথমবার ওয়েনকে মজির কাছে নিয়ে যাওয়া হলো, সে অবাক করার মতোভাবে সরাসরি মজির কাছে চলে গেল। সে মজির পাশে দাঁড়াতে শুরু করল। মজিকে অনুসরণ করতে লাগল। তার কাছেই ঘুমাতে লাগল। পরিচর্যাকারীরা বিস্মিত হয়ে দেখলেন, ছোট জলহস্তীটি যেন এই বৃদ্ধ কচ্ছপের মধ্যেই তার হারিয়ে যাওয়া মায়ের নিরাপত্তা খুঁজে পাচ্ছে।

আসলে ওয়েন তখন বুঝত না যে মজি অন্য প্রজাতির প্রাণী।শিশুরা হয় এ পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর , সবথেকে পবিত্র সৃষ্টি। তারা ভালোবাসা অন্য কোনো কিছু দিয়ে বিচার করতে যায়না। তারা তাকেই আঁকড়ে ধরে যার কাছে তারা নিরাপদ বোধ করে। মজির মনে কি চলেছিল কেন সে ওই বৃদ্ধ কচ্ছপ এর কাছে থাকতে শুরু করেছিল এর উত্তর আমার জানা নেই। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ওয়েন হয়তো মজিকে তার মায়ের মতো ভেবেছিল। কারণ মজির বড় শরীর, শান্ত স্বভাব এবং নিরাপদ উপস্থিতি ওয়েনকে তার হারানো পরিবারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল।সে হয়তো শুধু বোধ করেছিল, "এর পাশে থাকলে আমি নিরাপদ অনুভব করি।"

এক অসম্ভব বন্ধুত্ব

ধীরে ধীরে মজিও ওয়েনকে গ্রহণ করে নিল। তাদের দেখা যেত একসঙ্গে হাঁটতে, একসঙ্গে বিশ্রাম নিতে, পাশাপাশি ঘুমাতে, একে অপরের কাছাকাছি থাকতে। ওয়েন মাঝে মাঝে মজির গায়ে মাথা ঘষত বা তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকত। আর ধীর, শান্ত স্বভাবের মজি যেন তার এই ছোট্ট বন্ধুর উপস্থিতিতে অভ্যস্ত হয়ে গেল । দর্শনার্থীরা হ্যালার পার্কে এসে অবাক হয়ে দেখতেন—একটি বিশাল শিশুসুলভ জলহস্তী একটি বৃদ্ধ কচ্ছপের পিছনে পিছনে ঘুরছে, যেন তারা একই পরিবারের সদস্য। তাদের ছবি সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই গল্পে আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন, কারণ এটি শুধু প্রাণীদের গল্প ছিল না—এটি ছিল এক অপূর্ব প্রাপ্তির গল্প , হারিয়ে পাওয়ার মতন ভালোবাসা। জীবন যে ভালোবাসা ছাড়া চলেনা। আর ভালোবাসা আসে সেখানেই যেখানে নিরাপত্তা বোধ থাকে। যেখানে এলে অস্বস্তি নয়, স্বস্তিতে শ্বাস নেওয়া যায়। ভালোবাসা হলো সেই স্পেস যেখানে অন্যজনের সাহচর্যে মানুষ আসলে নিজেকেই খুঁজে পায়। শিশুকাল হচ্ছে সবথেকে স্পন্টেনিয়াস এক সময়। মনের ওপরে তখনো চারপাশের প্রভাব পড়তে শুরু করেনা। ছোট্ট প্রাণ আপনা হতেই যায় সেখানে যেখানে সে স্বচ্ছন্দ। বৈজ্ঞানিকভাবে দেখলে, ওয়েন এবং মজির সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক। জলহস্তীরা সাধারণত নিজেদের প্রজাতির মধ্যেই সামাজিক বন্ধন তৈরি করে। একটি কচ্ছপ কোনোভাবেই একটি জলহস্তীর মায়ের বিকল্প হতে পারে না। কিন্তু ওয়েন তার সঙ্গেই থাকতে শুরু করে যার কাছে সে স্বচ্ছন্দ। আর তার এই ইন্নোসেন্ট ভালোবাসার স্রোতে মজির মতন বৃদ্ধ কচ্ছপের্ পা মেলাতেও বিলম্ব হয়নি।  স্নেহ যে নিম্নগামী।  তার চরিত্রই হচ্ছে বয়ে চলা। এই ছোট জলহস্তী এবং একটি বৃদ্ধ কচ্ছপ প্রমাণ করেছিল যে বন্ধুত্বের জন্য একই রকম হওয়ার প্রয়োজন নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওয়েন বড় হতে লাগল। একটি পূর্ণবয়স্ক জলহস্তী অনেক বড় এবং শক্তিশালী হয়। তাই আকৃতিগত ভাবে তার থেকে অনেক ছোট মজির জন্য তার সঙ্গে থাকা নিরাপদ ছিল না। পরিচর্যাকারীরা ধীরে ধীরে ওয়েনকে অন্য জলহস্তীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, যাতে সে নিজের প্রজাতির সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। পরে ওয়েন একটি স্ত্রী জলহস্তী ক্লিও (Cleo)-র সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করে এবং নিজেদের স্বাভাবিক জীবনাবর্তে চলতে শুরু করে। 

ওয়েন ও মজি আর আগের মতো সবসময় একসঙ্গে থাকেনি, কিন্তু তাদের বন্ধুত্বের গল্প মানুষের মনে চিরকাল থেকে গেছে।

🔻 Savfk - Journey To The Stars is under a YouTube Free license.    / savfkmusic   Music powered by BreakingCopyright:    • ⭐ Copyright Free Epic Music - "Journey To ...   🔎 Find more music here: https://breakingcopyright.com 🔺



অপেক্ষা | পূনর্মিলন RUTH ও MINKA-র সত্য ঘটনা | জীবন থেকে নেওয়া জীবনের গল্প| the waiting

 এবছরের মতন দেবী দূর্গা ফিরে গেছেন কৈলাশে। অস্তমিত হয়েছে কোজাগরীর চাঁদ ও । দূর্গা পুজো আসলে মা মেয়ের গল্প , মেয়ের তার মা এর কাছে ফিরে আসা। আ...