Saturday, 19 September 2026

এ পথ গেছে সেইখানে

 দেখতে দেখতে এক বছর হয়ে গেলো, ছোট্ট ছেলেটা স্কুল এ যাচ্ছে। স্কুল মানে playschool বা daycare. এদেশে ওয়ার্কিং পেরেন্টস দের ছোট্ট ছোট্ট ছানা দের take care করার মতন ভীষণ সুন্দর ব্যবস্থা আছে, যদিও দেশে থাকতে এ নিয়ে গুজবের শেষ ছিলোনা, এবং নিজের মনেও খুব ভয় ছিল কিন্তু নিজে এক্সপেরিয়েন্স করে বুঝলাম দূর থেকে কত ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে কত ভয় আমরা নিজেরাও পাই আর তার থেকেও বেশি ভয় ছড়িয়ে দি মানুষের মনে। পরে কখনো সময় পেলে বলবো সে কথা বিশদে কিন্তু তার আগে যে জন্যে আমার মা মন আজ কলম ধরলো সে কথা বলি, এই একটা বছরে আমাদের ছোট্ট ছেলেটার এক এক পা করে এই বেড়ে ওঠা বড্ড সুন্দর। 

এই বিদেশের মাটিতে প্রবাসী জীবনে একা একা একটা ছোট্ট মানুষ কে বড় করে তোলা খুব সহজ কথা নয়। কিন্তু আজ পিছন ফিরে যখন প্রতিটা দিনকে দেখি আর বর্তমানের এই ছোট্ট মানুষটা কে দেখি তখন মনে মনে এটুকু যেন ভরসা পাই পারবো। পারছি। বড় তো সবাই হয়েই যায়, কিন্তু একটা সুন্দর মন নিয়ে বেড়ে ওঠা? সেটা পারবো তো?  প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮ টা তে ব্রেকফাস্ট করে একদম রেডি হয়ে আমরা বাড়ির গেট এ যখন দাঁড়াই তখন প্রচন্ড গ্রীষ্মেও খরতাপ শুরু হয়না, সকাল টা নরম হয়ে যেন আমাদের দিকে তাকায়। এখানে পাওনা urbanization এর পাশাপাশি প্রকৃতি। দুরন্ত আড়াই তখন চায় দৌড়ে যেতে, আর চল্লিশোর্ধ তাকে ধরে বেঁধে stroller এ বসায় । সে তখন বসে বসেই অলমোস্ট নেচে নেচে চলতে থাকে, গাড়ি তে নয়, সকালে স্বেচ্ছায় ছোট্ট ছানা কে নিয়ে টানা দেড় মাইল হাঁটাটা শুধু ওয়ার্ক আউট নয়, দিন শুরুর আগে সব কাজ সেরে, রান্না করে, লাঞ্চ প্যাক করে, একটা ছোট দুরন্ত বাছা কে রেডি করে ব্রেকফাস্ট করিয়ে বেরোনোর যে জানা যুদ্ধ টা প্রায় সব মা বাবা কেই কম বেশি করতে হয় , এটা যেন থাকে তার মধ্যে একটা মেডিটেশন এর মতন। দিনের শুরুতে কাজের দুনিয়াতে ঢুকে যাওয়ার আগে একটা মেডিটেশন। 

দেড় বছরের এই এতটুকু মানুষটা এই সময় থেকে আকাশ কে চিনতে শুরু করেছিল, দিনের শুরুর আকাশ, তার রং, আলাপ হতে থাকলো দিন শুরুর সেই ছন্দের সঙ্গে , ফুল এর রং দেখে দেখে একসময় সে রং চিনতে শিখে গেলো, লাল, নীল, সাদা, হলুদ, পার্পল, শিখে গেলো গাছের পাতার সবুজ। দেখলো আবার সেই পাতার রং কেমন পরিবর্তন হতে থাকে। কিছুটা হাঁটার পরে, পাহাড়ি জঙ্গল এর একটা trail বা হাঁটা পথ এর বাঁক আসে যেখান থেকে জঙ্গল এর শুরু হয়, আমরা সেই বেঁকে যাওয়া পথ টাতে গিয়ে দাঁড়াই। ফিসফিস করে বলি তাকে জঙ্গল এর কথা শোনো, feel the silence . কে বলেছে ছোট রা কিছু বোঝেনা, তাদের কে সবকিছু বোকা বোকা করে বলতে হয়। কখনো না। ওদের কে বুঝিয়ে বললে ওরা ওদের মতন করে সবটা বোঝে। এখন ওই ছোট্ট মানুষটাই আমাকে ডেকে তার আধো আধো কথাতে বলে 'দেখো দেখো আকাশটা কি সুন্দর'। সূর্য্য ওঠা বা তার অস্ত যাওয়া দেখে আমরা একসঙ্গে খুশিতে নেচে উঠি। জঙ্গল এর রাস্তার অনেক আগে থেকেই সে বলে, 'জলগন জলগন'। 

ওই রাস্তাটাতে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে মুখে চুপ করার ভঙ্গী করে বলে, 'পাখি', অর্থাৎ চুপ, পাখির ডাক শোনো। এখন আর তাকে আমায় 'চুপ করে জঙ্গল কে শোনো' বলতে হয়না। এইটুকু একটা অসম্ভব দুরন্ত বাচ্চা নিজে থেকেই কেমন শান্ত হয়ে কিছুক্ষন চুপ করে থাকে। দিন শুরুর আগে ওই একটুখানি সময় এখন আমাদের সত্যি সত্যি meditating pause হয়ে গেছে। ফুলকে দেখে , গাছ কে দেখে সেও আর পাঁচটা বাচ্ছার মতন ই তাকে ছিঁড়তে গেছিলো, কিন্তু যখন শেখালাম গাছের কষ্ট হয়, ফুলকে আদর করতে হয়, বারবার প্রতিদিন করতে করতে কিছুদিন পরে সে ফুলকে আদর করলো, পাতা কে আদর করলো। তাকে না ছিঁড়ে আমার দিকে দুষ্টু দুষ্টু মুখ করে তাকিয়ে বললো, গাছ ভালো। আর আমার বুক থেকে একটা স্বস্তির শ্বাস বেড়িয়ে এলো। আমার screentime ফ্রি ছোট্ট আড়াই এখন নিজেই গাছে জল দেয়। 

এভাবেই ছোট্ট ছোট্ট জয় আমার প্রতিদিন কে ভরিয়ে রাখছে। এ এক অন্যরকম পথ চলা। এখন বুঝি শুধু বাবা মা হয়ে গেলেই প্যারেন্টিং হয়না, প্যারেন্টিং মানে আসলে একটা ছোট্ট শিশুকে বড় করা নয়, প্যারেন্টিং মানে নিজেরাও একটু একটু করে বড় হওয়া, পরিণত হওয়া, নিজেদের কে আরো শান্ত, স্থিত করা, patience এর পরীক্ষা, ইমোশনাল রেগুলেশন করা, কত gracefully আর কত beutifully একটা ছোট্ট প্রাণকে আমরা এই পৃথিবীকে চেনাতে পারি, how gracefully this universe could be unfolded in front a little heart তার টেস্ট। একদিন তো কখন বড় হয়ে যাবে, আর এমন গোটা ঘর জুড়ে খেলনা পরে থাকবেনা, থাকবেনা সব কিছু নিয়ে ব্যালকনি থেকে ফেলে দেওয়ার অভ্যেস, সকালের যুদ্ধ, জামা পড়া থেকে দাঁত মাজা সবেতাই গলদঘর্ম হয়ে যাওয়া, বা খাওয়াতে গিয়ে কখন প্রচন্ড খিদে জল হয়ে গিয়ে পেট ভরে যাওয়া। চিৎকার, কান্না, কোলে নিয়ে সব কিছু করা, এসব কিছুই থাকবেনা একদিন। শান্ত হয়ে যাবে সব ঘর গুলো। ছোট্ট ছোট্ট পা বড় হয়ে প্রবেশ করবে নিজের জগতে। সেই জগৎ ক্রমশ প্রসারিত হবে, তখন তাতে যেন আমার মনখারাপ না হয়, যেন আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করতে পারি সেই বড় হয়ে যাওয়াকে। আমার ওই তখনকার Gen বিটা এর থেকে যেন এই Gen Y  কিছু শিখে নিতে কুন্ঠা বোধ না করে। জীবনের অর্ধেক বা তার ও বেশি পথ পেরিয়ে এসে আজকের দিনে এটুকু বুঝতে শিখেছি যে জীবনে সময় খুব কম। আমাদের চারপাশে অনেক মানুষ থাকতে পারে কিন্তু কানেক্টেড থাকি আমরা সেই গুটি কয়েক মানুষের সঙ্গেই যাদের সঙ্গে একসাথে আমরা মুহূর্ত তৈরি করতে পেরেছি। আর নিজের সন্তান কেই যদি সেই বৃত্তের বাইরে রাখতে হয় তবে বোধহয় সে জীবন ই ব্যর্থ। আমি চাই এই ছোট্ট মানুষটার সঙ্গে মুহূর্ত তৈরি করতে। তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গিয়ে কর্তব্যের কঠোর ফাঁদে নয়,  প্রতিটা দিন, প্রতিটা মুহূর্ত তার সঙ্গে যেন নতুন ভাবে বেঁচে উঠতে পারি। আমার সন্তানের সঙ্গে আমি, যুক্ত নয় তার সঙ্গে যেন কানেক্টেড থাকতে পারি। 

 ইদানিং সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে দু ধরনের পোস্ট দেখতে পাই একদল মাতৃত্বকে অত্যন্ত glorify করতে গিয়ে প্রায় গর্ভের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং তারপরে বাচ্চার চান, পটি, বেড়ে ওঠার পুঙ্খানুপুঙ্খ সব ই সোশ্যাল মিডিয়া তে উঠে আসে আর এক ধরনের পোস্ট থাকে যা আদ্যোপান্ত চেষ্টা করে সন্তানের অযোগ্যতা প্রমাণ করাতে, মা বাবা কে দেখেনা, বৃদ্ধাশ্রম ইত্যাদি হলো সেখানের আলোচ্য। আমি বিচারক নোই , দ্রষ্টা মাত্র । কোনো কিছু দেখে ভালো না লাগলে সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে চলে গিয়ে ভালো লাগার বিষয় খুঁজে নি। এমন এক জেনারেশন এ জন্ম আমার যেখানে পিটিয়ে মানুষ করায় বিশ্বাসী মানুষজন কেও দেখেছি যেখানে যে যত কঠোর সে মনে করে মাতৃত্ব/ পিতৃত্বের মাপকাঠিতে তার স্থান তত ওপরে আবার অতিরিক্ত আদরে উচ্ছন্নে পাঠানো মা বাবাকেও দেখেছি। আমার কোনো বক্তব্য নেই এ ব্যাপারে। যেমন নেই ওই সোশ্যাল পোস্ট এর ব্যাপারে। আমি নিজে একটু প্রাইভেট মানুষ, ব্যক্তিগত জীবনকে একদম খোলা বই এর মতন প্রকাশ করতে পছন্দ না করা, একজন মেয়ে এবং কিছুদিন যাবৎ মাতৃত্বের পথে পা রাখা একজন। প্যারেন্টিং কোনো প্রতিযোগিতা নয়, তুলনারও নয়। পদ্ধতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু প্রতিটি মা-বাবার লক্ষ্য এক—নিজের সন্তানকে ভালোবাসা, যত্ন আর নিজের সেরাটা দিয়ে বড় করে তোলা। তবু কোথাও গিয়ে মনে হয় ওই ভীষণ দুই চরম ও নরম পন্থীর বাইরে গিয়েও কিছু যেন একটা আলাদা পথ আছে, হয়তো তার রূপ টা আমার কাছে পরিষ্কার নয়। কিন্তু এটুকু জানি আমাদের গবেষণার মতন এও এক সাধনা। কোনো একদিন হটাৎ করে আমার মনে হবে আমার হাতে অবসর এসেছে, এখন আমার সন্তান যেন আমার বন্ধু হয়ে ওঠে, অথচ তার ধ্যান ধারণা সব ই নিন্দনীয় আমার কাছে , এ হয়না। শ্রদ্ধা ভীষণ পারস্পরিক। 

ম্যানহাটান এমন এক জায়গা যেদিকে গোটা পৃথিবী তাকিয়ে থাকে। সেই শহর এর টপ tier হসপিটাল এ যার জন্ম সে যে জন্মের আগে থেকেই এডভান্সমেন্ট পেয়ে বড় হচ্ছে বা হবেও সে কথা বলাই বাহুল্য। তাই এডভান্সমেন্ট,টেকনোলজি, খেলনা , জামাকাপড় এসব কিছু নয়, এই ছোট্ট মানুষটাকে মাটিতে পা দিয়ে মানুষের মতন বড় হতে গেলে যা দরকার, তা হয়তো  প্রকৃতি হয়তো তাই প্রকৃতিকেই সেতু করেছি। এই প্রকৃতি দিয়েই হয়তো একদিন ও শিখবে বিজ্ঞানের কেনকে যা আবার উপনিষদের কে এর ও  উত্তর দেবে । খুঁজছি কি তার ওপরে নির্ভর করে কি পাবো 😊 বসে ফোন বা টিভি এর দরকার পড়েনি এখনো, মার্কিনী মুলুকে বসেও দিদুন এর দেওয়া সমস্ত বাংলা বই এর ছবি ছড়া গল্প ই তার ভীষণ প্রিয় সঙ্গী। Cognitive neuroscience-এর এত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে জানি—মাতৃভাষাকে সরিয়ে শুধুই ‘কাজের ভাষা’ শিশুর মনে ঢুকিয়ে দেওয়ার মধ্যে আলাদা কোনো লাভ নেই। বরং ভাষা ও পৃথিবীকে যত স্বাভাবিকভাবে তার সামনে আসতে দেওয়া যায়, তত সহজেই সে সবকিছুকে আপন করে নিতে শেখে।নিজের জানা এর বাস্তব প্রতিফলন দেখি যখন ছোট্ট মানুষটা গাছের পাতা হাতে নিয়ে বলে পাতা, leaf  এক ই এক ই , ফল fruits এক ই এক ই। অবাক হয়ে দেখি কখন নিজেই বুঝে নিয়েছে বাড়িতে কাঠবেড়ালি  বলতে হবে আর বাইরে অন্যদের squirel  না বললে তারা বুঝবেনা। অথচ এই শেখাটা এতটাই স্বাভাবিক যে, সে নিজেও জানে না কী অসাধারণ একটা কাজ সে করে চলেছে। পারতপক্ষে ওর সঙ্গে তাই ইংরাজি তে কথা বলিনা। 

আমি চাই না পৃথিবীকে তার কাছে ভয়ংকর বা কঠিন কোনো জায়গা হিসেবে তুলে ধরতে।চাই সে প্রথমে পৃথিবীকে সুন্দর, সাবলীল , স্বচ্ছন্দ ভাবে চিনুক ভয় নয়, বিস্ময় আর কৌতূহল নিয়ে ওর সমস্ত সত্বা নির্ভয়ে বিকশিত হোক। ওর মতন করে। “Children are not things to be molded, but are people to be unfolded.” — Jess Lair জীবনের এতটা পথ এ কত মানুষের সঙ্গে আলাপ, অভিজ্ঞতার ঝুলিও নেহাত কম নয়, কতজন কে দেখলাম সম্পদের মোহে, ফ্যাশন দুনিয়াত হারিয়ে যেতে, কতজন কে দেখলাম, চোখ আছে, কিন্তু তাতে কোনো দৃশ্যপট নেই, রীল এর দুনিয়াতে কখন real ওয়ার্ল্ড শেষ। এই ছোট্ট মানুষটা এর চোখ এ সেই দৃষ্টি তৈরি হবে কিনা আমি জানিনা, কিন্তু দৃষ্টিপট যেন এনে দিতে পারি। একটা ছোট্ট মানুষকে বড় করতে গিয়ে কি কি স্যাক্রিফাইস করলাম, কি কষ্ট করলাম , কোন রেস্টুরেন্ট এ খাওয়ালাম বা কি কি দিয়ে তাকে বড় করলাম এসবের কিছুই পরে থাকবেনা, থাকবে শুধু তাকে আমরা কিভাবে ভালোবাসলাম, কি কি মূল্যবোধ তার মধ্যে দিতে পারলাম আর কি কি সুন্দর মুহূর্ত তৈরি করতে পারলাম। সময় চলে যাবেই, কিন্তু যে সময় টা সঙ্গে আছি সেটুকু সময় যেন জড়িয়ে থাকতে পারি। যাকে এখন আমি শেখাচ্ছি একদিন যেন তার কাছে শিশুর মতন আমি শিখতে পারি।  ওর প্রশ্ন এখন যেমন আমাকে আনন্দ দেয় পরেও যেন তেমনি ভাবেই ওর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারি। অনেক বছর পরে সেদিন ও আজকের মতন এই ছোট্ট মানুষটা যেন বলতে পারে দেখো মা আকাশটা কি সুন্দর। physical distance যদি থাকেও তা যেন আমাদের কাছাকাছি হতে বাধা না দেয়।  

হয়তো এটাই জীবনের সবচেয়ে সুন্দর যাত্রা—সন্তানকে বড় করতে করতে, নিজে প্রতিদিন একটু একটু করে পরিণত হয়ে ওঠা।এইভাবেই প্রতিটা দিন যেন আগের আমির চোখে একজন বেটার মা, সর্বোপরি একজন বেটার মানুষ হয়ে এসে ধরা দেয় । আমার আজকের আমির চোখের দিকে যেন গতকালের আমি গর্ব নিয়ে মুচকি হেসে তাকাতে পারে, আজকের আমি আগামীর আমির দিকে। “Life isn’t about finding yourself. Life is about creating yourself.” — George Bernard Shaw


উপনিষদের ভাষায় অন্যন্ নবতরং কল্যাণতরং রূপং কুরুতে - প্রতিদিন একটু নতুন, একটু সুন্দর, একটু কল্যাণময় হয়ে ওঠার এই যাত্রাই হয়তো জীবন। 


আর এর সবকিছু আমার সেই একজনের কাছে শেখা। আমার জীবনের সেই বিশেষ একজন এর  কাছে যে আমার আমির  পরিপূরক, বলেছিলাম মনে আছে শ্রদ্ধা ভীষণ পারস্পরিক। আমরা equally একে অপরের কাছে প্রতিদিন শিখি, অকুন্ঠ ভাবে তা আমরা স্বীকার করি, ছেলেমানুষের মতন অভিমান করি, আর হয়তো শুধুই ভালোবাসি। আমরা অনেক ভুল করি, হয়তো অনেক ভুল আর ঠিক করার সময় থাকেনা। জানি যে জীবনে সময় পেরিয়ে গেলে আর তা ফিরে পাওয়া যায়না, তবু যতটুকু সময় পাই সবটুকু উজাড় করে পাইনা, অনেক কিছু prioritize করতে পারিনা, সে আমাকে অনেক দুঃখ ও দেয়। হয়তো আমিও তাকে দি। তবু আমরা একসাথে, আজ অনেকগুলো বছর ও হয়ে গেলো - আমরা বহুদূরে থাকি - তবু  বহুদূরে থেকেও ভীষণ কাছে। 




Friday, 18 September 2026

কেন মেঘ আসে

 কেন এত অবসন্ন লাগে, কেন শুধু তোমায় খুঁজি। কিন্তু পাইনা। তোমার সঙ্গে যুক্ত নয়, কানেক্টেড হয়ে থাকতে চাই। হটাৎ করে চারিদিক সব কেমন অন্ধকার হয়ে যায়, মনে হয় যেন কিছু নেই কেউ নেই, ভয় হয় , খুব , হারিয়ে ফেলার ভয়। আচ্ছা এখনো কি তুমি সেই অতোবছর গুলো আগে যেমন বলতে আমার চোখ দুটো খুব সুন্দর, আজ ও কি সেই এক ই রকম লাগে তোমার? জানিনা। গঙ্গার ধরে বসতে ইচ্ছে করে বড্ডো। ভীষণ ইচ্ছে করে ওই সুন্দর আয়ত দুটো হাতের মধ্যে নিজের ছোট্ট হাত দুটো কে হারিয়ে চড়ুই পাখির মতন হারিয়ে যেতে দেখতে। এখনো কি তুমি আমার হাত আর আঙুলের দিকে তাকিয়ে সেই এক ই রকম ভাবে অবাক হয়ে মুচকি হেসে বলো ? এত simple ? এত ছোট্ট বাচ্ছাদের মতন আঙ্গুল , আমিতো ভেবেছিলাম, বড় বড় নখ রাখা কোনো হাত হবে। 

Wednesday, 12 August 2026

ভালোবাসা খোঁজে নিরাপত্তা- ওয়েন ও মজির অসম্ভব বন্ধুত্বের গল্প

ওয়েন ও মজির গল্প: কেনিয়ার এক ছোট জলহস্তী ও এক বৃদ্ধ কচ্ছপের অসাধারণ বন্ধুত্ব

দুর্যোগ 

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর, ভারত মহাসাগরের গভীরে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয় এক ভয়াবহ সুনামি। এই সুনামির ঢেউ এশিয়া ও আফ্রিকার বহু উপকূলীয় অঞ্চল ধ্বংস করে দেয়। মানুষের পাশাপাশি অসংখ্য প্রাণীও এই বিপর্যয়ের শিকার হয়। কেনিয়ার উপকূলের কাছে সাবাকি নদীর (Sabaki River) অঞ্চলে একটি ছোট জলহস্তী তার পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র কয়েক মাস। প্রচণ্ড ঢেউ তাকে তার মা এবং দলের থেকে দূরে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সে একটি ছোট প্রবাল প্রাচীরের কাছে আটকে পড়ে। ভীত, ক্লান্ত এবং একা সেই ছোট্ট জলহস্তীটি তখন সম্পূর্ণ অসহায় ছিল। স্থানীয় মানুষ তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভয় পেয়ে যাওয়া ছোট জলহস্তীটিকে বাঁচানো সহজ ছিল না। অনেক চেষ্টার পর অবশেষে উদ্ধারকারীরা তাকে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন। তার নাম রাখা হয় ওয়েন, একজন উদ্ধারকারীর নাম অনুসারে। কিন্তু ওয়েনের জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষত তখনও রয়ে গিয়েছিল—সে তার মা এবং নিজের পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

হ্যালার পার্কে নতুন জীবন

ওয়েন কে নিয়ে যাওয়া হয় কেনিয়ার মোম্বাসার কাছে অবস্থিত হ্যালার পার্ক (Haller Park) নামের একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে। সেখানকার কর্মীরা জানতেন যে একটি ছোট জলহস্তীর জীবনে মায়ের ভূমিকা কত গুরুত্বপূর্ণ। জলহস্তীরা খুব সামাজিক প্রাণী। ছোট জলহস্তীরা তাদের মায়ের কাছ থেকে নিরাপত্তা, আচরণ এবং বেঁচে থাকার শিক্ষা পায়। কিন্তু ওয়েনের জন্য সেখানে কোনো ছোট জলহস্তী ছিল না। তারপর ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা। হ্যালার পার্কে বাস করত একটি বিশালাকার আলদাব্রা দৈত্যাকার কচ্ছপ, যার নাম ছিল মজি। মজির বয়স ছিল প্রায় ১৩০ বছর। সোয়াহিলি ভাষায় Mzee শব্দের অর্থ হলো "বৃদ্ধ মানুষ" বা "প্রবীণ"। সে ছিল শান্ত, ধীরগতির এবং একাকী জীবনযাপনে অভ্যস্ত। অন্যদিকে ওয়েন ছিল ছোট, চঞ্চল এবং সদ্য পরিবার হারানো একটি শিশু। আকৃতি , প্রকৃতি, স্বভাব, বয়স, জৈবিক কোনো মিলই তাদের মধ্যে ছিল না।

কিন্তু প্রকৃতি কখনও কখনও এমন সম্পর্ক তৈরি করে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারে না।

যখন প্রথমবার ওয়েনকে মজির কাছে নিয়ে যাওয়া হলো, সে অবাক করার মতোভাবে সরাসরি মজির কাছে চলে গেল। সে মজির পাশে দাঁড়াতে শুরু করল। মজিকে অনুসরণ করতে লাগল। তার কাছেই ঘুমাতে লাগল। পরিচর্যাকারীরা বিস্মিত হয়ে দেখলেন, ছোট জলহস্তীটি যেন এই বৃদ্ধ কচ্ছপের মধ্যেই তার হারিয়ে যাওয়া মায়ের নিরাপত্তা খুঁজে পাচ্ছে।

আসলে ওয়েন তখন বুঝত না যে মজি অন্য প্রজাতির প্রাণী।শিশুরা হয় এ পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর , সবথেকে পবিত্র সৃষ্টি। তারা ভালোবাসা অন্য কোনো কিছু দিয়ে বিচার করতে যায়না। তারা তাকেই আঁকড়ে ধরে যার কাছে তারা নিরাপদ বোধ করে। মজির মনে কি চলেছিল কেন সে ওই বৃদ্ধ কচ্ছপ এর কাছে থাকতে শুরু করেছিল এর উত্তর আমার জানা নেই। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ওয়েন হয়তো মজিকে তার মায়ের মতো ভেবেছিল। কারণ মজির বড় শরীর, শান্ত স্বভাব এবং নিরাপদ উপস্থিতি ওয়েনকে তার হারানো পরিবারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল।সে হয়তো শুধু বোধ করেছিল, "এর পাশে থাকলে আমি নিরাপদ অনুভব করি।"

এক অসম্ভব বন্ধুত্ব

ধীরে ধীরে মজিও ওয়েনকে গ্রহণ করে নিল। তাদের দেখা যেত একসঙ্গে হাঁটতে, একসঙ্গে বিশ্রাম নিতে, পাশাপাশি ঘুমাতে, একে অপরের কাছাকাছি থাকতে। ওয়েন মাঝে মাঝে মজির গায়ে মাথা ঘষত বা তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকত। আর ধীর, শান্ত স্বভাবের মজি যেন তার এই ছোট্ট বন্ধুর উপস্থিতিতে অভ্যস্ত হয়ে গেল । দর্শনার্থীরা হ্যালার পার্কে এসে অবাক হয়ে দেখতেন—একটি বিশাল শিশুসুলভ জলহস্তী একটি বৃদ্ধ কচ্ছপের পিছনে পিছনে ঘুরছে, যেন তারা একই পরিবারের সদস্য। তাদের ছবি সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই গল্পে আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন, কারণ এটি শুধু প্রাণীদের গল্প ছিল না—এটি ছিল এক অপূর্ব প্রাপ্তির গল্প , হারিয়ে পাওয়ার মতন ভালোবাসা। জীবন যে ভালোবাসা ছাড়া চলেনা। আর ভালোবাসা আসে সেখানেই যেখানে নিরাপত্তা বোধ থাকে। যেখানে এলে অস্বস্তি নয়, স্বস্তিতে শ্বাস নেওয়া যায়। ভালোবাসা হলো সেই স্পেস যেখানে অন্যজনের সাহচর্যে মানুষ আসলে নিজেকেই খুঁজে পায়। শিশুকাল হচ্ছে সবথেকে স্পন্টেনিয়াস এক সময়। মনের ওপরে তখনো চারপাশের প্রভাব পড়তে শুরু করেনা। ছোট্ট প্রাণ আপনা হতেই যায় সেখানে যেখানে সে স্বচ্ছন্দ। বৈজ্ঞানিকভাবে দেখলে, ওয়েন এবং মজির সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক। জলহস্তীরা সাধারণত নিজেদের প্রজাতির মধ্যেই সামাজিক বন্ধন তৈরি করে। একটি কচ্ছপ কোনোভাবেই একটি জলহস্তীর মায়ের বিকল্প হতে পারে না। কিন্তু ওয়েন তার সঙ্গেই থাকতে শুরু করে যার কাছে সে স্বচ্ছন্দ। আর তার এই ইন্নোসেন্ট ভালোবাসার স্রোতে মজির মতন বৃদ্ধ কচ্ছপের্ পা মেলাতেও বিলম্ব হয়নি।  স্নেহ যে নিম্নগামী।  তার চরিত্রই হচ্ছে বয়ে চলা। এই ছোট জলহস্তী এবং একটি বৃদ্ধ কচ্ছপ প্রমাণ করেছিল যে বন্ধুত্বের জন্য একই রকম হওয়ার প্রয়োজন নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওয়েন বড় হতে লাগল। একটি পূর্ণবয়স্ক জলহস্তী অনেক বড় এবং শক্তিশালী হয়। তাই আকৃতিগত ভাবে তার থেকে অনেক ছোট মজির জন্য তার সঙ্গে থাকা নিরাপদ ছিল না। পরিচর্যাকারীরা ধীরে ধীরে ওয়েনকে অন্য জলহস্তীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, যাতে সে নিজের প্রজাতির সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। পরে ওয়েন একটি স্ত্রী জলহস্তী ক্লিও (Cleo)-র সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করে এবং নিজেদের স্বাভাবিক জীবনাবর্তে চলতে শুরু করে। 

ওয়েন ও মজি আর আগের মতো সবসময় একসঙ্গে থাকেনি, কিন্তু তাদের বন্ধুত্বের গল্প মানুষের মনে চিরকাল থেকে গেছে।

🔻 Savfk - Journey To The Stars is under a YouTube Free license.    / savfkmusic   Music powered by BreakingCopyright:    • ⭐ Copyright Free Epic Music - "Journey To ...   🔎 Find more music here: https://breakingcopyright.com 🔺



Wednesday, 5 August 2026

GOd Help them who help themselves . ভগবান তাকেই সাহায্য করে, যে নিজে নিজেকে সাহায্য করে

 আমাদের জীবনে অনেক রকম phase আসে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রত্যেক মুহূর্তের নিজস্ব কিছু কারণ থাকে, কিছু purpose যা অনেক পরে আমরা বুঝতে পারি। কখনো পারি আবার কখনো হয়তো পারিনা , কিন্তু থাকে। আজ শুনবো এমন একজনের কাহিনী, যাঁর তৈরি চরিত্র আজ আমাদের সবার চেনা, কিন্তু এই মানুষটি ই একসময় দীর্ঘ সময় ধরে clinical ডিপ্রেশন এর মধ্যে দিয়ে চলেছিলেন। একাকী। শুধু যে নিজে একা চলছিলেন তাই নয়, এই াক চলার সময় তাঁর ওপরে ছিল আরো এক ছোট্ট মানুষের দায়িত্ব। তাঁর মেয়ে। যে এতই ছোট্ট যে এই পৃথিবীতে শুধুই তার মাকে চেনে। এমন অবস্থায় কি করলেন তিনি? ঘুরে দাঁড়ালেন। পৃথিবী আর একবার প্রমান করলো সেই বিখ্যাত উক্তি কে , GOd Help them who help themselves . ভগবান তাকেই সাহায্য করে, যে নিজে নিজেকে সাহায্য করে।  আজ শুনবো হ্যারি পটার এর স্রষ্টা J K Rowling এর জীবনের সেই কাহিনী। Rowling বড় হয়েছিলেন England -Wales boarder এর এক ছোট্ট গ্রামে। ছোট থেকেই তাঁর লেখার শখ ছিল। ৬ বছর বয়সে Rabbit বলে এক ছোট্ট খরগোশের গল্প দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু , পরে তাঁর ১১ বছরে তিনি প্রথম নভেল লেখেন। এর পরে তিনি ফ্রেঞ্চ নিয়ে পড়াশুনো করেন। ১৯৯০ সালে তাঁর মায়ের মৃত্যুর পরে তিনি পর্তুগাল এ চলে যান। তিনি বিয়ে করেন ও তাঁর মেয়ে জেসিকার জন্ম হয় সেখানেই। তাঁর সেই বিবাহ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিচ্ছেদের পর তিনি ছোট মেয়েকে নিয়ে আবার ইংল্যান্ডের edinghbara শহরে ফিরে আসেন। এই সময়ে তিনি এক ভয়ঙ্কর কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছিলেন। চাকরি ছিলোনা, অর্থনৈতিক কষ্ট, এছাড়া আমরা যাঁরা মা তাঁরা জানি একজন ছোট্ট মানুষ কে বড় করা খুব সহজ কথা নয় আর সেখানে একা হাতে একজন সিঙ্গেল mother হয়ে তাকে baro করা যে কতটা কঠিন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। মানসিক ভাবে তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘ না ঘুম, প্যারেন্টিং এর অবিছেদ্ধ্য অঙ্গ রাত জাগা , সঙ্গে ভীষণ একাকিত্ব, তার সঙ্গে লণ্ডন এর মারাত্মক শীতল , গ্লুমি weather , একাকী ঘরে ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে তিনি ক্রমশ ডুবে যাচ্ছিলেন অবসাদের অন্ধকারে।  এমন ই একসময়, একদিন ম্যানচেস্টার থেকে লন্ডন যাওয়ার রাস্তায় ট্রেনে তাঁর মাথায় আসে হ্যারি - এলোমেলো কালো চুল এর , গোল চশমা পড়া,  কপালে বজ্রপাতের মতো দাগ থাকা , এক ভীষণ লোনলি এক শিশু, যে হটাৎ জানতে পারে সে আসলে একজন জাদুকর। তাঁর কাছে তখন কোনো কাগজ কলম ছিলোনা, আর লজ্জায় তিনি কাউকে চাইতেও পারেননি তখন তা, শুধু নিজের ভাবনার স্রোতে নিজেকে ছেড়ে দিয়েছিলেন, একের পর এক মনের মধ্যে তৈরি হয়েছে  চরিত্রগুলো—হ্যারি, রন, হারমায়োনি, তাঁদের স্বভাব, বন্ধুত্ব, হগওয়ার্টসের পুরো জাদুর আশ্চর্ষ সে জগত। রাউলিং পরে বলেছিলেন, হ্যারি যেন হঠাৎ করেই তাঁর মনের মধ্যে এসে উপস্থিত হয়েছিল। তাঁর প্রথম দিনের প্রথম কিছু চরিত্র ন্যাপকিনের দেওয়ালেই প্রথম লিপিবদ্ধ হয়। এর পরের প্রায় পাঁচ বছর তিনি তাঁর সেই প্রিয় জাদুগরকে গড়ে তুলতে থাকেন, এক ছোট্ট একাকী শিশু যে সিঁড়ির কোণে থাকতো, একাকী , অন্ধকারে, সে নিজের ভেতরের অসীম ক্ষমতা উপলব্ধি করে কিভাবে ধীরে ধীরে একদিন খুঁজে পে তার পরিবার, গড়ে তুললো বন্ধুত্ব। ভয়ের বদলে সাহস এর লড়াই, ক্ষমতার বদলে ভালোবাসার শক্তি দিয়ে গড়েউঠলো তার চারপাশের জগৎ। পরবর্তী কালে তিনি বলেছিলেন, সেই সময় তাঁর জীবন ছিল খুব কঠিন, কিন্তু লেখালেখি তাঁকে আশা ও বেঁচে থাকার শক্তি দিয়েছিল।ঠান্ডা ঘরের একাকী অন্ধকার থেকে পালিয়ে দিনের অনেক সময় কখনো  তিনি ক্যাফেতে বসে হ্যারি পটার লিখতেন, আর তাঁর ছোট মেয়ে পাশের স্ট্রলারে ঘুমাত। এই সময়ের সঙ্গে জড়িত একটি বিখ্যাত স্থান হলো The Elephant House, যেখানে তিনি হ্যারি পটারের প্রথম দিকের বেশ কিছু অংশ লিখেছিলেন।

১৯৯৫ সালে তাঁর প্রথম বই Harry Potter and the Philosopher's Stone এর পাণ্ডুলিপি শেষ করার পর রাউলিং বিভিন্ন প্রকাশকের কাছে সেটি পাঠান। কিন্তু বারবার প্রত্যাখ্যাত হন। প্রায় এক ডজন প্রকাশক তাঁর লেখা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে Bloomsbury Publishing বইটি প্রকাশ করতে রাজি হয়। কথিত আছে, প্রকাশনা সংস্থার পরিচালকের ছোট মেয়ে প্রথম কয়েকটি অধ্যায় পড়ে এতটাই পছন্দ করেছিল যে সে বইটি প্রকাশ করার জন্য উৎসাহ দেয়। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম বই: Harry Potter and the Philosopher's Stone. তাঁর আসল নাম J Rowling , K  তাঁর দিদিমায়ের নামে। এই পিতৃতান্ত্রিক সমাজে পাবলিশার্স রা কিছুটা সন্দিহান ছিলেন এই নিয়ে যে একজন মহিলা লেখিকার লেখা গল্প যুবক সমাজে সমাদৃত হবে কিনা। তাঁরা অনুরোধ করেন তাঁকে তাঁর নিজের নাম Joanna ব্যবহার না করে নামের ইনিশিয়ালস ব্যবহার করাতে , তাই তিনি J K লিখতে শুরু করেন।

হ্যারি পটার এর সৃষ্টি ও তাঁর স্রষ্টার অপূর্ব দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে তুলে ধরে ভেঙে না পড়ার এক অমোঘ কাহিনী। শেখায়, জীবনে বড় কিছু করতে গেলে ছোটোখাটো কষ্ট নিয়ে অভিযোগ না করে তাকে উপেক্ষা করতে হয়। নিজেকে নিয়োজিত করতে হয় এমন কিছুতে যাতে তুমি সবচেয়ে ভালো আর সবচেয়ে ভালো থাকো। কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়েই হয়তো বড় সৃজনশীলতার ভীত লুকিয়ে থাকে। যা সহযেই করা যায়, পাওয়া যায়, যার মধ্যে কোনো চ্যালেঞ্জ থাকেনা, তা অনেক সময় ই বড় কিছু পেতেও দেয়না। rouling ভেঙে পড়তে পারতেন তাঁর জীবনের কঠিন সময়ে। কোনোরকমে মেয়েকে বড় করতে করতে আজীবন নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ আর আক্ষেপ করতেই পারতেন। কিন্তু তিনি তাই নিয়ে থেমে থাকেননি , অভিযোগ করলেই শুনবেই বা কে সে অভিযোগ। অভিযোগ না করে , নিজেকে টেনে বের করে এনেছেন নিজেই। হ্যারি পটার লেখার পরে প্রায় গোটা পৃথিবী জুড়ে প্রায় কয়েকশো মিলিয়ন কপি বিক্রি হয় এই বই এর। এই লেখা ইতিহাসে এক সফল সাহিত্যকর্ম। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁর গল্পে সাহস, আশা এবং সান্ত্বনা খুঁজে পেয়েছে। হ্যারি পটার এমন একজন মানুষের সৃষ্টি, যিনি নিজে একাকীত্ব ও কষ্টের স্বাদ পেয়েছিলেন। আর সেই কারণেই তিনি এমন একটি জগত তৈরি করেছিলেন, যেখানে কোনো শিশুকে কখনও সম্পূর্ণ একা মনে হয় না। হ্যারি পটার গল্পের শুরু হয় এমন একটি শিশু নিয়ে, যাকে কেউ ভালোবাসত না এবং যে সিঁড়ির নিচে ছোট একটি অন্ধকার ঘরে থাকত। কিন্তু পরে সে আবিষ্কার করে যে তার নিজের একটি মূল্য আছে, তারও একটি জায়গা আছে পৃথিবীতে।আর এই অনুভূতি ই বিশ্বের মন জয় করে নিয়েছিল। একজন প্রত্যাখ্যাত, সংগ্রামী লেখিকার কল্পনা শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছিল। যখন কঠিন পরিস্তিতি আসে, তখন অনেক সময় ই আমাদের মনে হয় ইসঃ, বেশ ম্যাজিক হতো কিছু একটা আমাদের জীবনে। কিন্তু জাদুর ছড়ি হাতে উঠে আসেনা। ম্যাজিক আসলে হয়না , সেই সব ম্যাজিক আসলে লুকিয়ে থাকে, আমাদের ই মধ্যে। আমাদের মননে, কর্মে, প্রতিফলিত হয় সেই জাদুর ছড়ি। যত beautifully  আর gracefully আমরা আমাদের চারপাশের সমস্ত জটিলতাকে সমাধান করতে পারি, তত বড় জাদুকর হয়ে উঠতে পারি আমরা। লেটস ওয়েলকাম this ম্যাজিক ওয়ার্ল্ড। 





Friday, 31 July 2026

চেনা গন্ধ

weekdays এর সকালের স্নান টা হয় ভীষণ তাড়াতাড়ি। কিছুটা যেমন তেমন করে। আজ ও তেমন ই একটা তাড়াহুড়োর সকাল ছিল কিন্তু কি হলো হটাৎ একটা অদ্ভুত গন্ধ আমাকে অন্যভাবে আচ্ছন্ন করে ফেললো। ওই টুকু সময়, সেই আমার রোজের এক ই cedar wood আর cypress এর bodywash , সেই চানের জায়গা, এক ই শাওয়ার, curtain , এক ই সব। তাহলে হটাৎ কেন একটা অন্যরকম , অপূর্ব কিন্তু অচেনা নয়, একটা চেনা স্বচ্ছন্দ তা আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চাইলো। কোনো কোনো গন্ধের সঙ্গে অপূর্ব ভাবে অনুভূতিরা জুড়ে থাকে। আমার সারা সকাল , ছেলেকে নিয়ে বেরোনো , ওকে দিয়ে আসা , সব কিছুর মধ্যেই সেই গন্ধটা কেমন যেন শান্ত হয়ে লেপ্টে রইলো। ফিরে এসে কফি মেশিন থেকে কালো কফি এর ড্রপ গুলো যখন নিচে রাখা আমার সাদা কাপ টা ভরছে, কালো কফির সেই গন্ধ আমাকে একটা লাইন মনে করালো , life is still sweet in bitter taste . সেই গন্ধ এই গন্ধ সকালের গন্ধ সবকিছু মিলেমিশে আমাকে যেন কোথায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইলো। ডেস্ক এ বসলাম। বড্ডো অগোছালো লাগলো। অগোছালো টেবিল আমার ভালো লাগেনা। লেখার জায়গা থাকবে খালি, তাতে যেন আর কিছু না থাকে। একটা ছোট্ট পথোস। ল্যাপটপ। কাজের নোটবুক। খুললাম। আবার বন্ধ করলাম। সেই গন্ধ , আবার সেই গন্ধের অনুভূতি আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইলো NBRC এর কুয়াশা ঘেরা সকালে, দিল্লির এক শান্ত ভোর এ ,  যখন সেই দৌড়ে দৌড়ে মেট্রো করে ঘেমে নেয়ে চান করে ভিড় মেট্রোতে একটু বসার জায়গার জন্যে অধীর অপেক্ষা করতে করতে হটাৎ বাইরে তাকাতাম আর হাতে ধরা মোবাইল এর দিকে বা এই তো সেদিন যখন। চেনা গন্ধ 

Thursday, 23 July 2026

তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর, এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা

ঘটনার পরে ঘটনা। এক একটি করে ঘটনা ঘটে, প্রতিবাদএর ঝড় ওঠে, ফেইসবুক এ লেখালিখি, মোমবাতি নিয়ে হাঁটাহাঁটি। তারপরে, আবার সব থেমে যায়। আমরাও নিজেদের নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। প্রশাসন ও বুঝে গেছে আজ যারা চিৎকার করছে কাল তারা থেমে যাবে। এদের প্রতিবাদ কে ইগনোর করে থাকা যায়। একজন সোনাম ওয়াংচুক মারা গেলে কি আর এমন হবে? কিছুই হবেনা। অশিক্ষা যেখানে চারিদিকের আকাশ কালো মেঘে ঢেকে দিয়েছে, সেখানে দিনের পর দিন তার তলায় থাকতে থাকতে ওই কালো মেঘ কেই সত্যি মনে হবে আর নীল আকাশ কে মনে হবে স্বপ্ন। আমরা নিউস চ্যানেল এ দেখবো এইরকম একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব চলে যাচ্ছেন, আমরা দেখবো আর তারপরে আবার স্ক্রল করে অন্য কোনো খবরে চলে যাবো। আমাদের বাড়ির ছেলে তো আর NEET পরীক্ষার জন্যে মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেনা ? একটার পর একটা পরীক্ষা বাতিলে ডিপ্রেশন এ চলে যাচ্ছেনা। তাহলে আমাদের আর কি।আমাদের কি বা করার আছে। আসলে ভেতর থেকে বদল না এলে কিছু হয়না। কিন্তু আজ্কের ভারতবর্ষ এর জনবিক্ষোভের চিত্র যেন সদম্ভে ঘোষনা করছে সেই সময় এর আর বেশি দেরি নেই। আজকের ভারতবর্ষ এর যুবসমাজ, শুভ চেতনা সম্পন্ন মানুষ যেন সগর্বে নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করছে। কত আইন করবে? কত লাঠিচার্জ করবে? বহুদিনের বহু ঘটনা, বহু চাপা দেওয়া পুঞ্জীভূত ক্রোধ একসঙ্গে বেরিয়ে আসছে।
একজন বিজ্ঞানীকে urgent medical care দেবার নাম করে illegally ডিটেনশন করানো হচ্ছে, কি মনে করে করানো হচ্ছে? যাতে ওই আন্দোলনের মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়া যায়। you moron । সমাজ চিরকাল একরকম থাকেনা। এই সমাজেই এককালে সতীদাহ প্রথা ছিল। একদিনে বন্ধ হয়নি তা। বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়ে যাবার পরেও বিদ্যাসাগর মহাশয় কে ইঁট ছুঁড়ে মারা হয়েছিল। আমাদের সেই তলিয়ে যাওয়া সমাজ টাকে কিছু মানুষ নিজেদের চেতনার আলোতে অন্ধকার থেকে টেনে বার করে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন একসময়। সক্ষম হয়েছিলেন অন্ধকার থেকে নবজাগরণের পথে আনতে। কিন্তু তারপরে বহু বছর ধরে ধীরে ধীরে আবার এই সমাজ পিছন দিকে হাঁটতে শুরু করেছিল। রাজনৈতিক দল এসেছে গেছে, সবাই কম বেশি সেই ঘুন ধরা কাঠামোতেই আরো ঘুনপোকা বুনেছে। যন্তরমন্তর এর সামনে থাকা ওই ছেলে মেয়ে গুলোর ইচ্ছেশক্তি যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে আর বেশি দেরি নেই সেই জীর্ণতার ভেঙে পড়ার।
এই যুবসমাজ কেই আজকাল এদের দ্বারা কিস্যু হবেনা গোছের মন্তব্য করে থাকেন না একদল অতি ইন্টেলেকচুয়াল কিছু মানুষ! হ্যাঁ এই সেই কিস্যু হবেনা সমাজ , যাদের রীল এর দুনিয়া অন্ধ করে রাখতো। কারণ ছোট থেকেই বহু বাড়িতে বাচ্ছারা যখন বড় হয় , প্রত্যেক কথাতে আমরা তাদের শেখাই , প্রশ্ন করোনা। প্রশ্ন করলে মানেই তুমি অভদ্র, অবাধ্য। আর বড় হয়ে, পড়াশুনো করে, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যদি প্রশ্ন করো সঙ্গে সঙ্গে তোমাকে মনে করিয়ে দেওয়া হবে, "বিদ্যা দদাতি বিনয়ম", তুমি প্রশ্ন করলে মানে তুমি এক প্রচন্ড দুর্বিনীত ও অহংকারী মানুষ। অথচ ওই শ্লোকের সঙ্গে সঙ্গেই কেউ ভগবত গীতার সেই শ্লোক এর কথা তো বলেনা ? যা প্রশ্ন করতে শেখায়, প্রশ্ন করার কথা বলে, "তদ্ বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া। উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ॥ "
একসময় যে জেনারেশন কে আমরা প্রশ্ন করাকে অপরাধ করা মনে করিয়ে বড় করেছি এখন তাদের একাংশ যে সমস্ত প্রশ্ন করা থেকে নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে নিয়ে শুধু মাত্র reels এর দুনিয়া তে মুখ ডুবিয়ে থাকবে এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। আর বৃহত্তর ক্ষেত্রে তাতে সুবিধে পেয়েছে কিছু মানুষ। ওই যে সেই হীরক রাজার দেশের মতন, "এরা যত বেশি জানে, তত কম মানে"। আসলে শিক্ষার কথা আমরা মুখে বলি মাত্র, কিন্তু কজন প্রকৃত শিক্ষার কদর করি? এখনো , অনেক জায়গাতেই তোমার শিক্ষার কিয়ৎ অংশ জ্ঞান থেকে যদি তোমার চেনা পরিচিত দের কোনো সমস্যার সমাধান দাও তাহলে তোমাকে শুনতে হয় "অনেক বেশি জেনে গেছিস।" "খুব জ্ঞান দিছিস " অর্থাৎ শিক্ষা গ্রহণ করা সম্মানের, কিন্তু সেই শিক্ষাকে কাজে লাগানো অনেকের কাছে বিরক্তিকর। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—অনেক সময় সেই মানুষদের কাছ থেকেই আমাদের পুঁথিগত শিক্ষা ও ব্যবহারিক জ্ঞান নিয়ে উপদেশ শুনতে হয়, যারা নিজেরাই প্রশ্ন, যুক্তি ও নতুন চিন্তার সবচেয়ে বড় অন্তরায়। তাই জন্যেই সোনাম ওয়াংচুক এর মতন মানুষকে অনশন এর পথ বেছে নিতে হয়। তাই জন্যেই তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার কে তুচ্ছ করে তাঁর মতন সম্মানীয় মানুষকে ঐভাবে তুলে নিয়ে যাবার সাহস দেখানো যেতে পারে। কিন্তু কত আটকাবে? প্রলয় কে আটকানো যায়না। দীর্ঘদিন , বছর ধরে অনেক কিছু ঘটছে। একটার পর একটা ঘটনা , ঘটেই চলেছে , নির্ভয়া, অভয়া , বারুইপুর ঘটনা। ঘটেই চলেছে । রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি শুরু হয়ে যায় প্রতি ঘটনার পরে। আইন ভাঙা হয়, গড়া হয়, এদল আসে, সে দল যায়, কিছুই হয়না। কিছুই না। কি মনে হচ্ছে? ধর্ষণ আর এই আন্দোলন দুটি ভিন্নবিষয় ? আমার লেখায় আমি গুলিয়ে এক করে ফেলছি? একেবারেই না। আলাদা তাকে আমরা newschannel এর হেডিং এ করতেই পারি কিন্তু দ্রোণ ক্যামেরা দিয়ে কিছুটা ওপরে উঠে গিয়ে যদি ফ্ল্যাশব্যাক এ একটার পর একটা ঘটনাকে পরপর দেখা যায়, একটাই কথা উঠে আসে, অশিক্ষা।।
প্রতিদিনের সমাজে আমরা যে ভয়ঙ্কর ঘটনার শিকার হচ্ছি তার আসল ভীত সেখানেই লুকিয়ে। ছেলে মেয়ে এর মধ্যে প্রচন্ড বৈপরীত্য এর ভাবনা অশিক্ষা না থাকলে আসেনা। মেয়েদের ওপরে প্রচন্ড ঘৃণা ও দমন করার ইচ্ছে না থাকলে ধর্ষণের মতন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেনা। এখনো আর আগের মতন হয়তো ছেলে মেয়েকে আর আলাদা করে মানুষ করেনা। মেয়েদের কেও সমান সুযোগ দেওয়া হয় ঠিক ই। কিন্তু দৃষ্টি পার্থক্য চলে যায়নি। এখনো অনেক টিনএজ মেয়েকেই যখন সম বয়সের কোনো ছেলে প্রেমপত্র লেখে, তখন অনেক বড় পর্যন্ত ও তাকে সেই নিয়ে কথা শুনতে হয়। দোষ তো মেয়েদের ই তাই না? তারাই কোনোভাবে প্ররোচিত করেছে, নাহলে কি এমন হয়। ধর্ষণ এর মতন বিকৃত ঘটনার জন্যে দায়ী কি শুধুই যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত? না। এর জন্যে দায়ী আমরা সবাই যারা মনে করি, মেয়েদের ছোট জামা কাপড়ের জন্যেই মেয়েরা বিপদ ডেকে আনছে। রাত করে বাড়ি ফিরলো কেন। কোনো মেয়ে একা ঘুরতে গেছে শুনে আমরা যারা এখনো আকাশ থেকে পড়ি। মেয়েরা সোলো ট্রিপ এ যাচ্ছে, বাইরে হোটেল এ থাকছে শুনেই আমরা যারা চোখ গোল করে অন্য মানে খুঁজতে শুরু করে দি, আমরা এখনো যারা মনে করি মেয়ে মানেই তার কোনো ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকবেনা, সে বাধ্য কোথায় যাচ্ছে, কি করছে এর প্রতিটা নাড়ীনক্ষত্রের হিসেব নিকেশ বাড়ির লোকেদের দিতে, মেয়ে মানেই যখন তখন তার ব্যক্তিগত স্পেস এ ঢুকে পড়া যাবে, সেই প্রতিটা মানুষ। এখনো ওই আন্দোলন এর বিভিন্ন পোস্ট এর নিচে দেখতে পাচ্ছি "কি মজা ছেলে মেয়ে সবাই মিলে বেশ এক আকাশের নিচে থাকা হচ্ছে ", "এরা নীট এর বানান জানে?" বা "বা বন্ধু বান্ধব মিলে কদিন তো বেশ মজা হচ্ছে, বেশ ক্লাস করতে হচ্ছেনা " এই ধরণের মন্তব্য। এই ধরণের মন্তব্য যারা করছেন তারা কিন্তু বয়স্ক। হয়তো ষাটোর্ধ। পড়ে মনে করতে যাচ্ছিলাম এরা মানুষ ! তারপরেই মনে হলো, বটেই তো। সমাজে এই চিন্তা ভাবনা নিয়ে এখনো কিছু মানুষ আছে বলেই তো এই সব সামাজিক ব্যাধি। আইন করে, শাস্তি দিয়ে, মানুষের অপরাধ প্রবণতা বন্ধ করা যায়না। তোমার মন ; তুমি তাকে নিয়ে পাঁকে নিমজ্জিত হবে নাকি সেই পাঁকে পদ্ম ফুল ফোটাবে সে একান্তই তোমার ব্যক্তিগত অভিরুচি। কিন্তু সেই অভিরুচি দিয়ে collectively একটু একটু করে আর পুরো সমাজের পচন ধরানো বোধয় যাবেনা। এখনো ওই তরুণ রক্তের একটা বড় অংশ প্রশ্ন করতে জানে। নিজেদের শিক্ষার জন্যে, নিজেদের অধিকারের জন্যে নিজেরা লড়াই করতে জানে। কোনো রাজনৈতিক ছত্রছায়া আশ্রয় ছাড়াই তা করতে পারে। এখনো তাদের কে নিয়ে ভাববার জন্যে প্রাজ্ঞ মানুষেরা আছেন। স্যালুট ,মনে হচ্ছে এই প্রজন্ম এবার সত্যি শিক্ষিত সাহসী | নিজের কাছে সৎ থাকলে যে কোনো লাঠি র সামনে দাঁড়ানো যায় | সংহতি এই আন্দোলনের সঙ্গে। দূরে থেকেও পাশে রইলাম।
“এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা"...
note: এই লেখা রাজনৈতিক নয়। দয়া করে এর সঙ্গে রাজনৈতিক রাজনৈতিক পক্ষ পাতিত্ব খুঁজতে যাবেননা। একজন responsible ও শিক্ষিত মানুষ হিসেবে যদি এই আন্দোলন কে সমর্থন না করি, তাহলে নিজের কাছেই লজ্জা পেতে হবে। এই লেখা ভেতরের সেই তাগিদ থেকে।

Monday, 24 November 2025

বাইরে ঝলমলে রোদ্দুর ভরা একটা দিন , ভীষণ নীল আকাশ। আমার বাড়ির সামনের ম্যাপল গাছের পাতা প্রায় সব ই ঝরে পড়ে গেছে। দুদিনের জন্যে এত সৌন্দর্য্য নিয়ে এসেছিলো। দুহাত ভোরে উজাড় করে দিয়ে কেমন নিঃস্ব হয়ে আজ দাঁড়িয়ে আছে। আচ্ছা দিতে দিতে এভাবেই কি সবাই নিঃস্ব হয়ে যায়? কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করেনা ? তার ও কিছু চাওয়ার আছে কিনা? পাওয়ার আছে কিনা? এ পৃথিবীতে এটাই যেন কি অদ্ভুত এক বৃত্তের মতন চলে মাঝেমাঝে ভাবি। ধরো আমি কাউকে দুহাত ভরে দিচ্ছি, কিন্তু যার জন্যে আমার দিন আমার রাত অপেক্ষা করে আছে, ধরো সে আমায় নয়, অন্য কারোর দিন রাত সাজিয়ে দিতে তার সমস্ত কিছু উজাড় করে দিচ্ছে, আবার যাকে সে সব উজাড় করে দিচ্ছে সে তাতে সন্তুষ্ট হচ্ছেনা, সে আরো অন্য কিছুর জন্যে আশা করে অন্য কোথাও চলেছে, এভাবে কখনোই কি এই এই বৃত্ত সম্পূর্ণ হবেনা? হতে পারেনা এমন আমি তোমাকে সব উজাড় করে দিলাম আর তুমিও আমাতেই। কিজানি। জ্বর আসছে মনে হচ্ছে আবার। মাথার মধ্যে হাজারো চিন্তা আর অদ্ভুত একটা কষ্ট। কাজের চাপ। বন্ধ প্রজেক্ট। চারিদিক থেকে ব্যর্থতা,....অনেক। একটা কঠিন সময় অনেক কে চিনিয়ে দেয়। পরিস্থিতি। ঠিক তখন ওই নিঃস্ব ম্যাপল গাছটার মতন মনে হয় নিজেকে। নিচে অজস্র পাতা পরে আছে। কান্না পাচ্ছে। কেন আমরা কান্না কে চাপা দি। আটকাই। কান্না তো সব ধুয়ে দেয়। এখনো কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে , চোখে জল আসে মানেতো এখনো আমার মধ্যে নদীর মতন টলটল এ ভালোবাসা আছে। তা শুকিয়ে যায়নি, সেই দিন এখনো আসেনি, যখন কোনোকিছুতেই কিছু হবেনা আর। চোখে জল আসবেনা, অভিমান থাকবেনা, অপেক্ষা থাকবেনা। ইচ্ছে থাকবনা , আকাঙ্খাও থাকবেনা। 

Sunday, 5 October 2025

পুজোর উপহার

দেখতে দেখতে পুজোর চারটে দিন কেটে গেলো।পুজোর এই চারটে দিন কেন প্রায় আগে পিছে করে মাসখানেক বেশ বিপজ্জনক। হিংসুটে আমি মাঝেমাঝেই কাজ ফেলে facebook  খুলে দেখি চারিদিকের আলো ঝলমলে ছবি—নতুন শাড়ি, নতুন জামা, ঠাকুরের সামনে ভিড়, মুখে হাসি, হাতে কচুরি, টেবিল এ কষা মাংস।

 আমি আবার বরাবর ই শাড়ীর পিয়াসী। শাড়ী দেখেই আমারও শাড়ী প্রেমী মন উৎসাহিত হয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা শাড়ীর বাক্স খুলে ঘাঁটতে শুরু করে। তারপর , এখানে অতীব খারাপ শাড়ী পাওয়া যায় জেনেও স্ক্রল করে করে শাড়ী পছন্দ করে কার্ট ভর্তি করা এবং তারপরে এক এক করে সব ই অপছন্দের তালিকায় ফেলে দিয়ে শেষে বেশ সুদৃশ্য blouse কিনে ফেলা এসব চলতেই থাকে। এমন সময় পুজো এসে যায়। পৃথিবীর এই প্রান্তে পুজো হৈ হৈ করে আসেনা, আসে বেশ নিঃশব্দে, পায়ে পায়ে। তবু তো সে আসে। এই আসা নিয়ে কতদিনের কত জল্পনা। এবারে আবার নতুন এক সদস্য—তাকে মা দুর্গার সঙ্গে আলাপ করাতে হবে। তার পুজোর সাজ রেডি তাই সবথেকে আগে। 

এখন যেকোনো পুজো বা অনুষ্ঠান মানেই এই ছোট্ট মানুষগুলোর মহা দুর্ভোগ। বাড়ির বড়রা এদের সাজাতে সাজাতে একেবারে নাজেহাল করে ফেলে। রথে জগন্নাথ, জন্মাষ্টমীতে গোপাল, গণেশ পুজোয় গণেশ, লক্ষ্মী পুজোয় লক্ষ্মী, সরস্বতী পুজোয় সরস্বতী—ছোটবেলা থেকে এসব সাজের বোঝা টানতে টানতে আমার তো ভয় হয়, এরা বড় হয়ে পুজোর নাম শুনলেই শত হস্ত দূরে পালাবে না তো!

আমাদের কাছে যা আনন্দের পুতুলখেলা, ওদের কাছে সেটা মাঝে মাঝে একেবারে বিপর্যয়। তবে অবশ্য সব সময় এমনটা হয় না। ছোট থেকে নিজেকে মডেল ভাবে দেখতে দেখতে অনেকেই পরে সহজেই নিজেদের খুঁজে পায় আধুনিকতার রিলে।তখন বাবু ফোন নিওনা বললে আর বাবু শোনেনা তা! 

সে যাই হোক, আমার ছোট্ট মানুষটাকে নিয়ে এমন টানাটানি না করলেও আমি কিন্তু এবারে একেবারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, বহুদিন পরে ফেইসবুক এ যখন উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছি ই  আর বেশ হিংসুটে হিংসুটে মন নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফেলে বলছি যে কবে পুজোর সময় বাড়িতে থাকবো, আর একসঙ্গে শাড়ী গয়না পরে তোরে একদম ভীষণ রকমের বাড়াবাড়ি করবো। এমন সময়ে বাধ সাধলো দুটো জিনিস। এক ফ্লু ভ্যাকসিন এর ভয়েও পালিয়ে না যাওয়া ফ্লু আর দুই পৃথিবীর এই সবচাইতে হ্যাপেনিং জায়গায় থাকার ফলশ্রুতি। এই ফাঁকে বলে দি, US এর পূর্ব উপকূল এর নিউ ইয়র্ক ও পশ্চিম উপকূলের ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়া US এর বাকি সমস্ত জায়গা,  সমগ্র কানাডা এসব কিছুটা কলকাতার সামনে মফস্বল ও গ্রাম গঞ্জের মতন। আর সে জায়গা যদি হয় নিউ ইয়র্ক এর অন্যতম শহর ম্যানহাটান তো কথাই নেই। এই পুজোর সময়ে অন্যান্য জায়গায় উইকেন্ড এ বাঙালিরা এক সঙ্গে জোট বেঁধে আমাদের ওখানকার পাড়ার মতন ই পুজো করলেও , এই শহর এ বাঙালি ও যেমন বেশি, পুজো ও তেমন , অজস্র পুজোর সবাই ই মোটামুটি ভারত বর্ষের আসল সময় সুচির সঙ্গে তাল মিলিয়েই হয়, সেখানেই মানুষ কাজের পরে দৌড়ে যায়, ঠাকুরের কাছে দু দণ্ড দাঁড়িয়ে আবার পরের দিনের কাজের প্রস্তুতি। নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পূজো, লোপামুদ্রা থেকে রূপঙ্কর ,ভোগ খাওয়া,—সবই হয় এখানে, কিন্তু সেগুলো মিশে যায় রোজকার কাজকর্মের ভিড়ে। তাতে অ্যালবাম ভরলেও মন ভরেনা। মন পরে থাকে আমার চিরকালীন সাবেকি চন্ডী মণ্ডপে। যেখানে উমা সপরিবারে বাপের বাড়ি আসে, আবার ফিরে যাবার সময় ঠিক ঘরের মেয়ের মতন ই মা তাঁর মুখে আদর করে অশ্রু সজল চোখে কানেকানে বলেন, আবার আসিস মা। সেইখানে। তবুও পূজো তো পূজোই। সারাবছরের অপেক্ষা যেটুকু সময়ের জন্যে, তাকে যেভাবেই পাওয়া যাক না কেন সেটুকুকেই আষ্টেপৃষ্ঠে নেবার জন্যে প্রস্তুতি চলছিল মন জুড়ে।

মাঝপথে বাধ সাধলো মা-ছেলের অসুস্থতা। ঘরে শুয়ে থাকলে এখানে না শোনা যায় ঢাকের আওয়াজ, না শোনা যায় মাইকে মন্ত্রোচ্চারণ। অথচ আশ্বিনের আকাশ আর পেঁজা তুলো মেঘ - মুখর —আজ পূজো। মনেই ভেসে উঠল ঢাকের তালে তালে ধুনোর গন্ধ, মন্ত্রের সুর আর ঘামতেলে ঝলমলে ঠাকুরের মুখ।কিন্তু তখনো জানতামনা ওপরে বসে বসে অলক্ষ্যে কেউ মুচকি হাসছে , আর এক বড় উপহার অপেক্ষা করে আছে আমার সমস্ত আক্ষেপ মুছে দেবার জন্যে। সে উপহার পেলাম এই ছোট্ট মানুষটার নিষ্পাপ দৃষ্টিতে, যখন সে চুপ করে বসে মা দুগ্গার দুষ্টু লোক কে শাস্তি দেবার গল্প শুনলো। শাস্তি, দুষ্টু মানুষ—এই বড় বড় কথাগুলো যে এত সরলভাবে বোঝানো যায়, তা ওকে বলতে গিয়েই শিখলাম।এই ছোট্ট দেড় বছরের মানুষটা



কতটা কি  বুঝলো কে জানে, নিজে থেকে বই টেনে নিলো, অনেক্ষন ধরে ছবি দেখলো পাতা উল্টে উল্টে আর তারপরে নমঃ করলো। কানায় কানায় ভরে উঠলো আমার মন।যেকোনো গল্প শোনানো শুরু হয় বোধহয় এমন করেই ।মণ্ডপে গিয়ে দাঁড় করাতে পারিনি , ছবি তুলতে পারিনি বলে যে দুঃখ ছিল তা কখন উধাও হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। মনে মনে বললাম, ঠাকুর , আজ যা শুরু হলো তা যেন ধরে রাখতে পারি, ওর ওই নিষ্পাপ চোখ দুটোতে আমি যেন আসল পুজোকে চেনাকে পারি। যেন বোঝাতে পারি,   রীল আর ক্যামেরার ঝলকানি তে পুজো হয়না, পুজো হয় শিউলি গন্ধে , নীল আকাশের ওই সাদা মেঘের ভেলায়, আশ্বিনের মিঠে রোদে , আনন্দমেলার কাড়াকাড়িতে আর অনেক অনেক গল্পের মধ্যে। আমরা যেন গল্প তৈরি করতে পারি। 


Monday, 11 August 2025

তুমি আমার কে

 তুমি বললে কেন ভাবো আমায়,

কে আমি তোমার 

আমি বললাম তুমি। .. না কেউ তো নয় 

কেউ তো নয় 

তবু এই যে যখন শ্রাবণ মাসের বৃষ্টি ভিজে হাওয়া গায়ে এসে লাগে,

নরম চাদরের মতন জড়িয়ে নি তোমার ভাবনার ওম 

অসহ্য গরমের হল্কার পরে আসা সন্ধ্যের মন জুড়োনো হাওয়ায় 

হটাৎ উড়ে আসো তুমি 

শুক্লপক্ষের চাঁদের আলোতে হটাৎ মনে হয় আচ্ছা 

এমন চাঁদের আলোয় বিভোর হয়ে তাকিয়েছ কখনো কারোর ঘুমন্ত মুখে ,

সঙ্গে সঙ্গে এসে ভিড় করে অনেক ভাবনা, অনেক ইচ্ছে।..

জানি , এ সব এর সঙ্গেই ইচ্ছে , মনে হওয়া ,কল্পনা এই সব শব্দরা জুড়ে 

না ছুঁতে পারা দূরত্বের অনতিক্রান্ত ভার শুধু মন খারাপের পাহাড় জমায় 

আর দূরে আরো দূরে নিয়ে চলে যেতে থাকে তোমাকে আমার থেকে আমাকে তোমার থেকে 

তবু আমি স্বপ্ন দেখি,

সেই কোনো একদিন এর অপেক্ষায় যখন কোপাই পাড়ে দুজন মানুষ পাশাপাশি বসে 

তাদের জীবনের ইচ্ছেখাতার পাতা ওল্টাবে। 

সময়ের চোখ রাঙানি থাকবেনা, থাকবেনা তার ডিফারেন্স 

ভাবছো, স্বপ্নই আবার 

নাহয় তাই বা হলো 

জ্ঞানীরা বলে কোনো স্বপ্ন সত্যি এর নেশায় মানুষ নাকি নিজের বেস্ট তা দিয়ে বাঁচে 

আমিও নাহয় তাই হলাম। 

তাইতো এত প্রশ্ন থাকে মনে, স্বপ্ন গুলো এক এ জানার চেষ্টায় নিজের মনখারাপের বোঝা বাড়ানো আরো। 

কি করবো, আমরা যে কেউ এ কারোর হইনা , তবু যে কখন জুড়ে যাই একে অন্যের সাথে, 

এই এত গুলো বসন্তের রঙে , বৃষ্টিভেজা হাওয়ায়, এমনকি কাজের দুপুরের প্যাচপ্যাচে গরমেও মনে পরে যায় 

আর অশ্বিনের ভোরের ঠান্ডা হাওয়ায় নরম ওমের মতন তাকে জড়িয়ে নিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মকাণ্ডে,

এভাবেই শিউলি গন্ধে, জুঁই এর নরম পাপড়িতে, গোধূলি রঙে , চাঁদের আলোয়,  কারোর মুখের হাসিতে, চোখের তারায় সব জায়গায় মিশে গেছো কিভাবে, কখন, কেউ কারোর না হয়েও 

জানিনা। 

 

Friday, 28 February 2025

ইচ্ছেনদী

আমার ল্যাব টা মাউন্ট sinai এর ১০ তলায়, আর আমার ওয়ার্কিং ডেস্কটা একদম জানালার ধারে , বিশাল জানালা। মনে হয় মেঘ গুলো এখুনি ঢুকে পড়বে এর মধ্যে। আজ সকাল থেকেই ছিল মেঘলা, আকাশের মুখ ভার। সারাদিনে কাজ করতে করতে একটু একটু করে দেখছিলাম কিভাবে ধীরে ধীরে মেঘ কেটে গিয়ে ফরসা হয়ে গেলো, এখন বিকেল ৫টা, পশ্চিম আকাশে একটা ফিকে লাল রং জানান দিচ্ছে দিনমনির অস্তাচলের কথা। সেইদিকে তাকিয়ে ছিলাম , হটাৎ খেয়াল হলো তাকিয়ে আছি প্রায় ১০ মিনিট। জানিনা কি ভাবছিলাম। কিন্তু যেন কোথায় একটা হারিয়ে গেছিলাম। আমরা কি চাই জানিনা। ওই যে সেই দুটো লাইন মনে পরে, যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাইনা। এই চাওয়া পাওয়া এর মধ্যে দিয়ে কখন কিভাবে সময় পেরিয়ে যায়। আমরা একটু একটু করে পরিণত হতে থাকি, বুঝতে থাকি নিজেকে, অন্যকে। মনে হয় আবার যদি জীবন কে সাজিয়ে নেওয়া যেত , কিন্তু হয়না তা। নিজেদের ভালোলাগা ভালোবাসা গুলোকে বুঝতে যে সময় লেগে যায় অনেকটা। এখানে লোকেদের মাঝেমাঝে বেশ লাগে তাই, জীবন যে একটাই বেশ বোঝে এরা তা। আমাদের মতন অনেক সেন্টিমেন্ট নিয়ে বেশি পরে থাকেনা। যেকোনো মুহূর্তেই জীবনকে অন্যভাবে গুছিয়ে নিতে ভয় পায়না। আমরা পাই, অনেকদিন বন্দী থাকা পাখি কে ছেড়ে দিলেও যেমন সে উড়তে পারেনা, শুধু এক জায়গায় বসে ডানাই ঝাপটে যায়, আমরা সেইরকম করি। 

আমি প্রচন্ড কাজের চাপ , গ্র্যান্ট , পেপার এই সব ভুলে শুধু তাকিয়ে রইলাম, বয়ঃসন্ধির সেই দিন গুলোর দিকে, যখন নিজেকে নিজে দেখে এমনি ই মুগ্ধ হয়ে যেতাম, এমনি এমনি  লজ্জা পেয়ে যেতাম। যখন গরম কালে, ছাদের অপরাজিতার ঝোপের মধ্যে বসে লুকিয়ে ডায়েরি লিখতাম। বাবা এসে ডাক দিতো মান্তু কোথায় রে। কি তারাতারি সময় ফুরিয়ে গেলো। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। আর কাউকে চাইনা হারাতে আমি। যতদিন আমরা আছি ইচ্ছে করে এদেশ এর মানুষ গুলোর মতন জোর গলায় নিজের ভালোবাসা ভালো লাগা গুলোর সঙ্গে আপোষ না করে বাঁচি। খুব ইচ্ছে করে বলি কাউকে তোমার যদি মাদল এর দেশে যেতে ইচ্ছে করে, যাও সেখানে, ওই অচেনা মানুষদের কাছে অতিথি হয়ে থাকো একদিন। ওদের মধ্যে কোনো বাড়ির ছোট ছেলেটা তোমার গা ঘেঁষে এসে বসুক অবাক চোখে তোমার ক্যামেরার দিকে দেখুক , ভয় ভয় এ তার কালি মাখা কাদা মাখা হাত তোমার দামি জামায় দিক, তোমার লজ্জা হোক কিছুটা সময়ের জন্যে নিজের দামি জামা, জুতো, ঘড়ি কে তোমার বাহুল্য মনে হোক, সেই নামনা জানা অচেনা কাদা মাখা ছোট ছেলেটাকে তুমি বুকে জড়িয়ে ধরতে দ্বিধা করোনা। আর ধরে তোমার মনে হোক তুমি কি সুখী। ওই নিষ্পাপ শিশু টা আর তোমার মধ্যের বাধা সরিয়ে তুমি ওর ভালোবাসা টা পেয়েছো। ফিরে আসার সময় নিয়ে এসো , একটা পলাশ, ক্ষনিকের জন্যে তখন যদি মনে হয় কারোর কথা, মনে কোরো। যদি হতে ইচ্ছে করে হয়ো অকপট। নদীতে যদি ঝাঁপিয়ে পরে চান করতে ইচ্ছে করে, কোরো। এক মুঠো ছাতিম ফুল ..... রেখো তুলে কারোর জন্যে, তোমার একদিনের মাটির ঘরে। 


নিউ ইয়র্ক 
সময়: বিকেল ৫.১৭

এ পথ গেছে সেইখানে

  দেখতে দেখতে এক বছর হয়ে গেলো, ছোট্ট ছেলেটা স্কুল এ যাচ্ছে। স্কুল মানে playschool বা daycare. এদেশে ওয়ার্কিং পেরেন্টস দের ছোট্ট ছোট্ট ছানা...