Tuesday, 24 March 2020

দেখতে দেখতে প্রায় একমাস  হতে চললো। আমি নতুন দেশে, অজানা অচেনা শহরের মাঝে। ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিচ্ছি নিজের জায়গাটা। দশ তলার ওপরে এই এক কামরার ছোট্ট এপার্টমেন্ট এ চড়ুই আসেনা। আসেনা সেই পায়রা গুলো। কিজানি ওদের আর খাওয়া হয়না বোধয়। আমি রান্না ঘরে গেলেই কেমন আমার সাথে কথা বলতে আসতো। 

চারদিকে মৃত্যুর স্তব্ধতা। পৃথিবীর ব্যস্ততম শহরে আজ এ কিসের করাল ছায়া নেমেছে। পিনড্রপ সাইলেন্সার মধ্যে এম্বুলেন্সের শব্দ ছাড়া যখন আর কিছু শোনা যায়না, তখন গৃহ পরিজন আপন জনেদের থেকে বহুদূরে এই দশতলার আকাশচুম্বী ফ্ল্যাট এর মধ্যে একাকী বসে যেন মনে আজ সত্যি ই মনে হচ্ছে আমার পৃথিবী কাঁদছে। এ আমার গ্রামবাংলার বৃষ্টি নয়, এ বৃষ্টি দেখে কবি গান গেয়ে ওঠেনা, এ বৃষ্টি দেখে মনে হয়, কাতারে কাতারে অসহায় প্রাণ যেন তাদের শেষ ভিক্ষা নিয়ে প্রকৃতির কাছে নতজানু হয়ে বলছে ফিরিয়ে দাও। আমার প্রবাসের একাকী জীবন যেন হটাৎ পেয়েছে অখণ্ড অবসর। চরম ব্যস্ততার পরে সেই অখণ্ড অবসর আমাকে দিয়েছে অসীম সুদূর প্রসারী ভাবনার। চেতনার কোন এক সুপ্ত স্তর থেকে যেন মন বলে উঠছে তবে কি সময় হয়েছে, এ পৃথিবীর সেই চরম মুহূর্ত ঘনিয়ে এসেছে কি? কোনো এক মহাপুরুষ বলেছিলেন প্রকৃতি কে তোমরা যদি লালন না করো , প্রকৃতি কিন্তু নিজের মতন করে নিজেকে লালন করে নেবে। আর সে বড় ভয়ঙ্কর। আজ কি তবে সেই সময় এসেছে? যখন প্রকৃতি চাইছে নিজেকে গুছিয়ে নিতে। কিন্তু সে যদি গুছিয়ে নিতে শুরু করে, তবে তো সে কিছুই দেখবেনা। staticstics  এবং Evolutionary এর ভাষায় একে বলে random selection  under a certain  circumstances irrespective of everything when a few get selected from a larger population. প্রকৃতির সেই সিলেকশন যে বড় ভয়ঙ্কর হয়।  সে দেখেনা কে কার ভাই বন্ধু মা বাবা সন্তান স্বামী। এইভাবেই তো কালের নিয়মে সৃষ্টি ধ্বংস চক্রাকারে চলেছে। সভ্যতার বড়াই করে আধুনিকত্বের ভুল ব্যাখ্যায় মানুষ যখন শুধুই ভোগ লালসা মদেমত্ত হয়ে আছে, সব কিছুকেই যখন অবজ্ঞায় হেসে উড়িয়ে দিতে চায়, মনে করে পৃথিবীটা যেন তাদের হাতের মুঠির ভেতরে তাদের ই নিয়ন্ত্রণে আছে। তখন অলক্ষ্যে বসে বিধাতা হাসেন বৈ কি। অযত্নে অবহেলিত প্রকৃতি স্বার্থান্বেষী লোভী এবং এই আমিত্বময় মানব জগৎ কে গোড়া থেকে নাড়িয়ে দিয়ে জানান দিতে হয় যে হে অবলা , ওঠো জাগো, সময় হয়েছে নিজের অন্তর স্থলের গভীরে কতদিন তাকিয়ে দেখোনি, তাকিয়ে দ্যাখো তার দিকে। স্বার্থ , লোভ, পরান্মুখতা ত্যাগ করে একবার আবার চলো তাকিয়ে দেখি চরাচরে।










Sunday, 12 January 2020

সামনে থেকে তো দ্যাখে সবাই / তুমি দেখো দেখার বাইরের চোখ দিয়ে/ বিশ্বাস করি, হারিয়ে যা খুঁজি / শুধু এই বুঝি / তুমি খুঁজে দেবে , বন্ধুর পথে / জ্যোৎস্না ভেজা রাতে / অথবা দুর্ভেদ্য কুয়াশা সরিয়ে। 

Sunday, 13 October 2019

আমার দুর্গা আজও আমার ঘর আলো করে
মাটির দুর্গা নাহয় গেলেন মণ্ডপ ছেড়ে 
সে যাওয়া যে নয়গো যাওয়া ওগো সে যে নিজের ঘরে গমন 
মা রে তুই যে আমার নিজের নিজের আমার বড় আপন 
দূর্গা হয়ে কোরো মা আমার দুর্গের (ঘর) রক্ষণ 
লক্ষী রূপে থাক মা আমার এই ঘরে নিরুক্ষন। 

তুই আমার দূর্গা মারে, রাতের কোজাগরী 
তুই আমার বীণাপাণি , আদোরে আদুরী। 

Wednesday, 9 October 2019

বিজয়া

নিশি পোহাইলো , উমা গেল চলি কৈলাশ অভিমুখ
বিরহী যক্ষ পাইলেন তাঁরে সংসার সম্মুখ
পতি সোহাগে সতী সোহাগিনী
যুগ যুগ ধরে তাঁরে খুঁজি
যেভাবেই পাই সেভাবেই চাই যতটুকু যা বুঝি
কৃষ্ণপ্রেম যবে মিশে যায় কালিদাস রচনায়
বুঝি সেইক্ষণে কি অমোঘ কারণে ভেদাভেদ মুছে যায়
বৈষ্ণব হোক  কিংবা শৈব, বিধিমতে বা বিরোধে
মূল কথা শুধু হলো প্রেম, লোক মতে, অমতে।
দুই দেহ, মন, শুধু অনুক্ষণ, লোক চোখ কিবা আসে
মায়াময় এ ভুবন অটুট বন্ধন  বেসো ভালো শুধু তার ই আশে।


Saturday, 14 September 2019

ভানুসিংহের পদাবলী


কবিগুরু মাত্র ১৬ বছর বয়সে আস্বাদন করেছিলেন ব্রজবুলি  ভাষার বৈষ্ণব পদাবলীর। আর তার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রচিত হয় ভানুসিংহের পদাবলীর। যার প্রতিটা ছত্রে ছত্রে লুকিয়ে আছে অসামান্য প্রেম পূজা। ভানুসিংহের পদাবলীতে আছে মোট  ২২ টি গান
  • "Boshonto aoulo re" ("বসন্ত আওল রে")
  • "Shunoho shunoho balika" ("শুনহ শুনহ বালিকা")
  • "Hridoyoko shadh mishaolo hridoye" ("হৃদয়ক সাধ মিশাওল হৃদয়ে")
  • "Shyam re, Nipoto kothino mon tour" ("শ্যাম রে, নিপট কঠিন মন তোর")
  • "Sajani sajani radhika lo" ("সজনি সজনি রাধিকা লো")
  • "Bodhua, hiya 'por ao re" ("বঁধুয়া, হিয়া 'পর আও রে")
  • "Shuna shokhi, bajoto bashi" ("শুন সখি, বাজত বাঁশি")
  • "Gohono kushumokunjo-majhe" ("গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে")
  • "Shotimiro rojoni, shochokito shojoni" ("সতিমির রজনী, সচকিত সজনী")
  • "Bojao re mouhan bashi" ("বজাও রে মোহন বাঁশি")
  • "Aju shokhi, muhu muhu" ("আজু সখি, মুহু মুহু")
  • "Shyam, mukhe tobo modhur odhorome" ("শ্যাম, মুখে তব মধুর অধরমে")
  • "Shojoni ga" ("সজনি গো")
  • "Badoroborokhono nirodogorojono" ("বাদরবরখন নীরদগরজন")
  • "Modhobo, na koho adorobani" ("মাধব, না কহ আদরবাণী")
  • "Shokhi lo, shokhi lo, nikoruno Madhob", ("সখি লো, সখি লো, নিকরুণ মাধব")
  • "Bar bar shokhi, baron koronu" ("বার বার সখি, বারণ করনু")
  • "Hom jobo na robo shojoni" ("হম যব না রব সজনী")
  • "Morono re" ("মরণ রে")
  • "Ko tuhu boulabi mouye" ("কো তুঁহু বোলবি মোয়")
  • "Shokhi re, pirit bujhobe ke" ("সখিরে, পীরিত বুঝবে কে")
  • "Hom shokhi darido nari" ("হম সখি দারিদ নারী")

রবীন্দ্রের রাবেন্দ্রিক ভাব অভিন্ন রেখে এই ভানুসিংহএর পদাবলীকে যদি আমরা আমাদের ভাষায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে আনতে চাই তাহলে খুঁজে পাই এক প্রেমাতুর প্রেমিক হৃদয়ের যে তাঁর প্রিয় মিলনের আশায় কোনো এক মিলন কুঞ্জ সাজিয়ে অপেক্ষা করছে আর অবিরত তার আবাহন করে চলছে। বলছে , সখি এস, ভয় না পেয়ে , লোকলজ্জা ত্যাগ করে আমার কাছে এস। তোমার প্রেমপূর্ণ হৃদয় কে নীল অন্তর্বাসে আচ্ছাদিত করে, তোমার ওই হরিণচোখে বিমল হাসি এনে আমার এই কুঞ্জবনে এস। ফুলের সৌরভে ভরা পাখির সুরে মদির এই জ্যোৎস্না রাত যে বৃথাই চাঁদের সৌরভে ভেসে যায়।

গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে মৃদুল মধুর বংশি বাজে,
বিসরি ত্রাস-লোকলাজে সজনি, আও আও লো।
পিনহ চারু নীল বাস, হৃদয়ে প্রণয়কুসুমরাশ,
হরিণনেত্রে বিমল হাস, কুঞ্জবনমে আও লো॥
ঢালে কুসুম সুরভভার, ঢালে বিহগ সুরবসার,
ঢালে ইন্দু অমৃতধার বিমল রজত ভাতি রে।
মন্দ মন্দ ভৃঙ্গ গুঞ্জে, অযুত কুসুম কুঞ্জে কুঞ্জে,
ফুটল সজনি, পুঞ্জে পুঞ্জে বকুল যূথি জাতি রে॥
দেখ সখি, শ্যামরায় নয়নে প্রেম উথল যায়,
মধুর বদন অমৃতসদন চন্দ্রমায় নিন্দিছে।
আও আও সজনিবৃন্দ, হেরব সখি শ্রীগোবিন্দ
শ্যামকো পদারবিন্দ ভানুসিংহ বন্দিছে॥


এরপরে মিলন কাতর প্রিয় সম্মুখে লজ্জানত প্রিয়া কে দেখে সে আকুতি করে তার মুখপানে চেয়ে দেখার জন্যে। তার আগমনে যখন প্রিয়া বক্ষের কুসুমহার খসে পড়বে, খসে পড়বে সেই নীল আচ্ছাদন তখন হয়তো সেই মিলন আরো মধুময় হয়ে উঠবে সহচরী বৃন্দের মিলন গীতের মধ্যে, এ মিলন ওই নৃত্য গীতের মতোই আনন্দময় আবার গৃহবধূর স্বামী মঙ্গল কামনায় রাঙা সিঁথির মতোই পবিত্র। ওই মিলন কুঞ্জ আকাশ তখন মদির হয়ে উঠবে, মৌমাছি গুঞ্জরণে হবে চঞ্চল, আমার প্রিয়ার সোনার বর্ণ মঙ্গল দীপের মতো সেই আকাশ আলোকিত করে রাখবে তার নিজ গন্ধে সুরভিত হয়ে থাকবে ওই কুঞ্জ গৃহ।


সজনি সজনি রাধিকা লোদেখ অবহুঁ চাহিয়া,মৃদুলগম শ্যাম আওয়েমৃদুল গান গাহিয়া।পিনহ ঝটিত কুসুমহার,পিনহ নীল আঙিয়া।সুন্দরী সিন্দূর দেকেসীঁথি করহ রাঙিয়া।সহচরি সব নাচ নাচমিলন-গীতি গাও রে,চঞ্চল মঞ্জীর-রাবকুঞ্জগগন ছাও রে।সজনি অব উজার মঁদিরকনকদীপ জ্বালিয়া,সুরভি করহ কুঞ্জভবনগন্ধসলিল ঢালিয়া।মল্লিকা চমেলী বেলিকুসুম তুলহ বালিকা,গাঁথ যূথি, গাঁথ জাতি,গাঁথ বকুল-মালিকা।তৃষিতনয়ন ভানুসিংহকুঞ্জপথম চাহিয়ামৃদুল গমন শ্যাম আওয়ে,মৃদুল গান গাহিয়া।



যুথী বেলি মল্লিকা চামেলীর কুসুম্ভারে ভরা সেই পথ এর দিকে মিলন আশায় হয়তো যুগ যুগ ধরে কত ভানুসিংহ তৃষিত নেত্রে তাকিয়ে আছে। এমন জ্যোৎস্না ভরা রাতে এ লেখা কে ভীষণ ভাবে জীবিত করার জন্যে। 

Saturday, 17 August 2019

রক্তনীল 'অপরাজিতা

আজ নাহয় বৃষ্টি নামুক
ভাঙ্গুক নীরবতা -
আজ নাহয় পাগল হাওয়ায় ,
হোক মাতাল কেবল রক্তনীল 'অপরাজিতা'.
আজ নাহয় বাঁধন খুলুক ,
ভাসুক তরী -
দূর দিগন্তে দূরে
আজ নাহয় আবার তুমি ধরলে কলম
বাঁধলে আমায় নব্য সুরে।।

Thursday, 15 August 2019

রাখী পূর্ণিমা

ছোট থেকেই আমি  ,ইশ আমার বেশ একটা ভাই থাকতো। বেশ কেমন দিদি দিদি বলে সঙ্গে সঙ্গে ঘুরতো। রাখী বা ভাইফোঁটার দিন গুলোতে আমার পিসতুতো মাসতুতো দাদা দিদির বন্ধুরা এদের সবাইকে নিয়ে অবশ্য  খুব ভালোই কাটতো। স্নান করে, একটু বড় হতেই আবার পাকামি করে কেঁদে কেটে শাড়ি পড়তাম, প্রদীপ জ্বালিয়ে শাঁখ বাজিয়ে ঘটা করে হতো ভাইফোঁটা বা রাখিপূর্ণিমা পালন। বাইরে থাকাকালীন ও ভাই দাদা ঠিক ই কারোর না কারোর হাতে রাখি পড়িয়ে বা ফোঁটা দিয়ে তবে জল খাই, আর পোস্ট এ এখনো রাখি গিয়ে পৌঁছয় কাঙ্খিত জায়গায়, তবু যেন কি যেন একটা থাকেনা, কি যেন একটা নেই। পাঁশকুড়াতে থাকাকালীন একদল বাচ্ছা ছেলেমেয়ে আসতো , ওদের হাতে রাখি পড়াতাম আর ওরা খুশিমনে যেত। 
আজকে একটা অন্যরকমের খুশির সাক্ষী হলাম। সকালে কাজের দিদি আসবেনা বলে গেছিলো, কালকে যখন পা ঘষছিলো, মনে হলো কিছু বোধয় দরকার। বললাম কিগো দিদি, বললো না কিছুনা, বুঝলাম, বলতে ইতস্তত করছে। দুজনে আমরা থাকি, তার মধ্যে এই দিদি কখন যেন নিজেদের ফ্যামিলি মেম্বার ই হয়ে গেছে। হাতে কিছু টাকা দিলাম, বললাম ছেলে মেয়েকে মিষ্টি কিনে দিও। খুব খুশি হয়ে গেলো। ওর খুশি দেখে হটাৎ যেন কেমন ঘোর লেগে গেল, মনে হলো এই টুকুতেই এত খুশি, কিছুই যে করতে পারিনা, তাতেই। মনে পরে গেল, আমাদের ছোটবেলার আরতি পিসির কথা। যে স্কুল এ যাবার সময় আমাকে ভাত খাইয়ে দিতো জোর করে। আমি কিছুতেই খেতে চাইতামনা, তারপরে আবার তাকেই খাইয়ে দিতাম আমার থালা থেকে, আমার বাবাকে সেই পিসি ফোঁটা দিতো। নিজের যতটুকু সামর্থ তাই দিয়ে বাবাকে লুঙ্গি গেঞ্জিও দিতো মনে আছো। হটাৎ আমার কি মনে হলো, আরো কিছু টাকা আমাদের এই দিদির হাতে দিয়ে বললাম কালকে রাখী তো? এই নাও তোমার ভাইয়া তোমার জন্যে রেখে গেছে। ও অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে চাইলো, আরে ভাইয়া তো বলো, ভাই হয়না তোমার? রাখীতে তোমাকে সে কিছু না দেয় কেমন করে ? ওর চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে থাকলো। হাত দুটো আধা নমস্কারের ভঙ্গিতে তুলে কোনোরকমে বললো "ইতনা ইজ্জত মুঝে আজতক কিসিনে নেহি দিয়া, মেরি আপনি ভাই ভি নেহি ", ইজ্জত, দিতে পেরেছি তবে? আমার চোখ ও শুষ্ক থাকলোনা। 

Thursday, 8 August 2019

So many times when I prayed you give me light
On a sudden I felt that that is hidden insight
On a sudden when I see this floating sky
Green grass blue sky
Gentle wind slows down
Let me see, let me touch
Let me flow and blow on
Time passes left some marks
We decide which to carry or let go
On our works

নীল আকাশ, সাদা সাদা  মেঘ
সকাল থেকেই দিনটা ছিল উড়ো উড়ো
পুজোর আগের আবেশ, পুজো আসার আমেজ
ছোটবেলার স্মৃতি হটাৎ করে এসে এলোমেলো করে দেওয়া কাজের আয়েশ
ডেডলাইন গুলো জমা হতে থাকলো
ডেস্ক এ কাজ হতে থাকলো পেন্ডিং
কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথেও সেই আবেশের হলোনা হের্ ফের
দুঃখ বেশিক্ষন রাখতে আমি পারিনা,
বেশিক্ষন দুঃখ নিয়ে ঘ্যানঘ্যান করতেও ভালো লাগেনা
তবু কোনো কোনোদিন হটাৎ হটাৎ বিষণ্ণতায় মুড়ে যায় একেবারে
আবার এই আজকের মতন,
হটাৎ কোনো কারণ ছাড়াই আনন্দের মেজাজ নকশীকাঁথা পেতে বসে থাকে
গল্প বোনার জন্যে
ইঁট কাঠ পাথরের শহর তখন হয়ে যায় রাপুঞ্জেলের রাজত্ব
সেখানে আরব্য রজনীর জিনি র আসতে থাকেনা কোনো বারণ
আর হটাৎ করে এই ভরা দুপুরে অজস্র deadlines আর analysis সরিয়ে
জানালা দিয়ে উঁকি মেরে যায় একফালি আকাশ
এই মেয়ে আসবি নাকি?
ডানা দেব, উড়বি ?
সময়ের পালতোলা নৌকো কখন ভাসিয়ে নিয়ে যায় দুঃখ, নাপাওয়া, ম্যান কষাকষি, ঝগড়া
ওই সাদা সাদা মেঘের হাত ধরে শিরশিরানি বাতাসের সুরে সুরে
শুধু পরে থাকে অজস্র ভালো বাসাবাসি।

ভালোলাগার অনুরণনে কাঁপা কাঁপা সুরে
আমোদিত আকাশ মদির হয়ে তখন চোখ বন্ধ করে ফেলে
ভেতরের আনন্দ বাইরে যাতে উদ্দামতা না নিয়ে আসে
তাই সংযত করতে থাকে নিজেকে
হাতের মুঠোয় বন্ধ আর এক হাত নিষ্পেষিত হয়ে যাওয়ার রোমাঞ্চকতায়
উচ্ছকিত হয়ে লাল হয়ে পরে
সেই স্পর্শিত উষ্ণ উপলব্ধি।
শৃঙ্খলিত চিকণ সবুজ দূর্বা মুখ তুলে তাকায়
আর বন্ধ চোখের ভেতরে নিজের মধ্যের আলোয়
সমস্ত অন্ধকার দূর হয়ে গিয়ে যেন পুনরায় সকাল হয়।


Monday, 5 August 2019

এইরকম ই কোনো এক সময় ছিল সেটা। বৃষ্টি বৃষ্টি, ভেজা ভেজা দিন। season চেঞ্জ এ জ্বর হলো। অল্প অল্প ঘুষঘুষে , ঘ্যান ঘ্যান করে কাঁদতাম। ক্লাস সেভেন কি এইট তখন। মুখে কিছু ভালো লাগছেনা। বাবা সকালে দেখে গেছে জ্বর। তখন ফোন ছিলোনা বাড়িতে। খবর নেবার উপায় নেই, জ্বর যে তেমন তা নয়, তবু বাবার মন বসছিলোনা স্কুল এ তে। ক্লাস শেষ করেই তারতারি বাড়ি ফিরলো, হাতে কাঁচা পেয়ারা আর সেবারের প্রথম শারদীয়া আনন্দমেলা। 

বাইরে ঝলমলে রোদ্দুর ভরা একটা দিন , ভীষণ নীল আকাশ। আমার বাড়ির সামনের ম্যাপল গাছের পাতা প্রায় সব ই ঝরে পড়ে গেছে। দুদিনের জন্যে এত সৌন্দর্য্য ন...