Wednesday, 5 August 2026

GOd Help them who help themselves . ভগবান তাকেই সাহায্য করে, যে নিজে নিজেকে সাহায্য করে

 আমাদের জীবনে অনেক রকম phase আসে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রত্যেক মুহূর্তের নিজস্ব কিছু কারণ থাকে, কিছু purpose যা অনেক পরে আমরা বুঝতে পারি। কখনো পারি আবার কখনো হয়তো পারিনা , কিন্তু থাকে। আজ শুনবো এমন একজনের কাহিনী, যাঁর তৈরি চরিত্র আজ আমাদের সবার চেনা, কিন্তু এই মানুষটি ই একসময় দীর্ঘ সময় ধরে clinical ডিপ্রেশন এর মধ্যে দিয়ে চলেছিলেন। একাকী। শুধু যে নিজে একা চলছিলেন তাই নয়, এই াক চলার সময় তাঁর ওপরে ছিল আরো এক ছোট্ট মানুষের দায়িত্ব। তাঁর মেয়ে। যে এতই ছোট্ট যে এই পৃথিবীতে শুধুই তার মাকে চেনে। এমন অবস্থায় কি করলেন তিনি? ঘুরে দাঁড়ালেন। পৃথিবী আর একবার প্রমান করলো সেই বিখ্যাত উক্তি কে , GOd Help them who help themselves . ভগবান তাকেই সাহায্য করে, যে নিজে নিজেকে সাহায্য করে।  আজ শুনবো হ্যারি পটার এর স্রষ্টা J K Rowling এর জীবনের সেই কাহিনী। Rowling বড় হয়েছিলেন England -Wales boarder এর এক ছোট্ট গ্রামে। ছোট থেকেই তাঁর লেখার শখ ছিল। ৬ বছর বয়সে Rabbit বলে এক ছোট্ট খরগোশের গল্প দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু , পরে তাঁর ১১ বছরে তিনি প্রথম নভেল লেখেন। এর পরে তিনি ফ্রেঞ্চ নিয়ে পড়াশুনো করেন। ১৯৯০ সালে তাঁর মায়ের মৃত্যুর পরে তিনি পর্তুগাল এ চলে যান। তিনি বিয়ে করেন ও তাঁর মেয়ে জেসিকার জন্ম হয় সেখানেই। তাঁর সেই বিবাহ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিচ্ছেদের পর তিনি ছোট মেয়েকে নিয়ে আবার ইংল্যান্ডের edinghbara শহরে ফিরে আসেন। এই সময়ে তিনি এক ভয়ঙ্কর কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছিলেন। চাকরি ছিলোনা, অর্থনৈতিক কষ্ট, এছাড়া আমরা যাঁরা মা তাঁরা জানি একজন ছোট্ট মানুষ কে বড় করা খুব সহজ কথা নয় আর সেখানে একা হাতে একজন সিঙ্গেল mother হয়ে তাকে baro করা যে কতটা কঠিন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। মানসিক ভাবে তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘ না ঘুম, প্যারেন্টিং এর অবিছেদ্ধ্য অঙ্গ রাত জাগা , সঙ্গে ভীষণ একাকিত্ব, তার সঙ্গে লণ্ডন এর মারাত্মক শীতল , গ্লুমি weather , একাকী ঘরে ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে তিনি ক্রমশ ডুবে যাচ্ছিলেন অবসাদের অন্ধকারে।  এমন ই একসময়, একদিন ম্যানচেস্টার থেকে লন্ডন যাওয়ার রাস্তায় ট্রেনে তাঁর মাথায় আসে হ্যারি - এলোমেলো কালো চুল এর , গোল চশমা পড়া,  কপালে বজ্রপাতের মতো দাগ থাকা , এক ভীষণ লোনলি এক শিশু, যে হটাৎ জানতে পারে সে আসলে একজন জাদুকর। তাঁর কাছে তখন কোনো কাগজ কলম ছিলোনা, আর লজ্জায় তিনি কাউকে চাইতেও পারেননি তখন তা, শুধু নিজের ভাবনার স্রোতে নিজেকে ছেড়ে দিয়েছিলেন, একের পর এক মনের মধ্যে তৈরি হয়েছে  চরিত্রগুলো—হ্যারি, রন, হারমায়োনি, তাঁদের স্বভাব, বন্ধুত্ব, হগওয়ার্টসের পুরো জাদুর আশ্চর্ষ সে জগত। রাউলিং পরে বলেছিলেন, হ্যারি যেন হঠাৎ করেই তাঁর মনের মধ্যে এসে উপস্থিত হয়েছিল। তাঁর প্রথম দিনের প্রথম কিছু চরিত্র ন্যাপকিনের দেওয়ালেই প্রথম লিপিবদ্ধ হয়। এর পরের প্রায় পাঁচ বছর তিনি তাঁর সেই প্রিয় জাদুগরকে গড়ে তুলতে থাকেন, এক ছোট্ট একাকী শিশু যে সিঁড়ির কোণে থাকতো, একাকী , অন্ধকারে, সে নিজের ভেতরের অসীম ক্ষমতা উপলব্ধি করে কিভাবে ধীরে ধীরে একদিন খুঁজে পে তার পরিবার, গড়ে তুললো বন্ধুত্ব। ভয়ের বদলে সাহস এর লড়াই, ক্ষমতার বদলে ভালোবাসার শক্তি দিয়ে গড়েউঠলো তার চারপাশের জগৎ। পরবর্তী কালে তিনি বলেছিলেন, সেই সময় তাঁর জীবন ছিল খুব কঠিন, কিন্তু লেখালেখি তাঁকে আশা ও বেঁচে থাকার শক্তি দিয়েছিল।ঠান্ডা ঘরের একাকী অন্ধকার থেকে পালিয়ে দিনের অনেক সময় কখনো  তিনি ক্যাফেতে বসে হ্যারি পটার লিখতেন, আর তাঁর ছোট মেয়ে পাশের স্ট্রলারে ঘুমাত। এই সময়ের সঙ্গে জড়িত একটি বিখ্যাত স্থান হলো The Elephant House, যেখানে তিনি হ্যারি পটারের প্রথম দিকের বেশ কিছু অংশ লিখেছিলেন।

১৯৯৫ সালে তাঁর প্রথম বই Harry Potter and the Philosopher's Stone এর পাণ্ডুলিপি শেষ করার পর রাউলিং বিভিন্ন প্রকাশকের কাছে সেটি পাঠান। কিন্তু বারবার প্রত্যাখ্যাত হন। প্রায় এক ডজন প্রকাশক তাঁর লেখা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে Bloomsbury Publishing বইটি প্রকাশ করতে রাজি হয়। কথিত আছে, প্রকাশনা সংস্থার পরিচালকের ছোট মেয়ে প্রথম কয়েকটি অধ্যায় পড়ে এতটাই পছন্দ করেছিল যে সে বইটি প্রকাশ করার জন্য উৎসাহ দেয়। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম বই: Harry Potter and the Philosopher's Stone. তাঁর আসল নাম J Rowling , K  তাঁর দিদিমায়ের নামে। এই পিতৃতান্ত্রিক সমাজে পাবলিশার্স রা কিছুটা সন্দিহান ছিলেন এই নিয়ে যে একজন মহিলা লেখিকার লেখা গল্প যুবক সমাজে সমাদৃত হবে কিনা। তাঁরা অনুরোধ করেন তাঁকে তাঁর নিজের নাম Joanna ব্যবহার না করে নামের ইনিশিয়ালস ব্যবহার করাতে , তাই তিনি J K লিখতে শুরু করেন।

হ্যারি পটার এর সৃষ্টি ও তাঁর স্রষ্টার অপূর্ব দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে তুলে ধরে ভেঙে না পড়ার এক অমোঘ কাহিনী। শেখায়, জীবনে বড় কিছু করতে গেলে ছোটোখাটো কষ্ট নিয়ে অভিযোগ না করে তাকে উপেক্ষা করতে হয়। নিজেকে নিয়োজিত করতে হয় এমন কিছুতে যাতে তুমি সবচেয়ে ভালো আর সবচেয়ে ভালো থাকো। কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়েই হয়তো বড় সৃজনশীলতার ভীত লুকিয়ে থাকে। যা সহযেই করা যায়, পাওয়া যায়, যার মধ্যে কোনো চ্যালেঞ্জ থাকেনা, তা অনেক সময় ই বড় কিছু পেতেও দেয়না। rouling ভেঙে পড়তে পারতেন তাঁর জীবনের কঠিন সময়ে। কোনোরকমে মেয়েকে বড় করতে করতে আজীবন নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ আর আক্ষেপ করতেই পারতেন। কিন্তু তিনি তাই নিয়ে থেমে থাকেননি , অভিযোগ করলেই শুনবেই বা কে সে অভিযোগ। অভিযোগ না করে , নিজেকে টেনে বের করে এনেছেন নিজেই। হ্যারি পটার লেখার পরে প্রায় গোটা পৃথিবী জুড়ে প্রায় কয়েকশো মিলিয়ন কপি বিক্রি হয় এই বই এর। এই লেখা ইতিহাসে এক সফল সাহিত্যকর্ম। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁর গল্পে সাহস, আশা এবং সান্ত্বনা খুঁজে পেয়েছে। হ্যারি পটার এমন একজন মানুষের সৃষ্টি, যিনি নিজে একাকীত্ব ও কষ্টের স্বাদ পেয়েছিলেন। আর সেই কারণেই তিনি এমন একটি জগত তৈরি করেছিলেন, যেখানে কোনো শিশুকে কখনও সম্পূর্ণ একা মনে হয় না। হ্যারি পটার গল্পের শুরু হয় এমন একটি শিশু নিয়ে, যাকে কেউ ভালোবাসত না এবং যে সিঁড়ির নিচে ছোট একটি অন্ধকার ঘরে থাকত। কিন্তু পরে সে আবিষ্কার করে যে তার নিজের একটি মূল্য আছে, তারও একটি জায়গা আছে পৃথিবীতে।আর এই অনুভূতি ই বিশ্বের মন জয় করে নিয়েছিল। একজন প্রত্যাখ্যাত, সংগ্রামী লেখিকার কল্পনা শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছিল। যখন কঠিন পরিস্তিতি আসে, তখন অনেক সময় ই আমাদের মনে হয় ইসঃ, বেশ ম্যাজিক হতো কিছু একটা আমাদের জীবনে। কিন্তু জাদুর ছড়ি হাতে উঠে আসেনা। ম্যাজিক আসলে হয়না , সেই সব ম্যাজিক আসলে লুকিয়ে থাকে, আমাদের ই মধ্যে। আমাদের মননে, কর্মে, প্রতিফলিত হয় সেই জাদুর ছড়ি। যত beautifully  আর gracefully আমরা আমাদের চারপাশের সমস্ত জটিলতাকে সমাধান করতে পারি, তত বড় জাদুকর হয়ে উঠতে পারি আমরা। লেটস ওয়েলকাম this ম্যাজিক ওয়ার্ল্ড। 





Friday, 31 July 2026

চেনা গন্ধ

weekdays এর সকালের স্নান টা হয় ভীষণ তাড়াতাড়ি। কিছুটা যেমন তেমন করে। আজ ও তেমন ই একটা তাড়াহুড়োর সকাল ছিল কিন্তু কি হলো হটাৎ একটা অদ্ভুত গন্ধ আমাকে অন্যভাবে আচ্ছন্ন করে ফেললো। ওই টুকু সময়, সেই আমার রোজের এক ই cedar wood আর cypress এর bodywash , সেই চানের জায়গা, এক ই শাওয়ার, curtain , এক ই সব। তাহলে হটাৎ কেন একটা অন্যরকম , অপূর্ব কিন্তু অচেনা নয়, একটা চেনা স্বচ্ছন্দ তা আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চাইলো। কোনো কোনো গন্ধের সঙ্গে অপূর্ব ভাবে অনুভূতিরা জুড়ে থাকে। আমার সারা সকাল , ছেলেকে নিয়ে বেরোনো , ওকে দিয়ে আসা , সব কিছুর মধ্যেই সেই গন্ধটা কেমন যেন শান্ত হয়ে লেপ্টে রইলো। ফিরে এসে কফি মেশিন থেকে কালো কফি এর ড্রপ গুলো যখন নিচে রাখা আমার সাদা কাপ টা ভরছে, কালো কফির সেই গন্ধ আমাকে একটা লাইন মনে করালো , life is still sweet in bitter taste . সেই গন্ধ এই গন্ধ সকালের গন্ধ সবকিছু মিলেমিশে আমাকে যেন কোথায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইলো। ডেস্ক এ বসলাম। বড্ডো অগোছালো লাগলো। অগোছালো টেবিল আমার ভালো লাগেনা। লেখার জায়গা থাকবে খালি, তাতে যেন আর কিছু না থাকে। একটা ছোট্ট পথোস। ল্যাপটপ। কাজের নোটবুক। খুললাম। আবার বন্ধ করলাম। সেই গন্ধ , আবার সেই গন্ধের অনুভূতি আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাইলো NBRC এর কুয়াশা ঘেরা সকালে, দিল্লির এক শান্ত ভোর এ ,  যখন সেই দৌড়ে দৌড়ে মেট্রো করে ঘেমে নেয়ে চান করে ভিড় মেট্রোতে একটু বসার জায়গার জন্যে অধীর অপেক্ষা করতে করতে হটাৎ বাইরে তাকাতাম আর হাতে ধরা মোবাইল এর দিকে বা এই তো সেদিন যখন। চেনা গন্ধ 

Thursday, 23 July 2026

তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর, এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা

ঘটনার পরে ঘটনা। এক একটি করে ঘটনা ঘটে, প্রতিবাদএর ঝড় ওঠে, ফেইসবুক এ লেখালিখি, মোমবাতি নিয়ে হাঁটাহাঁটি। তারপরে, আবার সব থেমে যায়। আমরাও নিজেদের নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। প্রশাসন ও বুঝে গেছে আজ যারা চিৎকার করছে কাল তারা থেমে যাবে। এদের প্রতিবাদ কে ইগনোর করে থাকা যায়। একজন সোনাম ওয়াংচুক মারা গেলে কি আর এমন হবে? কিছুই হবেনা। অশিক্ষা যেখানে চারিদিকের আকাশ কালো মেঘে ঢেকে দিয়েছে, সেখানে দিনের পর দিন তার তলায় থাকতে থাকতে ওই কালো মেঘ কেই সত্যি মনে হবে আর নীল আকাশ কে মনে হবে স্বপ্ন। আমরা নিউস চ্যানেল এ দেখবো এইরকম একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব চলে যাচ্ছেন, আমরা দেখবো আর তারপরে আবার স্ক্রল করে অন্য কোনো খবরে চলে যাবো। আমাদের বাড়ির ছেলে তো আর NEET পরীক্ষার জন্যে মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেনা ? একটার পর একটা পরীক্ষা বাতিলে ডিপ্রেশন এ চলে যাচ্ছেনা। তাহলে আমাদের আর কি।আমাদের কি বা করার আছে। আসলে ভেতর থেকে বদল না এলে কিছু হয়না। কিন্তু আজ্কের ভারতবর্ষ এর জনবিক্ষোভের চিত্র যেন সদম্ভে ঘোষনা করছে সেই সময় এর আর বেশি দেরি নেই। আজকের ভারতবর্ষ এর যুবসমাজ, শুভ চেতনা সম্পন্ন মানুষ যেন সগর্বে নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করছে। কত আইন করবে? কত লাঠিচার্জ করবে? বহুদিনের বহু ঘটনা, বহু চাপা দেওয়া পুঞ্জীভূত ক্রোধ একসঙ্গে বেরিয়ে আসছে।
একজন বিজ্ঞানীকে urgent medical care দেবার নাম করে illegally ডিটেনশন করানো হচ্ছে, কি মনে করে করানো হচ্ছে? যাতে ওই আন্দোলনের মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়া যায়। you moron । সমাজ চিরকাল একরকম থাকেনা। এই সমাজেই এককালে সতীদাহ প্রথা ছিল। একদিনে বন্ধ হয়নি তা। বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়ে যাবার পরেও বিদ্যাসাগর মহাশয় কে ইঁট ছুঁড়ে মারা হয়েছিল। আমাদের সেই তলিয়ে যাওয়া সমাজ টাকে কিছু মানুষ নিজেদের চেতনার আলোতে অন্ধকার থেকে টেনে বার করে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন একসময়। সক্ষম হয়েছিলেন অন্ধকার থেকে নবজাগরণের পথে আনতে। কিন্তু তারপরে বহু বছর ধরে ধীরে ধীরে আবার এই সমাজ পিছন দিকে হাঁটতে শুরু করেছিল। রাজনৈতিক দল এসেছে গেছে, সবাই কম বেশি সেই ঘুন ধরা কাঠামোতেই আরো ঘুনপোকা বুনেছে। যন্তরমন্তর এর সামনে থাকা ওই ছেলে মেয়ে গুলোর ইচ্ছেশক্তি যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে আর বেশি দেরি নেই সেই জীর্ণতার ভেঙে পড়ার।
এই যুবসমাজ কেই আজকাল এদের দ্বারা কিস্যু হবেনা গোছের মন্তব্য করে থাকেন না একদল অতি ইন্টেলেকচুয়াল কিছু মানুষ! হ্যাঁ এই সেই কিস্যু হবেনা সমাজ , যাদের রীল এর দুনিয়া অন্ধ করে রাখতো। কারণ ছোট থেকেই বহু বাড়িতে বাচ্ছারা যখন বড় হয় , প্রত্যেক কথাতে আমরা তাদের শেখাই , প্রশ্ন করোনা। প্রশ্ন করলে মানেই তুমি অভদ্র, অবাধ্য। আর বড় হয়ে, পড়াশুনো করে, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যদি প্রশ্ন করো সঙ্গে সঙ্গে তোমাকে মনে করিয়ে দেওয়া হবে, "বিদ্যা দদাতি বিনয়ম", তুমি প্রশ্ন করলে মানে তুমি এক প্রচন্ড দুর্বিনীত ও অহংকারী মানুষ। অথচ ওই শ্লোকের সঙ্গে সঙ্গেই কেউ ভগবত গীতার সেই শ্লোক এর কথা তো বলেনা ? যা প্রশ্ন করতে শেখায়, প্রশ্ন করার কথা বলে, "তদ্ বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া। উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ॥ "
একসময় যে জেনারেশন কে আমরা প্রশ্ন করাকে অপরাধ করা মনে করিয়ে বড় করেছি এখন তাদের একাংশ যে সমস্ত প্রশ্ন করা থেকে নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে নিয়ে শুধু মাত্র reels এর দুনিয়া তে মুখ ডুবিয়ে থাকবে এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। আর বৃহত্তর ক্ষেত্রে তাতে সুবিধে পেয়েছে কিছু মানুষ। ওই যে সেই হীরক রাজার দেশের মতন, "এরা যত বেশি জানে, তত কম মানে"। আসলে শিক্ষার কথা আমরা মুখে বলি মাত্র, কিন্তু কজন প্রকৃত শিক্ষার কদর করি? এখনো , অনেক জায়গাতেই তোমার শিক্ষার কিয়ৎ অংশ জ্ঞান থেকে যদি তোমার চেনা পরিচিত দের কোনো সমস্যার সমাধান দাও তাহলে তোমাকে শুনতে হয় "অনেক বেশি জেনে গেছিস।" "খুব জ্ঞান দিছিস " অর্থাৎ শিক্ষা গ্রহণ করা সম্মানের, কিন্তু সেই শিক্ষাকে কাজে লাগানো অনেকের কাছে বিরক্তিকর। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—অনেক সময় সেই মানুষদের কাছ থেকেই আমাদের পুঁথিগত শিক্ষা ও ব্যবহারিক জ্ঞান নিয়ে উপদেশ শুনতে হয়, যারা নিজেরাই প্রশ্ন, যুক্তি ও নতুন চিন্তার সবচেয়ে বড় অন্তরায়। তাই জন্যেই সোনাম ওয়াংচুক এর মতন মানুষকে অনশন এর পথ বেছে নিতে হয়। তাই জন্যেই তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার কে তুচ্ছ করে তাঁর মতন সম্মানীয় মানুষকে ঐভাবে তুলে নিয়ে যাবার সাহস দেখানো যেতে পারে। কিন্তু কত আটকাবে? প্রলয় কে আটকানো যায়না। দীর্ঘদিন , বছর ধরে অনেক কিছু ঘটছে। একটার পর একটা ঘটনা , ঘটেই চলেছে , নির্ভয়া, অভয়া , বারুইপুর ঘটনা। ঘটেই চলেছে । রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি শুরু হয়ে যায় প্রতি ঘটনার পরে। আইন ভাঙা হয়, গড়া হয়, এদল আসে, সে দল যায়, কিছুই হয়না। কিছুই না। কি মনে হচ্ছে? ধর্ষণ আর এই আন্দোলন দুটি ভিন্নবিষয় ? আমার লেখায় আমি গুলিয়ে এক করে ফেলছি? একেবারেই না। আলাদা তাকে আমরা newschannel এর হেডিং এ করতেই পারি কিন্তু দ্রোণ ক্যামেরা দিয়ে কিছুটা ওপরে উঠে গিয়ে যদি ফ্ল্যাশব্যাক এ একটার পর একটা ঘটনাকে পরপর দেখা যায়, একটাই কথা উঠে আসে, অশিক্ষা।।
প্রতিদিনের সমাজে আমরা যে ভয়ঙ্কর ঘটনার শিকার হচ্ছি তার আসল ভীত সেখানেই লুকিয়ে। ছেলে মেয়ে এর মধ্যে প্রচন্ড বৈপরীত্য এর ভাবনা অশিক্ষা না থাকলে আসেনা। মেয়েদের ওপরে প্রচন্ড ঘৃণা ও দমন করার ইচ্ছে না থাকলে ধর্ষণের মতন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেনা। এখনো আর আগের মতন হয়তো ছেলে মেয়েকে আর আলাদা করে মানুষ করেনা। মেয়েদের কেও সমান সুযোগ দেওয়া হয় ঠিক ই। কিন্তু দৃষ্টি পার্থক্য চলে যায়নি। এখনো অনেক টিনএজ মেয়েকেই যখন সম বয়সের কোনো ছেলে প্রেমপত্র লেখে, তখন অনেক বড় পর্যন্ত ও তাকে সেই নিয়ে কথা শুনতে হয়। দোষ তো মেয়েদের ই তাই না? তারাই কোনোভাবে প্ররোচিত করেছে, নাহলে কি এমন হয়। ধর্ষণ এর মতন বিকৃত ঘটনার জন্যে দায়ী কি শুধুই যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত? না। এর জন্যে দায়ী আমরা সবাই যারা মনে করি, মেয়েদের ছোট জামা কাপড়ের জন্যেই মেয়েরা বিপদ ডেকে আনছে। রাত করে বাড়ি ফিরলো কেন। কোনো মেয়ে একা ঘুরতে গেছে শুনে আমরা যারা এখনো আকাশ থেকে পড়ি। মেয়েরা সোলো ট্রিপ এ যাচ্ছে, বাইরে হোটেল এ থাকছে শুনেই আমরা যারা চোখ গোল করে অন্য মানে খুঁজতে শুরু করে দি, আমরা এখনো যারা মনে করি মেয়ে মানেই তার কোনো ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকবেনা, সে বাধ্য কোথায় যাচ্ছে, কি করছে এর প্রতিটা নাড়ীনক্ষত্রের হিসেব নিকেশ বাড়ির লোকেদের দিতে, মেয়ে মানেই যখন তখন তার ব্যক্তিগত স্পেস এ ঢুকে পড়া যাবে, সেই প্রতিটা মানুষ। এখনো ওই আন্দোলন এর বিভিন্ন পোস্ট এর নিচে দেখতে পাচ্ছি "কি মজা ছেলে মেয়ে সবাই মিলে বেশ এক আকাশের নিচে থাকা হচ্ছে ", "এরা নীট এর বানান জানে?" বা "বা বন্ধু বান্ধব মিলে কদিন তো বেশ মজা হচ্ছে, বেশ ক্লাস করতে হচ্ছেনা " এই ধরণের মন্তব্য। এই ধরণের মন্তব্য যারা করছেন তারা কিন্তু বয়স্ক। হয়তো ষাটোর্ধ। পড়ে মনে করতে যাচ্ছিলাম এরা মানুষ ! তারপরেই মনে হলো, বটেই তো। সমাজে এই চিন্তা ভাবনা নিয়ে এখনো কিছু মানুষ আছে বলেই তো এই সব সামাজিক ব্যাধি। আইন করে, শাস্তি দিয়ে, মানুষের অপরাধ প্রবণতা বন্ধ করা যায়না। তোমার মন ; তুমি তাকে নিয়ে পাঁকে নিমজ্জিত হবে নাকি সেই পাঁকে পদ্ম ফুল ফোটাবে সে একান্তই তোমার ব্যক্তিগত অভিরুচি। কিন্তু সেই অভিরুচি দিয়ে collectively একটু একটু করে আর পুরো সমাজের পচন ধরানো বোধয় যাবেনা। এখনো ওই তরুণ রক্তের একটা বড় অংশ প্রশ্ন করতে জানে। নিজেদের শিক্ষার জন্যে, নিজেদের অধিকারের জন্যে নিজেরা লড়াই করতে জানে। কোনো রাজনৈতিক ছত্রছায়া আশ্রয় ছাড়াই তা করতে পারে। এখনো তাদের কে নিয়ে ভাববার জন্যে প্রাজ্ঞ মানুষেরা আছেন। স্যালুট ,মনে হচ্ছে এই প্রজন্ম এবার সত্যি শিক্ষিত সাহসী | নিজের কাছে সৎ থাকলে যে কোনো লাঠি র সামনে দাঁড়ানো যায় | সংহতি এই আন্দোলনের সঙ্গে। দূরে থেকেও পাশে রইলাম।
“এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা"...
note: এই লেখা রাজনৈতিক নয়। দয়া করে এর সঙ্গে রাজনৈতিক রাজনৈতিক পক্ষ পাতিত্ব খুঁজতে যাবেননা। একজন responsible ও শিক্ষিত মানুষ হিসেবে যদি এই আন্দোলন কে সমর্থন না করি, তাহলে নিজের কাছেই লজ্জা পেতে হবে। এই লেখা ভেতরের সেই তাগিদ থেকে।

Monday, 24 November 2025

বাইরে ঝলমলে রোদ্দুর ভরা একটা দিন , ভীষণ নীল আকাশ। আমার বাড়ির সামনের ম্যাপল গাছের পাতা প্রায় সব ই ঝরে পড়ে গেছে। দুদিনের জন্যে এত সৌন্দর্য্য নিয়ে এসেছিলো। দুহাত ভোরে উজাড় করে দিয়ে কেমন নিঃস্ব হয়ে আজ দাঁড়িয়ে আছে। আচ্ছা দিতে দিতে এভাবেই কি সবাই নিঃস্ব হয়ে যায়? কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করেনা ? তার ও কিছু চাওয়ার আছে কিনা? পাওয়ার আছে কিনা? এ পৃথিবীতে এটাই যেন কি অদ্ভুত এক বৃত্তের মতন চলে মাঝেমাঝে ভাবি। ধরো আমি কাউকে দুহাত ভরে দিচ্ছি, কিন্তু যার জন্যে আমার দিন আমার রাত অপেক্ষা করে আছে, ধরো সে আমায় নয়, অন্য কারোর দিন রাত সাজিয়ে দিতে তার সমস্ত কিছু উজাড় করে দিচ্ছে, আবার যাকে সে সব উজাড় করে দিচ্ছে সে তাতে সন্তুষ্ট হচ্ছেনা, সে আরো অন্য কিছুর জন্যে আশা করে অন্য কোথাও চলেছে, এভাবে কখনোই কি এই এই বৃত্ত সম্পূর্ণ হবেনা? হতে পারেনা এমন আমি তোমাকে সব উজাড় করে দিলাম আর তুমিও আমাতেই। কিজানি। জ্বর আসছে মনে হচ্ছে আবার। মাথার মধ্যে হাজারো চিন্তা আর অদ্ভুত একটা কষ্ট। কাজের চাপ। বন্ধ প্রজেক্ট। চারিদিক থেকে ব্যর্থতা,....অনেক। একটা কঠিন সময় অনেক কে চিনিয়ে দেয়। পরিস্থিতি। ঠিক তখন ওই নিঃস্ব ম্যাপল গাছটার মতন মনে হয় নিজেকে। নিচে অজস্র পাতা পরে আছে। কান্না পাচ্ছে। কেন আমরা কান্না কে চাপা দি। আটকাই। কান্না তো সব ধুয়ে দেয়। এখনো কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে , চোখে জল আসে মানেতো এখনো আমার মধ্যে নদীর মতন টলটল এ ভালোবাসা আছে। তা শুকিয়ে যায়নি, সেই দিন এখনো আসেনি, যখন কোনোকিছুতেই কিছু হবেনা আর। চোখে জল আসবেনা, অভিমান থাকবেনা, অপেক্ষা থাকবেনা। ইচ্ছে থাকবনা , আকাঙ্খাও থাকবেনা। 

Sunday, 5 October 2025

পুজোর উপহার

দেখতে দেখতে পুজোর চারটে দিন কেটে গেলো।পুজোর এই চারটে দিন কেন প্রায় আগে পিছে করে মাসখানেক বেশ বিপজ্জনক। হিংসুটে আমি মাঝেমাঝেই কাজ ফেলে facebook  খুলে দেখি চারিদিকের আলো ঝলমলে ছবি—নতুন শাড়ি, নতুন জামা, ঠাকুরের সামনে ভিড়, মুখে হাসি, হাতে কচুরি, টেবিল এ কষা মাংস।

 আমি আবার বরাবর ই শাড়ীর পিয়াসী। শাড়ী দেখেই আমারও শাড়ী প্রেমী মন উৎসাহিত হয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা শাড়ীর বাক্স খুলে ঘাঁটতে শুরু করে। তারপর , এখানে অতীব খারাপ শাড়ী পাওয়া যায় জেনেও স্ক্রল করে করে শাড়ী পছন্দ করে কার্ট ভর্তি করা এবং তারপরে এক এক করে সব ই অপছন্দের তালিকায় ফেলে দিয়ে শেষে বেশ সুদৃশ্য blouse কিনে ফেলা এসব চলতেই থাকে। এমন সময় পুজো এসে যায়। পৃথিবীর এই প্রান্তে পুজো হৈ হৈ করে আসেনা, আসে বেশ নিঃশব্দে, পায়ে পায়ে। তবু তো সে আসে। এই আসা নিয়ে কতদিনের কত জল্পনা। এবারে আবার নতুন এক সদস্য—তাকে মা দুর্গার সঙ্গে আলাপ করাতে হবে। তার পুজোর সাজ রেডি তাই সবথেকে আগে। 

এখন যেকোনো পুজো বা অনুষ্ঠান মানেই এই ছোট্ট মানুষগুলোর মহা দুর্ভোগ। বাড়ির বড়রা এদের সাজাতে সাজাতে একেবারে নাজেহাল করে ফেলে। রথে জগন্নাথ, জন্মাষ্টমীতে গোপাল, গণেশ পুজোয় গণেশ, লক্ষ্মী পুজোয় লক্ষ্মী, সরস্বতী পুজোয় সরস্বতী—ছোটবেলা থেকে এসব সাজের বোঝা টানতে টানতে আমার তো ভয় হয়, এরা বড় হয়ে পুজোর নাম শুনলেই শত হস্ত দূরে পালাবে না তো!

আমাদের কাছে যা আনন্দের পুতুলখেলা, ওদের কাছে সেটা মাঝে মাঝে একেবারে বিপর্যয়। তবে অবশ্য সব সময় এমনটা হয় না। ছোট থেকে নিজেকে মডেল ভাবে দেখতে দেখতে অনেকেই পরে সহজেই নিজেদের খুঁজে পায় আধুনিকতার রিলে।তখন বাবু ফোন নিওনা বললে আর বাবু শোনেনা তা! 

সে যাই হোক, আমার ছোট্ট মানুষটাকে নিয়ে এমন টানাটানি না করলেও আমি কিন্তু এবারে একেবারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, বহুদিন পরে ফেইসবুক এ যখন উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছি ই  আর বেশ হিংসুটে হিংসুটে মন নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফেলে বলছি যে কবে পুজোর সময় বাড়িতে থাকবো, আর একসঙ্গে শাড়ী গয়না পরে তোরে একদম ভীষণ রকমের বাড়াবাড়ি করবো। এমন সময়ে বাধ সাধলো দুটো জিনিস। এক ফ্লু ভ্যাকসিন এর ভয়েও পালিয়ে না যাওয়া ফ্লু আর দুই পৃথিবীর এই সবচাইতে হ্যাপেনিং জায়গায় থাকার ফলশ্রুতি। এই ফাঁকে বলে দি, US এর পূর্ব উপকূল এর নিউ ইয়র্ক ও পশ্চিম উপকূলের ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়া US এর বাকি সমস্ত জায়গা,  সমগ্র কানাডা এসব কিছুটা কলকাতার সামনে মফস্বল ও গ্রাম গঞ্জের মতন। আর সে জায়গা যদি হয় নিউ ইয়র্ক এর অন্যতম শহর ম্যানহাটান তো কথাই নেই। এই পুজোর সময়ে অন্যান্য জায়গায় উইকেন্ড এ বাঙালিরা এক সঙ্গে জোট বেঁধে আমাদের ওখানকার পাড়ার মতন ই পুজো করলেও , এই শহর এ বাঙালি ও যেমন বেশি, পুজো ও তেমন , অজস্র পুজোর সবাই ই মোটামুটি ভারত বর্ষের আসল সময় সুচির সঙ্গে তাল মিলিয়েই হয়, সেখানেই মানুষ কাজের পরে দৌড়ে যায়, ঠাকুরের কাছে দু দণ্ড দাঁড়িয়ে আবার পরের দিনের কাজের প্রস্তুতি। নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পূজো, লোপামুদ্রা থেকে রূপঙ্কর ,ভোগ খাওয়া,—সবই হয় এখানে, কিন্তু সেগুলো মিশে যায় রোজকার কাজকর্মের ভিড়ে। তাতে অ্যালবাম ভরলেও মন ভরেনা। মন পরে থাকে আমার চিরকালীন সাবেকি চন্ডী মণ্ডপে। যেখানে উমা সপরিবারে বাপের বাড়ি আসে, আবার ফিরে যাবার সময় ঠিক ঘরের মেয়ের মতন ই মা তাঁর মুখে আদর করে অশ্রু সজল চোখে কানেকানে বলেন, আবার আসিস মা। সেইখানে। তবুও পূজো তো পূজোই। সারাবছরের অপেক্ষা যেটুকু সময়ের জন্যে, তাকে যেভাবেই পাওয়া যাক না কেন সেটুকুকেই আষ্টেপৃষ্ঠে নেবার জন্যে প্রস্তুতি চলছিল মন জুড়ে।

মাঝপথে বাধ সাধলো মা-ছেলের অসুস্থতা। ঘরে শুয়ে থাকলে এখানে না শোনা যায় ঢাকের আওয়াজ, না শোনা যায় মাইকে মন্ত্রোচ্চারণ। অথচ আশ্বিনের আকাশ আর পেঁজা তুলো মেঘ - মুখর —আজ পূজো। মনেই ভেসে উঠল ঢাকের তালে তালে ধুনোর গন্ধ, মন্ত্রের সুর আর ঘামতেলে ঝলমলে ঠাকুরের মুখ।কিন্তু তখনো জানতামনা ওপরে বসে বসে অলক্ষ্যে কেউ মুচকি হাসছে , আর এক বড় উপহার অপেক্ষা করে আছে আমার সমস্ত আক্ষেপ মুছে দেবার জন্যে। সে উপহার পেলাম এই ছোট্ট মানুষটার নিষ্পাপ দৃষ্টিতে, যখন সে চুপ করে বসে মা দুগ্গার দুষ্টু লোক কে শাস্তি দেবার গল্প শুনলো। শাস্তি, দুষ্টু মানুষ—এই বড় বড় কথাগুলো যে এত সরলভাবে বোঝানো যায়, তা ওকে বলতে গিয়েই শিখলাম।এই ছোট্ট দেড় বছরের মানুষটা



কতটা কি  বুঝলো কে জানে, নিজে থেকে বই টেনে নিলো, অনেক্ষন ধরে ছবি দেখলো পাতা উল্টে উল্টে আর তারপরে নমঃ করলো। কানায় কানায় ভরে উঠলো আমার মন।যেকোনো গল্প শোনানো শুরু হয় বোধহয় এমন করেই ।মণ্ডপে গিয়ে দাঁড় করাতে পারিনি , ছবি তুলতে পারিনি বলে যে দুঃখ ছিল তা কখন উধাও হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। মনে মনে বললাম, ঠাকুর , আজ যা শুরু হলো তা যেন ধরে রাখতে পারি, ওর ওই নিষ্পাপ চোখ দুটোতে আমি যেন আসল পুজোকে চেনাকে পারি। যেন বোঝাতে পারি,   রীল আর ক্যামেরার ঝলকানি তে পুজো হয়না, পুজো হয় শিউলি গন্ধে , নীল আকাশের ওই সাদা মেঘের ভেলায়, আশ্বিনের মিঠে রোদে , আনন্দমেলার কাড়াকাড়িতে আর অনেক অনেক গল্পের মধ্যে। আমরা যেন গল্প তৈরি করতে পারি। 


Monday, 11 August 2025

তুমি আমার কে

 তুমি বললে কেন ভাবো আমায়,

কে আমি তোমার 

আমি বললাম তুমি। .. না কেউ তো নয় 

কেউ তো নয় 

তবু এই যে যখন শ্রাবণ মাসের বৃষ্টি ভিজে হাওয়া গায়ে এসে লাগে,

নরম চাদরের মতন জড়িয়ে নি তোমার ভাবনার ওম 

অসহ্য গরমের হল্কার পরে আসা সন্ধ্যের মন জুড়োনো হাওয়ায় 

হটাৎ উড়ে আসো তুমি 

শুক্লপক্ষের চাঁদের আলোতে হটাৎ মনে হয় আচ্ছা 

এমন চাঁদের আলোয় বিভোর হয়ে তাকিয়েছ কখনো কারোর ঘুমন্ত মুখে ,

সঙ্গে সঙ্গে এসে ভিড় করে অনেক ভাবনা, অনেক ইচ্ছে।..

জানি , এ সব এর সঙ্গেই ইচ্ছে , মনে হওয়া ,কল্পনা এই সব শব্দরা জুড়ে 

না ছুঁতে পারা দূরত্বের অনতিক্রান্ত ভার শুধু মন খারাপের পাহাড় জমায় 

আর দূরে আরো দূরে নিয়ে চলে যেতে থাকে তোমাকে আমার থেকে আমাকে তোমার থেকে 

তবু আমি স্বপ্ন দেখি,

সেই কোনো একদিন এর অপেক্ষায় যখন কোপাই পাড়ে দুজন মানুষ পাশাপাশি বসে 

তাদের জীবনের ইচ্ছেখাতার পাতা ওল্টাবে। 

সময়ের চোখ রাঙানি থাকবেনা, থাকবেনা তার ডিফারেন্স 

ভাবছো, স্বপ্নই আবার 

নাহয় তাই বা হলো 

জ্ঞানীরা বলে কোনো স্বপ্ন সত্যি এর নেশায় মানুষ নাকি নিজের বেস্ট তা দিয়ে বাঁচে 

আমিও নাহয় তাই হলাম। 

তাইতো এত প্রশ্ন থাকে মনে, স্বপ্ন গুলো এক এ জানার চেষ্টায় নিজের মনখারাপের বোঝা বাড়ানো আরো। 

কি করবো, আমরা যে কেউ এ কারোর হইনা , তবু যে কখন জুড়ে যাই একে অন্যের সাথে, 

এই এত গুলো বসন্তের রঙে , বৃষ্টিভেজা হাওয়ায়, এমনকি কাজের দুপুরের প্যাচপ্যাচে গরমেও মনে পরে যায় 

আর অশ্বিনের ভোরের ঠান্ডা হাওয়ায় নরম ওমের মতন তাকে জড়িয়ে নিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মকাণ্ডে,

এভাবেই শিউলি গন্ধে, জুঁই এর নরম পাপড়িতে, গোধূলি রঙে , চাঁদের আলোয়,  কারোর মুখের হাসিতে, চোখের তারায় সব জায়গায় মিশে গেছো কিভাবে, কখন, কেউ কারোর না হয়েও 

জানিনা। 

 

Friday, 28 February 2025

ইচ্ছেনদী

আমার ল্যাব টা মাউন্ট sinai এর ১০ তলায়, আর আমার ওয়ার্কিং ডেস্কটা একদম জানালার ধারে , বিশাল জানালা। মনে হয় মেঘ গুলো এখুনি ঢুকে পড়বে এর মধ্যে। আজ সকাল থেকেই ছিল মেঘলা, আকাশের মুখ ভার। সারাদিনে কাজ করতে করতে একটু একটু করে দেখছিলাম কিভাবে ধীরে ধীরে মেঘ কেটে গিয়ে ফরসা হয়ে গেলো, এখন বিকেল ৫টা, পশ্চিম আকাশে একটা ফিকে লাল রং জানান দিচ্ছে দিনমনির অস্তাচলের কথা। সেইদিকে তাকিয়ে ছিলাম , হটাৎ খেয়াল হলো তাকিয়ে আছি প্রায় ১০ মিনিট। জানিনা কি ভাবছিলাম। কিন্তু যেন কোথায় একটা হারিয়ে গেছিলাম। আমরা কি চাই জানিনা। ওই যে সেই দুটো লাইন মনে পরে, যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাইনা। এই চাওয়া পাওয়া এর মধ্যে দিয়ে কখন কিভাবে সময় পেরিয়ে যায়। আমরা একটু একটু করে পরিণত হতে থাকি, বুঝতে থাকি নিজেকে, অন্যকে। মনে হয় আবার যদি জীবন কে সাজিয়ে নেওয়া যেত , কিন্তু হয়না তা। নিজেদের ভালোলাগা ভালোবাসা গুলোকে বুঝতে যে সময় লেগে যায় অনেকটা। এখানে লোকেদের মাঝেমাঝে বেশ লাগে তাই, জীবন যে একটাই বেশ বোঝে এরা তা। আমাদের মতন অনেক সেন্টিমেন্ট নিয়ে বেশি পরে থাকেনা। যেকোনো মুহূর্তেই জীবনকে অন্যভাবে গুছিয়ে নিতে ভয় পায়না। আমরা পাই, অনেকদিন বন্দী থাকা পাখি কে ছেড়ে দিলেও যেমন সে উড়তে পারেনা, শুধু এক জায়গায় বসে ডানাই ঝাপটে যায়, আমরা সেইরকম করি। 

আমি প্রচন্ড কাজের চাপ , গ্র্যান্ট , পেপার এই সব ভুলে শুধু তাকিয়ে রইলাম, বয়ঃসন্ধির সেই দিন গুলোর দিকে, যখন নিজেকে নিজে দেখে এমনি ই মুগ্ধ হয়ে যেতাম, এমনি এমনি  লজ্জা পেয়ে যেতাম। যখন গরম কালে, ছাদের অপরাজিতার ঝোপের মধ্যে বসে লুকিয়ে ডায়েরি লিখতাম। বাবা এসে ডাক দিতো মান্তু কোথায় রে। কি তারাতারি সময় ফুরিয়ে গেলো। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। আর কাউকে চাইনা হারাতে আমি। যতদিন আমরা আছি ইচ্ছে করে এদেশ এর মানুষ গুলোর মতন জোর গলায় নিজের ভালোবাসা ভালো লাগা গুলোর সঙ্গে আপোষ না করে বাঁচি। খুব ইচ্ছে করে বলি কাউকে তোমার যদি মাদল এর দেশে যেতে ইচ্ছে করে, যাও সেখানে, ওই অচেনা মানুষদের কাছে অতিথি হয়ে থাকো একদিন। ওদের মধ্যে কোনো বাড়ির ছোট ছেলেটা তোমার গা ঘেঁষে এসে বসুক অবাক চোখে তোমার ক্যামেরার দিকে দেখুক , ভয় ভয় এ তার কালি মাখা কাদা মাখা হাত তোমার দামি জামায় দিক, তোমার লজ্জা হোক কিছুটা সময়ের জন্যে নিজের দামি জামা, জুতো, ঘড়ি কে তোমার বাহুল্য মনে হোক, সেই নামনা জানা অচেনা কাদা মাখা ছোট ছেলেটাকে তুমি বুকে জড়িয়ে ধরতে দ্বিধা করোনা। আর ধরে তোমার মনে হোক তুমি কি সুখী। ওই নিষ্পাপ শিশু টা আর তোমার মধ্যের বাধা সরিয়ে তুমি ওর ভালোবাসা টা পেয়েছো। ফিরে আসার সময় নিয়ে এসো , একটা পলাশ, ক্ষনিকের জন্যে তখন যদি মনে হয় কারোর কথা, মনে কোরো। যদি হতে ইচ্ছে করে হয়ো অকপট। নদীতে যদি ঝাঁপিয়ে পরে চান করতে ইচ্ছে করে, কোরো। এক মুঠো ছাতিম ফুল ..... রেখো তুলে কারোর জন্যে, তোমার একদিনের মাটির ঘরে। 


নিউ ইয়র্ক 
সময়: বিকেল ৫.১৭

Saturday, 28 December 2024

When everyday I find a better me

 একটা যুদ্ধ চলছে আমার জীবনে, এর আগে কখনো এই যুদ্ধের সামনে পড়িনি তাই এটা নতুন। কিন্তু এ পৃথিবীতে, এ জীবনে অনেক কিছুই তো প্রথম, অনেক কিছুই নতুন, অনেক কিছুই আগে কখনো হয়নি। এও তেমন ই।  অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এটা। চলছে। করছি। দেখি কোথায় ডেসটিনি নিয়ে যায়। নিজের যা কিছু ভুল নিজের যে জায়গাগুলো improve করার নিজে সেগুলো করে যাবো, বাকি যা হবে দেখা যাবে। জীবন টা একটাই, অনেক সিদ্ধান্ত ভুল নিয়েছি, অনেক সিদ্ধান্ত ঠিক, মানুষ যত mature হয়, তত নিজেকে refine করতে থাকে। নিজের জীবন টা কাউকে দেখানোর জন্যে নয় কিন্তু নিজের জন্যে refine করে রাখা বড্ডো দরকার। কারণ জীবন একটাই। কেউ এসে হাত ধরবে, কেউ হাত ধরবেনা। তুমি ধরতে চাইলেও সে হয়তো অন্য কারোর হাত কে prioirity দেবে। আবার তোমার হাত যে ধরতে চাইবে, তুমি হয়তো অন্য হাত খুঁজে বেড়াচ্ছ। জীবন এমন ই অদ্ভুত। এসবের মধ্যে চলে আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই, গ্রাসাচ্ছদনের জন্যে, মাথা গোঁজার জন্যে। আমাদের ওপরে নির্ভর করে যে ছোট্ট মানুষ গুলো পা ফেলছে এই বৃহত্তর জায়গায় তাদের জন্যে। তবে একটা জিনিস এই দেশে আমার খুব ভালো লাগে। এখানে আমাদের দেশের  একটা সরকারি চাকরি মানুষকে তার সব craetivity থেকে দূরে নিয়ে চলে যায়না। এখানে চা খেতে গিয়ে এক ঘন্টা কাটিয়ে আসেনা কেউ কাজের মধ্যে। এখানে প্রতিদিনের জীবন যাত্রার মধ্যে একটা চ্যালেঞ্জ আছে। নিজেকে প্রমান করার চ্যালেঞ্জ, ভালো আরো ভালোর চ্যালেঞ্জ। হ্যাঁ অনেক সময় ই হয়তো সেই চ্যালেঞ্জ tiring এবং সব সময় ই যে এটা খুব honestly হয় তা নয়, এর মধ্যে অনেক রকম ডিসক্রিমিনেশন আর পলিটিক্স কাজ করে, যা ভীষণ insecured আর frustrated করে দেয় আমাকে।ভয় করে, মন খারাপ হয়, ভালো লাগেনা কিছু। তবু উঠে দাঁড়াই। নিজের যদি কিছু improvization এর দরকার থাকে তা করি আর এগিয়ে যাই। বাকি যা কিছু তা যেন ছেড়ে দিতে পারি ওই মহাকালের হাতে। লিখে অনেকটা হালকা লাগে , বেরোতে না পাড়া ইমোশনস গুলো, যুদ্ধ গুলো কোথাও বেরিয়ে এল মনে হয়, তাই এবার থেকে আবার এই জায়গাটাতে ফিরব। লিখবো আবার। আপাতত হাতে অনেক কাজ, যুদ্ধ ক্ষেত্রে একবার নেমে পড়লে আর ফেরার উপায় থাকেনা। তখন do or die . তাই জাস্ট দুটো মাস হাতে। দুটো বিশাল বড় প্রজেক্ট শেষ করতে হবে , এনালাইসিস, লেখা, পড়া , ইন্টারপ্রিটেশন, পেপার সাবমিট। নতুন চাকরি খোঁজা সব কিছু দিনের এই ৮ টা ঘণ্টার মধ্যে। বাকি ছোট্ট ছানা কে বড় করা। নিজের ঘর সেটাকেও তো ধুয়ে মুছে গুছিয়ে নিজেকেই রাখতে হবে। ওই ওপরে যে বসে আছে সে যেন সব দেখতে পায়। ....আর আমি সবাইকে নিয়ে সব কিছুকে নিয়ে একদিন যেন এই ব্লগ টা খুলে পরে দেখতে দেখতে ভাবতে পারি, পেরেছিলাম। i believe life starts at ৪০. :) 

Tuesday, 13 August 2024

আহির ভৈরব

 গত জন্মের মৃত্যু থেকে এই মুহুর্তে জেগে উঠছি যেন এইজন্মের ভোরে।

নিকষ অন্ধকার থেকে বিশ্বজগত যেমন জেগে উঠছে ভোরের মাতাল হাওয়ায়,

উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমার যত ক্লান্তি, যত ক্লেদাক্ত ইতিহাস

তিল তিল করে আলোময় হয়ে ওঠা এইজন্মের ভোরে সমস্ত নিয়ম ভেঙ্গে দিয়ে জেগে উঠেছে পাখিরাও।


আমিও সেই ভোরের নশ্বর সাক্ষী হয়ে এসে দাঁড়িয়েছি ঘরের বাইরে,

পেছনের যে দরজাটা দিয়ে বেরিয়ে এসেছি সেটিই যেন ছিল শেকল।

যেন বন্ধন মুক্তির আবেশ সারা শরীরে আমার,

অপূর্ব এক নেশার মত ঝিমধরা আবছায়ায় দাঁড়িয়ে মনে হলো -

এই বুঝি পূর্ণতা?

এতদিনে?

মনে হলো আমার চার পাশে আর কেউ নেই,

অদ্ভূত এক কুয়াশাছন্ন ভোর,

পূর্বদিককে জাগিয়ে তোলা লালিমা,

সবকিছুকে ওলট-পালট করে দেওয়া ঠান্ডা নেশালু হাওয়া,

আর সবকিছুর মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা একা আমি-

সম্পূর্ণতা।

আর ফিরে কোথাও যাবার নেই আমার

ওই পেছনের দরজাটা যেন এখন ইতিহাস।

দুচোখ বন্ধ করতেই শিহরিত হলাম

গত হাজার জন্ম ধরে আমি এসে দাঁড়িয়েছি এমনিই এক একটি ভোরে।

আর প্রশ্ন করে চলেছি-আমি কি করে শোধ করব এই সম্পূর্ণতার ঋণ?


ধীরে অথচ অতি সহজতায় উন্মোচিত হচ্ছিল চরাচর।

চোখ কচলে উঠে বসেছিল চারিপাশের পৃথিবী,

আর আমি একটু একটু করে নিতান্ত অনিচ্ছায় ফিরে আসছিলাম ওই পিছনের দরজাটার দিকে

মনে হচ্ছিল-কেন? কেন চলে গেল এত তাড়াতাড়ি এই আবেশ?

একটু একটু করে ধীরে অথচ অনিবার্য ভাবে শুরু হচ্ছিল সকাল, এবারেই তো বন্ধন।


যেন আমাকেই মুক্তি দিতে,ঠিক তখনই

পিছনের ওই দরজার ভেতর থেকে বেজে উঠলো সুর

খান সাহেবের শান্ত-সমাহিত সরোদ কথা কয়ে উঠলো আহির ভৈরবের সুরে

সেই মুহুর্তে একাকার হয়ে গেল আমার ভেতর-বাহির

ভুল হয়ে গেল সবকিছু, কোনটা বাঁধন-কোনটা ছুটি,

দরজার বাইরের মুক্তি কি করে যেন আমায় প্রবল আকর্ষণে ফিরিয়ে নিয়ে এল দরজার ভিতরে

এইজন্মের আমি ক্রমশঃ মিশে যেতে লাগলাম আরো হাজার জন্মের আমির সঙ্গে আহির ভৈরবের সুরে।

আমার সারা সকাল জুড়ে সেদিন ছিল আমার মুক্তি, আমার.......'আহির ভৈরব'।

Tuesday, 7 November 2023

Shiuli

 October. A time which flows in its own way. A time which creates moments, moments of emotions, smells of flower, petrichor of a virgin love. A time of pure bliss, a time for Siuli. if I close my eyes and utter October, that is the first name always come in my mind. A heavenly combination of White petals, orange stem, and Devine smell. It gives a pleasant, sacred, soothing sense to me. Like a soft old favorite cloth which is very general , nothing special but very specially it owe me. Like mother's lap, like embracing by the loved ones.

Sanskrit name of this flower is "Parijat", truly a flower of heaven. The parijata is a divine tree featured in Hindu mythology. The Mahabharata and the Puranas describe the parijata tree, as one of five trees, to have emerged during the legend of the Samudra ManthanaKrishna is described to have battled with Indra to uproot the parijata from his capital of Amaravati and plant it in his own city of DvarakaIn regional tradition, Satyabhama grew aggrieved when Krishna offered his chief consort Rukmini a parijata flower. To placate her envy, Krishna confronted Indra and had the parijata tree planted near Satyabhama's door. Despite having the tree planted near her dwelling, the flowers of the tree fell in the adjacent backyard of Rukmini, the favourite wife of Krishna, because of her superior devotion and humility.

The tree is the subject of a work named Parijatapaharanamu in Telugu literature, written by Nandi Thimmana, the court-poet of Krishnadevaraya. The poet Kalidasa sings about the flower in his Sanskrit poem Ritu samhara.

However in Latin name of this tree is "sad tree" because because the foliage becomes droopy as blooming flowers fall off during early morning.  I got surprised and sad as well when I first came to know this meaning. Why this beautiful flower's name is sorrow?and I love the tree of sorrow the most? I was becoming superstitious for a moment but then redirected my thoughts; sorrow and pain are the inevitable part of life, nobody can live only in joy but he/she has to face these negative emotions too, we cannot escape in any ways so what if without escaping we accept those pain as it comes, just let the time flows over it and wait to see the sunshine just like "shiuli" does. Through the nights it blooms, when we rest peacefully, cradled in the loving embrace of our dearest ones, they bloom and drop off the morning beautifully, silently, lovingly. I don't see sorrow here, I don't want to see too. it's nothing but beauty of time, probably signifies our life span, could be short but only we can make it worth living.

That's why Shiuli signifies time, the nature and the beauty which I have tried to showcase in this channel with my lens.

That's why Shiuli captured that uncapurbale bliss, unexplainable emotions. with its soft touch I get a sense of serenity. A sense of everything is in place, life is not that harsh. Everything could be beautiful just we need to find it.

This is shiuli, my Childhood emotions, teenage love and matured "prem", Parijat of Kalidas and a bond of without bondage. Let's have that sacred smell once and try to listen a whispering sounds while dropping off in the morning; "O please hold your tongue and let me love". 

Wednesday, 14 June 2023

 ভানুসিংহের পদাবলী শুধু তো আমার একার নয়, শুধু আমাদের ও নয়, তবু কেন এত অধিকার বোধ, কেন তা অন্য কেউ করলে মনে হয় আমার কিছু যেন কেড়ে নিলো কেউ, এ কি পাগলামি, এ কি দীনতা , এ কি হীন ভাব, কেন এ 

Sunday, 22 January 2023

 খুব মনখারাপ লাগছে। ভালো লাগছেনা কিছু। কি এই জীবনের মানে, কি হবে এই নিঃসঙ্গ বেঁচে থাকা নিয়ে, খুব ইচ্ছে করছে কারোর কাছে গিয়ে ইচ্ছের ঝাঁপি খুলে দি, চোখের জল এ ভিজিয়ে দি কারোর জামা, কিন্তু জানি, এই ইচ্ছের কোনো মানে নেই। আমি কারোর জন্যে থাকলেও, আমার জন্যে কেউ ই নেই। 

Thursday, 29 December 2022

অন্য আলো

 মানুষের জীবনের পূর্ণতা কোথায় জানিনা তা, কিভাবে কখন কার হাত ধরে আসে, তাও না, শুধু এটুকু বুঝেছি জীবনের গতি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনা। তা আপনার লক্ষ্যে আপনি মাধুর্য্যে চলে। তুমি বলো, আমি তোমাকে ভরিয়ে দিয়েছিলাম, তোমার একসময়ের শূন্য আকাশ পূর্ণ করেছিলাম, কিন্তু আজ আমার খুব বলতে ইচ্ছে করে, ভরিয়ে দিয়েছো তুমি আমায়। পূর্ণ করেছো। কোনো বিচ্ছিন্ন এক দিন রাতের কথা এ নয়, এ আমার অনেক দিনের, অনেক রাতের মনের কথা। 

আমি স্বভাব অন্তর্মুখী। মনের কোনো কথা, কোনো ইচ্ছে, তা নিজের কাছেও উচ্চারণ করতে পারিনা, একরাশ লজ্জা এসে এখনো এই ৩৫ পেরোনো মনকে কিশোরী রঙেই রাঙিয়ে তোলে। ভুল কি ঠিক এ দোলাচল চিরন্তন কিন্তু তার থেকেও বড় বুঝি হৃদয়বৃত্তি। তার মধ্যে কোনো ভান চলেনা।  তাই আজ খুব বলতে ইচ্ছে করে, এভাবে আলোকিত হোক আমাদের চারিপাশ। আমাদের একসাথে ভাগ করে নেওয়া প্রথম অন্য আলোর ভোর  শান্ত পদক্ষেপে একদিন চোখ মেলে তাকিয়েছিলো, বলেছিলো অপেক্ষা কোরো , আমার মনখারাপের রাত গুলোতে, সেই শান্ত ভোরের আনন্দ অপেক্ষাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিয়ে আমি ঘুমিয়েছি। আর এক নতুন ভোরের আশায়। 

যদি দেবতার আসন সাজাতে আমাদের অন্য দিকে তাকিয়ে অন্য কুলুঙ্গী থেকে প্রদীপ ধার করে আনতে হয় সে আমাদের ই দৈন্যতা মাত্র যে, না তাতে দেবতার অপমান, না প্রদীপের। আলোর তো নয়ই।
এই যে আকাশ ভরা আলো তোমারই জন্য রইলো অপেক্ষায়। যদি পারো চিনে নাও।
কেবল ভালবাসতে বলেছিল বলে ভগবান যীশুকেও ব্রাত্য হতে হয়েছিলো সেদিন। তবু সেইই চিরন্তনের সুরটি গেয়েছিল বলে, আজ তাকেই ভালবাসতে দিনে রাতে এত আয়োজন! 
আমি সাধারণ, ভগবান নই , মানবী, মানব জীবনের সাধারণ ছোটোখাটো সুখ দুঃখ, চাওয়া, পাওয়া, নিয়ে আমার পথ চলা, ঘর ভাঙা নয়, বেঁধে রাখতেই যার বিশ্বাস। আমাকে ব্রাত্য কোরোনা , আমার মনকেমনের প্রাঙ্গনে, মনখারাপি ছেলেমানুষির অভিমানে সঙ্গে নিয়ো, আর আলোময় অবিনশ্বরে বিলীন হোক যাবতীয় নশ্বর!
আলো হয়ে ওঠো তুমি আমারও। আলোর মতন করে ঘিরে থেকো, আলোর মতন নরম আদোরে ঘিরে রাখতেও দিও আমায়।

Monday, 12 December 2022

মিতা

 "িমতাtমিস মম জীবনংtমিস মম ভূষণং,

tমিস মম ভবজলিধরtm।” মেয়েটি বললো, এ তোমার নিজের মুখের কথাতো নয়,  লাবণ্যের কথা ধার করলে তো, ছেলেটি বললো, যুগে যুগে বাণী হারা মুহূর্ত কে বাণী মুখরিত করতে নিবারণ মুখুজ্যেএই কে যে স্মরণ করে এসেছে মানুষ।কিন্তু এ কথাও তোমার লাবণ্যের নিজের তো নয়, কবিবর ও যে একথা ধার করেই লিখেছিলেন মহাগ্রন্থ থেকে, তবে শুধু আমাকেই দোষ কেন,  তারপরে সন্ধ্যে নেমে এলো, আকাশে তখন একফালি চাঁদ, সামনে পবিত্র গঙ্গা আর গোধূলির ইমন উঠলো বেজে। হৃদয় যখন অগণিত কথায় মুখর হয়ে পরে , মুহূর্ত তখন স্তব্ধ হয়ে যায়।  

অকথিত কথার একটা অদ্ভুত সুগন্ধ আছে, চন্দন এর মতন, সদ্য ফোটা সন্ধ্যের জুঁই বা সকালে শিউলির মতন, অনেক দিন বৃষ্টি না হওয়া মাটিতে হটাৎ আসা বৃষ্টির সোঁদা গন্ধের মতন আদিম, অকৃত্রিম, অকর্ষিত। নিস্তব্ধ ভোরের নিজস্ব কিছু শব্দ থাকে, টুপটাপ শিশির ঝরে পরে, কুয়াশা সরিয়ে আসতে আসতে স্পষ্ট হয়ে আসে, সকালের আলো , এক নতুন দিনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু হয় নতুন দিন। অজস্র, দ্বিধা, দ্বন্ধ মন কে বারবার তোলপাড় করে তুলে, হটাৎ এ কেমন ভোর এর আলোর মতন স্নিগ্ধ , নিস্তব্ধ হয়ে দুই মনকে বেঁধে দিলো, মেয়েটি বললো, কেন বাঁধ ভাঙলো, সব রহস্য শেষে বন্ধন যদি হারিয়ে যায়, ছেলেটি বললো এ রহস্য হারায় না, চিরন্তন বাঁধনে বেঁধে রাখার অজুহাত এ, যাতে পালাতে না পারো, মেয়েটি বললো, এ কথাটাও, এ কথাটাও, কোথায় যেন, 

ছেলেটি হাসলো, ধার করা, এ কথাও ধার করা ওই নিবারণ চক্রবর্তীর ই কাছে। বেঁধে রাখার মূলমন্ত্র ও যে ওখানেই বাঁধা। আর আমাদের প্রতিটা দিন , প্রতিটা মুহূর্ত ই ধার করা, সেই মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে।  কিছু কিছু স্মৃতি খুব সুন্দর হয়, কিছু কিছু দিন ইতিহাস রচনা করে আর কিছু কিছু দিন বোঝায় আমাদের destiny কে অগ্রাহ্য করার সাধ্য নেই আমাদের। জীবনের স্রোতকে অগ্রাহ্য করার সাধ্য আমাদের কারোর নেই, তাকে কর্তব্যের আড়ালে ভুলিয়ে রাখতে পারি, কিন্তু অবহেলা করলে নিজেদের খাতাতেই মহাকালের হাত দিয়ে লেখা হয়ে যায় মস্ত এক শূন্য। 

ভোরের ওই শব্দ, কুয়াশাচ্ছন্ন পথের দিশা, গোধূলির সুর আর নদীর ছলাৎ ছলাৎ যে কোনো দুই হৃদয়ের সব অকথিত ভাষায় প্রাণ দেবে, এ জানা ছিলোনা কারোর ই। নদীর স্রোতের মতন ই বয়ে চলে এ সময়, কখন দ্বাদশীর বাঁকা চাঁদ এর মৃদু জ্যোৎস্নার স্নিগ্ধতা নিয়ে আসে অপার্থিব শান্তি। আর অজস্র, দ্বিধা, দ্বন্ধ মন কে বারবার তোলপাড় করে তুলে, হটাৎ এ কেমন ভোর এর আলোর মতন স্নিগ্ধ , নিস্তব্ধ হয়ে দুই মনকে বেঁধে দেয় , মুহূর্তের অপেক্ষায় তৈরি হয় মুহূর্তরা। বন্ধনহীন ছন্দ পতনে, যখন পড়িল বাঁধা এক ই সর্গে, রচিলো একত্র স্বর্গ যতনে। 

https://youtu.be/i0JCJfQpGB4




 

Friday, 29 July 2022

বর্ষা আসুক অন্যরকম।

শ্রীজাত গুপ্তা 

অন্য বর্ষা 

তোমার হাতে হাত ছোঁয়ালে 
বৃষ্টি তুমুল 
নখের নিচে 
রাপুঞ্জেলের ভুল শহরে 
দুই বিনুনি 
কম পড়েছে 
তোমার ঠোঁটে 
চোখ ভাসালে 
মেঘের কোলে 
আত্মগোপন 
ইচ্ছে খুব ই এসব লিখি 
প্রেম জানাবো নতুন করে 
রঙ্গীন জলে 
শুখনো পাতা ঝড় নামবে 
অবাধ্য মন 
সেরুলিয়ান 
নীল পোশাকে , আকাশ জুড়ে 
রাজপুত্তর , নাম খুঁজেছি অভিসারের 
শীতল নদী 
পাঠ শিখেছি, 
অস্থিরতায় 
ভুল বুঝেছি 
নিত্যনতুন 
কৃষ্ণচূড়ার নাম রেখেছি 
শুদ্ধ রেখার 
তোমার হাতে 
মুখ লুকিয়ে 
ইচ্ছে ভীষণ 
তোমার কোলে মুখটি ঢাকি 
চুলে তোমার হাতটি থাকুক 
ইচ্ছে ভীষণ 
অলক্ষ্যে ফের 
বর্ষা আসুক 
অন্যরকম।












Friday, 1 April 2022

 আমাদের সবার একটা গল্প আছে। সেই ছোটবেলা থেকে, যখন আমরা এক ঠাকুরমার ঝুলির রূপকথাদের মধ্যে গুঁজে গুঁজে নিজেদের জায়গা করে নি, অথবা বড় হয়ে উঠে বুদ্ধদেব গুহর বাবলি হয়ে ওঠার আকাঙ্খা করি বা শীর্ষেন্দুর পার্থিব এর সেই চার বন্ধুদের মতো বন্ধু খুঁজি। কিছু দেখে , কিছু পরে, কিছু বুঝে উঠতে উঠতে বেড়ে উঠি, আর তারপরে বড় হয়ে উঠি। দায়িত্ব আসে, কর্তব্য আসে, কিন্তু আমাদের সবার মধ্যে নিজেদের সেই দায়িত্ব বোধ আসেনা, কর্তব্য বোধ আসেনা, আবার কখনো বা ঠিক উল্টোটা দেখা যায়, এই দায়িত্ব বা কর্তব্য কাউকে কাউকে একেবারে নিষ্পেষিত করে দেয় , জীবনের রং তখন শুধুই ১০ টা পাঁচটার চাকায় ঘুরতে থাকে। পূর্ণিমার চাঁদকে ঝলসানো রুটি, শুধু সুকান্তের কেন, বহুবার আমাদের অনেকের মনে হয়। গাছের সবুজ পাতার দিকে তাকানো কেও বিলাসিতা বলে হয়, আর অন্য কেউ যদি সেই চাঁদ পাতার মধ্যে থাকে, তখন মনে হয় ইসঃ ওর জীবনে তো কোনো চিন্তাই নেই, হতো আমার মতো জীবন বুঝতো তখন। আর এখনকার এই ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম এর যুগে, এ চিন্তা অনেকের ই হয়, মুখ ঘুরিয়ে থাকি, ভাবি দেখবোনা দেখবোনা, যতক্ষণ না আমার কাছেও একটা এইরকম ঝকঝকে অমিকে তুলে ধারার মতন কিছু থাকছে, কিছুতেই ততদিন আমি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকি, আবার সে অদম্য টান কেও একেবারে উপেক্ষা করা যায়না। আমাদের বয়সের যারা তারা নিজেদেরকে একটু ভাগ্যবান বলতেই পারে, কারণ আমাদের কাছে সোশ্যাল মিডিয়ার দরজা খুলে যাবার আগে, বই এর পাতায় মুখ গোঁজার মতন কিছু দিন ছিল, স্কুল থেকে এসে দৌড়ে দৌড়ে বই পড়ার নেশা ছিল, আর ও একটু দুপুর বেলায় মা ঘুমোলে চুপিচুপি নিষিদ্ধ বই এর খোঁজে চুপিসারে আলমারির কাঁচ সরানো ছিল, পড়ার বই এর তলায় গল্পের বই রেখে পড়ার টানটান উত্তেজনা ছিল, আমার লাভ লেটার ও পেয়েছিলাম আমি পাড়ার লাইব্রেরি তে বুদ্ধদেব গুহর বাবলির মধ্যেই। ধরা পরে মা এর হাতে প্রচণ্ড উত্তম মাধ্যম ও হয়েছিল। প্রথম পাওয়া গোলাপ ফুল তাও ঠাঁই পেয়েছিলো গীতাঞ্জলির মধ্যে। বলতে না পারা পাঁপড়ি গুলো শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে গেলেও, গীতাঞ্জলি খুললেই সব স্মৃতি আবার জীবন্ত। যাকগে যে কথা বলছিলাম, আমি খুব ভাগ্যবান, যে, ঠিক সময়ে ঠিক জীবন বোধের ঠিক রসদ টা আমার হাতে তুলে দিয়েছে আমার চারপাশের মানুষগুলো, মা , বাবা, বাবুমামা,সেই লাইব্রেরিয়ান কাকু।.আর তারপরে কিছু বই আমি নিজে বেছে নিয়েছিলাম, ওই বড় সময়গুলোতে, যেগুলো

কিছু কিছু বই আমাদের চলার পথে অনেক সময় ই আমাদেরকে স্থির রাখে, সুখে, দুঃখে, বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে ব্যালান্সড রাখে। আমার কাছে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের শিউলি হলো এমন ই এক বই। গল্প পাঠে তিস্তা। আমি বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ সেই মানুষটির প্রতি যিনি কিছু কিছু করে এই বই এর কিছু কিছু পাতার ছবি তুলে আমাকে পাঠান , তার জন্যেই আবারো এই বইটি আমি পড়তে ও পড়ে শোনাতে পারছি। 






Monday, 21 February 2022

নিস্তব্ধ দুপুরের একাকী একাকিত্ব এ আমার আগলে রাখা সবুজ সজীবতা , পাশে রাখা ছোট্ট জল সিঞ্চনের সাজি জানেনা জানালার বাইরেটা কত রুক্ষ, শুষ্ক, কঠিন; কাঠিন্য আর আহত করেনা , ভিতরটা আজ স্তদ্ধ, ভাবাবেগ হীন, নির্লিপ্ত শান্ত। কোথাও কোনো শব্দ নেই, এমন দুর্ভেদ্য নৈশব্দ এমন প্রচন্ড শান্ত দুপুর যেন সমস্ত স্নায়ু জুড়ে আত্মসমাহিতের মতন নিজেকে করে চলে নীরব নির্লিপ্ত স্থির অবিচল। 

Wednesday, 19 January 2022

মাঘী পূর্ণিমা

মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের চন্দ্রমা। হটাৎ ঘুম ভাঙা চোখে খুঁজে পাওয়া চাঁদের আলোয় থৈ থৈ চরাচর। সেই আগের মতন, বরাবরের মতন, চিরকালীন। সেই কবে চলা শুরু হয়েছে, মহাকালের সময়ের কোন সূক্ষাতি সূক্ষ  মুহূর্তের ভগ্নাংশের কোন প্রাগঐতিবাহীসক সাক্ষী থেকে , তার আর কোনো ভুল হয়নি তারপর থেকে, সেই চরাচর ভাসিয়ে সমস্ত জগৎ কে আলোয় সাজিয়ে দিয়ে পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়া নব সূচনার ইঙ্গিত রেখে, নব উদয়ের রক্তিম সুপ্রভাতের সূচনা করে। আবার ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফিরে আসা। কোনো ভুল হয়নি তার। কোনো পরিবর্তন নেই, সেই জ্যোতস্নাস্নাত পৃথিবী যাকে আফ্রিকার জঙ্গলের মধ্যে দেখে চাঁদের পাহাড়ের শঙ্করের মনে পড়েছিল তার গ্রামের উঠোনের কথা, অবনিঠাকুরের লেখায় যে জ্যোৎস্না বারবার প্রাণবন্ত হয়েছে, কালিদাস যে এক জ্যোৎস্নারাতের সঠিক উপমা মনে আনতে না পারার গ্লানিতে বহু জাগরণে কেটে যাওয়া একাকী জ্যোৎস্নারাত তাকে কুমারসম্ভবের কবি তে পরিণত করেছিল, সেই জ্যোৎস্না, শঙ্করের জ্যোৎস্না, রবি ঠাকুরের জ্যোৎস্না। পৌষ মাঘের ধানক্ষেতের ওপর আসা মা লক্ষীর আসনের মতন স্নিগ্ধ, শান্ত টলটলে জ্যোৎস্না। এর কোনো পরিবর্তন নেই, কোনো ক্ষয় নেই, কোনো লোপ নেই। আমরা তাকে দেখতে ভুলি, ছুটে চলতে চলতে অবাক হতে ভুলি, প্রমোশন এর পরে প্রমোশন, গাড়ি, বাড়ি, রঙ্গীন জগতের নেশায় চাঁদের আলো ঠিক আলোর মতন করে চোখে পড়েনা। গাড়ি, আরো বড় গাড়ি। বাড়ি আরো বারো বাড়ি। আরো কিছু চাই, আরো কিছু অনেক অনেক। পৃথিবীর সমস্ত সুখ ধরে রাখার জায়গা কুলিয়ে ওঠেনা আর অতএব আরো বেশি কিছু চাই, আরো বড়। সব পাওয়া হয়, শুধু মাঝে পরে থাকে অনেক গুলো জ্যোৎস্না মাখা চাঁদনী রাত , কামিনী ফোটা আলতো রাত , হাস্নুহানা মাখা ভোর। তবু এখনো কিছু চোখ তাকে খোঁজে, এখনো অবাক হয়, আধুনিকতায় মোড়া নগরীর আকাশচুম্বী ভাস্কর্য্যের সঙ্গে এক ই সঙ্গে ভেসে যাওয়া রাত বলে দেয় তুমি বেঁচে আছো। সব আছে দেখো। আধুনিক ব্যস্ত নগরী ঘুমোলে তার সাথে ধুলোমাখা মেঠো পথের আর কোনো পার্থক্য থাকেনা। দস্যি ছেলে সারাদিনের দুষ্টুমি শেষে যখন ঘুমিয়ে থাকে, আর মা তার মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে তাকে আঁচলে টেনে নেন, এই মাঘী পূর্ণিমার কুয়াশা ঘেরা আঁচলে ঢাকা এই ঘুমন্ত নগরীর দিকে শাশীমুখী যেন সেই মাতৃস্নেহের মৃদু দৃষ্টিতে তাকিয়ে, আর সেই দৃষ্টির স্নিগ্ধতা দেখতে পাওয়ার সৌভাগ্য আনন্দে হটাৎ আমার চোখে জল চিকচিক করে উঠলো। তাকিয়ে দেখি রাত ভোর হয়েছে, এক নতুন দিন, উজ্জ্বল, সম্ভাবনা ময় , সুন্দর। মাঘী পূর্ণিমা 

Friday, 17 December 2021

পাতা ঝরার দিনে

রাস্তার দুধারের ঝরা পাতা দেখে মনে পরে গেলো সেই ছোটবেলার পড়া "আমলকি বন্ কাঁপে যেন তার বুক করে দুরু দুরু / পেয়েছে খবর পাতা খসানোর সময় হয়েছে শুরু" যদিও রবি ঠাকুর এটা শরৎ কালের জন্যে লিখেছিলেন , কিন্তু আমি কি করব, আমার এটাই এখন খুব appropriate মনে হচ্ছে। সব কিছু কি আর সব সময় বাঁধা নিয়মে চলে। 

চারপাশে আজ ছিল অনেক রঙের সমারোহ। না বসন্তের মাতাল করে দেওয়া বাঁধাহীন উন্মত্ত রং নয় এ। এ যেন প্রকৃতির নীরব কান্নার পরে শান্ত সমাহিত হয়ে সূর্যাস্ত দেখা। সেখানে কোনো চাওয়া নেই, পাওয়া নেই, প্রত্যাশা নেই। কথা নেই, বার্তালাপ নেই। শুধুই যেন যাওয়া আসার মাঝে এক স্থির, শান্ত, ধ্যানমগ্ন ভাবমূর্তি। রাস্তার দুধারে পথের পরে কেমন যেন মায়াময় হয়ে ঝরেছিলো হালকা হলুদ হয়ে আসা শুখনো পাতা। দুপাশের গাছ, কোথাও কোথাও সেখানে ম্লান হয়ে আসা সবুজ আবার কোথাও বা নতুন এর আগমন এ গর্বিত কচি পাতা। আর ওই দূরে, যেখানে বৃক্ষরাজি তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে জয় করে এসেছে সব বদল, সেখানে নেই কোনো আসা যাওয়া। অনেক পরিবর্তন, আগমন বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে আজ তারা স্থির, অচঞ্চল, ধ্যানমগ্ন, নিষ্পলক। কেমন এক গাঢ় গম্ভীর গায়ের রং ওদের, যা মনের মধ্যে এক সম্ভ্রম নিয়ে আসে, মনে হয় বাবার মতো, দাদুর মতো, বড়দের মতো। সবার মাথার ওপরে দাঁড়িয়ে, সবাইকে রক্ষা করে চলেছে। বড় বেশি করে যাদের আমি রোজ খুঁজি। বড় বেশি করে যাদের অভাব আমি রোজ অনুভব করি। 

সময় টা ঝরাপাতার, আসন্ন শীতের রুক্ষতা, প্রকৃতিকে দৈন, শুষ্ক করে দেবার আগে প্রকৃতি যেন তার শেষ সম্বল উজাড় করে দিয়ে নিজেকে সাজিয়েছে। 

এই সৌন্দর্য্যের মধ্যে দাড়িঁয়ে কেমন যেন আপনা থেকে মাথা নাতো হয়ে আসে, প্রণাম করতে ইচ্ছে করে এই সৌন্দর্য্যকে, হাত জড়ো করে বলতে ইচ্ছে করে, এভাবেই কালের নিয়ম কে মেনে নিতে দিয়ো, চারপাশকে ভালোবাসতে দিও, আর খুব ভালো থেকো। 
স্বরচিত পাঠ 
পাতা ঝরার দিনে 
তিস্তা 

Saturday, 11 December 2021

50 years after

 ৫০ বছর বয়সে এই প্রথম অনিকেত এর মেয়ের পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে এই রকম টেনশন হচ্ছে। অনিকেত, অনিকেত সোম। CMC VELLORE er chairman । না ছোট থেকে কোনোদিন ই কোনো পরীক্ষা বা রেজাল্ট নিয়েই বিশেষ আদিখ্যেতা বা অযথা চিন্তা তিনি করেননি। বরং বরাবর ই বলে এসেছেন ভয় পাসনা, ভালো করে পর, পরীক্ষা দে, তারপর যা হবার হবে। ১০ ক্রস করেছে মেয়ে, ১২ ও , তারপরে হটাৎ এক নতুন মোড়কের জীবনে প্রবেশ করেছে তাঁর সেই ছোট্ট বাবিন অনামিকা সোম, Indian Institute of Space Science and Technology (IIST), Trivandrum এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং এর থার্ড এর স্টুডেন্ট। পরীক্ষা টা হচ্ছে ইসরো এর পেয়ে গেলে ইসরো তে চান্স উইথ ফুল স্কলারশিপ আর সঙ্গে নাসা এ তে collaborative training . এত অসম্ভব টেনশন কেন হচ্ছে তাঁর। নাসা বলেই কি.....ভাবছেন অনিকেত। 

ph করবেন একবার, হাত কাঁপছে।..

রিং....

হ্যালো, হা বাবা বলো...

কি করছিস রে মা, খেয়েছিস?

হ্যা।...সেতো অনেক্ষন। এখন বিরিয়ানি বানাচ্ছি।

আঁ , সেকি। ....বিরিয়ানি।.....

হ্যা, তুমি নিশ্চই কিছু খাওনি এখনো, তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও, আর শোনো, তাড়াতড়ি বেরিয়ে পারো, 

আজ রাতে আমাদের মেনু বিরিয়ানি, ক্যান্ডল লাইট ডিনার। মা এর তো শুটিং আছে বোধহয় আজ ফিরবেনা। আজ আমাদের চয়েস এর কিছু music from your favorite playlist. কেমন বলো, রাজি? 

রাজি, হ্যাঁ রাজিত বটেই। 

উফফ তুমি ভাবো , আমি রাখলাম অনেক কাজ পরে আছে। 

 চিন্তায় তাঁর এদিকে সকাল থেকেই পেট গুড়গুড় করছে, বেশ কয়েকবার ওয়াশরুম এবং দুবার নিচে লবির বাগানে গেছেন সিগেরেট খাবার জন্যে। ফেরার সময় সমীর বাবুর সাথে দেখা, মহা ধড়িবাজ লোক, সপ্রমোশন এর জন্যে খুব হন্যে হয়ে ঘুরছেন, র সব দিকে নজর। দেখা হতে চিবিয়ে চিবিয়ে হাসলেন,  স্যার, মেয়ে কে আকাশে পাঠাবেন , তা খুব ভালো, আজ কোনো রকেট লঞ্চ করবে বুঝি, একটু টেনশন এ মনে হচ্ছেন, , শুনে গা জ্বলে উঠেছিল, কিছু বলেনি, ২০৩৫ এও মানুষের মন গুলোর যদি একটু ইমপ্রুভমেন্ট হতো, কাজ দিতো। 

এদিকে আর একজন ও ভীষণ টেনশন এ আছে, পৃথিবীর অন্য গোলার্ধে, কলকাতার সাথে সময় যেখানে পিছিয়ে আছে প্রায় সাড়ে দশ ঘন্টা। মধ্যরাতেও একটু স্নান সেরে এক কাপ জেসমিন টি নিয়ে এসে স্টাডি রুম এ এসে বসলেন তৃণা। তৃনা সেন kennedy স্পেসে সেন্টারে  National Aeronautics and Space Administration অর্থাৎ নাসা এর mission launching এন্ড preparing এর হেড অফ টি department . কিন্তু স্টাডি রুম এ বসলেই যে স্টাডি করা হতো, তাহলে তো কোনো কথাই থাকতোনা। কিছুতেই মন বাসাতে পারছেননা। এদিকে ঘুমোতে যেতেও পারছেননা। অনিকেত কে ফোন করতে গিয়েও থমকে গেলেন, অনিকেত যখন কোনো কিছুতে বিশেষ ভাবে টেনশন এ থাকে, এত বাজে ভাবে রেস্পন্ড করে, যে এই এত বয়সেও তাঁর চোখে জল এসে যায়। আহা মেয়েটা, মেয়েটা কি করছে যে, মেয়েটা বলতেই উদাস হয়ে গেলেন তৃণা । কে এই মেয়েটা তাঁর জীবনে, কেউ নয়। তবু এই ১৫ তা বছর ধরে, এক ছোট্ট চারাগাছকে তিনি মহিরুহু হবার স্বপ্ন দেখাতে চেয়েছেন। কথাটা ভেবেই হাসলেন তিনি, একটু বেশি ভাবছেননা? একটু বেশি দাবি করে ফেললেন? যে মেয়ে জানেইনা তমালিকার অস্তিত্ব, জন্ম থেকে বড় হওয়া, কোথাও কোনো সূত্র তেই যেখানে তমালিকার সাথে তার এক সুতো ও সম্পর্ক নেই, পৃথিবীর অন্য গোলার্ধে বসে তিনি কি এই বুড়ো বয়সে মাতৃত্বের দাবি করলেন নাকি? না, তা নয়। অনিকেত জানেন। জন্ম দিলেই আর ছোট বেলায় আমার তাতে টা ব্যাবা টা বলে আদর করলেই আর গুচ্ছের খেলনা জামাকাপড় কিনে দিলেই কি মাতৃত্বের সব দায়িত্ব পূরণ হয়। হয়না বোধহয়। কোন ছোটবেলায় মেয়েকে যখন তিনি আকাশ দেখাতেন ছাদে গিয়ে তখন মেয়ে বলেছিলো, আমি স্পেস সায়েন্টিস্ট হবো, তারপরে অবশ্য কল্পনা চাওলা এর অভিযান এর কাহিনী টা দেখতে দেখতে খুব ভাই পেয়ে গিয়ে বাবার কোলে মুখ লুকিয়ে বলেছিলো না না আমি স্পেস এ যাবোনা। 

হটাৎ করে তৃণার সাথে আলাপ তার কিছুদিন আগেই। তৃনা দিয়েছিলো একটা আকাশ দেখার সফটওয়্যার, স্টিলারিয়াম বলে। যেটা অনিকেত প্রায় দুবছর পরে মেয়েকে প্লানটেরিয়াম থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসার পরে খোলে। মেয়ে আর বাবা সেদিন রাট ২টো পর্যন্ত তারা দেখে, ওই দেখো কালপুরুষের কুকুর ওটা, দেখো ওই কোণে ওই উজ্জ্বল তারা টা কি। পরেরদিন তৃনা শুনে ছেলেমানুষের মতন খুশি হয়ে গেছিলো। দেখেছো তোমরা, ইশ আমি ও যদি থাকতে পারতাম। তৃনার খুব ইচ্ছে ছিল অনিকেত এর সঙ্গে কোনো পাহাড়ের চূড়াতে বসে একসাথে তারা দেখে। এইসব অনেক উদ্ভট শখ তার মাথায় ঘুরতো। ঘন জঙ্গল এ ক্যাম্প। কুলুকুলু নদীর জল এ পা ডুবিয়ে বসে থাকা, ডিঙি নৌকোতে মাঝির হাতে করা ঝালঝাল তরকারি দিয়ে ভ্যাট খাওয়া আর ভেসে চলা, এমনি কত কি। শুধু মুখেই চলতো এসব, অনিকেত বলতো, শুধু তুই আমাকে স্বপ্ন দেখাস, আসলে তুই একটা মহা ভীতু, সমাজ কে ভয় পাস্, লোকে কি বলবে, এই সব। আর তাইতো আমাকে ছেড়ে যা কিছু আমরা ইচ্ছে করলেই করতে পারতাম সেই সব ছেড়ে চাকরি নিলি নাসা তে। কেন এদেশে ইসরো তে ভালো সায়েন্স করা যেতোনা? খুব ঝগড়া করতো দুজনে, ছেলেমানুষের মতো। 

আর বলতো কেন ঠাকুর এত দেরি করে আমাদের দেখা করালো ,  নাহয় নাই দেখা করাতো নাহয়। দরকার ই ছিলোনা, দেখা করানোর দুজন এক রকমের মানুষকে অথচ এতটা অসময়ে। ছেলেমানুষের মতো কাঁদতো তৃনা। বহুবার ইচ্ছে হয়েছে দৌড়ে এসে দুহাতে অনিকেত কে জড়িয়ে ধরে তার বুকে মুখ গুঁজে দিতে। বহুবার ইচ্ছে হয়েছে বলে চলো একসাথে সংসার করি, দুজনের চাহিদাই বড় সামান্য।উচ্চাশা নেই, জীবনধারণের জন্যে যেটুকু দরকার শুধু সেটুকু নিয়ে, ছবি তুলে আর গান শুনে কাটিয়ে দি সারাটা জীবন,  আমাদের তিল তিল ভালোবাসা দিয়ে তিলতিল করে গড়ে তুলি একটা সংসার। কোথাও কোনো খেঁচাখেঁচি নেই, অশান্তি নেই, ছবির মতো একটা সংসার। সেই ভালোবাসার সাক্ষী করে নিজেদের সবটুকু দিয়ে মানুষের মতো মানুষ করি আমাদের ছেলেমেয়েদের।

কিন্তু বলেনি সেকথা কোনোদিন তৃণা ,যা হবার নয় তা বলে  দুর্বল করে দিতে চায়নি অনিকেত কে। নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন আরো আরো। কিন্তু নিজের ভেতরের desire , সেগুলো থেকে পালাবেন কোথায়। নিজের ভেতর টা যেন ফালাফালা হয়ে যেত মনে হতো আর পারছেননা , কতবার অফিস এ বসে বসে কেঁদে ফেলেছেন। তারপরে চোখে কিচু পড়ার সেই পুরোনো অভিনয়। USA আসার পরে ভীষণ কষ্ট হয়েছে প্রথম প্রথম মানিয়ে নিতে। ভয়ঙ্কর কাজ পাগল দেশ। বেশিরভাগ মানুষকেই তৃণার হৃদয়হীন রোবট মনে হতো, সেইরকম সময়ে, যখন নিজের ভেতরটা ছিঁড়ে খুঁড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে, তখন কাজে মন দেওয়া অসম্ভব হয়ে উঠেছিল তাঁর কাছে। অনিকেত ও তখন নিজের জীবন যুদ্ধে নিজের মতন করে ব্যস্ত। দূরত্ব বাড়তে থাকে, ফিজিক্যাল দূরত্ব তুচ্ছ হয়ে যায় যদি মানসিক কোনো দূরত্ব না থাকে, কিন্তু যখন মানসিক দূরত্ব ক্রমশ দুর্গম হতে থাকলো, তখন তৃণা টালমাটাল হয়ে পড়লো জীবনে। নিজেকে শক্ত বলে অহংকার ছিল তার কিন্তু রক্ত মাংসের মানুষ তো, ভেতরের যুদ্ধের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাইরেটা ঠিক রাখতে পারছিলোনা। এক বছরের মাথায় চাকরি যায় যায় হয়ে গেলো। বাড়ি থেকে এলো চরম ভর্ৎসনা, এমন এক জায়গায় কাজ করার সুযোগ পেয়েও এভাবে হেলায় হারানোর মূর্খতা ও পাগলামি নিয়ে। 

অনিকেত আর তৃণার জীবন আলাদা আলাদা চাকায় ঘুরতে থাকে। যে যার সংসারের চাকায়, যে যার মতন করে পিষ্ট হতে হতে। একে অপরের সাথে তখন আর কথাই প্রায় হয়না, যদিও তৃণা কোনোদিন ই আমি ব্যস্ত আছি, বা এখন হবেনা, এরকম কথা আজ পর্যন্ত তার মুখে শোনা যায়নি, বিবেকানন্দ পরে বড় হওয়া মেয়ে সে, তার মত ই হলো, মানুষ তখন ই কোনোকাজ এ বলে আমি ভীষণ ব্যস্ত, যখন সে অন্য আর একটি অন্য কাজকে সেই ব্যস্ততার অজুহাতে ঢাকা দিয়ে করতে চায়না। যে কাজ এর প্রায়োরিটি দেবে মানুষ, সে কাজের জন্যে সে সব সময় এ রেডি করে নেবে নিজেকে। তবু কিছুটা নিজের scheduler এর চেঞ্জ এ কিছুটা অনিকেত এর বারবার খুব ব্যস্ততাই তার ওই এক ই কথা মনে হয়, অনিকেত চায়না হয়তো বা আর। এইভাবে একটা কিছু না থাকা না দেখা সম্পর্ক কতদিন আর টেনে রাখা যায়, স্বপ্ন দেখার ও তো একটা ক্লান্তি আছে। হয়তো যে অনিকেত একদিন ছোট্ট ানী হয়ে স্বপ্ন দেখতো, সে অনি হয়তো বড় হয়ে গিয়ে স্বপ্ন ভেঙে বেরিয়ে যেতে চায়। তৃনা বড় অভিমানী। সে অনাদর সহ্য করতে পারে, অবহেলা নয়। তাই নিজের সমস্ত schedule অক্ষুন্ন রেখে সে অপেক্ষা করতে থাকে, কিন্তু এগিয়ে গিয়ে আর ডাকেনা অনিকেত কে।প্রথম প্রথম অনেক সময় যে সময় গুলোতে ভীষণ কষ্ট হতো তার মনে হতো কিকরে পারবে সে অনিকেত কে ছেড়ে সারাটা জীবন থাকতে, তখন লিখতো বারবার হোয়াটস্যাপ এ , পারবে তুমি আমাকে ছেড়ে সারাজীবন থাকতে? উত্তর এ কেমন যেন একটা দায়সারা ভাব থাকতো। তৃনা সামলে নিলো আসতে আসতে। যত ভেতরটা ছিঁড়ে শেষ হয়ে যেত, বাইরে থেকে তত ই শীতল শান্ত হয়ে উঠতো সে। মাঝেমাঝে মনে হতো পারছেনা এই যুদ্ধ করতে আর, তখন নিজেকে সামলানোর জন্যে, না, নিজেকে সামলানোর জন্যে whiskey এর botol বা pub এ গিয়ে বা night ক্লাব এর উদ্দাম নাচের মধ্যে সে নিজেকে ভাসিয়ে দিতেই পারতো। কিন্তু সে দিতো নিজেকে পড়ার টেবিল। এ। যতবেশি তার ভেতরটা চুরমার হয়ে যেত, তত বেশি সে নিজেকে ডুবিয়ে দিতো কঠিন থেকে কঠিন তর্ alogorthim এর মধ্যে।ম্যাথ আর ফিজিক্স ছিল তৃনার খুব ভালো লাগার জায়গা, সে গল্প এর প্লট চিন্তা করতে করতে ফিজিক্স এর অঙ্ক এর মধ্যে ডুবে যেতে পারতো। সে নিজেও জানতো তার চরিত্রের মধ্যে এক অদ্ভুত বৈপরীত্ব একসাথে বাস করে। একবার এক অনেক বড় মানুষ তাকে বলেছিলেন আমি তোমার মতন এত আধুনিক, আবার এক ই আটপৌরে, এত ছেলেমানুষ আবার এত matured , এত সেনসেটিভ আবার এত বুঝদার আমি আমার এই এতটা জীবনেও কাউকে দেখিনি। তৃণা শেখার জগতে ডুব দিলো, যত এগোলো, তত তার কাছে এক আশ্চর্য্য জগৎ খুলে যায়, জানার মধ্যে এত আনন্দ, শেখার মধ্যে এত সজীবত থাকে, ঘোর লেগে গেলো তার। মাঝেমাঝে খুব ইচ্ছে করতো অনিকেত কে সেই আগের মতন করে সব বলে, কিন্ত অভিমান বাধা হয়ে দাঁড়তো।

 তারপরে এভাবে কত বছর পেরিয়ে গেছে, অনিকেত ও কাজকে ধ্যান জ্ঞান করে এগিয়ে গেছে অনেক। মেয়েকে সমস্ত স্বাধীনতা দিয়ে আর সবরকম exposure দিয়ে বড় করেছেন, চেয়েছেন নিজের জীবন ও নিজে বেছে নিক। তিনি শুধু আগলে রেখে সঠিক ডাইরেকশন টা যেন দেখাতে পারেন।  মাঝেমাঝে বহু ঝড় উঠেছে, বহুবার মনে হয়েছে বুঝি পারবেননা।  অনিকেত চাননি রুপোলি পর্দার মোহে পড়ুক তাঁর মেয়ে, পৃথিবীটা তিনি অনেক বেশি দেখেছেন, কত জীবন ওই মরীচিকার মধ্যে ঘুরে ঘুরে শেষে শেষ হয়েছে নায়িকার ব্যাকস্টেজে ডান্সার হয়ে কাপর্দক শূন্য অবস্থায় অথবা দু চারটে সিরিয়েল এ চান্স পাবার পরে প্রচন্ড frustrated হয়ে একটা অস্বাভাবিক জীবন এর মধ্যে অথবা ইভেন মেন্টাল assylym এ তা ভেবে তাঁর বুক কেঁপে উঠেছে। 

তাঁর নিজের জীবনেও এসেছে বহু মহিলা, যত উন্নতি করেছেন, যত প্রমোশন হয়েছে, তত মাছির মতো ছেঁকে ধরেছে নানান প্রলোভন।প্রথম প্রথম সেই সমস্ত attention এ শরীরের রক্ত চলকে যে ওঠেনি বা নিজেকে  নিয়ে যে তাঁর গর্ব হয়নি, তা নয়। কিন্তু দিনশেষে নিজের শিক্ষা সংস্কার আর ওই যে যে মন টাকে তার তৃণা সাবথেকে বেশি শ্রদ্ধা করতো, ভালোবাসতো, সেই নিষ্কলুষ মনটার জন্যে  তাঁকে কখনোই সিল্কের শাড়ির পিছলে পড়া তে, বা বাঁকা ভুরুর অশ্লীল ইঙ্গিতে ডুবিয়ে দিতে পারেনি। 

এদিকে যত তাঁর পাশে ওই মাছির সংখ্যা বেড়েছে, ততই তৃনা দূরে সরে গেছেন। দুজনের মধ্যে দূরত্ব যেতনা বেশি অভিমান আর বেদনা সেই দূরত্বও কে বাড়িয়ে দায় আরো শতগুন। উভয় এই ভাবে ও কি আমায় দয়া করতে চাইছে? দরকার নেই আমার সে দয়ার , ও থাকুক ওর মতন করে, সত্যি ই তো, আমাদের মধ্যে তো কোনো সামাজিক সম্পর্ক নেই, আমার উচিত নয়, ওর জীবনে ইন্টারাপ্ট করা। 

এভাবে সময়ের চাকা ঘুরতে থাকে, ঘুরতে থাকে বিধাতার সাজানো গল্পের রঙ্গমঞ্চ ও। মেয়ের যখন সেভেন কি eight এ চলছে স্কুল, অনিকেত এর জীবন তখন কানায় কানায় পরিপূর্ণ, স্ত্রী, তাঁর মডেলিং এবং অভিনয়ের দুনিয়াতে ভালোই খ্যাতি লাভ করায় হয়ে গেছেন বেশ খানিকটা বেশি ব্যস্ত। অনিকেত নিজেও চেয়ারম্যান হবার পর থেকে schedule এ অনেক চেঞ্জ এসে গেছে তাঁর। খ্যাতি, রোজগার, প্রতিপত্তি এসব ই নেশার মতন, খুব কম মানুষ ই টাকা এর ব্যালান্স গুলো করে চলতে পারে।অনিকেত এই নেশায় পড়লেন। কাজ আর বাড়ি, বাড়ি আর কাজ।মাঝে ক্লাব। আউটডোর টুর। ইত্যাদি ইত্যাদি।  যে ছেলে একদিন বলতো, জীবনধারণের জন্যে আমার যা হোক একটা কিছু হলেই হবে, আমি শুধু একটু ভালোভাবে থাকতে চাই, আর প্রাণ ভোরে বাঁচতে চাই, সেই ছেলে পরিপূর্ণ বড়লোক হয়ে গিয়ে, সেই কথা ভুলে গেল। ছবি আঁকার ক্যানভাস এ ধুলো জমে গেলো, শেষের কবিতা বই এর রেক এর এত পেছনে চলে গেলো, যে ওটা যে কোনোকালে ছিল, তাই আর মনে হলোনা। যে ক্যামেরা টা তাঁর একসময় সবসময়ের সঙ্গী ছিল, সেই ক্যামেরা তাঁর অসহ্য লাগতো, সেই ক্যামেরা ভীষণ আউটডেটেড মনে হওয়াতে ভীষণ দাম দিয়ে খুব লেটেস্ট ক্যামেরা, লেন্স, স্ট্যান্ড সব এ এলো বাড়িতে, শুধু এলোনা সেই তার পরিপূর্ণ ব্যবহারের উদ্যোগ। ফলত লেন্স বন্দি হয়ে থাকলো, আলমারির মধ্যে। মেয়ের সাথে যখন খাবার টেবিল এ দেখা হয় মনে হয় যেন কতটা বড় হয়ে গেছে মেয়েটা। কিন্তু সেভাবে কথা বলা আর হয় কোথায়, প্রতি মাসে একবার করে পাঁচতারা হোটেলে খেয়ে ফিরে আসেন। কিন্তু সেই ভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা আর কথা হয়না। 

এমন সময় একদিন তৃনার র ফোন,

ডিনার এর সময়, আগে টেক্সট না করে তো কখনো এভাবে তৃনা ফোন করেনা। 

কি হলো আবার, তৃণার ফোন এ এখন আর আগের মতন অনুভব হয়না অনিকেত এর, কিছুটা বিরক্ত এই লাগে বরং, হ্যা বল। 

এখন, মনে মনে ভাবলো এইবার তৃনার ধানাই পানাই শুরু হবে, হয়তো বলবে, সরি তোমাকে বিরক্ত করে ফেললাম, বা ইত্যাদি অত্যাদি। 

কিন্তু তৃনা তার ধার দিয়েও গেলোনা। 

হ্যালো, শোনো, বাবিনের কোন ক্লাস এখন?

এইটে।কেন। 

ও কি করছে?

মেয়ে পাশেই খাচ্ছিলো, সবে উঠে গেছে , স্ত্রী তাকিয়ে আছেন দেখে অস্বস্তিতে পড়লেন অনিকেত।

বললো শোন, আমি এখন একটু ব্যস্ত পরে কথা বলছি। 

না, পরে নয়, আজ ই কথা বলতে হবে, খুব দরকার আছে। 

এইরকম জোর কোনোদিন ই করেনি তৃণা , একটু অবাক লাগলেও, অনিকেত এর ইচ্ছে হলোনা ঠিক কথা বলতে। সে বললো আচ্ছা একটু পরে করছি। 

পরে তুমি আর করবে কিনা I am not sure . I will call you back after হাফ যান hour .ধোরো। 

আধ ঘন্টা পরে , স্ত্রী কে ভুলিয়ে ওপরের ঘরের সামনে যে হ্যাঙ্গিং লন টা আছে তাঁর সেখানে গিয়ে বসলেন। আগে নিজে হাতে বাগান করতেন। এখন মালি আছে, তার কাজের তদারকি পর্যন্ত আর করার সময় হয়না। 

ঠিক আধ ঘন্টায় পঃ এলো,

হ্যালো,

শোনো, ইসরো অল ইন্ডিয়া লেভেল এ একটা কোচিং ট্রেনিং দেয় , ক্লাস ৮ এর পর্ থেকে স্টার্ট হয় সেটা। কিন্তু ওতে চান্স পাওয়াটা একটু ডিফিকাল্ট, তার আগে একটা টেস্ট হবে, যেটার রেজিস্ট্রেশন এর লাস্ট ডেট তোমাদের ওখানে আজ রাত ১২টা। I just came to know about the test আর সঙ্গে সঙ্গে তোমাকে জানাচ্ছি তাই, প্লিজ এখুনি রেজিস্ট্রেশন কারো, নাহলে the chance will be missed . 

ইসরো, টেস্ট, অনিকেত এর মাথার ওপর দিয়ে যেতে থাকলো সব। ইটস অলরেডি ১০, হাতে একটা রেড ওয়াইন নিয়ে অনিকেত হেলান দিয়েছে বাগানের কৌচে, এখন আবার এ কি ঝামেলা শুরু করলো তৃণা। 

কিসের টেস্ট, আমিতো কিছুই বুঝতে পারছিনা। কি হবে ওই টেস্ট দিয়ে। 

মানে? ইসরো প্রভিডেস ফ্রি কোচিং এন্ড ফাউন্ড বেস্ট ব্রেন ফর ঠিক country .

দ্যাখ তৃণা , এসব কেন করছিস এই রাত দুপুরে। ওর ওপরে আমি কিছু জোর করে চাপিয়ে কেন দেব, ওর যেটা ইচ্ছে হয়, ও সেটা করবে। 

ওর কি ইচ্ছে হয়, সেটা আর তুমি জানো অনিবাবু? শোনো Mr অনিকেত সোম, একজন মানুষের সামনে যদি তুমি খিদের মুখে শুধু একটি পদ সাজিয়ে রাখো, তাহলে সে ওই একটি পদ ই তৃপ্তির সাথে গ্রহণ করবে। কিন্তু তার সামনে যদি তুমি অনেক গুলো পদ রেখে দাও, তাহলে, সে সব গুলো টেস্ট করে তার মধ্যে বেস্ট পদ টা পছন্দ করে নিয়ে, পেট ভোরে সেটাই খাবে। সবার টেস্ট সমান নয়, এখানে চাপিয়ে দেওয়ার কথা হচ্ছেনা, কথা হচ্ছে তার চোখের সামনে অপসন গুলো মেলে ধরা। বেছে নিতে দিও ওকে। কিন্তু অপসন গুলো যদি নাই দেখানো হয় তাহলে ও বাচবে কি করে। 

ভালো লাগছেনা, সারাদিনের পরে তৃণার এই জ্ঞান অনিকেতের। অসহিঞ্ষু ভাবে বলে উঠলো, দেখ ছোটবেলার আকাশ দেখার শখ সবার ই থাকে, তার মানেই যে তাকে স্পেস সায়েন্টিস্ট হতে হবে, তার কোনো মানে নেই। তোরা সায়েন্টিস্ট রা ভাবিস এই দুনিয়াতে সাইন্স ছাড়া বোধহয় আর কিছুর ই অস্তিত্ব নেই। ববিন কি সুন্দর ডান্স করে জানিস, কত জায়গা থেকে ওর ডান্স এর প্রোগ্রাম এর ডাক আসে। 

ডান্সের প্রোগ্রাম করা আর by profession ডান্স কে বেঁচে নেওয়া is different . তুমি নিজেও তা জানো। 

সিরিয়াল , ওকে। রুপোলি পর্দার আকর্ষণ সব সময় ই মোহময়ী। কিন্তু তুমি জানোনা, কতটা unstable ওই দুনিয়াটা। মরীচিকার মতো। আজ আছে, কাল নেই। জানোনা যে কত জীবন ওই মরীচিকার মধ্যে ঘুরে ঘুরে শেষে শেষ হয়েছে নায়িকার ব্যাকস্টেজে ডান্সার হয়ে কাপর্দক শূন্য অবস্থায় অথবা দু চারটে সিরিয়েল এ চান্স পাবার পরে প্রচন্ড frustrated হয়ে একটা অস্বাভাবিক জীবন এর মধ্যে অথবা ইভেন মেন্টাল assylym এ।

shut up . just shut up . চিৎকার করে উঠলেন অনিকেত। তিনি জানেন,  রুপোলি দুনিয়ার হাতছানি সবসময়েই খুব মোহময়ী।  তৃনা কি করে জানবে, মেয়েকে বড় করতে কত ছোটোখাটো প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে চলেছেন তিনি। সুন্দরী মেয়ে, বড় হবার সঙ্গে সঙ্গে হাজারো প্রলোভনে জেরবার সংসার। রুপোলি দুনিয়ার হাতছানি সবসময়েই খুব মোহময়ী।অনিকেত কোনোদিন ই চাননি রুপোলি পর্দার মোহে পড়ুক তাঁর মেয়ে, পৃথিবীটা তিনি অনেক বেশি দেখেছেন, যে কথাগুলো তৃনা বললো তার প্রতিটা কথা যে কতটা সত্যি, সেটা জানেন বলেই তিনি এতটা জোরে চিৎকার করে উঠলেন।আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তোর ভাবার দরকার নেই, তারজন্যে আমি আছি, ওর মা আছে, তুই তোর নিজের সংসার দেখ। 

তৃণার মনে হলো তাকে কেউ চাবুক মারলো, এত অপমান। অনেক্ষন স্তব্ধ হয়ে বসে রইলো তৃনা। গাল দিয়ে জল পড়তেই উঠে পড়লেন। আর আধ ঘন্টা পরে একটা ইম্পরট্যান্ট মিটিং শুরু হবে, একবার ডকুমেন্টস গুলোতে চোখ বোলানো দরকার। ওয়াশরুম এ গিয়ে চোখে মুখে জল এর ঝাপ্টা দিয়ে এসে বসলেন। ঘড়িতে তখন দুপুর ১২টা , মানে ইন্ডিয়ার সময় অনুযায়ী এখন সময় রাট সাড়ে ৯ টা। কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করে বসে রইলেন, তারপরে দুটো msg লিখলেন ইনস্টাগ্রাম এ ফেইসবুক এ। খুব ফাস্ট। কিন্তু করতেই হবে ইটা। বার করলেন খুঁজে অনামিকা সোম এর প্রোফাইল, তারপরে খুব widely পোস্ট করলেন। 

অনামিকার জন্যে তার বয়সোচিত একটা একটা ভালো ভালো বই, তার ভেতরে কিছু ভালো quote তৃনা ঠিক সময়ে পৌঁছে দিতো, খুব যত্ন করে। 

তৃনা ইন্ডিয়ার কিছু সোশ্যাল awerness এর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে রাখতো সবসময়, সেখানে একদিন একটি মেয়েকে জিজ্ঞাসা করতে শোনে, 

একদিন হটাৎ মেয়ে বললো আমি নাচ ছেড়ে দেব। 

কেনোরে,

এই নাচ গুলো ভালো লাগেনা, কত্থক শিখবো , তবে পরে এখন 

অনামিকা বড় , ৭, ৮....দূর থেকে তাকে দেখে মাঝেমাঝে তৃনা, দেখে তার অনিকেত কে, সামনের চুল গুলোতে আরো একটু পাক, গোঁফ রাখলে কোনোদিন ই ভালোলাগেনা তাকে, তবু যে কেন গোঁফ রেখেছে, কিছু বলেনা , আগে হলে লিখতে বসত গোঁফ টা কাটো , এখন গালে হাত রাখে ছবিতে, চোখে পরে দাড়ি কাটতে গিয়ে একটা কাটা দাগ, 


তারপরে যে কিভাবে এতগুলো বছর কেটে গেলো, ছোট্ট বাবিন কে ঘিরে বছর গুলো যেন দ্রুত চলতে থাকে, ৭, ৮ বছর বয়স থেকে হটাৎ কিছু চেঞ্জ চারপাশের জগৎটাকে চেনার জানার ইচ্ছে, অনিকেত এর মনে হতো তিনি জিতেছেন, মেয়েকে সঠিক পথ দেখতে পেরেছেন। তারপরে যেন ঝড়ের মতন সময় পেরিয়ে যাওয়া, সেই একদিন রাতে তৃনার হটাৎ ফোন, আজ এ লাস্ট ডেট ইসরো একটা ট্রেনিং শুরু করছে, আজ এ লাস্ট ডেট, রাত ১২ টার মধ্যে এপলাই করতে হবে, অনামিকার তখন ক্লাস ৮। অনিকেত বলেছিলো আরে ছোট বেলায় ঐরকম আকাশ সবাই দেখে, তুই এত সিরিয়াস নিসনা , সেই প্রথম তৃনা রাগে কষ্টে ফেটে পরে , মুখে শুধু বলতে পারে, যাকে নিয়ে কথা তাকে নিজে মুখে বলতে দাও, সেটা। উত্তেজিত কথা বার্তাটা তাকে নিয়েই বুঝতে পেরে, বাবার পাশে এসে দাঁড়িয়ে খুব শান্ত গলায় মেয়ে বলেছিলো, আমি apply করবো। এমনি এত ট্রেনিং নি এটাত ভালো একটা ট্রেনিং কিছু না হলেও ফিজিক্স ম্যাথ তা স্ট্রং হয়ে যাবে।

তারপরে সময় আরো দ্রুত পেরোতে থাকে। মেয়ের আইরনিটিক্স এ rank করা, admission , সফলতা, তাঁর চুলে আরো একটু পাক ধরা, আর তারপরে আজকের দিন। 

অনিকেত বাড়ি এসে দেখেন বিরিয়ানির গন্ধে চারিদিক ম ম করছে, মেয়ে সব কিছু রেডি করে , এত্ত জামাকাপড় নিয়ে trolly খুলে বসেছে, একি রে, কি প্যাক করছিস? সময় পাবনা পাপাই, এর পরে পরপর সব এসে যাবে, আজ রেজাল্ট ডিক্লেয়ার, পরশু কাউন্সেলিং, তারপরে।..মেয়ে বলে যেতে লাগলো।...অরে দাঁড়া দাঁড়া , তুই কি ধরেই নিয়েছিস, যাচ্ছিস, হ্যা , আর শুধু আমিতো নয়, তুমিও যাচ্ছ, কি কি নিতে চাও দাও তাড়াতাড়ি, তোমার ব্যাগ গুছিয়ে দি। আরে আমি মানে।..দাঁড়া রেজাল্ট বেরোক।.......অনিকেত এর কেমন যেন একটা nervous লাগছে নিজেকে, বাবিন যেন হটাৎ অনেকটা বড় হয়ে গেছে।কেমন একটা রহস্যময়ী লাগছে ওকে, why are you getting nerbous papai ? is there anybody whom u know ? আমি আমি কাকে জানবো ? dr তৃনা বসু।  হ্যা চিনি আমার এক জুনিয়র। ও তাই, আমিও চিনি ওঁকে তবে অনেক অন্য ভাবে, আর এই জার্নি টার জন্যে অনেকদিনের অপেক্ষা আমার, যবে থেকে বড় হয়েছি, বুঝতে শিখেছি। অনিকেত তাকিয়ে থাকেন মেয়ের দিকে, মেয়ে নিচে বসেই বাবার হাঁটুতে একটা হাত রাখলো, আলতো চাপ দিলো ঠিক ছোটবেলাতে কাউকে যখন বেস্ট ফ্রেন্ড বলতেন বা বড় হয়ে আমি আছি, ঠিক সেইরকম লাগলো অনিকেত এর। মেয়ের  মুখে তখন অপূর্ব এক হাসি। 

কেন্টাকি এয়ারপোর্ট এ নিজেই আনতে আসতে চেয়েছিলো তৃনা। কিন্তু অনিকেত দেয়নি , কেমন যেন একটা টেনশন হচ্ছে, এখনো বুঝতে পারছেননা কি হতে চলেছে, মেয়ের মধ্যে যে কিছু একটা চলছে, সেটা উনি জানেন, কিন্তু কি চলছে সেটা ঠিক বুঝতে পারছেননা। তৃনাও জোর করেননি, ভয় তাঁর ও হচ্ছে, এতদিন পরে , এতবছর পরে , কি হলো এই দুজন মানুষের, বয়স কমে গেলো নাকি, এইরকম উত্তেজনা তো হতো সেই টিনএজ এ, মা বাবাকে লুকিয়ে রাখা কোনো চিঠি বা গোলাপ ফুলের পাপড়ি চোখের সামনে আসার ভয়ে। দুজনেই ভাবছেন, হচ্ছেটা কি। অনামিকা, যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে। দুর্দান্ত রাঙ্ক হয়েছে, যদিও মেয়ে রাঙ্ক নিয়ে যে খুব একটা কিছু ভাবছে, তা মনে হয়না, সে দারুন খুশি, যেন দুটো ডানা পেয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে চলছে কনস্ট্যান্ট কথা , সেই ছোট্ট বেলার মতন, তফাৎ একটাই তখন জিজ্ঞাসা করতো এটা কি ওটা কি, আর এখন বলে, বোঝাতে থাকে তার পাপাইকে এটা কি ওটা কি, ফলে তখনো অনিকেত বেশি ভাবনার সময় পেতেননা, না আর এখনো বেশি ভাবার সময় পাচ্ছেন না। একবার বললেন, হারে তোর মনখারাপ হচ্ছেনা, এখান থেকে তো আমি একা ফিরবো তোকে রেখে, তোর পাপাইকে একা ছেড়ে দিতে তোর মনখারাপ হচ্ছেনা, বলতে গিয়ে তাঁর গলা ধরে এলো। না তো ওমা, মনখারাপ হবে কেন, আমি কি আজীবন এখানে থাকবো নাকি, কিছু জিনিস শিখবো জানবো তার জন্যে এই দুটো বছর তো আমাকে দিতেই হবে বলো। আর তুমি াক ফিরবেই বা কে বললো, দ্বিতীয় কথাটা বুঝতে পারলেননা অনিকেত, ববিন এখানে দু বছর থাকবে সেটাই তাঁর মনে ঘুরছে, তাই প্রথম কথার পরিপ্রেক্ষহীতে বললেন, ও কথা সবাই বলে। তারপর র কেউ ফিরতে চায়না। যারা ফিরতে চায়না, তারা সবাই কি সুখ স্বাছন্দের জন্যেই থাকে, পাপাই, নাকি তাঁরা ফিরে যাবার মতন কোনো জায়গা পাননা , তাই যায়না, মানে, কি বলতে চাইছে বাবিন। ববিন তখন আবার অনামিকা সোম, জানালার বাইরে মেঘের দিকে তাকানো সেই মৌনী সুন্দর মুখ এর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বুকের মধ্যেটা যে ক্রমশ কানায় কানায় ভোরে উঠছে, তা বুঝতে পারছিলেন তিনি, সবাই বলেন না, ভগবান কখনো পুরোটা নিয়ে নান না, কিছু দিলে, ঠিক কিছু ফিরিয়ে দেন, তাই বোধহয়। 

এয়ারপোর্ট থেকে নেমে আবার ব্যাবিনের পাগলামি, আমরা হোটেল এ কেন যাচ্ছি পাপাই, 

তো কোথায় যাবো?

তুমি জানোনা?

সবসময় হেয়ালি ভালো লাগেনা বাবিন , এই রাতে কার বাড়ি যাবো, 

যাওয়া যায়না তো?

ঠিক আছে, মেয়ে আর কিছু বল্লোনা। দুজনে এসে হোটেল এ উঠলেন। খুব ভালো হোটেল, একদম ছোট খাটো একটা এপার্টমেন্ট ই তৃনা বুক করে রেখেছিলো, দুটো রুম, একটা ছোট্ট করিডোর, পেছনে ব্যালকনি, কফি স্টেশন সব ই পার্সোনাল। মেয়ের বেশ পছন্দ হয়েছে। অনিকেত ও স্বস্তিতে। খুশি খুশি দুজনে ডিনার করে দু ঘরে শুতে গেলেন। 

সকালে উঠে মেয়েকে ডাকতে গিয়ে দেখেন, মেয়ের দরজা খোলা, বিছানা পরিপাটি, কোথাও নেই, একি গেল কোথা , তারাতারি ফোন করতে গিয়ে দেখেন একটা ভয়েস মেইল,পাপাই তুমি ঘুমোচ্ছ বলে, আর ডাকলামনা , আমি নিচে পাঠানো এড্রেস তাই যাচ্ছি, তুমি ফ্রেশ হয়ে চলে এসো। 

কি এড্রেস আর ভালো করে দেখলেননা, অনিকেত, তারতারি তৃনা কে পঃ করলেন, ওকে জিজ্ঞাসা করতে হবে, ও নিশ্চই চিনবে, দূর ছাই , তৃনার ফোন এ লাগছেনা কেন, উফফ. মেয়েটা যে কি করে, তারতারি ফ্রেশ হয়ে এসে, গাড়ি বুক করলেন, এড্রেস টা দিয়ে উৎকন্ঠা নিয়ে গাড়িতে বসলেন। গাড়ি চলতে শুরু করতে হটাৎ তাঁর মনে হলো, চারপাশের রাস্তা ঘাট ভীষণ চেনা লাগছে ভীষণ। দরজার ডোর বেল এ হাত দিয়ে,











GOd Help them who help themselves . ভগবান তাকেই সাহায্য করে, যে নিজে নিজেকে সাহায্য করে

 আমাদের জীবনে অনেক রকম phase আসে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রত্যেক মুহূর্তের নিজস্ব কিছু কারণ থাকে, কিছু purpose যা অনেক পরে আমরা বুঝতে পারি। কখ...