Friday, 27 March 2015

ছি:

আজ আমি নিন্দে করব। একদম প্রাণ খুলে প্রচুর নিন্দে। অনেক দিন অনেক কারোর 'শুধুই নিন্দে' কে অগ্রাহ্য করে এসেছি কিছুটা শুধুই অগ্রাহ্য করে, কিছুটা ভালবাসায়, কর্তব্য বোধে, কিছুটা বলুক, আমি তো জানি আমি কি ভাবি না ভাবি, মিথ্যেই যখন তখন কি হবে তাতে কান দিয়ে, আর কিছুটা এই কারণে যে অন্যের নিন্দে করে সময় নষ্ট করা মানে নিজেকে আরো আরো পাঁকে নামানো। কিন্তু আর সত্যি পারলামনা, পাঁকে আজ আমিও নামলাম।
এর আগে এমন ঘটনা আমার সঙ্গে হয়েছে যে যেখানে আমি সত্যি ই হয়ত শুধুই আমার মনের খারাপ লাগা, ভালোলাগা নিজের মত করে লিখতে গেছি আর তাতে লোকজন ঝাপিয়ে পরে বোঝাতে গ্যাছে যে তুমি আসলে নিন্দে করছ (যা আদতে নিন্দে ছিলনা ) এবং এটি প্রচন্ড গর্হিত কাজ , যাকে যার মতন থাকতে দেওয়া উচিত। অর্থাত কিনা বাক স্বাধীনতা বা লেখনী স্বাধীনতা শুধু আমার একার , আমি দিন রাত এক করে দিয়ে শুধুই লোকের নিন্দে করব। তোমার ও নিন্দে করব , কিন্তু তুমি কে হে , তুমি আমাদের পর্যালোচনা করতে আস , আমরা সব বড় বড় হনু, আমরা যা করব সেটাই ঠিক এবং সেটাই বিশ্বে প্রথম হলো, এরপর যে যে সেই এক ই কাজ করবে , সে আমাদের দেখে ঈর্ষান্বিত হয়েই করবে। নিজের ইচ্ছে বা শখ এ তো হাতেই পারেনা, কারণ ওই যে সমস্ত কিছু বোঝা, জানা , ভাবা, করা এসব আমার বা আমার সাথে যারা যুক্ত আছে তাদের, অধিকার। অন্য কেউ নৈব নৈব চ। ও ফটো তুলেছে ? নিশ্চই আমার দেখে? আমাকে টেক্কা দেবে বলে। ও প্রোফাইল picture চেঞ্জ করলো কেন এতদিন পরে , নিশ্চই কোনো কারণ আছে, ঠিক ধরেছি এটা তো আমাদের দেখে করা, দেখেছ হিংসে তে একদম জ্বলে পুড়ে গেছে। আরে ওরা উত্তরের ওই ওখানে বেড়াতে গেল, দাড়াও কেন গেছে জানি, আমাদের দেখে দেখে আবার কি? অর্থাত কিনা, তুমি ওদের কথা ভাব বা না ভাব , ওরা কিন্তু সাদা সর্বদা তোমার বা তোমাদের এবং আরো কত লোকের কথা ভেবে কাটাচ্ছে কে জানে। তুমি কিন্তু এ সম্পর্কে বিন্দু বিসর্গ জাননা, শুনলে, খারাপ লাগলো তারপর আবার ভুলে গিয়ে নিজের জীবনের মধ্যে মশগুল হয়ে গেলে, অথচ তাদের দুর্দশার কথা ভাব, মহানতা তাও দেখো একবার,দ্যাশের ও দশের কথা ভাবতে ভাবতে তো জীবন দুর্বিষহ। চব্বিশ ঘন্টা তো অন্য কে নিয়ে কাটাতে হচ্ছে, আবার ওপরে ওপরে একটা নির্লিপ্ততা , সাধু সাধু ভাব ও দেখাতে হচ্ছে, তারপর অন্যে তো সব সময় ওদের হিংসে করে তাই না, অত এব নিজেদের জীবনের অভিনবত্ব বজায় রেখে, কিকরে অন্য কে আরো আরো হিংসা দেওয়া যায়, তার চেষ্টা করতে হবে।
                           সত্যি আমি এমন লোক দেখেছি, যারা ঘোর সংকট এর মধ্যে একটি রোগগ্রস্ত জীবন কাটাচ্ছে। psychology তে এ রোগের কি নাম আছে আমি জানিনা, কারণ  এটি একটু বিরল রোগ, যে রোগ এর প্রধান লক্ষন হলো , এরা কারোর মধ্যে ভালো কিছুই খুঁজে পায়না, আর ঠিক যে জিনিস গুলো নিয়ে সব সময় এরা নিন্দে করে থাকেন, নিজেদের প্রাত্যহিক জীবনে এরা ঠিক সেই কাজ টি ই করে থাকেন। এরা আরো মনে করেন যে চারপাশের মানুষ্ জন  তো বটেই পারলে গোটা বিশ্বের লোক এঁদের জীবন যাত্রার দিকে উঁকি মারতে চায়, একদিকে এরা বলেন, এঁরা প্রকৃত শান্তির সন্ধান পেয়েছেন , আবার আর অন্যদিকে অন্যের এই উঁকি ঝুঁকি (ওদের assumption বা hypothesis অনুযায়ী ) তে ওনাদের সেই শান্তি এমন বিঘ্নিত হয়, যে মানুষ্ কে "ছোটলোক" আখ্যা দিতেও এদের কোথায় আটকায়না। এরা কি সত্যি কারের মানুষ্ ? নাকি নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে ভুক্ত এক প্রাণী। যারা কিছুতেই জীবন কে সোজা পরিস্কার চোখে দেখতে পায়না, ভাবতে ই পারেনা যে মানুষ সত্যি ই মানুষের কাছে এমন ই কিছুক্ষণ দাড়াতে পারে, তার পেছনে কোনো মতলব না থাকাটাই স্বাভাবিক , প্রত্যেকের জীবনেই problem আছে, তোমার জীবনে কিছু সমস্যা নেই, ইশ শুধু আমার জীবনেই আছে, এসব না চিন্তা করেই সহজ ভাবেই সাহায্য নিতে বা করতে মানুষ্ ই তো পারে। কোন মোহের অন্ধকূপের মধ্যে ঘুরপাক খেতে খেতে শুধুই বিষোদগার করে চলেছে, আঘাত করে চলেছে, একের পর এক। 
আগে কষ্ট হত এই সব মানুষ্ গুলোকে দেখে, এখন করুণা হয়, এরা বোধহয় কখনই সুস্থ জীবন যাপন করতেই পারবেনা। বুঝতেই তো পারছেনা, সহজ সরল ব্যবহার এর অর্থ। ভালবাসা? সেত আরো অধরা , ভালোবাসা বোঝার মত বা ভালবাসার মত মন কি আর জীবিত রেখেছে এরা ? সবেতেই তো মানে খুজতে বসেছে , এদের কাজ কর্ম দেখে তো মনে হচ্ছে, শুধু অন্যে কি কাজ করে সেটা খোঁজা আর তার নিন্দে করা, এই পরম সৌভাগ্যের কাজ ই এদের জীবনের ব্রত। সত্যি জানেন , এমন লোক দেখেছি যারা ভাবেন তারা ছাড়া অন্য কেউ ই আর কিছু করতেই পারেনা, কারোর মন নেই, কোনো ইচ্ছা নেই, কিছুনা। অভূত লাগবে কিন্তু এমন সত্যি আছে, ধরুন আপনি কিছুদিন আগে পাহাড়ে ঘুরতে গ্যাছেন , ফটো লাগালেন কোনো পাবলিক ফোরাম এ, তার কিছুদিন পরে আপনার চেনা কেউ ও পাহাড়ে ঘুরতে গেল আর ফটো লাগালো , তখন কি আপনি ভাবতে বসবেন যে দেখেছ আমার দেখে দেখে ও হিংসে করে ঘুরতে গেছে আর ফটো লাগিয়েছে। অথচ এমন মানুস আছে জানেন, যারা ভাবে অন্যে যা কিছু করছে সব তাদের ই দেখে, কি অদ্ভুত না? হয়ত আপনি ওদের জীবন যাত্রা সম্পর্কে বিন্দু বিসর্গ খোঁজ খবর রাখেনা বা উত্সাহিত ও নয়, আপনার উদ্দেশ্য শুধুই একটি সহজ সম্পর্ক বজায় রাখা, কিন্তু সেখানেও অসুবিধা। আপনি যেভাবে ফটো লাগাবেন সেটা যদি কোনভাবে ওনার স্টাইল এর সাথে match করে যায়, অতএব লোকে ভাবতে বসবে যে নিশ্চই আমাকে কপি করেছে। একবার ও ভাবতে পারেনা যে কেন কপি করতে যাবে আমায় , আমি কি একাই এরকম ফটো তুললাম, নাকি, ফুল গাছ পাথর, পাহাড় এসব কি আমার একার ই আছে নাকি, ফটোশপ এ একটু আধটু ফটো কে এদিক ওদিক করার ক্ষমতা আমার একার ই। আমি ই ফটো প্রথম সাদা কালো করলাম , আমি ই প্রথম ছবি আঁকলাম , আমি ই প্রথম লেখক , আমি ই প্রথম গায়ক , আমি ই প্রথম সব কিছু। 
                            এসব কি? সত্যি ই কি এরা অসুস্থ ? সাংঘাতিক ব্যাধি আক্রান্ত ?
জানেন আমি এমন লোক দেখেছি যাদের কে "ওরে আমাকে একটু খাওয়াবি "? এরকম ভাবে বলার পরে ও  তারা শুধু ভাবতে পারে যে বাড়িতে না ডেকে , একটু রান্না করে নিয়ে এসে দেবে, যদিও হয়ে ওঠেনা তা, অথচ সেই এক ই লোক কে অন্য কেউ নিমন্ত্রণ করে যদি অন্য আর নিমন্ত্রিত দের খেতে দিয়ে দেয় , তাদের খিদে পেয়েছে বলে এবং খেতে বসেও নিজে তার মায়ের সাথে না খেয়ে অপেক্ষা করে, তবে সেই তারাই তাকে এমন ভাসায় কথা বলে, যা একজন কোনো শিক্ষিত লোক বলতে পারেনা, এতে তারা শুধু তাদের নয়, সেই শিক্ষার অপমান করলো। 

হটাত কিছুদিন ধরে facebook নিয়ে প্রচন্ড কথা হচ্ছে, এবং অন্যের  facebook ব্যবহার নিয়ে যে কেউ বা কারা এত ভাবতে পারে তা, facebook নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে আমার এক অপরিচিত লেখিকার লেখা না পরলে জানতেই পারতামনা। লেখাটি শুধুই হাস্যকর নয়, তার ভেতর প্রধান বিষয় বস্তু থেকে এটাই বোঝা গেল যে লেখিকা facebook বলতে শুধুই বোঝেন স্টেটাস আপডেট দেওয়া বা না দেওয়া, আর তার জন্যে তিনি বসে বসে সবার activity লক্ষ্য করেছেন, এবং যথারীতি সব ই তার কাছে নিন্দনীয় লেগেছে।  অথচ facebook প্রথম কেন আসে বা কোন দরকার থেকে এ প্রথম শুরু হলো ,  বা কে এটি বানিয়েছিলেন সে সম্পর্কে ওনার বিন্দুমাত্র মাথা ব্যথা নেই। google তো আছে , আবার কাউকে 'আমরা কত বড়' বোঝানোর সময় google খুলে দেখে নিলেই তো হলো। আমি এই বিষয় টি নিয়ে প্রাণ খুলে জোর গলায় নিন্দে করতে এই জন্যেই পারি যে facebook অনেক অন্য কাজে লাগানো যায় , আমি নিজেই facebook এর মাধ্যমে স্যাম্পল কালেকশন করি। আর লোকেরা কে কি ভাবছে, কে কেন কি ভেবে কিছু লিখছে বা লিখছেনা, আমি কি সেই অন্তর্যামী হয়ে গেছি যে আমি তা বলব। আমি এতই বড় হয়ে গেছি, এতই মহান হয়ে গেছি , যে এ সম্পর্কে অনায়াসে আমি মন্তব্য করতে পারি ? লোককে , তার চিন্তা ভাবনা, কাজকে বিচার করার মত যোগ্যতা কি আমার আছে? আমি যা করি সব ই কি ঠিক? আমি অন্যেকে নিন্দে করছি? আমার এই শুধুই নিন্দের একটিভিটি কি ক্রমশ আমাকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছেনা? বা আমি কি আদৌ কি তা ঠিক করলাম, অন্যের activity র ভুল ব্যাখ্যা করলামনা তো আমি , হয়ত একদিন যে লোকগুলো আমার কাছে ভালবাসার ঝাপি খুলে নিয়ে বসেছিল, ডালা সাজিয়ে দিয়েছিল শ্রদ্ধার , তা আমি সজোরে পায়ে করে সরিয়ে দিলামনা তো? শুধুই নিজের মনের অন্ধকার, insecurity আর egoistic problem এ ভুগে, আমার নিজের জায়গাটা নামিয়ে দিলাম্ নত? আমার এখন দরকার নেই বাইরের লোকের ভালবাসা হয়ত, কিন্তু যে মহা সত্যের কথা আমি বলি, বুঝি বলে ভাবি, তার অপমান করে ফেললাম নত? এত বই, এত কিছু সব নিষ্ফল, স্বাধারণ ঘর সাজানোর সামগ্রী হয়ে গেলনা তো ? কিজানি শুধুই নিন্দার হাত ধরে আমি কি পরম সত্য খুঁজে পাব?



Wednesday, 25 March 2015

চারটি বছর ধরে

দেখতে দেখতে চার বছর হতে চললো 
তোমাকে দেখিনি।
সামনে থেকে

দূর থেকে তো তোমাকে রোজ ই দেখি
ওই যে তুমি ওই ওখানে আছ.......
দেখছ তোমার আদরের অভিমানিনী খেয়েছে কিনা,
ঠিক মতো ঘুম হয়েছে কাল রাতে?
চোখের তলায় কি দাগ ওটা?
দেখেছ কালি পড়েছে ঠিক ....
রাত জাগতে হচ্ছে কি ওকে?
বড্ড বেশি কাজের চাপ?
আহ , দুধ, ডিম টা খাচ্ছে তো ঠিক ঠাক
নজর দেবার সেরকম তো কেউ নেই
দুজনেই যে ছেলেমানুষ বড়ই। .....
মন মেজাজ ভালো আছে তো ওদের
দুঃখ যেন কক্ষনো না পায়
আহ, মেয়েটা আমার এমন ছেলেমানুষ, একটুতেই বড্ড কেঁদে ভাসায়
দাঁড়া এমন একটা গল্প বলব না, মন খারাপ? দেখ কেমন হয় উধাও। .......
এই লেখাটা আলাদা করে রাখি, দেখা হলে বলতে হবে ওকে,
কোন ল্যাব টার কথা বেশ বলছিল ও...... আজ একটা পেপার বের হলনা। ...
কত কি যে বলার আছে ওদের দেখা হলে শেষ ই হবেনা। ....
..........

তোমার মেয়ে হয়েছে অনেক বড়
দুধ ডিম সব ঠিক মতন খায়
কাজের চাপে যখন একা থাকতে হয়,
তখনো সে সময় মতো খায়.....
ঠিক মতো ঘুমিয়েছি আমি
দেখ একটুও নেই চোখের তলায় কালি
সবার সামনে মোটেও কাঁদিনা আমি,
সে যে আমার নিভৃত গীতাঞ্জলি
বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে নিয়ে,
মন খারাপ এ আর গল্প বলবে কে....
লড়াই করতে দেখেছি তোমায় আমি
হাসপাতাল এর লোহার বেড এ শুয়ে।
আজ থেকে প্রায় চার টি বছর আগে। ...

বড় হবার সুযোগ দিয়ে গেলে
আরো বড় হতে বলে গেলে
যে হাত শুধু তোমার হাত চিনত
সেই দুহাতে আরো চার হাত দিয়ে গেলে
এত বড় দায়িত্ব কেন দিলে, সে প্রশ্ন আর করিনা আমি
শুধু বলি, তোমার কথা বুঝতে পেরে আমি
আবার তৈরি করছি পায়ের নিচের ভূমি
সব সময় হাসি মুখে থাকি, যেমন ঠিক চাইতে আমায় তুমি
আরো দুজনের মুখের দিকে চেয়ে
বাঁচছি আবার , বাঁচার মতো করে। .....
আজ এই চারটি বছর ধরে

আজ এই চারটে বছর ধরে
তোমার মেয়ে জেনেছে অনেক কিছু
বুঝেছে তার ও বেশি
তাই এখন সে আর যখন তখন কাঁদেনা,
কান্না তার থাকবে জমা করা। .....
দেখা হলে থামাতে হবে তোমায়
অনেক অনেক গল্প মনে রেখো তাই
নইলে কিন্তু মোটেও সে থামবেনা। .......
আমার কাছেও আছে অনেক কিছু
জমা করা রইল রইল সে সব এখান 
থাকবে প্রতিদিনের সকল অভিজ্ঞতা
নতুন নতুন গল্প আর অনেক অনেক কথা
.............

তোমার মেয়ে তোমায় বুঝতে পেরেছে
পেয়েছে তোমায় আরো অনেক কাছে
অনেক অনেক গল্প জমা রইল
একবার যাই, দেখি থামাও তুমি কিসে।....
এবার তো আর একা আমি নয়
ভালবাসার আর এক ভাগীদার যে আছে
ভাগ দিতে আমি রাজি যদিও নই
কিন্তু জানো, নাছোর বান্দা যে সে ,
 তাই
থাক সাথে ও সে। ......


তোমাকে ছেড়ে সেই আশাতেই আছি,
জানি তুমি আছ আমার কাছে
রাস্তা ভুল করলে
হাত ধরে ঠিক পথ দেখিও
এবার তবে ঘুম এর দেশে যাই
সেখানে তো আর কোনো বাধা নেই
সেদেশে আমার সক্কল কে চাই।
ঘুমের মধ্যে চাদর পরে গেলে
জানি তুমি ঠিক করে দেবে এসে
হাত থেকে বই টা তুলে রেখে
ল্যাপটপ টা বন্ধ করে দেবে।

এবার তবে 'টাটা হাম চকাস '
ভুবন ভুলিয়ে হাসো বাবা, একবার।
ভালো থেক সব সময়...........
মন খারাপ আমার একটুও নেই আর।
দেখো আমি হাসছি কেমন করে,
কথা দিলাম, হাসব আমি এভাবেই সব সময়
আমার হাসিতে আর যে দুজন হাসে
তাদের হাসি বন্ধ হবেনা না কখনো।
ভালো করে থেকো তুমি বাবা ,
নিও শরীরের যত্ন।






  

Saturday, 3 January 2015

এক সুন্দর অভিজ্ঞতা

প্রচন্ড ঠান্ডাতে বিছানা ছেড়ে উঠে, ধরা চুড়ো পরে তৈরি হয়ে বাইরে বেরোতে হবে এটা ভেবেই গায়ে জ্বর এসে যায়, তারপর যদি সেই ভোর বেলাতে যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে তো আর কথায় নেই।  
                           তো গত কালকে আমার সকালটা শুরু হয়েছিল এই ভাবেই। কিন্তু করার কিছু ছিলনা, কারণ একদিন ছুটি নিয়ে পরের দিন ল্যাব এ  যাওয়া টা দরকারী তো ছিলই , তার থেকেও দরকারী ছিল খুব প্রয়োজনীয় কিছু স্যাম্পল কালেকশন। মানে মানুষ্ নিয়ে কাজ কর্ম করলে যা হয় আর কি, তাদের DNA পাবার জন্যে (মানুষ্ যে আর বেচারা গিনিপিগ কি ইঁদুর নয়) তাই তাদের সময় মতো যখন তারা বলবে, তখন ই তাদের কাছে ছুটে গিয়ে saliva মানে সোজা কথায় থুতু নিয়ে আসতে হয়। কি অবস্থা আর কি, সকাল বেলা, শীত সঙ্গে বৃষ্টি উপেক্ষা করে , বিছানার নরম গরম আরাম ছেড়ে লোকের থুতু আনতে যেতে হবে। মনে মনে এসব ই বলতে বলতে, গজগজ করতে ব্যাগ পত্র নিয়ে আমি বেরিয়ে পরলাম আর বৃষ্টির ছাট বাঁচিয়ে ভুট ভুটিয়া করে পৌছে গেলাম মেট্রো স্টেশন এ।  এদিকার লাইন এ বসার জায়গা পেলেও, পেলামনা ওদিককার লাইন এ, ফলে ৪০ মিনিট দাড়িয়ে দাড়িয়ে যখন সিকান্দার পুর  মেট্রো স্টেশন এ পৌছলাম, বলাই বাহুল্য, মনে মনে ভেবেই নিয়েছিলাম যে দিন টা আজ নেহাত ই বাজে যাবে। এরপর সুভাদির পরিচিত বাবলু ভাই এর অটোর জন্যে অপেক্ষা আমার বিরক্তি আরো বাড়িয়ে তুলেছিল। বাইরে তখন বেশ বৃষ্টি হচ্ছে।  
                     মনে  মনে  ঠিক করলাম যে চটপট স্যাম্পল নেব আর ৫ মিনিটের মধ্যেই আসব। বাবলু ভাইকেও সেরকম ই বলে ডোর বেল বাজালাম, আর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে একজন মাঝাবয়সী সুন্দরী মহিলা উঁকি দিলেন আর এক অপূর্ব উষ্ণ অভ্যর্থনা করে আমাকে ভেতরে ডাকলেন। এত সুন্দর অভ্যর্থনায় এবং ওনার আমাকে ডাকার মধ্যে এমন এক আন্তরিকতা ছিল যে যা আমাকে মুহুর্তের মধ্যে সহজ করে দিল। জুতো খুলতেই খুলতেই আমি শুনলাম, উনি আমাকে বলছেন "I  am  sure , u  need coffee". ওনারা হিন্দি বা বাংলা জানেননা, কারণ ওনারা পার্সি।  নিজেদের মধ্যেও ওনারা ইংরাজি তেই কথা বলেন। এরপর ভেতরে ঢোকার সাথে সাথেই বাড়ির মালিক প্রায় ৮৫ ও ৮০ বছরের শক্ত সমর্থ ও সক্রিয়, ধোপ দুরস্ত ভদ্রলোক ও তাঁর স্ত্রী আমাকে এমন ভাবে দুহাত বাড়িয়ে ভেতরে ডাকলেন, যে মনে  হলো যেন বহু বছর পরে আমার নিজের দাদু, ঠাকুমা আমাকে দুহাত ভরে কাছে ডাকলেন। আমার দাদু, ঠাকুমার অভাব আমার বহু দিনের। ছোট বেলাতে তাদের কাছে শুএ শুএ গল্প শোনা তো আমার হয়নি। তাই ওই ভদ্রমহিলা যখন আমাকে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরলেন ,মুহুর্তের মধ্যে আমার চোখে জল এসে গেছিল।  না দেখতে দিইনি কাউকে আমি তা, চোখের জল লুকিয়ে মুখে হাসি আনতে আমার এখন  কোনো অসুবিধে হয়না। কিন্তু কোন অমৃতে ওনারা মাত্র একবারের পরিচিতিতে প্রায় অদেখা, অচেনা এক মেয়ে কে এত কাছের করে নিতে পারলেন। বাইরে বেড়িয়ে বাবলু ভাইয়ের ও কোনো অসুবিধে হচ্ছে কিনা, তা দেখে এলেন। ৫মিনিট থাকব ভেবে এসে, ২৫ মিনিট কেটে গেল নানান কথায়। এত আন্তরিক এত সুন্দর ব্যবহার আমাকে ভুলিয়ে দিল সকালের বিরক্তি। বরং মনে হলো যে এখানে না এলেই বুঝি আমার মানুষ্ সম্পর্কে আরো জানা বাকি থেকে যেত। 
                           বয়স্ক ভদ্রলোক আর ভদ্রমহিলা গুরগাঁও তে থাকেন, দুই মেয়ে, দুজনেই বাইরে। প্রতি বছরে এই সময় ছোট মেয়ে ওনার পুরো পরিবার নিয়ে কানাডা থেকে আসেন এবং বেশ অনেকদিন থেকে যান।এবছর ও তাই এসেছিলেন। তার মধ্যেই আমি আমার কাজের জন্যে ওনাদের বাড়ি যাই , আমি ছিলাম ওনাদের সেই মিষ্টি গেট টুগেদার এ একেবারেই অযাচিত , অন্য কেউ হলে বিরক্ত হত, কিন্তু ওনারা সেই বিরক্ত হবার বদলে আমাকে যে ওই ভাবে আপন করে নেবেন, ভাবতেই পারিনি। আপন করা বা না করা হয়ত একটু বেশি দুরের কথা, আমি কিছু  ইমোশোনাল হয়েই বলে ফেলেছি কিন্তু ওই ভাবে ভেতরে ডাকা? আমার জীবনে খুব কম মানুষ্ অন্য কাউকে এভাবে সাদর অভ্যর্থনা করতে দেকেছি , তাদের মধ্যে সবার আগে বলতে হয় আমার বাবার কথা। আমাদের বাড়িতে যত লোক ই  আসুক না কেন, বাবা সব সময় হৈহৈ করে ডাকত। আর সেটা মন থেকে না হলে কখনো কেউ ওভাবে বাইরের লোক কে ডাকতে পারেনা। 
                    একটা সুন্দর হাসি, একটা সুন্দর ব্যবহারের এত গুণ যে আমার গোটা দিনটাই কালকে যেন বদলে গেছিল। nbrc এসেই সবার সাথে আপনা আপনি ভেতর থেকে একটা ভালো ব্যবহার আমার বেরিয়ে আসছিল। অনেক সময়, অনেক দিন আমি ভেবেছি, দূর ওর সাথে কথা বলবনা, ও আমাকে এভাবে বলল, আমার আত্ম সম্মান এ আঘাত হলো, আমার বাবা অবশ্য সব সময় বলত, এমন কি অর্নব ও বলে, আত্ম সম্মান কি এতই ঠুনকো , একটু কথাতেই আঘাত লাগবে? তখন বুঝিনি, কালকে মনে হচ্ছিল কি হবে এসব ভেবে, নিজেকে এত শক্ত করে রেখে, ভেতরের যে ভালোলাগা তা যেন ভালবাসা হয়ে সবার দিকে ছড়িয়ে পরেছিল। কে কতদিন, আর কার সাথে থাকব, কিন্তু এই যে দুদিনের দেখা, কথা, তার মধ্যে দিয়ে নাহয় নিলাম ই সবাইকে আপন করে। এই যে ওনাদের এক মুহুর্তের ভালো ব্যবহার আমার সারা দিন তাকে প্রজাপতির পাখার মত হালকা করে দিল, এরপর আমার ওনাদের সাথে ভবিষ্যতে কখনো দেখা হোক বা না হোক, ওই সুখস্মৃতি টা তো থেকে যাবে। 
                      গত কালকের সেই সুন্দর ব্যবহার আমার মন থেকে অনেক বাজে স্মৃতি মুছে দিতে সাহায্য করেছে। আগেও এরকম হয়েছে, তবে কালকে আমি সত্যি ই আমার মনের ভেতরে জমে থাকা রাগ, দুঃখ , ক্ষোভ, বিরক্তি থেকে , কিছুটা না হলেও খানিকটা মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। হয়ত সেইসব ক্ষোভ, দুঃখ রাগ আমার একসময়ের ভালবাসা আর expectation থেকেই সৃষ্টি হয়েছিল, কিন্তু থাকনা, সবাই তো সব কিছুর উপযুক্ত নয়, যে যেমন ভাবেই আমার কাছে আসুক না কেন আমি কি তাদের কে আমার ভালবাসা দিয়ে আমার মতো করে আমার কাছে  রাখতে পারিনা? প্রতিদানে নাইবা পেলাম সে ভালবাসা, কি হয়েছে তাতে, তবু আমি তো দিতেই পারি। 

আমার সেই একদিনের সুন্দর অভিজ্ঞতা নিজেকে একটু হলেও মানুষ্ বলে ভাবতে সাহায্য করলো কি? জানিনা। তবে এই ভালো লাগা থেকে আমি বেরিয়ে আসতে চাইনা। কালকে ফিরে আসার পর থেকেই খুব লিখতে ইচ্ছে করছিল ওই মানুষগুলোর কথা, এই অভিজ্ঞতার কথাই লিখতে বসে আমার নববর্ষ পালন এর কাহিনী লেখা হয়ে গেছিল।  

Friday, 2 January 2015

আমার নববর্ষ পালন

আগ্রা যাবার পুরো বিবরণ একটু পরে দিচ্ছি। কিন্তু তার আগে আমার কিছু সুন্দর অভিজ্ঞতার কথা খুব লিখতে ইচ্ছে করছে। 
                        গত কাল থেকে শুরু হয়ে গ্যাছে ২০১৫ সাল লেখা, প্রতিবার এর মতই এবার ও আমার ২০১৪ এর জন্যে একটু মন খারাপ হলো আর কি, এসব ক্যাবলামো আমার চিরকালের, আমার যারা সত্যি সত্যি বন্ধু, মানে আমার শত পাগলামো, ন্যাকামো এবং অন্যদের কাছে যেগুলো হয়ত ভীষণ বিরক্তকর, এমন ব্যবহারেও যারা আমাকে ছেড়ে যায়নি, এবং উপরোক্ত এই সব কিছুকেই হেসে আমাকে আরো আদরে বাঁদর করেছে, এমন কিছু বন্ধুর দল তাই, নতুন বছরে আর সবাইয়ের মতো নতুন বছরের শুভেচ্ছা না জানিয়ে বলে ওই যে, পুরোনো বছর গুলোর জন্যে একটু দুঃখ করে নেওয়ার সময় এসেছে তোর্। 
                      তো যাই হোক, সবাই জানি এবং জানে যে নতুন বছর আর অন্য আর সব বছর গুলোর থেকে আলাদা কিছুই নয়, তবু যে যার নিজের মতো করে এই নতুন কে স্বাগত জানায়, প্রতিটা দিন ই তো নতুন তাই না, এক লহমায় পাল্টে যেতে পারে মানুষের জীবন সেকথা তো সবার ই জানা, তবু এই স্বাগতম কে বেশ লাগে আমার। আর আমার এবং আমাদের এই বছর শুরুর দিন টা এবারে সত্যি ই এতদিনের থেকে একটু অন্যরকম গ্যাছে। 
                                 তার আগে আমার সেই আদরে মোড়া মিষ্টি ছেলেবেলা, যখন আমি সত্যি ই ছোটো ছিলাম ,বুঝতাম শুধু বাবা, মা, দিদি, টুন দিদির আদর আর বকা, এ ছাড়া দুনিয়াতে আর কিছু ছিলনা,সেই সময়ের কিছু কথা একটু বলতে ইচ্ছে করছে। 
                                     সেই রকম এক সময় পয়লা বৈশাখ আর 1st Jan পালন মানেই আমি ঘুম থেকে উঠেই সকালে মাকে বলতাম , আজ কিন্তু আমাকে তোমরা একটুও বকবেনা আর বাবাকে বলতাম আজকে কিন্তু তোমাকে আমায় অনেক গল্প বলতে হবে। আর মা আমাকে বোঝাত বছরের প্রথম দিন খুব ভালো মেয়ে হয়ে থাকতে হয়, দিদির সাথে ঝগড়া করতে নেই আর সব ভাত খেয়ে নিতে হয়, আর খুব মন দিয়ে পড়াশুনো করতে হয়। 
                                      সেই সব আদর বকা খুনসুটি ভরা মিষ্টি বছর গুলোর সাথে তুলনা কোনদিন ই কিছুরই হয়না, এখন ভাবি ইশ আজ আর দিদির সাথে সেই রকম সেই ঝগড়া, মারামারি কেন হয়না? আমি আর আমার বন্ধুবর দুজনেই যথেষ্ট ভাগ্যবান যে ভাইবোনের সাথে ঝগড়ার যে মিষ্টতা সেটা আমরা পেয়েছি, আর তাই বোধহয় আমাদের সবাইকে নিয়ে থাকতে কোনো অসুবিধে হয়না। নিজেরাও যখন কথায় কথায় খুনসুটি করি, অন্য কেউ দেখলে ভাবে খুব ঝগড়া চলছে, কিন্তু এসব হচ্ছে আমাদের ছেলেবেলার বদ অভ্যেস , এই মেঘ, এই রোদ্দুর। তাই ভালো ভালো কোনো কাজের resolution না নিয়ে আমরা দুজনে গত কাল কে  ঠিক করেছি যে আমরা যেন এরকম ই ঝগড়া ঝাটি , খুনসুটি করে আজীবন থাকতে পারি। 
                                মনে আছে একবার দিদিকে আমি রেগে গিয়ে এমন কামড়ে দিয়েছিলাম যে (মানে খুব ই লজ্জা করছে বলতে , কিন্তু সত্যি কথা, কি আর করব বলেই ফেলি,) দিদি কে না ইনজেকশান নিতে হয়েছিল, কিন্তু  মাকে বা বাবাকে সেদিন আমাকে বকতে হয়নি, ওকে যখন ইনজেকশান দেওয়া হচ্ছে, আমি তখন ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছি। মানে অনুশোচনায় এতই কেঁদেছিলাম যে শেষ কালে সেই বলছে আমাকে যে ওরে আমার কিছু হয়নি রে তুই আর কান্দিসনা। 
                                   তো সেই সব হাসি কান্নায় ভরা দিন গুলোর পরে যখন থেকে আমাকে বাইরে যেতে হলো, তখন থেকে একটু অন্যরকম হলো সেই সব বছর গুলোর শুরুর এবং বাকি দিন গুলো পালন। মা যদিও সব সময় ই আমরা কাছে থাকলেই আমাদের প্রিয় প্রিয় খাবার দিয়ে celebrate করত সেই দিনগুলো। সে বছর শুরুর ই হোক, কি শেষের , কি মাঝের। 
                                    ২০১১ এর পরের বছর গুলো শুধুই আগের কথা ভেবে ভেবে যেত। অন্যদিনের মতো কাজ থেকে ছুটি নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ছিলনা, গত বছর ছুটির দিনেই বছরের প্রথম দিন তা ছিল অবশ্য। 

                তো সে যাই হোক, এ বছর টা শুরু হলো একদম সপ্তাহের মাঝখানে আর সেই প্রথম দিনেই আমরা দুজনে করে ফেললাম দুঃসাহসিক কাজ , যেটা আমার কাছে অতটা দুঃসাহসিক যদিও নয়, কিন্তু আমার বন্ধুবর টির পক্ষে সত্যি ই দুঃসাহসিক। সেটা হলো, সপ্তাহের মাঝখানে , ছুটি নিলে যা হয় হয়ে যাক, সেই  সব না ভেবেই ল্যাব না যাওয়া। শুধু কি তাই সেদিন টা আমরা কাটিয়েছিলাম রাজার মতো। আগের দিন রাত প্রায় ৩টে পর্যন্ত সিনেমা দেখে, হা হা হি হি করে পরের দিন দুপুর ১২ টায় বাড়ির সবার শুভেচ্ছায় ঘুম থেকে উঠে আয়েশ করে চা খেলাম, তারপরে নবাবী চালে ১টার সময় বন্ধু শুরু করলেন আগের দিনের কিনে রাখা মাংস রান্না করতে আর আমি লাগলাম ওনার সাহায্যে। ২.৩০ টে নাগাদ রসিয়ে রসিয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমাদের সাধের ঘুম বাতিল করে বেড়িয়ে পরলাম মেঘলা দিনে রাস্তায় রাস্তায় টো  টো করতে। কিছু পরে আমাদের এই ভেঞ্চার এ আর ও দুজন যোগ দিল, ও তাদের পথ  নির্দেশে আমরা চললাম কম দামে সোয়েটার কিনতে। পকেট ছিল খালি, কিন্তু তবুও কিনেও ফেললাম, আর ভাবলাম  নতুন বছরে কত সব গিফট দেওয়া নেওয়া হয়, আমরা তো সে সব কিছুই করিনি, অতএব আর কি  হয়ে গেল আমাদের দুজনেরও একে অপরকে উপহার দেওয়া। তারপর নাচতে নাচতে চলে গেলাম C R Park এ, সেখান থেকে গেলাম কালীবাড়িতে, সন্ধ্যারতি শুনে বেরোতে বেরোতে দেখলাম যে খিদে পেয়ে গ্যাছে, market ২ তে গিয়ে আবার কিছু খাওয়া হলো, পুরনো বন্ধুর সাথে দেখাও  হলো আর তারপরে যে যার বাড়ি।  কিন্তু এখানেই শেষ নয়, পেটে  আমাদের সেদিন রাক্ষস নিশ্চই ঢুকেছিল, বাড়ি ফিরে অনেকখন ধরে দুটো বাড়িতে কথা বলা হলো আর তার পরে আরো একটু রাত করে শুরু হলো আমার লুচি বেলা আর ওর ভাজা , অত:পর ? খাওয়া এবং সব থেকে প্রিয় কাজ ঘুম। অতএব বছরের প্রথম দিনে সবাই যখন ভালো ভালো কাজের শপথ নিয়েছে, আমরা সেদিনটা চরম আলসেমিতে কাটিয়েছি। আর এই আলসেমির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল শীতের নরম রোদ্দুরের মত আদুরে শান্তি। যেন জীবনে কোনো ভয় নেই, কোনো চিন্তা নেই , শুধুই তো পথ চলা। তবে যে সুন্দর অভিজ্ঞতা বলব বলে লিখতে আরো বেশি করে ইচ্ছে করছিল, সেটা হয়েছে আজ সকালে, সেটা বলতেই বসেছিলাম, কিন্তু অন্য অনেক কিছু বলা হয়ে গেল, সেটা বরং আর একটু পরে বলছি। এ না হয় হলো শুধুই আমার, আমাদের হয়ে বছর শুরুর কাহিনী, যা বারান্দার রোদ্দুরে জানলার গ্রীল এর ছায়ার মতই সাধারণ কিন্তু সেরকম ই একান্ত আপনার। তাই এই পোস্ট এর নাম দিলাম আমার নববর্ষ পালন। 

Tuesday, 30 December 2014

ইতিহাসের টানে - আগ্রায়

অপ্রত্যাশিত ভাবে হটাত এই কিছুদিন আগে আমাদের দুই এডভেঞ্চার লোভী বন্ধুর কাছে এলো বেড়াতে যাবার আমন্ত্রণ। সঙ্গে সঙ্গে যা হয় আর কি, দুজনে তো এক পায়ে খাড়া। আমাদের মতো অভাগা দের কেও তাহলে কেউ বা কারা যেচে সঙ্গে নিতে চায়? মানে আমরা কিছু ভাবার আগেই "এই তোদের কে আমাদের সাথে যেতেই হবে" এসব ও আমাদের কে লোকে বলতে পারে, সেই সব বিস্ময় কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বুক হয়ে গেল ট্রেন এর টিকেট। আর বুকের মধ্যে শুরু হয়ে গেল ইতিহাসকে ছুয়ে দেখতে পাবার উত্তেজনা। 
                                                                 delhi আগ্রা, জয়পুর বা তার চারপাশে মোগল, রাজপুতে দের ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা সেই অধ্যায় যা এখন ইতিহাস হয়ে ঘুমিয়ে আছে, তার আঘ্রাণ পাওয়ার সুযোগ যতবার ই পেয়েছি, সমস্ত মন দুলে উঠেছে। তাই নিজেদের চেনা schedule, ল্যাব এর কাজ, আরো হরেক রকম চিন্তাকে দূরে সরিয়ে দিয়ে, আগ্রা যাবার হাতছানিতে সাড়া না দিয়ে পারলামনা। আমার মা আর বাপি, মামনির সাপোর্ট পেয়ে, বারতিনেক  পড়া শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এর "শাহাজাদা দারাশুকো " আরো একবার খুলে বসলাম (ইবুক) আর তারপর এক নির্দিষ্ট দিনে, ভোর ৫.৩০ টায় প্রচন্ড শীত এ ৬টা শীত বস্ত্র একসাথে চাপিয়ে ব্যাগ যখন খালি তখন তাতে মুড়ি চানাচুর ভরে নিয়ে হাঁচতে হাঁচতে এবং সঙ্গে কাশতে কাশতে ঘন কুয়াশাছন্ন রাস্তা দিয়ে প্রায় অন্ধের মতো গিয়ে পৌছে গেলাম নিজামুদ্দিন রেল স্টেশন এ। গিয়ে শুনলাম প্রচন্ড কুয়াশায় ট্রেন বাতিল হয়ে গ্যাছে, খবর টা সম্পর্কে নিশিন্ত হয়েই আর বিন্দু মাত্র সময় নষ্ট না করে আমরা পৌছে গেলাম সরাই কালে খান ISBT তে। একটু গিয়েই দেখলাম আগ্রা আগ্রা করতে করতে একটা প্রায় খালি সরকারি বাস যাচ্ছে, আর বেশি কিছু জিজ্ঞাসা বাদ এ সময় নষ্ট না করে ততক্ষনাত উঠে বসলাম তাতে। 
তারপরে সেই ইতিহাস বিজড়িত শহর এ পৌছানো আর সেখানকার  আকাশ বাতাস মাটিতে যে মহান যুগ আটকে আছে তাকে অনুভব করে আবার  এই  ইতিহাস জড়ানো শহরে ফিরে আসার এক মিষ্টি ভ্রমণ কাহিনী লিখতে খুব ইচ্ছে করছে। যার শুরুটা আজ হয়ে রইল, আশা করি সবটা খুব তাড়াতাড়ি ই লিখে ফেলবো।  

Tuesday, 23 September 2014

আজ

আজ মহালয়া। এই নামটা শুনলেই বুকের ভেতরটা যেন কেমন করে ওঠে।
               ছোটো থেকে মহালয়া পালন হত ঠিক সেই ভোর চারটের সময় ওঠে রেডিও তে শোনা  বিরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রো এর মহালয়া দিয়ে। বাবা, দিদি, মা, আমি সবাই মিলে একসাথে, ওদিকে দাদারাও উঠে পরত।  আমরা চার ভাই বোনে একসাথে শিউলি ফুল কুড়োতাম। হৈচৈ, আনন্দ করে কখন মহালয়ার দিনটা কেটে যেত।

তিন বছর আগে থেকে পাল্টে গ্যাছে আমাদের কাছে এই দিনটা। আজ সেই সবাই মিলে একসাথে মহালয়া শোনার দিন ফেলে এসেছি, চাইলেও ফিরে যেতে পারবনা, বাবার সাথে বসে মহালয়া শুনতে আর কোনদিন ই পারবনা। এমনকি যে বাবাকে কতবার কতকিছু নিজে হাতে খেতে দিয়েছি, সেই বাবাকে আজ জল ও দিতে হয় অন্যভাবে, কেন, এমন হলো? কেউ বলবে কর্মফল। কিন্তু সত্যি কি তাই? আমি তো নিজে জানি, যে আমরা কোনদিন ই  ভুল করিনি, আর আমার বাবা তো বাবা নয়, সে যে ভগবান, সত্যি ভগবানের অংশে না জন্মালে কেউ অত ভালো হাতে পারেনা।  বাবার সাথে প্রতিটা দিন ই আমার কাছে অমৃত সমান। সেই নিস্বার্থ ত্যাগী অথচ অসীম করুনাময় মানুষের  সংস্পর্শে ছিলাম বলেই হয়ত এখনো স্বার্থপরতা আমায় ছুঁতে পারেনি।

                      অর্নব আর আমি ঠিক করেছিলাম, একসাথে সকালে উঠে রেকর্ডেড মহালায়া ই শুনব।অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তাও হলনা। অর্নব ওখানে একা, আমি এখানে, মা সেদিকে একা, বাপি মামনি ও তো সন্তান দুরে থেকে সেই একাই, ভাই ও একা, দিদি ও তো নিজের কাছে সেই একাই , আর আমার বাবা , এখন কি করছ  বাবা একা একা?  সবাই মন খারাপ করে আছে। কবে আমাদের সবার এই একাকিত্ব, এই মনখারাপ দূর হবে? আমরা আবার সবাই একসাথে থাকব। জীবিকার জন্যে জীবন কে দুরে সরিয়ে রাখতে আর পারছিনা।

আজ তর্পণ করার দিন, সবাই যে ভাবে, যা করে, বাবা আমি তো তা কোনদিন ই পারছিনা, তুমি তো আমার বাবা, যেভাবে আমি তোমাকে জল দিতাম, সেভাবে দিচ্ছি , আমি জানি তুমি ও তাই চাও। বাবা আমি তোমাকে সেই আগের মতো হাতে করে খাওয়াতে চাই, খুব ইচ্ছে করছে। বাবা তুমি ভালো থেকো।  আর আমায় তোমার পথে স্থির থাকতে সাহায্য করো বাবা। আমি চিরকাল তোমার হাত ধরে রাস্তা হেটেছি, এখনো তাই চলেচি । এভাবেই যেন চলতে পারি।


Friday, 19 September 2014

ইচ্ছে

আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম, ভিসন সুন্দর হওয়া দিছে। 
                                  সেই বহুদিনের পরিচিত শরত কালের শারদিয়া হাওয়া, সেই এক এ গন্ধ আকাশে বাতাসে। পুজো পুজো গন্ধ। মন খারাপ করা, মন  কেমন করা এক গন্ধ।
                         মা এর কোলের কাছে শান্ত দুপুরে গল্পের বইয়ের পড়ার ইচ্ছে, বাবার গা ঘেঁষে গল্প শোনার অলীক ইচ্ছে। 
আমাদের পুজো শুরু হত শারদিয়া আনন্দমেলা দিয়ে। আজ খুব ইচ্ছে করছে আবার আনন্দমেলা, শুকতারা , কিশোর ভারতী নিয়ে দিদির আর বাবার সঙ্গে টানাটানি করি, বা নতুন কে কোন গল্প পড়ল, তা নিয়ে আলোচনা করি। লাফিয়ে ঝাপিয়ে আহ্লাদিপনা করে, এই এত বড় বড় আলোচনা থেকে বেরিয়ে এসে, কোন gene কি কাজ করলো, বা কি প্রোটিন কি ভাবে কি করছে, কোন sir কে বা কোন mam কে কখন কি রিপোর্ট submit করতে হবে, এসব না ভেবে, এক দৌড়ে আমার সেই আদুরে শিউলি তলায় গিয়ে এক রাশ সাদা ফুল আর কমলা ডাটি তে যে অসম্ভব সুন্দর একটা কান্ড হচ্ছে, তার সাক্ষী হই। 
                      জানি শিউলি এখন খুব একা হয়ে গ্যাছে, কিন্তু নিজের কাজ এ সে কখনো ভুল করেনা, কত বচর আগে, এক পড়ন্ত বেলায় দুটো ছোট মেয়ে হুরোহুরি করে তাকে এখানে এই কাজ দিয়েছিল, সামনে দাড়িয়ে তাদের বাবা আর মা তাদের কত বলছিল, পরের দিন লাগাতে, কিন্তু তাদের যে আর তর সইছিলনা , বাবা স্কুল থেকে ফেরার পথে নিয়ে এসেছে, আর কি অপেক্ষা করা যায় নাকি। সেই থেকে আজ ও কখনো সে নিজের কাজে ফাঁকি দেয়নি, আজ ও তার নিচেটা ফুলে সাদা হয়ে গ্যাছে, শুধু ভোরবেলা এখান আর কেউ এসে সেগুলো নিয়ে যায়না, কেউ তাকে ধরে ঝাকায়না। ও বাবা , ও দিদি, ও মা, দ্যাখো আমাকে শুওপোকা কামড়েছে, বলে চিত্কার করে বাড়ি মাথায় করেনা, তার মাকে আর কাউকে বলতে হয়না যে  'উফ আমার এই মেয়েটা চিরকালের ছিঁচকাদুনি ' , বাবাকে আর কান্না ভোলাতে কাউকে আদর করতে হয়না। 

Tuesday, 16 September 2014

realization about "my'self"

আমাদের এই আরাবাল্লী পাহাড়ে ঘেরা ছোট্ট সুন্দর campus এ মাঝে মাঝেই নানারকম মজার মজার কান্ড হয়, আর আমি প্রায় সবেতেই, যখন যেটা তে য্যামন ভাবে পারি মেতে উঠি। যদিও এবারে আমি সেভাবে থাকিনি, কারণ আমার এখন একটা নিজের ঠিকনা হয়েছে, হয়ত সেখানে এখান কার মতো বিশাল সুন্দর সবুজ ক্যাম্পাস আর অনেক ফেসিলিটি নেই, তবু সেই অনেক কিছু না থেকেও সব কিছু থাকা আমার একান্ত আপনার ছোট্ট এক কামরার সংসার ফেলে শনি রবিবার গুলোতে কিছুতেই এখানে আসতে ইচ্ছে করলনা। 
               কিছুদিন আগে এখানে এখানকার বার্ষিক অনুষ্ঠান হয়ে গেল। তা যেদিন অনুষ্ঠান ঠিক তার আগের আগের দিন রাত্রিবেলা আমার কিছু জুনিয়র আমাকে এসে খুব করে ধরল যে তাদের অনুষ্ঠানে কিছু করার জন্যে। মানে কিছুই নয়, অনুষ্ঠান খুব কম, বেচারারা সবাইকে গিয়ে গিয়ে রিকোয়েস্ট করছে, কিন্তু বড় বড় শিল্পী রা, কেউ তাদের কথা রাখছেনা। অতএব আমাকে ধরেছে। আর আমি তো আগেই বলেছি যে আমি ওসব কিছুই ভাবিনা, আর ওই এত সেল্ফ রেসপেক্ট না ইগো কিসব বলে, ওসব এর ভার বওয়ার মতো শক্তি আমার নেই। আমি ওদের বললাম যে, আমার করতে আপত্তি নেই, কিন্তু আমি করবটা কি? আর তাছাড়া আমি একমাত্র জানি কবিতা আবৃতি করতে, তাও বাঙ্গলায় আর বহুদিন করিও নি, সেটা যদিও এমন কিছু বড় কথা নয়, করব তো আমাদের ই মধ্যে, কিন্তু করবটা কি? এমন সময় মৌমিতা আমার সামনে রাখা এক টুকরো কাগজ টেনে বলল, তুমি এইটা কর , এইটা আবার কি? দেখলাম যে আমার ই লেখা কিছু আবোল তাবোল মানে মাঝে মাঝে আমার যখন কিছু লিখতে ইচ্ছে করে, তো সেটা আমি আমার রোজকারের ডায়েরি তে লিখি, কখনো কখনো ডায়েরি ও হয়না, হাতের কাছে ছেড়া খোরা যা পাই, তাতেই লিখি, এমন ই একটা পাতায় যার উল্টো দিকে কিসের একটা চার্ট ছিল, সেরকম পাতাতে কদিন আগে রবীন্দ্রনাথের 'আমি ' কবিতার ট্রান্সলেশন করছিলাম , না ট্রান্সলেশন বললে এখুনি রবীন্দ্রনাথ প্রেমী রা আমায় মারতে আসবে, রবীন্দ্রনাথের 'আমি', ওয়ার্ডসওয়ার্থ এর 'I ' আর সংস্কৃত  যে 'অহম' বলে এক শব্দ আছে, এ সব থেকে আমার মিলিত উপলব্ধি, মিশ্রিত অনুভুতি আর হয়ত অপরিনিত মস্তিষ্ক এর খেয়ালে এক সহজ কাহিনীর আকারে আমার অত্যান্ত কম শব্দ ভান্ডার যুক্ত, অপরিশোধিত ইংরাজিতে এক কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম।

                                        তো ওদের পাগলামিতে সেটাই আমাকে বলতে উঠতে হয়েছিল। অনুষ্ঠান শুরু হবার মিনিট ১৫ আগেও যখন আমাকে ফোন করে বলল যে তোমাকে একদম শুরুতে করতে হবে, তখন ও আমি বলছিলাম ওদের ক্যানসেল করতে, কারণ লেখাটা যে তখন ও শেষ হয়নি,, আমার তখন সত্যি ই চিন্তা হচ্ছিল , শেষ হয়নি এখনো, মোটামুটি শেষ এ কি হবে ভেবেচি, কিন্তু শব্দ ভান্ডার এ আর শব্দ নেই, কি যে লিখি। একটাই ভরসা ছিল যে শুরুর দিকে লোকজন কম থাকে, সাধারনত যারা খুব ভালো বোদ্ধা তারা অনুষ্ঠানের পরের দিকেই আসে। আমার অবস্থা দেখে আমার "বন্ধু'বর" টিও খুব চিন্তা য় পরে গেছিল, কি করবি বলত। স্টেজ এ তো উঠতেই হোলো , বন্ধুকে বলে গেলাম, দেখ আমারই তো জায়গা, খারাপ হলে এরা মারবে তো আর না, যা হবার হবে, দেখি কি ভাবে manage করা যায়। কবিতা বা একাঙ্ক নাটক যাই হোক না কেন, তার নাম দিলাম Self, আর নাটকীয় ভঙ্গিতে আবৃতি শুরু করলাম আর ভেবে ভেবে যাহোক করে manage করে শেষ করলাম। ও, কিন্তু আবৃতি করার সময় রচনার নামটাই বলা হয়নি।
                                      যাই হোক  নেমে এসে শুনলাম, সবাই ভীসন প্রশংসা করছে, এমন কি আমার স্যার ও। কিন্তু আমি যে কি করেছি, আমি ই জানি, তাই তাকালাম শুধু "বন্ধু'বর" টির  দিকে, আর দেখলাম ওর চোখে অনেকদিন আগের কলেজ এ এক আবৃতি করার পরে যে দৃষ্টি ছিল, সেই দৃষ্টি।

                                              আমার বন্ধুটির বিশেষ অনুরোধেই আমার সেই ছেড়া খোড়া পাতা থেকে এই লেখাটা উদ্ধার করে একে এখানে ভালো করে লিখতে হোলো, উদ্দেশ্য লেখাটাকে রক্ষা করা, কারণ ওর খুব চিন্তা যে যার হাত থেকে লেখার কাগজটা দলা মোচা হয়ে মাটিতে পরে গড়াগড়ি খায়, সে কখনই ভালো করে এটাকে যত্ন করে রাখবেনা।
বলা বাহুল্য যে আজকে শেষ টাকে আরো একটু পালিশ করে দিলাম। আর আমি জানি যে আমার বন্ধুটি অনেকের কাছে অনেকবার এমন কি সেদিন ও অনুযোগ করেছে যে আমি তাকে কখনো কবিতা শোনাই না, কথা দিলাম তাকে, যে আর তাকে ওই অনুযোগ করতে হবেনা, আর এই প্রথম তাকে, আর আমার বাবা মাকে dedicate করে পাবলিক ফোরাম এ কিছু লিখলাম, .. কারণ সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম ,আমার এই সামান্য কিছু করা বা করার চেষ্টা আমার কাছে যাই হোক না কেন, আমার নিজের কিছু মানুষ্ জনের কাছে সেটা অসামান্য।আর তাকে অগ্রাহ্য করার মতো সাহস আমার নেই, আর করবই বা কেন......

Self


Once, there was a king….Proud, confident…
one day a saint came and asked him… 'who are you'?
'What? Are you asking me? I am the king'…….'this is my kingdom'…..'whatever u r seeing everything is mine'…'even u'…..
The saint smiles……..'my dear who are u'?
King gets agitated….'no body dare to come in front of me and u r asking me, who am I? get lost…..otherwise I am gonna kill u'…

Months later, the war started and he lost his kingdom, and got imprisoned by the other king………..got cent to a lonely island  
The saint came there and  asked, 'dear..who are you'?
'Ohhh......U don’t know me? I was the king'. 
'U were'?....... He smiles, 'but now u r not'…..'where is ur kingdom? Ur palace? Ur everything'?
'Ooooo u r very happy to see my condition? wait, I will get them back all'……..
'What will u get back dear? They are not urs'……'no no, its mine, its mine'
'It was…………now there is nothing'….
'Okkkk, nothing, nothing there is…..nothing…..i have nothing'…..he screams but then got scared...and then he asked the saint "who are you"....? 'why do u always come to hurt me? what do u want?' 
'my dear, you know all these answers'...saint said..
'What should I do now'? the king murmured.....
'Do you wan to take treasure? the eternal treasure....which no body can take, no body can steal from you'....
'Yes......I do'.....king jumped..
'then first u go and hug that farmer'......
'are you joking'? I was the King....
'Okk'....saint smiles, 'then you ask the (present) king to give a big hug to u'...
'ohhhhh'...the king became restless and said, 'how dare you to ask me to lose my self respect, my self ego........take me to the treasure house, give me......why are you making me fool by asking these stupid things to do'....
Saint smiles again and said, 'When you will get all the treasure, I am sure that you will hug them by heart, with love and with no other intention'......
The king got surprised and stopped for a while, 'but why do you want to share the treasure with me? why do u want to give me'?  
'After getting the treasure, you will also not hesitate to give them to others'.....saint smiles....'and as much as you will give, you will get them back in much more higher amount'......
'Come, I will show you the way which will take you to the Treasure'......
The king followed the saint and entered into a cave................
'There was nothing..............but only books..........The Veda, The Vedanta, The Mahabharata..............and lots lots............'
He sat there, near the sent..............

Years after, on a bright morning, He came out from the cave, took a deep breath and looked at the surroundings...........
ah, life is so beautiful, so glorious, so charming.........he amazed.........
suddenly he felt that he is hungry......
and then he saw that farmer......
he rushed towards him and gave a tight hug.....without thinking about his past glory, he begged some food from the farmer....... 
became happy like a child........so beautiful, everything is so beautiful.......
He looked for the saint and for the first time he got a feeling from his inside, that the saint is no where, but within himself...
He understood what the treasure is and who was the saint.......
he was nobody but himself..........his 'self '.......

Thursday, 11 September 2014

বয়েই গেল

আমার আগের লেখা 'সম্পর্ক' কে কন্টিনিউ করছি আর কিছু দিন পর থেকে কিন্তু তার আগে আরো একটা আপাত দৃষ্টিতে দেখা সম্পর্ক না থাকা এক মিষ্টি সম্পর্ক হটাত আমার দৃষ্টিগোচর হওয়ায় , কাজে ফাঁকি দিয়ে সেটা না লিখতে পারলে এই যে দুপুর বেলা আমি আমার সব থেকে প্রিয় খাবার মুসুর ডাল আর ঢাড়স তরকারী দিয়ে (পাতিলেবু সহযোগে)  ভাত খেয়ে এলাম, সেটা  হজম হবেনা। 
                       দুপুরবেলা হোস্টেল এর রুম থেকে খেয়ে ফেরার পথে দেখি যে IB ৩ এর সামনে এখানকার দুজন সায়েন্টিস্ট দাড়িয়ে কোনো গুরুতর আলোচনা করছেন (সত্যি সায়েন্টিস্ট ), আর আমাদের হাচিকো বংশগত ভাবে যে নাকি কুকুর প্রজাতি তে জন্ম গ্রহন করেছে, সে হটাত ওনাদের খুব কাছে এসে, এক গাল হেসে, ওঁদের মধ্যে একজনের দিকে তাকিয়ে লেজ নাড়তে লাগলো।  তা, ওনারা তো, একটু সরে গেলেন, ওমা সরে গেলে ই  কি তুমি আমাদের হাচিককে সাইন্টিফিক আলোচনা থেকে বিরত করতে পারবে নাকি? হু  হু সেটি ভাবলে ভুল করবে। হাচিক ও যথা রীতি আরো একটু কাছে ঘেঁসে গেল এবং প্রায় ওনার পা এর ওপর পা তুলে মুখের দিকে তাকালো, আর হাসতে লাগলো। ভাবটা ; কিগো কি খবর তোমাদের , কাজ কম্ম সব ক্যামন কি চলছে? কিছু আবিষ্কার টাবিস্কার করলে তো বল একটু শুনে যাই.......

এই ওপরের ঘটনা টা যখন  repeat হলো বেশ কয়েকবার, মানে যত উনি সরে যান ততই, হাচিকো ও সরে যায় আর হাসতে থাকে, তখন আমি মনে মনে হাসতে হাসতে আমাদের গাব্বু কে একটু আদর করে দিয়ে চলে এলাম, আর ভাবলাম, কি সহজ সুন্দর একটা সম্পর্ক এর সাক্ষী হলাম আজ আমি। আমরা বই এর পাতায় পড়েছি, স্বামী বিবেকানন্দ বলেচেন, ভালো বাসা শুধু দিয়ে যাও, ফিরে কি পাবে ভেবনা, কিন্তু নিজেরা বোধহয় নিজেদের প্রাত্যাহিক জীবনে তা করে উঠতে পারিনি, অন্তত আমি আমার কথা বলতে পারি যে, আমি পারিনি। আর ওই পুচকেটা কে দেখো, ভালোবেসেই সে সন্তুষ্ট, ফিরে তাকে কেউ ভালো বসলো কি না, বয়েই গ্যাছে ওর  সে সব ভাবতে, ওসব তোমরা ভাব, ততক্ষণ আমি তো আমার যখন যাকে দেখে ভাললাগছে, যার সাথে থাকতে ইচ্ছে করছে, আমি তার সাথে থাকি, আর আমার আনন্দ প্রকাশ দেখে তোমার যদি, রাগ ও হয়, তাতেও আমার ভারী বয়েই গেল, আমার চারপাশের  যে কোনো ঘটনা, যে কোনো মানুষ্  বা আমার যেকোনো বন্ধু মানে তোমরা যাদের কুকুর বল, যার থেকে , যেখান থেকে আমার ইচ্ছে, আমি সেখান থেকে আনন্দের রসদ সংগ্রহ করব, খুব করে লেজ ন।ড়ব আর ভী ষ ন আনন্দ করব।   হে হে, আনন্দে থাকার সন্ধান যখন পেয়েছি, আনন্দে তো তখন আমি থাকবই। 
মনটা দারুন ভালো হয়ে গেল আর প্রজাপতির মতো হালকা মনে , গান গাইতে গাইতে, প্রায় হাচিকোর্ মতই লাফাতে লাফাতে ল্যাব এ চলে এলাম। 

Monday, 8 September 2014

সম্পর্ক (১)

জীবনে চলার পথে মানুষ্ এর  কত রকম অভিজ্ঞতা হয়।  কখনো তা মধুর, কখনো বা বিষাদ ময়।  
কত জনের সাথে আমাদের আলাপ হয়, কিন্তু তাদের মধ্যে কিছু সম্পর্ক থাকে, যা বোধহয় সারা জীবনের সম্পদ হয়ে থেকে যায়। ছোটো থেকে আজ এই বড় বয়স পর্যন্ত এমনি অগনিত সম্পর্ক দ্বারা আমি সমৃদ্ধ হয়েছি, হয়ে চলেছি। মাঝে মাঝে ভীষণ  ইচ্ছে করে তাদের সবার কথা, সবাইকে জানাতে। এই সমস্ত ব্লগ গুলো তো সবাইকে জানানোর জন্যেই। তাই না? তাই যখন চারিদিকে সবাই একটু ভালো মানুষ্ খুঁজে বেড়ায়, নিস্বার্থ একটা হাত ধরতে চায়, বা না পেয়ে আমি একাই ভীষন ভালো, অন্যেদের থেকে ভীষণ আলাদা, এই ভ্রান্ত ধারনায় উল্লসিত হয়ে আরো বেশি অন্ধকারের পাঁকে নিজেকে নিমজ্জিত করে ফেলে, তখন আমার চিত্কার করে সবাইকে জানাতে ইচ্ছে করে যে, এ পৃথিবী টা সত্যি ভীষন সুন্দর, এ পৃথিবীর প্রতিটা জিনিস, প্রতিটা মানুষ্ সবাই ভীষন সুন্দর আর নিজেদের কে আলাদা করে ভাবতে গিয়ে, দেখাতে গিয়ে, আরো বেশি করে যারা সবাইয়ের ভিড়ে মিশে যাচ্ছে, তাদেরকে বলতে ইচ্ছে করছে যে তোমারা তো এমনি ই সুন্দর। ঠিক এমনি ই থাকো, ধীর, অমলিন, innocent. হারিয়ে ফেলনা নিজেদের কে। 

                                          আমি আমার এই জীবনে এত ভালো ভালো কিছু মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি, যে শুধু সেই মানুষ্ গুলোর জন্যেই বোধহয় আজ অনায়াসে আমি খুব সহজেই মানুসের অন্ধকার দিক টা না দেখতে পেয়ে আলোর দিকটা খুঁজে নিতে পারি। সেই আলোর পথের দিশারী দের কথা বলতে গেলেই প্রথমেই চোখের ওপর সব সময় ভেসে থাকা সদাহাস্যময় আমার বাবার মুখটা আরো উজ্জল ভাবে হেসে আমার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, আবার আমার গুনগান সুরু করবিত ? না বাবা, তোমার কথা, তোমার আদর্শের কথা, ভালবাসার কথা, উদারতার কথা, আর  তো....মা......র কথা কোনদিন ই শেষ হবার নয়। অন্তত লিখে বা বলে শেষ করা বোধহয় আমার পক্ষ্যে সম্ভব হবেনা। আর মা বাবা কার কাছে না আলোর পথের দিশারী হয়, তাই তোমাদের সাথে একদম এক পঙ্ক্তিতে আমি কোনদিনে কাউকেই বসাতে পারবনা এ কথা ঠিক তবু আমার সেই ইংলিশ মাস্টার মশাই, জেঠু, ট্রপিকাল মেডিসিন এ আলাপ হওয়া S K G Sir , মনবিকাশ এ আলাপ হওয়া ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটি এর dean প্রফ দুর্গাদাস স্যার যিনি এখনো রেগুলার আমার সাথে যোগাযোগ রেখেছেন, মৈত্রী ম্যাম, যিনি কোনদিন আমাকে না দেখে আমার কত বড় উপকার করেছেন, শুধু তাই নয়, আমার সম্পর্কে কত বড় decision নিয়েছেন। এনাদের সবার কথা আমি অনেক সময় নিয়ে আসতে আসতে বলব। এনারা ছাড়াও আরো অনেকে আছেন, সবার কথা আমি বলব, এই জন্যেই বলব শুধু এ পৃথিবীটা শুধুই খারাপ আর আমরা কজন খুব ভালো, তা নয়, এ পৃথিবীটা ভালো কারণ এই পৃথিবীতে এইরকম কিছু মানুষ্ আছেন।যাঁদের জন্যে আমাদের মনের ও সব কালিমা কোথায় চলে যায়। কিন্তু এ না হয়, আমাদের থেকে একটা প্রজন্ম আগে যারা এসেছেন, তাদের কথা, কিন্তু আমাদের এই প্রজন্মেও আমাদের আশেপাশে বন্ধুবান্ধবদের মধ্যেও আছে তামান মানুষ্।  হয়ত খুব সাধারণ  কিছু ঘটনা, কিন্তু আমার কাছে অসাধারণ আর বড় গভীর এর মূল্য। ট্রপিকাল মেডিসিন এই আলাপ হয়েছিল, মলয় দা  বলে এক দাদার সাথে, আর মনবিকাশ এ অনীকদা।  এদের কথা ও ঠিক এখানেই উল্লেখ করার মতো। কিন্তু করব আর একটু পরে। আজ বরং বলি, খুব রিসেন্ট আমার মন ছুঁয়ে যাওয়া এক অন্তারিকতার কথা। কিছু সম্পর্ক, যা সম্পদ এর মতো সারা জীবন সযত্নে বাচিয়ে রাখতে ইচ্ছে করে, চলে গেলেও মনে গর্ব হয়, এই ভেবে যে এক সময় তো ছিল, ক্ষোভ হয়না, দুখ্হ হয়না। শুধু ভালোলাগা থাকে। আর এই বোধ থাকে তার থেকে, যে আন্তরিকতা এখনো মরে যায়নি, মানুষ্ হয়নি এখনো পাথর। বুঝতে পারি আমরা বেঁচে আছি। স্বার্থপরতা নয়, সতেজতার সোঁদা মাটির গন্ধ এসে লাগে নাকে।
     গত জুলাই মাসের ৪ তারিখ আমার বিয়ে হলো।  অনেক  দিনের সম্পর্ক আমাদের, বহুদিন অপেক্ষায় যে ছিলাম ওই দিন এর জন্যে , সে কথা অনাস্বীকার্জ্যা। আমাদের চেনা পরিচিত বন্ধু বান্ধবের দল সবাই আমাদের কে খুব আন্তরিক ভাবেই জানিয়েছিল অভিনন্দন। আমাদের কাছের এক দাদা ও দিদি মানে হওয়ার কথা দিদি জামাইবাবু বা দাদা বৌদি, কিন্তু অনেকদিনের অভ্যেসবশত আমরা দাদা, দিদি ই বলতাম। তো তারা দুজনে আমাদের কে একদম প্রথাগত ভাবে নতুন জামা শাড়ী পড়িয়ে, নানা রকম এর প্রচুর খাদ্য দ্রব্য রান্না করে, অপূর্ব করে সাজিয়ে আমাদের একসঙ্গে প্রথম আইবুড়ো ভাত খাওয়ায়।সত্যি মন ভরে গেছিল। বিদেশ বিন্ভুএ যেখানে সামান্য একটু বাড়ির রান্না পেলেই মন খুশি হয়ে যায়, সেখানে অমন অসামান্য আয়োজন আর অমন আন্তরিকতার সাথে। 
                                                          ভালোলেগেছিল, সেদিনের সেই আন্তরিকতার ছোঁয়া তে পেয়েছিলাম সতেজ সম্পর্কের গন্ধ। কিন্তু বুঝিনি না চাইতেই বাকি আছে আরো অনেক, মূল্যবান, কিছু  অপ্রত্যাশিত উপহারের। 
হ্যা , সত্যি ই চাইনি কারোর কাছে কিছুই। বিয়ে এর খুশি বা আনন্দ এ সবের পাশাপাশি বা হয়ত এ সবের থেকে অনেক বেশি করে ফল্গু ধারার মতো আমার ভেতরে বয়ে চলেছিল অশ্রু নদী।  না, চাপা কষ্টের গোঙানি শুনতে দি ই নি কাউকেই। কারণ বাবা চলে যাবার পরেই বুঝেছিলাম যে তোমার দুর্বল তম জায়গাটা লোকে জানতে পারলে খুব কাছের মানুষ্ ছাড়া কেউ ই তাতে সহ মর্মিতার হাত রাখেনা, বরং আরো বেশি করে আঘাত দিয়ে ক্ষত যাতে না সারে, তার যোগার করে। কিন্তু আমার জীবনের এক সময় এর অভিজ্ঞতা, আর এক সময়ের অভিজ্ঞতা র কাছে হার মানলো, ভুল প্রমানিত করে দিল আমার ধারনাকে।  আর আমি আবার সেই সুন্দরের উপলব্ধিকে কে খুঁজে পেলাম।
                                      NBRC তে এসেই আলাপ হয়েছিল সর্বাণী আর মৌমিতার সাথে। ঘনিষ্টতা ও ছিল, কিন্তু কখনই আমি সে ঘনিষ্ট তা কে নিজের কষ্ট লাঘব করার জায়গা বলে মনে করিনি কারণ তার আগের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা খুব কঠিন ভাবে আমাকে শিখিয়েছিল যে সেল্ফ হেল্প ইস the বেস্ট হেল্প। না সেটাও খারাপ কিছু নয়, কিন্তু ওই যে আমি খুব সাধারণ, তাই, কঠিন এর থেকে নরম ভালোবাসাই আমার সেই অশান্ত মন কে শান্ত করতে পেরেছিল। প্রতিদিনের খাওয়া দাওয়ার খোঁজ খবার নেওয়া থেকে শুরু হয়েছিল আমাদের ঘনিষ্টতা। কিন্তু কখনই আশা করিনি যে যে হাসি মুখের হাসি দেখে সবাই শুধু বিয়ের খুশিটাই দেখতে পেয়েছিল, আর দুটো আমার থেকে কম বয়সী মেয়ে কিনা, নিজেদের boyfriend আর মিষ্টি মিষ্টি প্রেমের কথা ছেড়ে আমার মন এর খোঁজ নেবে বা আমাকে কি করে সত্যি খুশি রাখা যায়, সে চেষ্টা করতে নিজেদের ট্রেন এর টিকেট কেটে ফেলবে। বাড়ি ওদের ও কলকাতা তেই কিন্তু সেটা বোধহয় এখানে বড় কথা ছিলনা, কারণ জাস্ট পরের মাসেই ছিল এক লম্বা ছুটি। আর বহুদিন ধরেই ওরা এমন এক লম্বা ছুটির অপেখ্যায় ছিল। আমি ওদের এক ফর্মাল নিমন্ত্রণ করেছিলাম। কারোর ওপর জোর খাটানোর ইচ্ছে টাই তখন চলে গাছে।  নিজের দিদি ই যখন অবস্থার পাকে পরে প্রানপ্রিয় একমাত্র বোনের বিয়েতে এসে দাড়াতে পারছেনা, সেখানে আমি জোর করব অন্য কাউকে ? না করিনি, কিন্তু অদ্ভুত ভাবে এই দুজন সত্যি ই শুধু আমাকে, আমাদেরকে  খুশি করার জন্যে বিয়ের আগের দিন মানে আইবুড়ো ভাতের দিন সকাল বেলা দুজনে হাজির হলো আমাদের বাড়িতে। বাড়িতে আমাদের যথারীতি নিয়ম মাফিক বিয়ের তোড়জোড় ছিল ঠিকই , কিন্তু তাদেখে কেউ আর আর যাই বলুক বিয়ে বাড়ি বলবেনা, বরং আমার আর মা এর মুখে থমকে ছিল কান্না, সে কান্না সেই বুঝবে, যে কখনো তাদের প্রিয় জনকে হারিয়েছে, আর না হারিয়েও বুঝতে পারার মতো মানুষ্  আছে তারা, যারা বোঝার মতো মন  নিয়ে বড় হয়েছে। এরা এসেছিল প্রস্তুত হয়ে, বাড়ির পরিবেশ কে পাল্টে দেবার প্লান করে। মুহুর্তের মধ্যে আমাকে কাঁদিয়ে হাসিয়ে , মেরে ধরে ওরা বাড়ির পরিবেশ পাল্টে দিল, কারণ শুধু ওরা যে নয়, এক অসামন্য মানুষের আশীর্বচন সেদিন আমাকে নিজেকে অশির্বাদিতা ভাবতে বাধ্য করেছিল, তিনি হলেন আমার শ্রধ্যেয় কাকু, সর্বানীর বাবা। হাঁ , শুধু আমাকে আশির্বাদ করবেন বলে, আমাকে প্রফুল্ল করবেন বলে, উনি এসেছিলেন, বলেছিলেন, আমার নিমন্ত্রণ না থাকলেও, আমি শুধু ওই মেয়েটার হাসি মুখ তা দেখে আসবই। হাঁ , এরকম মানুষ্ আছেন, যারা কদিনের সম্পর্ক কে আত্মার সম্পর্ক বলে মনে করার মতো ক্ষমতা রাখেন। সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম আমার বাবার বলা কিছু কথার মানে, আর অশ্রুমুগ্ধতার মধ্যে উপলব্ধি করেছিলাম আমার বাবার আশীর্বাদের হাত। 
আর ওই দুজন আমাদের বাড়িকে যতভাবে খুশি রাখা যায়, সেদিকে কোমর বেঁধে উঠে পড়ে লাগলো।  এখানে আর একটা কথা বলা খুব দরকার, আমি বাড়ি আসার আগে মৌমিতা আমি কোন জামা কাপড় নিয়ে বাড়ি যাব থেকে আমার suitcase গোছানো, সব ই করে দিয়েছিল। আর বাড়িতে এসে ঝাঁট দেওয়া থেকে ফুল বাঁধা সব ই এরা কাড়াকাড়ি করে করেছে, আমাদের বাড়িতে লোক খুব কম, আর এরা তা জানত, তাই পরের দিন সকালে সর্বাণী যে সর্বানিকে ল্যাব এ দৌড় দৌড়ি করে কাজ করা ছাড়া লোকে আর কিছুতে দেখেনি, সে ঝাঁটা হাতে ঘর পরিস্কার করে বরযাত্রী রা তত্ত নিয়ে এলে কোথায় রাখা হবে, তার জায়গা করছিলো।  কিন্তু এখানেই শেষ নয়, মানুষ্ চিনতে আমার বাকি ছিল, অন্ধকার দেখতে দেখতে আলোর কথা ভুলেই গেছিলাম, তাই আমিত্বের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে যখন জগত কে দেখতে পেলাম, চোখ ধান্দিয়ে গেল যেন........... 

(চলবে )

GOd Help them who help themselves . ভগবান তাকেই সাহায্য করে, যে নিজে নিজেকে সাহায্য করে

 আমাদের জীবনে অনেক রকম phase আসে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রত্যেক মুহূর্তের নিজস্ব কিছু কারণ থাকে, কিছু purpose যা অনেক পরে আমরা বুঝতে পারি। কখ...