Thursday, 8 March 2018

শুকতারা

আমার ঘুম ভাঙে ঠিক ভোর ৫ টায়। শীত , গ্রীষ্ম , বর্ষা  সবসময় ৫ টা থেকে সারে ৫টার মধ্যে আমার সময় ঘড়ি আমায় জাগিয়ে দেয়। খুব আশ্চর্য্য লাগে, আমাদের ওখানকার থেকে ভোর এখানে হয় প্রায় ঘন্টা খানেক দেরিতে। অন্তত আধ ঘন্টা তো বটেই, তবুও ঠিক ওই সময় টাতে আমার পূর্বঅভ্যাস আমাকে তুলে দেয়। একেই কি বলে অভ্যেস? সেই ছোটবেলাতে, বাবা ওই সময় এ আমাকে যোগ ব্যায়াম , প্রাণায়াম অভ্যাস করাতো আর আমি শুধু ফাঁকি দিয়ে ঘুমোতাম। খুব ছোটবেলাতে অবশ্য বাড়ির মধ্যে আমিই সব থেকে দেরি করে ঘুম থেকে উঠতাম, রুগ্ন মেয়ে বলে আদুরেও কম ছিলামনা, অনেক আদরে , সাধ্য সাধনা করে ঘুম থেকে তোলা হতো আমায়। বড় হয়ে সেই আমি কিভাবে যেন ভোর কে খুব ভালোবেসে ফেললাম। সেই বিএসসি এম এসসি থেকে আরো বেশি করে। বাবার থেকে দূরে তখন। খুব মন কেমন করতো আর বাবা যা যা শেখাতে চাইতো আমায় আরো বেশি করে সেই জিনিস গুলো প্রতিদিনের অভ্যাসের মধ্যে এনে ফেলি। 
তারপর যখন আরো দূরে বা হয়তো বা আরো বেশি কাছের হয়ে গেলাম বাবার, জানিনা ঠিক, তবে ঠিক তখন থেকেই সূর্য্যও যেন বেশি করে আমার কাছে চলে এলো। মনে হতো আমাকে জেগে যেতে হবে, ওই সূর্যোদয় এর সাক্ষী হতে হবে, সাক্ষী হতে হবে ওই বিদায়ী ক্ষণের। আর তখন থেকেই কিভাবে যেন আমার প্রতিটা দিন, দিনের প্রতিটা মুহূর্ত আমার কাছে এক অন্যভাবে ধরা পড়লো। কত আনন্দ লুকিয়ে আছে এই এক একটা মুহূর্তের মধ্যে,কত ভালোলাগা, হয়তো বা অনেক খারাপ লাগাও , কিছু আদর হয়তো কিছু অনাদর তবুও সব সবকিছু খুব সুন্দর। একে অন্যের থেকে আলাদা, অভিনব অনুভব এ জড়ানো।  

আজও ঠিক সেভাবেই ঘুম ভাঙ্গে। যান্ত্রিক অ্যালার্ম এর দরকার পড়েনি , এমনি ই ঘুম ভাঙ্গে, চোখ খুলতেই মুখের ওপর উছলে উঠলো একরাশ আলো। ভোর তো তখন ও হয়নি, ওমা , জানালার দিকে তাকাতেই দেখি, একদম আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসছে শেষ রাতের সুধাকর। সাথে, ঠিক পাশেই আছে শুকতারা। কি অসম্ভব সুন্দর সে মুহূর্ত। চোখ ফেরানো যাচ্ছিলোনা যেন। কি অনুপম তার রূপ। কিছুদিন আগেই পূর্ণিমা ছিল, তাই ভরা যৌবনের সমস্ত মাধুর্য্য নিয়ে চন্দ্রমা এসে দাঁড়িয়েছিল যেন। 
কালকে শোবার সময় চাঁদ দেখিনি, ছোট্ট মিষ্টি একজন মানুষ তাকে খুঁজেওছিলো নাকি, শেষে বলছিলো, চাঁদের নাকি কষ্ট হয়েছে, তাই সে আসেনি। শেষ রাতে চাঁদ বোধয় তার সমস্ত কষ্ট কে একটানে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে শুধু আমাদের মুহূর্তকে সুন্দরতা তে ভোরে দেবে বলে অমন ভুবন ভোলানো হাসিতে চারিদিক ভাসিয়ে দিতে এসেছিলো। ছোট্ট শুকতারা, মুচকি হেসে তার পাশে থেকে তাকে সাহস জোগাচ্ছিলো। শুয়ে শুয়েই তাকিয়ে ছিলাম সেই দিকে, তারপর  উঠে পড়ি, সাক্ষী হলাম সেই ব্রাহ্ম মুহূর্তের। দিবাকরের রশ্মিতে এক হয়ে মিশে গেলো আমার চাঁদের আলো আর সারাদিন বারবার আমার মনে পড়তে লাগলো সেই যুগলবন্দীকে।

আস্তে আস্তে সূর্য্যের তেজ বাড়লো, মধ্যাহ্ন পেরিয়ে পড়ন্ত বিকেল আবার ঘোর লাগালো চারিদিকে। সন্ধের ধ্যানমগ্নতা আমাকে আজ করলো একেবারে নীরব। দূরে ওই মৌন্য আরাবল্লী, সন্ধ্যার রঙে রং মিলিয়ে আরো গাঢ়, গভীর হয়ে মিশে যাচ্ছিলো ওই আকাশে। আজ আবীরের বাহুল্য ছিলোনা পশ্চিমে। আজ ছিল শুধু যেন প্রতীক্ষা। কিসের তা ঠিক জানিনা। হয়তো সুরের , হয়তো বা সঠিক ছন্দের। তবে প্রতীক্ষা ছিল নীরব, শান্ত। সেই নীরব প্রতীক্ষার মধ্যে দিয়ে ধীর পায়ে, সন্ধ্যা নামলো।  দূরে ওই বহুদূরে যে ছোট্ট মন্দির টা দেখা যায়, সেখান থেকে খুব অল্প করে ভেসে এলো সন্ধ্যারতির শব্দ। আর এই নিস্তব্ধ নিশিকে স্বাগত জানিয়ে ওই পশ্চিম আকাশেই আপন স্তিমিত মুখ খানি মেলে ধরলো আমার শুকতারা। 












Wednesday, 7 March 2018

বেঁচে আছি

ঘুম ভেঙে জেগে উঠে কখনো চাঁদ দেখেছো?
আকাশ ভরা তারা?
দেখেছো কখনো রাতের কান্না 
শুনেছ নৈশব্দের শব্দ। ..
বোধ করেছো তোমার নিশ্বাস কে....
তোমার শ্বাস এর শব্দময়তাকে প্রত্যক্ষ করেছো।....
বুঝেছো কি তুমি বেঁচে আছো? 

Friday, 2 March 2018

প্রতীক্ষা

হটাৎ ঝড়ের পর যখন সবকিছু শান্ত হয়,
তখন কেমন যেন এক ক্লান্তিময় শান্তি আসে চারিদিকে।
কেমন যেন বিষাদ ময় ক্লান্তি।
সেখানে কথা হারায় তার আপন শব্দ,
সুর হারায় তার আপন গতি ,
তাল হারায় তার আপন ছন্দ।
আর ওই সুর তাল গতি সবকিছু হারিয়ে থাকা প্রকৃতি
নিস্তব্ধ হয়ে, নীরব হয়ে, একেবারে স্তব্ধ হয়ে
অপেক্ষা করে।
সঠিক সময় এর।
একেবারে স্তব্ধ হয়ে, নীরব প্রতীক্ষা করে
সবুজ পাতার। ....
কখন গাছে গাছে আবার ভরে যাবে আম্রমুকুল ,
যুথির গন্ধে , বেলির আগমনে বাতাস হবে আমোদিত।
জ্বলবে আলো।
ফিরে আসবে সুর, তাল, বর্ণ , গন্ধ।
বীণা বেজে উঠবে তার আপন ছন্দে।

ততক্ষন থাকনা। ..
থাকনা সবকিছু স্তব্ধ হয়ে
বোলোনা বোলোনা , কোনো কথার
কোনো অজুহাতের , নেই কিছু দরকার।
অযথা কিছু দিয়ে আমার এ প্রতীক্ষা কোরোনা ভঙ্গ তুমি।
সুরে সুর আজ মিলছেনা ,
তাল গেছে কেটে।

তার থেকে চলো ঠিক সুরটাকে খুঁজি মোরা-
সুন্দর কে আনি।
ততক্ষন সবকিছু থাক নাহয় থেমে ,
নাহয় না থাক কোনো বাণী।







Thursday, 1 March 2018

তুমি তেজ, আমাতে তেজ স্থাপন করো

প্রতিদিনের সূর্য্য প্রতিদিনের ভোর, তবু সে কত নতুন। তার সৌন্দর্য্য কখনো ক্ষয় হয়ে যায়না, নিত্য নতুন ভাবে তোমার আমার সবার প্রতিটা মুহূর্ত কে সাজিয়ে দিয়ে বিদায় নিয়ে যায়, আবার পরের দিনে নতুন আলোর সন্ধান দেবে বলে। 

আজ আমার জন্ম তিথি, আমি নাকি দোল পূর্ণিমার দিনে এই পৃথিবীতে এসেছিলাম। আমার মা তাই আমার নাম রেখেছিলো দোলা, কিন্তু বাবা চেয়েছিলো আমাকে নদীর গতি দিতে। তাই পরে নদীর নামে আমার নাম রেখেছিলো। মা এর হাতের পায়েস আর বাবার আদর ছাড়া জন্মদিন বা জন্মতিথির অন্য কোনো মানে আমার কাছে কখনোই কোনোভাবে ধরা পড়েনি। না কখনোই, এখানকার cake কেটে মোমবাতি জ্বালিয়ে আমাকে দেওয়া এদের হাজার আদরকে কখনোই ছোট করিনা আমি। আমাকে দেওয়া আমার প্রিয় মানুষটার, এখানের সবার--  কণা কণা আদর আমাকে সমৃদ্ধ করেছে, বেশি করে ভালোবাসতে শিখিয়েছে নিজেকে, অন্যকে। তবু কি জানি দামি রেস্তোরাঁ থেকে ঘরে আসন পেতে কাঁসার থালা আর প্রদীপের শিখাই আমাকে বড় বেশি শান্তি দেয়। 

প্রতিটা দিন প্রতিটা মুহূর্তই একে অন্যের থেকে কত আলাদা, কত অন্যরকম, অথবা সব ই এক রকম। ঠিক জানিনা। আজকের দিনটাও বিশেষ কিছুই নয়। শুধু মা বললো আজ তোর জন্মতিথি। আর আমার মনে হলো, সেই যে কতগুলো বছর আগে আমি এসেছিলাম , ছোট্ট আমি। কত আদর, হয়তো কিছু অনাদর , কিছু আঘাত আবার অনেক ভালোবাসা আমাকে আজকের অমিতে এনে দিলো। কি করলাম আমি এতো গুলো বছর ধরে, কি ই বা করতে পেরেছি এই এতো গুলো বছর ধরে। জানিনা। তবে যখন ফিরে তাকাই, দেখি কোথাও এতটুকু খারাপ লাগা নেইতো। 
তাই আজ এখন এই শান্ত শীতল সকাল বেলা, মন থেকে খুব বলতে ইচ্ছে করছে ধন্যবাদ, হে আমার পরম মঙ্গলময়,  যা কিছু দিয়েছো আমায়, এ আমার অনেক বেশি পাওয়া। আর যা কিছু চেয়েছি, পাইনি বলে আক্ষেপ করেছি তা হয়তো আমার কখনো ছিলোনা। আমাকে বোধি দিও, যে বোধি আমাকে তোমাতে কখনো ভুল বুঝতে দেবেনা। যে বোধি আমাকে আজকের আনন্দের সুরের সাথেও সুর মিলিয়ে দেবে দূরের বেদনা রিক্ত কোনো মুখের। যে বোধি আমাকে এই পলাশ এর লাল এর মাঝেও বারবার কোনো দূরদেশে শিশুর রক্তাক্ত ছোট্ট শরীর টাকে চোখের সামনে তুলে আনছে। হয়তো আমার কিছুই করার নেই। তবু ওই বোধটাকে রেখো ঠাকুর, যে বোধ থেকে আমি প্রাণপণে প্রার্থনা করতে পারি, ওই ছোট্ট দেহ, ওই অসহায় আর্তি যেন আর কখনো কাউকে দিওনা ঠাকুর। আমার পলাশের রং পৌঁছে দাওনা, দাওনা ওখানে। সত্যিকারের শান্তি আসুক। 

জানিনা প্রার্থনা পৌঁছবে কিনা, তবু প্রার্থনা করি, প্রার্থনা করি সেই অমর  অক্ষয় শান্তির। বেদ  এর ভাষায় বলি, আমার বুদ্ধের ভাষায় বলি-
"Dear God
Thank you for this life, this wonderful life. Thank you for this life experience on this earth.
We as an earth family join together in this moment in eternity, from this space in the heart to pray together for peace. We pray for peaceful diplomacy among world leaders. We pray for unity among the religious and spiritual leaders. We pray for a rise in intelligence and compassion.
We pray that we relate to each other as souls and not just the physical body that we inhabit.
We pray for peace, love, unity and cooperation among all of us".

আর আমার ওই সর্ব শক্তিমান সূর্য কে বলি, আমাকে শক্তি দাও, সকল আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা দাও, মনের দৃঢ়তা দাও, হরণ করো আমার চঞ্চলতা। 

"Om, tejo-asi tejo mayi dhehi;
Om, viryam asi viryam mayi dhehi;
Om, balam asi balam mayi dhehi;
Om, ojo-asi ojo mayi dhehi;
Om, manyur-asi manyum mayi dhehi;
Om, saho-asi saho mayi dhehi;"

তুমি তেজ, আমাতে তেজ স্থাপন করো 
তুমি বীর, আমাতে বীরত্ব স্থাপন করো 
তুমি বল , আমাতে বল প্রদান করো 
......

আর বারবার বলি -
     "ॐ असतो मा सद्गमय ।,
तमसो मा ज्योतिर्गमय ।,
मृत्योर्मा अमृतं गमय ।,
ॐ शान्तिः शान्तिः शान्तिः ॥"

asato mā sad gamaya,
tamaso mā jyotir gamaya,
mṛtyor mā amṛtaṃ gamaya,
Om shanti~ shanti~ shanti hi~~

Lead me from falsehood to truth,
Lead me from darkness to light,
Lead me from death to the immortality
Om peace peace peace
আমাকে অসত্য থেকে সত্যের পথে আনো , 
আমাকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখাও 
আমাকে মৃত্যু থেকে অমরত্বের পথ দেখাও 
ওঁম শান্তি শান্তি শান্তি 










আলো

আজ দোল পূর্ণিমার আগের রাত। জ্যোৎস্নার আলোতে চারিদিক আক্ষরিক অর্থেই যেন ভেসে যাচ্ছে। শহরের কোলাহল এখানে পৌছোয়না। শুধু সবুজ সীমাহীন দিগন্ত নামনা জানা পাখির ডাকে চমকে চমকে উঠছে। আকাশ বাতাস জুড়ে এক অদ্ভুত মুগ্ধ স্তব্ধতা। এখুনি এক আলতো হাওয়া চারিদিক এলোমেলো করে চলে গেলো আর কানে কানে, প্রায় ফিসফিসিয়ে বলে গেল- কথা নয় কথা নয়। সাথে দিয়ে গেলো কোনো এক আধফোটা ফুলের আলতো সুবাস। কি যেন এক মন কেমন করা মন মাতানো গন্ধে আমার সমস্ত মন প্রাণ আচ্ছন্ন হয়ে রইলো। কি অপরাসীম, অবর্ণনীয় সৌন্দর্য্য। গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। ভালোলাগা যেন কান্না হয়ে ঝরে পরতে চাইছে। কি অপার্থিব শান্তি অথচ কি অসহনীয় বেদনায় সমস্ত মন কানায় কানায় ভরে উঠছে। 

আচ্ছা, সেই যে আজথেকে কতগুলো বছর আগে, এক বাবা তার আদরের ছোট্ট কণা কে আকাশ দেখা শিখিয়েছিলো, শিখিয়েছিলো, কালপুরুষ কেমন করে দাঁড়িয়ে আছে, পায়ের কাছে ওই যে দেখছো ওটা কিন্তু ওর শিকারী কুকুর। আর ওই যে দেখা যায় জিজ্ঞাসা চিহ্নের মতো ওটা হচ্ছে সপ্তর্ষি মন্ডল। নাম গুলো। ...নাম গুলো কেন মনে পড়ছেনা বাবা।....আমাকে আর যে কেউ ওই সাত টা তারার নাম মনে করিয়ে দেবার কেউ নেই গো....আজ আবার বড্ডো ইচ্ছে করছে, তোমার কাছে, ছাদের ওপর মাদুর পেতে বসে গল্প শুনি, তুমি আমায় নাম গুলো শিখিয়ে দিও...আবার বার বার। জানো বাবা, তোমার কোলের কাছে শুয়ে, মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে থাকার মতো নিরাপদ নিশ্চিন্তের আশ্রয় আর কোথাও নেই, নেই কোনোখানে। এই যে আজকের চরাচর, ওই যে অপার সৌন্দর্য্যের মুগ্ধতায় নিজেকে মৌন করে রেকেছে। ওই মুগ্ধতা দেখার দৃষ্টি তো তুমি ই দিয়েছো। তোমার সেই বোধ ই তো আমায় ফিরিয়ে দেয় পরম শান্তির বোধিকে। শোক করা তুমি ঘৃণা করো তাই শোক আমি করিনা। এ আমার শোক নয় হয়তো এ আমার তোমাকে আবার পাবার পরম আকুলতা। 

সৌন্দর্য্যই তো সত্যের বোধকে আরো পরিষ্কার করে দেখায়, তাই আজ এই অপার সৌন্দর্য্যের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার প্রশ্ন করে চলেছি ' কে আমি? কি আমি ? কেন আমি ?  আর প্রাণপণে প্রার্থণা করছি আমাকে পথ দাও , দিশা দাও। আলো দাও। সুর দাও। বাণী দাও। তুমি কি সত্যি ই তারা হয়ে গেছো বাবা, পাইনা কেন তোমায়।....যদি তাই হও , তবে তুমি শুধু হয়ো দ্রুবতারা।  জীবনের শেষ দিন পর্য্যন্ত পৌঁছে দিও , ঠিক সেই প্রথম দিনের মতন করে। আজ বোলোনা আমায় কান্না মুছতে, বোলোনা আমায় না কাঁদতে, এই চোখের জলে ধুয়ে যাক আমার সব না পাওয়ার বেদনা, সব পাওয়ার আনন্দ। কান্না তো পরাজয় নয়, কান্না গ্লানি নয়, আমি জানি কান্না বড় পবিত্র। ওই চোখের জলের ভেতর দিয়ে আমি যেন আরো আরো বেশি করে গ্রহণ করতে পারলাম এই স্তব্ধ নীরব সৌন্দর্য্যকে। 

আর আমার চাঁদ, আমার বড্ডো নিজের। আমি জানি সে আমাকে কখনো ফেরায়না।  সে শান্ত, স্থির , পরম ধৈর্য্যময়। তার নীরব স্নিগ্ধ আলো আদর হয়ে আমাকে ছুঁয়ে থাকুক আর আমার দুচোখের পাতায় নেমে আসুক এই গভীর রাতের মুগ্ধতা। 










Monday, 26 February 2018

চিরকালীন

যে লেখে সে কিন্তু শুধু লেখার আনন্দেই লিখে চলে, বোদ্ধার সমালোচনা কাম্য তো বটেই, কিন্তু তাই একমাত্র অনুপ্রেরণা নয়। পাঠকের প্রশংসা উৎসাহ দিতে অবশ্যই পারে, কিন্তু উৎস বোধয় নয়। তবু পাঠকের ভালোলাগা যে এই ক্ষুদ্র লেখিকার ভালোলাগা একেবারেই আনলোনা, এ কথা বলার মতো স্পর্ধা আমার নেই। অহঙ্কার তো নয় ই। বরং এই লেখার অর্ঘ্য কোথাও কোনোখানে কারোর কারোর মনের কোণে স্থান পেয়েছে ভেবে এক সুন্দর স্নিগ্ধতায় আমার এই নিস্তব্ধ জ্যোৎস্না ভেজা রাতকে আরও মুগ্ধ করলো বৈকি।আমার পরম মঙ্গলময় এর কাছে শুধু এইটুকু প্রার্থনা রইলো, সম্ভ্রম আর শ্রদ্ধা দিয়ে যেপথ রচনা হয়েছে, তাতে শুধু নিছক ক্ষনিকের ভালোলাগার কালিমা যেন না লাগে। আর বীণাপাণির চরণ ছুঁয়ে আমি যেন এইভাবে সমস্ত বাহ্যিক ক্ষণস্থায়ী মোহকে জয় করে, নিজে স্থির অচঞ্চল থেকে সুন্দরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। 


Friday, 23 February 2018

পাওনা

প্রতিটা দিন এতো ঘটনাবহুল?

অবাক হয়ে তাকালাম আমি...

আমার সেই ভেতরের আমিটা অচঞ্চল।..

মুচকি হাসলো।..বললো ওরে মেয়ে তোর জানার এখন হয়েছে টা কি?

সকাল থেকে বিকেল , বিকেল থেকে সেই রাত

প্রতিটা দিন প্রতিটা মুহূর্ত এতো আলাদা কি করে হয়, হয় এতো তফাৎ

এই আছি তো এই নেই

এই এতো কিছু সব আমার পাওনাই?

বুকের মাঝে মেঘের চমক,

ঝরনা দুচোখ দিয়ে

এই মেয়ে তোর হয়েছে টা কি?

নেরে দুহাত ভোরে।...

মুখ ফুটে যে মেয়েটা বলেনি কোনো কিছুই

চাওয়া সে তো দূরের অনেক।..ভাবনা দূরাতীত 

আজ আঙিনায় অজাচিতর আহ্বানে সে কিছু শঙ্কিত

স্তম্ভিত

একটু পেলেই অনেক পাওয়া

শান্তি তারই মাঝে

একটু পেলেই খুশির চমক চোখ ভোরে যায় জলে

বুকের মাঝে তুফান ওঠে

তার একটু বেশি হলে,

বড্ডো বেশি ভীতুগো সে যে

যদি সব হারাতে হয়, তার থেকে তাকে দিওনা এসব

যা কিছু  তার নয়......

তার চাইতে রেখো তাকে চির সাধারণ করে

শুধু আসতে দিও ভোরের আলো। ....ছোট্ট তার ঘরে

ভিজিয়ে দিও চাঁদের আদরে। ..ওই জ্যোৎস্না মাখা রাত

ক্ষণিক সুখ এর নেই দরকার

শুধু থাকুক হাতে হাত। ...












শুধু বাঁচুক ভালোবেসে

ওরে মন 

তোর হয়েছে টা কি?

খুঁজছিস কিছু?

হারালি নাকি? 

চাইছিলিস বুঝি খুঁজতে কিছু ?...

হারিয়ে ফেললি নাকি?

আকাশের সন্ধান দিতে চেয়েছিলিস? 

সে কি আকাশ ছেড়ে আবার মাটির গহ্বর এ প্রবেশ করছে?

করুকনা।...তোর তাতে কি?

তোর যে আকাশ।....রইলো তোর ই 

ওই যে পাহাড় মৌন মুখর 

সেওতো তোর ই 

ওই যে সকাল , রাতের তারা 

চাঁদনী রাতে বাক্যহারা 

ওই যে হাওয়া পাগলপারা 

আকুল করা ওই দেখা যায় কেমন পলাশ 

লাল এ লাল হওয়া ওই যে আকাশ 

সব ই তোর ই 

কান্না কেন জমছে ওরে বুকের মাঝে 

তোর যা আছে সব ই আছে তোর ই কাছে।...

আর যা কিছু চঞ্চলতায় মুখ লুকিয়ে 

পালিয়ে বেড়ায়।...যাকনা ওরা পাখনা মেলুক 

ওদের মতন....

ছড়িয়ে আছে হাজার choice কুড়িয়ে নিক যে যার মতন 


নিকনা তুলে মণিমানিক রত্নাকরের গর্ভ হতে 

কেউ তো শুধুই ঝিনুক কুড়াক 

ঘর সাজাক পাথরেতে 

কেউ বা শুধুই তুলবে ছবি 

ভুলবেনা সে প্রকৃতিতে 

তোর মতন কেউ পাগলও হোক 

বাক্যহারাক সুন্দরেতে 

যে যার মতোই থাকুক বেঁচে 

বাঁচুক শুধুই ভালোবেসে।.

শুধু বাঁচুক ভালোবেসে। ....









Thursday, 22 February 2018

ভাগ্য

সেই যে, মনে  পরে ? কাল রাতে তুমি শুধিয়েছিলে নদীকে

কে বেশি ভাগ্যবান। .... নদী  না সমুদ্র। ...

আমি বললাম অবশ্যই নদী। ...সাগরে যাবার সৌভাগ্য যে হয়েছে তার

ধীর গম্ভীর শান্ত সমুদ্র স্থির কিন্তু গভীর। ...

তার জলরাশির উচ্ছাস বাইরে বেরিয়ে আসেনা,

সীমাহীনাকে বাঁধার জন্যে ওই অসীম সীমা র ই দরকার হয়তো।...

সাগরের কপাল কিন্তু মন্দ বড়

কপালে জুটেছে এক পাগলিনী নদী...অকাজের কাজী।....

মন তার ছুতে চায় আকাশ।...

তিরতির করে বয়ে আসা পাথরে প্রান্তরে সে ফোটাতে চায় বন্য ফুল

বর্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়তে চায় ঝর্ণার আলিঙ্গনে

শীতে হতে চায় মৌন্য মুখর

বসন্তে ঊষর মরুভূমিতে ও দিতে চায় মরুদ্যানের সুখ

আকাশ বাতাস যখন কানাকানি করে

বলে ভালোবাসি ভালোবাসি।....

মন তার ছুটে চলে 'বেহাগ ' এর সুরে। ...

দূর থেকে দূরে।.....ফেলে আসা প্রান্তরে

আসন্ন গ্রীষ্মের তাপদাহ থেকে বাঁচাতে পেতে দেয় বুক

কি বা তার আছে কি বা সে পারে দিতে,

তবু এক বুক জলরাশি নিয়ে, একরাশ ভালোবাসা নিয়ে

এগিয়ে চলেছে।....

চরৈবেতি মন্ত্রে যে দীক্ষা প্রাপ্তি হয়েছে।....

থেমে গেলে তো চলবেনা।....

ওই আসন্ন সন্ধ্যার পবিত্র আলোতে রয়েছে যে ঊষার আভাস

মন প্রাণ দিয়ে সেই অনির্বান শিখায় নিজেকে ধরে রাখে

আর সুরের ছন্দে ছন্দে

এগিয়ে চলে আপন দিশায়

পথ যাই হোকনা কেন

যাত্রা যেন সদা মঙ্গলময় হয়

সেখানে কোনো ছন্দপতন যেন না ঘটে.....

সময় বড় ক্ষণস্থায়ী।...না বলা কত কথা থেকে যায়....অধরাই।....

তবু মুখ ফুটে বলতে ইচ্ছে করে। .....আমি ভাগ্যবতী সেই নদী

যে আভাস পেয়েছে ওই অনির্বাপিত জ্যোতির। ..

পেয়েছি রত্নাকরের অসীম রত্ন ভান্ডারের সন্ধান

আর সবের মাঝে খোঁজ পেয়েছি আমার পরম মঙ্গলময়ের। ..

যার কাছে আমরা সবাই সবাই বড় ভাগ্যবান

তুমি আমি আমরা সবাই।......





Tuesday, 6 February 2018

বোধ

ছোট থেকে খুব স্ট্রং কিছু কিছু principle নিয়ে বড় হয়ে ইদানিং কালে একদম নীতিবাগীশ হয়ে গেছিলাম। খারাপ ভালো ঠিক ভুল এর এতো রকম বাধা নিষেধ নিজেই সৃষ্টি করেছিলাম যে জীবন হটাৎ একদম একদিন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো, "রে মূর্খ, এতদিন অনেক খারাপ ভালোর বেড়াজালে নিজেকে বন্দী করে রেখেছিস, এবারে দেখ তো কেমন লাগে"। সব কিছু যে ঠিক ঠাক নিজেও বুঝে উঠতে পেরেছি বা বুঝছি তা নয়। তবে ধীরে ধীরে একটা কুয়াশা সরছে বোধয়। 

দিনে দিনে, আমার নিজের কাছেই, নিজের এতো দিনের সযত্নে লালিত ধ্যান ধারণা একটু আহত হলো বৈকি, কিন্তু আঘাতের মাহাত্ম ক্ষতের বেদনার থেকে এতটাই বেশি ভাবে অনুভূত হলো যে তার উপলব্ধি মনকে করলো স্থির, করলো শান্ত। বুঝলাম অনেক সময় আপাত দৃষ্টিতে ঘটে যাওয়া অনেক কিছুর বিশ্লেষণ আমরা ভুল ভাবে করি, যে মুহূর্তে আমরা নিজেরা তার ভেতরে এসে পড়ি , সত্যিকারের বোধ তখন আসে। তার আগে যা কিছু হয় তার মধ্যে আসল বোধের থেকে তার ভান টাই অনেক বেশি থাকে। 

আজ আবার বড় বেশি করে আমাদের গঙ্গার ধারের সেই ব্ট গাছ দুটোর কথা মনে পড়ছে। আমার কাছে এই মুহূর্তে তার কোনো ছবি নেই, কিন্তু আমার মনের আঙিনায় বড় সুস্পষ্ট তা। 
দুটো গাছ কে জড়িয়ে আছে আলাদা আলাদা ভাবে অন্য আরো দুটো গাছ, আর ও অনেক লতাপাতা। আর ওই দুটো গাছ নিজেদেরকে জড়িয়ে আছে, শুনেছি বহু বছর ধরে এভাবেই একে অপরকে এরা রক্ষা করে আসছে, কত ঝড় জল, এমনকি ৭৮ এর যে বন্যা হয়েছিল, সেই বন্যাও এদের কোনো ক্ষতি নাকি করতে পারেনি। আর সেটা সম্ভব হয়েছে এদের ওই অবিশ্ছেদ্য ভাবে একে অপরের পাশে থাকার জন্যেই। দিন পেরিয়ে মাস পেরিয়ে বছর হয়েছে, মাঝখানে কিছুটা দূরত্ব রেখে বেড়ে ওঠা যৌবনের দুই গাছ পরিণত হয়েছে মহীরুহে। মাঝের দূরত্ব সেভাবেই বজায় থেকেছে। ভেতরে ভেতরে গভীর হয়েছে শিকড়, ডাল পালা গ্যাছে মিশে অথচ আপন স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে। মাটির ওপরের দূরত্ব অপরিবর্তিত, অনিশ্চল থেকে শীতের রুক্ষতায় একসাথে ঝরেছে পাতা, বসন্তে উঠেছে কচিপাতায় সেজে। বৃষ্টিধারায় হয়েছে সিক্ত, চাঁদনী রাতে হয়েছে শিহরিত। আর সযত্নে বেড়ে উঠতে দিয়েছে ওদের নির্ভরতায় থাকা পাশের লতা কে। ফলে, ফুলে রঙে গন্ধে ভরে উঠেছে এদেরকে ঘিরে বেড়ে ওঠা লতা, গুল্ম রাজী। আকাশ বাতাস মুখরিত হয়েছে মৌমাছির গুঞ্জনে, উজ্জ্বল হয়েছে প্রজাপতির পাখায় আর এই দুই বৃক্ষরাজি তৃষ্ণার্তের মতো গণ্ডূষ ভরে পান করেছে চারপাশের রূপ, রং, গন্ধ। পার্থিব যা কিছু থেকে পেয়েছে অপার্থিব শান্তি। হয়েছে সমৃদ্ধ। ছুঁয়েছে আকাশ। আরো আরো উঁচুতে উঠেছে,  সমস্ত বন্ধন কে বড় ভালোবেসে উঠেছে সকল বন্ধনের উর্দ্ধে। 

আমাদের ওখানকার গ্রামের মানুষ এদের কে পুজো করে, কোনো শিলা রাখেনি, শুধুই ওই দুইজন ব্টবৃক্ষ কে সমীহ করে নিজেদের সমস্ত শ্রদ্ধার্ঘ্য এখানে এসে অর্পণ করে। ছোট থেকে বহুবার ওখানে গেছি, দেখেছি, গল্প শুনেছি কিন্তু কোনোদিন ভাবিনি কিছুই। আজ প্রায় ১৫০০ km দূরে বসে এক বহু পরিচিত ঘটনা যেন কি ভীষণ মহান হয়ে আমার নিজের কাছেই ধরা পড়লো। সেদিন কাছে থেকে যা ছিল নিছক এ একটা প্রাকৃতিক ঘটনা আজ দূরে থেকে তা হয়ে উঠলো বহুল অর্থবহ। এখনকার এই আবীর মাখানো গোধূলী আকাশের অপার্থিব সৌন্দর্যের মাঝে হটাৎ যেন সর্বাঙ্গে কাঁটা দিয়ে উঠলো, চোখ বন্ধ করে শুনতে পেলাম আমার গঙ্গার ঘাটের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, চারপাশের বর্তমান সমস্ত কোলাহল যেন স্তব্ধ বিমুগ্ধ হয়ে আমার ভেতরে ঘটে যাওয়া এক আলোড়ন কে স্থিত হবার সময় দিলো। পাশের পথচলতি গাড়ির হর্ন কিছুক্ষনের জন্যে হয়তো বা আমাকে উপরে আনতে পারলো বর্তমানে, কিন্তু চেনা গঙ্গার ঘাটে ফিরে যেতে দেরি হলোনা আমার। 

চোখ বন্ধ করে শুনতে পেলাম পাতায় পাতায় ঘষা লাগার ঝিরঝিরানি শব্দ। সূর্য হয়তো বা ওখানে এতক্ষনে আজকের মতো গঙ্গাবক্ষে আপনার রক্তিম আভা রেখে নিয়েছেন বিদায়। ঠিক ভুল ভালো খারাপ এই সব কিছুকে জয় করে এইসব কিছুর থেকে অনেক দূরে ওই বটবৃক্ষকুঞ্জ আপন মায়ায় আপন মহিমায় আপন সৌন্দর্য্যে বিভোর হয়ে সাক্ষী হয়ে চলেছে আজকের সূর্যাস্তের। ঠিক যেভাবে সে সাক্ষী থেকেছে ফেলে আসা কালের, ঠিক যেভাবে সে সাক্ষী হবে আগামীর অভিমানের। হয়তো কিছু আগেই সামনের শিব মন্দিরের পুরোহিত মশাই দিনান্তের শেষ পুজো অর্পণ করে গ্যাছেন। দূরে কোনো মাছ ধরার নৌকা কি নোঙর করলো, হবেও বা। সারাদিন পরে তীরে ভেরার স্বস্তি বোধয় গঙ্গা পাড়ের বাতাস কে আরো একটু স্থির করলো। হাত তুলে প্রণাম করলো ওই মহিরুহ কুঞ্জ কে। আর আমার গঙ্গাপাড়ের সেই চেনা স্বস্তি এক অচেনা শান্তি দিয়ে আমার সমস্ত মনটাকে যেন পরম আদরে আলিঙ্গন করে রইলো। কি পবিত্র, কি সুন্দর, কি স্থির আর কি গভীর সেই উপলব্ধি। সমস্ত শরীর মন যেন ঝিমঝিম করে উঠলো, বুকের ভেতরে জমে থাকা সেই দুপুর থেকে এক অব্যক্ত কান্না, অথচ এক অন্যরকম ভালোলাগা যেন একাত্ম হয়ে গেলো পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে বসে থাকা এক অচেনা, নাম না জানা লেখিকা এর বোধ এর সাথে। স্থান, কাল, দেশ, পাত্র এর সমস্ত বাধা পেরিয়ে আমার বোধ, আমার উপলব্ধি আমার ই  চোখের সামনে উঠলে ভেসে। বারবার আবার করলাম সৌন্দর্য্যের স্তব। আবারো মনে পরে গেলো আমার সেই ভীষণ প্রিয় লাইন "আমার চেতনার রঙে , পান্না হলো সবুজ / চুনী উঠলো রাঙা হয়ে/ আমি চোখ মেললাম আকাশে/ জ্বলে উঠলো আলো", মনে পড়লো " darkness is the veiled bride / silently waiting for the errant light to return to her bosom/ the burden of self is lightened when I laugh at myself".

এ লেখা আমার কাছে ছিল নতুন , আগে কখনো পড়িনি , কিন্তু যে অমৃতের গুনে এ আমি পেলাম তার গভীরতা আমার মনের অন্তস্থল পর্যন্ত করলো স্নিগ্ধ। সেখানে চাওয়া পাওয়ার ঝঞ্ঝা নেই, নেই প্রত্যাশার কোলাহল, আশা সেখানে জীবনকে শুধু করে চলে সমৃদ্ধ। আর সেই পবিত্রতা ভালো মন্দ এর সমস্ত দ্বন্ধকে নিঃশেষ করে দিয়ে, সব গ্লানি মুছে দিয়ে আগুনের মতো ওঠে জ্বলে। এ উপলব্ধি ভাষায় প্রকাশের মতো শব্দাবলী আমার শব্দভাণ্ডারে অন্তত নেই। তবে নিজের ভালোলাগার আংশিক উৎস কে এখানে ঢেলে দেবার লোভ সামলাতে পারছিনা ---

After a while – Veronica A. Shoffstall

After a while you learn
the subtle difference between
holding a hand and chaining a soul
and you learn
that love doesn’t mean leaning
and company doesn’t always mean security.
And you begin to learn
that kisses aren’t contracts
and presents aren’t promises
and you begin to accept your defeats
with your head up and your eyes ahead
with the grace of woman, not the grief of a child
and you learn
to build all your roads on today
because tomorrow’s ground is
too uncertain for plans
and futures have a way of falling down
in mid-flight.
After a while you learn
that even sunshine burns
if you get too much
so you plant your own garden
and decorate your own soul
instead of waiting for someone
to bring you flowers.
And you learn that you really can endure
you really are strong
you really do have worth
and you learn
and you learn
with every goodbye, you learn…

GOd Help them who help themselves . ভগবান তাকেই সাহায্য করে, যে নিজে নিজেকে সাহায্য করে

 আমাদের জীবনে অনেক রকম phase আসে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রত্যেক মুহূর্তের নিজস্ব কিছু কারণ থাকে, কিছু purpose যা অনেক পরে আমরা বুঝতে পারি। কখ...