Sunday, 18 March 2018

নিস্তব্ধতা

নিস্তব্ধতা যখন খুব গভীর হয়, তখন ভীষণ অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে। আজ সারাদিন বাতাস ছিল একেবারে স্থির। নিস্তব্ধ। কি যেন একটা ভারে এই মন হয়েছিল মৌন। খুঁজছিলো এক স্থির, নিরবিচ্ছিন্ন ভালোলাগা। সন্ধের আরতি তাকে পূর্ণতা দিলো। 
যখন পৌঁছলাম কালীবাড়িতে, সূর্য্য তখন সবে অস্ত গেছে। আকাশে তার সোনার বীনার রেশ তখনো মিলিয়ে যায়নি। শিব মন্দিরে আরতি শুরু হয়ে গ্যাছে তখন। সেই শাঁখ ঘন্টা ধ্বনির মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামলো। মাকে আজ ও বড় সুন্দর করে সাজানো ছিল। ফুলে ফুলে ভোরে ছিল মা এর সিংহাসন। পরনের শাড়ি ছিল আজ গাঢ় বেগুনি। ধুপ, ধুনো, ফুল, বেলপাতা, একটানা ঘণ্টার শব্দ আর ওই স্নেহদৃষ্টি। বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠেছিল। বুঝতে পারিনি, ওই জায়গাটা আমার এতটা নিজের। আস্তে আস্তে কখন দেখলাম, সন্ধ্যে নেমেছে। বুকের ভেতর লক্ষ হাতুড়ির শব্দ আর সামনে ওই নির্মল স্মিত মুখ। ধীরে ধীরে সব কোলাহল কোথায় মিলিয়ে গেল। চোখের সামনে রইলো শুধু ওই প্রদীপের ওঠানামা। সন্ধ্যা আরতির একটানা সুর। চারিদিকের কোলাহল, শব্দ, কথা , কোথায় যেন সব ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল, শুধু মনে হলো ওই সামনের মা আর মা এর স্নেহদৃষ্টি যেন আমাকে সিক্ত করে দিচ্ছে। কালকে থেকে বড় নদীর কাছে যেতে ইচ্ছে করছিলো, শান্ত বাতাস, একটু স্থির শান্তি। আজ যেন ওই দৃষ্টির মধ্যে দিয়ে সেই শান্ত সমীরণ আমাকে ছুঁয়ে গেল। আপনা থেকে হাত জড়ো হয়ে গেল, ক্ষুদ্র এ মন। প্রার্থনা ছাড়া আর কিছু যে দেবার নেই। শুধু সেই অন্তরের সমস্ত শুভ ইচ্ছা কে এক করে এ মন বলে উঠলো, এই শান্ত মলয় যেন সবার কাছে পৌঁছে যায়। যে শান্তির স্পর্শে আমার অন্তরাত্মাকে আমি বারবার জাগিয়ে রাখি, সেই শান্তি সবার সব ঘরের কোণ কে যেন ছুঁয়ে যেতে পারে।
বাড়ি ফিরে এলাম। যে প্রদীপ আজ এখানে জ্বলে উঠলো, সেই প্রদীপের সাধ্য খুব সামান্য কিন্তু বড় সাধ তার সমস্ত অন্ধকার কে দূর করে আলো জ্বালানোর। সে আলো আমার ঝড়ের রাতেও নিভবেনা, বৃষ্টির শব্দ তাকে রোমাঞ্চিত করতে পারে, কিন্তু নিভিয়ে দেবেনা। সেই আলো যাকনা , যাকনা জ্বলে। আর ওই বাতাস প্রার্থনা হয়ে বয়ে যাক। দুচোখে দিক ভালোলাগার হাত বুলিয়ে। 

Saturday, 17 March 2018

জল তোকে ছুঁয়ে আসি

চল জল তোকে ছুঁয়ে আসি। 
পাহাড়ের রুক্ষতা লাগছেনা আর ভালো,
সঙ্গে নিয়ে চল তুই আমায় ,
যেখানে শুধু আলো আর আলো।
যেখানে চাঁপার গন্ধে আকুল দুপুর বেলা -
আলোছায়া রোদে বিছানাতে শুয়ে,
অগোছালো ভাবে উড়বে ডায়েরি র পাতা।
জীবন তখন মোটেও শক্ত নয়,
সবের মাঝে জড়িয়ে যে রূপকথা।
সেইখানে চল নিয়ে তুই আমায়,
শুধু বসে থাকি তোর পাশটিতে।
ছলাক ছলাক করে নাহয় বলিস কিছু কথা,
রিনিঝিনি নুপুর বাজাস লহরীতে।
তবু আজ তুই নিয়ে চল সেখানেতে ,
তোর ওই জলে পা দিয়ে আমি বসি।
আর কিছুনয় , আমি শুধু চাই
ও নদী তোর জলটাকে ছুঁতে ,
ওতেই আমি হবো বড়ো খুশি।।
বড় বেশি ব্যস্ত সবকিছু, সবাই।
চারিদিকে শুধু ব্যস্ত মানুষজন।
কিছুক্ষন নাহয় চল না, না হয় নাই বা দৌড়লাম
পাশাপাশি থাকি বসি কিছুক্ষন।
বাতাস তখন ওড়না ওরাক,
গোধূলির মৃদু হাসি।
দুচোখ ভোরে চল দেখে আসি আমি
কানে কানে নাহয় বললি ই ভালোবাসি।
আকাশ নাহয় মাতাল হলোই
একরাশ রজনীগন্ধা,
হাতে নিয়ে আসিস, চারিদিক ভাসি
আমার অভিমানী অপরাজিতা।
কাঞ্চন ফুলে গাছ গেছে ছেয়ে,
মাধবী লুটায় ভুঁয়ে।
আর কিছুনয় , আমি শুধু চাই
ও নদী তোকে,
আসতে তোকে ছুঁয়ে।











Friday, 16 March 2018

ভালো থাকা।

তোমার মনখারাপের ছোঁয়ায়
দূরে সরিয়ে রাখলাম আমার কান্না
তোমার রোদ্দুর আনতে আনতে
ভুলে গেলাম আমার মেঘে ভরা আকাশ

কান্না আমি আটকাতে চাইনা। 
কান্না আসুক দুচোখ ভোরে।
কালকের সারারাতের বৃষ্টির মতো ,
ভিজিয়ে দিক আমার তোমার সকল আবেগ।
ধুয়ে মুছে যাক সমস্ত যন্ত্রণা।
শুধু নির্মল একটা ভোর হোক তারপর
মেঘ নয় ,
রোদ ঝলমলে দিন চাই আমার।
আমাদের চেতনা যেখানে প্রাণবন্ত,
বোধ যেখানে সঠিক।
আর ঠিক সেই বোধ , সেই চেতনা-
সঙ্গে নিয়েই চলো। .এগিয়ে চলি
সেই হোক আমাদের সাধনা।। 
হয়তো আজ বুঝছো ভুল।
অভিমানে বুকের ওপর হয়তো বা উঠছে ঢেউ.
সেতো আমার গলার কাছে জমা হয়ে আছে কান্না।
ঠোঁটের কাছে না বলা কত কথা।
তবু জানি, একদিন বুঝবে তুমি এর মানে।
জানোতো চলার পথে পথ চলা তবুও যায় একসাথে ,
কিন্তু সাধনার ওই আসন ভাগ করে নেওয়া বড় সহজ কথা নয়
সেই পথে চেয়েছি তোমায়
দেখো, চিনে নিতে ভুল কোরোনা যেন ,
চিনো তার ঠিক পরিচয়।

আর আমি
তোমার ভালোবাসা কে বদলে দিতে চাই তোমার ভালো থাকায়। 


Thursday, 15 March 2018

মায়া

সকালবেলা যখন মেট্রো তে আসি, খুব সুন্দর নরম একটা রোদ তখন আমার এই প্রিয় শহর টাকে জড়িয়ে রাখে। প্রিয় বললাম এই কারণেই, কারণ এই জায়গাটা কে খারাপ লাগার মতো সেরকম কোনো কারণ আমি পাইনি। বরং প্রায় গত ৭ বছর ধরে এই শহর টা আমাকে দুহাত ভোরে এনে দিয়েছে অসংখ্য opportunity . আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এই শহর এ এসে। predoctoral , doctoral , postdoctoral.....premarital থেকে marital ,  বন্ধুত্ব থেকে একসাথে ঘরবাঁধা, আমাদের সংসার, স্বপ্ন দিয়ে সাজানো প্রতিটা কোণ। আঙুলে আঙ্গুল ছোঁয়া থেকে হাত ধরা, হাতে হাত রাখা, পাশে থাকার অঙ্গীকার। মুখে শুধু বলা নয়, লোক দেখানো ফেসবুক এ শুধু গলা জড়িয়ে ছবি দেওয়া নয়, সত্যি হাত না ছাড়া। সংসার অনলে চারিদিক যদি পুড়েও যায়, বারংবার যদি স্বপ্ন আহত হয় ও, তবুও আবার স্বপ্ন দেখা, স্বপ্নের বীজ বোনা, তাতে জল দেওয়া, প্রাণ দেওয়া, আর ওই আগুন থেকে সযত্নে রক্ষা করে আস্তে আস্তে বড় করে তোলা ভালোবাসার চারাগাছ। এও এক সাধনা। যে করে শুধু সেই জানে এ সাধনের ত্যাগ, তিতিক্ষা, গভীরতা। 

আর এই সাধনাতে আমাকে অনেকের সাথে, অনেক কিছুর সাথে, সাহায্য করেছে, আমার এই শহর টাও। কত কিছু যে শিখিয়েছে। সব থেকে বেশি করে বোধয় এই শহর টাতে আসার পরে আমি নিজেকে চিনতে পেরেছি। অস্মভব আত্মসম্মান বোধ আর আত্মবিশ্বাস, এই শহর টাই দিয়েছে আমায়। ফিরে পেয়েছি নিজেকে, বুঝতে পেরেছি নিজেকে, অন্যকে। দেখেছি চড়া makeup এর নিচে লুকিয়ে থাকা কদর্য্যতা। আবার তার ই পাশে খুঁজে পেয়েছি শিশুর সারল্য। বুঝেছি, আমাদের চারপাশে প্রতিদিন ঘটে যায় এমন অসংখ্য ঘটনা, তার মধ্যে মন কে ক্লেদাক্ত করে দেবার মতো ঘটনাও যেমন আছে, তেমন ই মন কে পবিত্র করে দেবার মতো অনেক কিছুই ছড়িয়ে আছে। কোনটা কুড়িয়ে নেবো আর কোনটার দিকে ফিরেও তাকাবোনা, সেটা সম্পূর্ণ আমাদের ওপর নির্ভর করে।

আজকের সকাল টা অন্যদিনের মতো আনন্দের সাথে শুরু করতে আমি পারিনি, কেমন এক মনখারাপ মেশানো সকাল ছিল আজকের। যত দিন এগিয়ে আসছে এই জায়গাটা ছেড়ে চলে যাবার, ততো বেশি করেই যেন এই জায়গাটা আমাকে মায়ায় জড়াচ্ছে। কি যে পোড়া মন একটা আমার। কোনো কিছু ছেড়ে চলে যেতে বড্ডো মনখারাপ হয়। যখন স্কুল এ পড়তাম, মনে আছে নতুন ক্লাস এ যখন উঠতাম, নতুন বই এর আনন্দের সাথে সাথে পুরোনো বই গুলোর জন্যে খুব মনকেমন করতো। খুব যত্ন করে ভালো করে সেগুলোকে আবার রেখে দিতাম। অর্পিতা বলে আমার এক জন পাড়াতুতো বোন ছিল, টুকটুক করে এসে ও সেই বই গুলো নিয়ে যেত। 

সেরকম ই হয়তো, আমার এই শহর , কাগজফুলে মোড়া বসন্তের এই সময়, যেন বারবার আমাকে এখান থেকে চলে যাবার এক মনখারাপ এ করে তুলছে কর্মবিমুখ, ভুলিয়ে দিচ্ছে আমার সমস্ত বাস্তববোধ কে। শুধুই যেন ওই সৌন্দর্য্যে বিভোর হয়ে যেতে ইচ্ছে করছে। এ ইচ্ছে অলীক। জীবিকার প্রয়োজনে জীবন কে কখনো বলতেই হয় "রোসো ভাই, আর কাব্য করোনাতো, ওসব রাখো, অবসর জীবনে বসে বসে কাব্য করে চলো মন খুলে।..এখন নয়। " সত্যি কি তাই....কাব্য কি অবসর জীবনে হয়, নাকি জীবনে অবসর কোনোদিন সেভাবে আসে, কাব্য কি মানুষ কে 'চলো ভাই একটু কাব্য করি.'..এই ভেবে করতে হয়। কবিতা কি আমাদের প্রতিদিনের সমস্ত কিছুর সঙ্গে জড়িয়ে নেই? ওই গাছের পাতায়, নরম রোদের আলতো সকালে, পাতা ঝরা শীত এ বা কচিপাতায় মোড়া বসন্তে, সব কিছুর মধ্যেই কি সেই ছন্দ, সুর, তাল, লয়  এ সময় থমকে যায়না? আমিতো বেশ শুনতে পাই, চাঁদনী রাতের শিহরণের ছন্দ, বিষণ্ণ বিকেলের সুর, এমনকি প্রচন্ড গরমের বিদগ্ধ দুপুরের ও আছে এক না বলা বাণী। শুনতে চেও কাছে গিয়ে, নরম সুরে জিজ্ঞাসা করে দেখো।..দেখবে বুক ভোরে আছে তার না বলা কথায়। কবিতার ছন্দের মতো, গানের সুরের মতো সারা দুপুর তোমার বয়ে যাবে, সেই কথার ঘোরে। শুধু একবার শুনতে চেও।

আমার শহর, নিজের হাতে গড়া আমাদের ছোট্ট সংসার আর শহরতলীর এই একান্ত আপনার আমার ছোট্ট ঘরের কোণ। শহর আর শহরতলী, এই দুয়ের ভালোবাসা, এই দুয়ের মায়া আমাকে এই কয়েকবছর যেন একদম আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো। সেই মায়াকাজল চোখে দিয়ে আমি সবকিছুর মধ্যে খুঁজে পেয়েছি অনন্ত ভালোলাগা। ঘুম ভেঙে উঠে চাঁদ দেখেছি। পাগলের মতো কাজ করেছি, পড়াশুনা করেছি, বিকেলে কফির কাপ এর চুমুকে জীবন্ত হয়ে উঠেছে আমার ক্যাফেটেরিয়ার নরম আদর, দুচোখ ভোরে দেখেছি ওই আবীর মাখানো গোধূলি, ধ্যানমগ্ন সন্ধ্যার সান্নিধ্য এ পেয়েছি নিশ্চিন্তের শান্তি, ব্যাডমিন্টনের racket এ শেষ করে দিয়েছি সমস্ত না পাওয়ার অভিমান, তারপর রাত্রির মুগ্ধতা দুচোখে জড়িয়ে নিয়ে পরের দিনের নতুন ভোরকে করে নিয়েছি আলিঙ্গন।

শনি রবিবার গুলোতে আমাকে রান্নার নেশাতে পায়, যদি আমি বলি, সেও এক অনবদ্য কবিতা, জানি, হাসবে তুমি। তা হাসো, কিন্তু ভাবোতো তেল, মশলা আর সমস্ত উপকরণ যদি সঠিক ভাবে ছন্দবদ্ধ না হয়, সুরে সুর যদি না মেলে, তাহলে কখনই কি আর সে সঠিক রান্না হতে পারে? সেই কবিতার সুরে আমাদের রসনা হয়েছে তৃপ্ত। দিল্লীর অলিতে গলিতে আছে অনেক ইতিহাস। সেই ইতিহাস কুড়োতে কুড়োতে কখন আমাদের ও অনেক ভালোলাগা ছড়িয়ে দিয়েছি ওই কালীবাড়ি প্রাঙ্গনে, মার্কেট ২ এর আড্ডায়, বাউলির সিঁড়িতে, c.p. এর রাস্তায়, নিজামের কাবাব এ, karims এর কোর্মা তে, পুরোনো দিল্লির ঘিঞ্জি গলি বা গুরগাওঁ এর মেকি আধুনিকতায়; জামা মসজিদের আজানে বা ইস্কন এর আরতিতে, বাংলা সাহেবের আতিথেয়তায় বা অক্ষরধামের চাকচিক্যে, গুরবায়ুর সিম্প্লিসিটিতে বা লোটাসে র শান্ত সৌন্দর্য্যে। মনে আছে যেদিন প্রথম ওখানে যাই, আরতির তালে তালে চোখ দিয়ে দরদর করে জল পরে চলেছিল, আর সেই প্রথম আমি কান্না লুকানোর কোনো চেষ্টা করিনি। কান্নার মধ্যে যে এতো তৃপ্তি আছে সেদিন বুঝেছিলাম।

এইভাবেই কখনও এই শহর আমার কাছে ওই pollution, রেপ বা চুরির শহর হয়ে উঠেতে পারেনি, খুব এক ভালোলাগার শহর হয়ে থেকেছে। জানি যেখানেই যাবো, যেখানেই থাকবো সেখানেও আবার খুঁজে পাবো আমার হাজার ভালোলাগা। নিশ্চই খুঁজে পাবো। তবু আমার আমি টাকে এই শহর টাই এনে দিয়েছিলো আমায়, আর সেই আমি টাই আবার কোনো এক মধ্যাহ্ণের, নিস্তব্ধতার মধ্যে, সন্ধের শান্তির মধ্যে দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল তাদের দুজনার ভালোবাসায় মোরা সুখী গৃহকোণে। ঝড়ের মধ্যে দিয়েও বারবার খুঁজে পেয়েছে সেই বন্ধুতার হাত। সেই সব কিছুকে, সেই অনুভবের জায়গা গুলোকে কি ছেড়ে যাচ্ছি? জানিনা।.কেন আর কিসের এই মনখারাপের নেশায় পেয়েছে আমায়। 









Wednesday, 14 March 2018

খেলিছ এ বিশ্বলয়ে

কখনো কখনো কোনো মানুষের চলে যাওয়া যেন আমাদের নিজেদের হৃৎপিণ্ডের কিছুটা নিংড়ে দিয়ে যায়। রক্তের সম্পর্ক মানেই শুধু আত্মার সম্পর্ক হয়না। বারেবারে তার প্রমাণ পেয়েছি। আজ আরো একবার বোধ করলাম তা। নাহলে, যাকে চিনিনা, জানিনা, তাঁর না থাকাটা এতো বেশি করে কেন বুকের মধ্যে ঢেউ তুলছে। জানিনা। শুধু বারবার চোখের ওপর একটা ছবি ভেসে উঠছে, wheel chair এ বসে থাকা একটা মুখ, না অসহায় নয়। অসম্ভব চিন্তাশীল অথচ শিশুর সারল্যে ভরা মহাজাগতিক বিষ্ময়ে বিস্মিত এক অসাধারণ মৌলিক আধার।

হয়তো সেই ছোট্ট বেলায় আমার মতোই, আমাদের আর পাঁচজনের মতোই মা বাবার হাত ধরে তারা গুনতে শিখেছিলেন, দেখতে, ভালোবাসতে শুরু করেছিলেন ওই আকাশের অসীমতাকে। তারপর আমাদের দৃষ্টিআকাশের অনেক অনেক ওপরে পৌঁছে গিয়ে তিনি ছুঁয়েছেন সেই মহাজাগতিক ছন্দময়তাকে, প্রত্যক্ষ করেছেন অনিন্দ্য সেই সুরের ইন্দ্রজালকে যার মধ্যে বাঁধা পরে আছে  কৃষ্ণগহ্বরের রহস্যময়তা, রাত্রির অপার সৌন্দর্য্য বা দিনের আনন্দমুখরতা।   

সেই সুর, সেই তাল, সেই ছন্দের মধ্যে কোথায় হারিয়ে গ্যাছে পার্থিব না পাওয়া। অপার্থিব সৌন্দর্য্যের সাথে বিলীন হয়ে হাসি মুখে গ্রহণ করেছেন সংসারের ঘাত, প্রতিঘাত। দুহাত ভোরে নিয়েছেন জীবনের সমস্ত দানকে। নিজের কষ্ট মুছিয়ে দেবার জন্যে নির্ভরতা ছিল কিন্তু অপেক্ষা বোধয় ছিলোনা অন্য কারোর। অন্য কোনো জীবনের আশায় থাকেননি, যা কিছু এবং সব কিছু এই জীবনেই। পূর্ণ প্রাণশক্তিতে ওই মহাপ্রাণের গভীর থেকে ধ্বনিত হয়েছে "আমি কৃতজ্ঞ।" দৃঢ়তার সাথে বলেছেন 
"We are each free to believe what we want and it is my view that the simplest explanation is there is no God. No one created the universe and no one directs our fate. This leads me to a profound realization. There is probably no heaven, and no afterlife either. We have this one life to appreciate the grand design of the universe, and for that, I am extremely grateful"
                                                                        ---"Stephen Hawking – There is no God. There is no Fate"

কেমন জানি মনে হচ্ছে বারবার ওই মহা মানবের গভীরে ধ্বনিত হয়েছে 
"....বিশ্ব ভরা প্রাণ/ তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান/ বিস্ময়ে তাই জাগে .... / .....জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান / বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান" 

কিছু আগেই কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এর এক অসাধারন লেখা পেলাম, যথার্থই বলেছেন উনি, 'হকিং একজন কবি '. সত্যি ই তিনি কবি, যে কবি চিরন্তন শাশ্বত সত্যের সাথে সমস্ত সৌন্দর্য্যকে এক করে দেখতে পেরেছেন। তিনি কবি। 
জানি ভগবানে বিশ্বাস তিনি রাখতেননা। তাইতো সমস্ত লিখন কে খন্ডন করে, নিজেই নিজের লেখনী সাজিয়েছেন। তবু ক্ষুদ্র এ মন, বড় ভাবতে ইচ্ছে করছে, বোধয় এই আজকের দিন থেকেই শুরু হলো এক অনন্য অন্বেষণ। বোধহয় ওই 'বিরাট শিশু' মহাকাল, 'কাল' (সময়) এর কান্ডারী কে সাথে নিয়ে মেতে উঠলেন আপন লীলা খেলায়। সৃষ্টির রহস্য সন্ধানে, স্রষ্টা তাঁর সমস্ত মাধুর্য্য মিশিয়ে দিচ্ছেন কি ওই সৃষ্টির পূজারী কে? আর তখন  কি 
"শূণ্যে মহা আকাশে / তুমি মগ্ন লীলা বিলাসে / ভাঙ্গিছ গড়িছ নীতি ক্ষণে ক্ষণে / নিরজনে প্রভু নিরজনে।".....







Thursday, 8 March 2018

শুকতারা

আমার ঘুম ভাঙে ঠিক ভোর ৫ টায়। শীত , গ্রীষ্ম , বর্ষা  সবসময় ৫ টা থেকে সারে ৫টার মধ্যে আমার সময় ঘড়ি আমায় জাগিয়ে দেয়। খুব আশ্চর্য্য লাগে, আমাদের ওখানকার থেকে ভোর এখানে হয় প্রায় ঘন্টা খানেক দেরিতে। অন্তত আধ ঘন্টা তো বটেই, তবুও ঠিক ওই সময় টাতে আমার পূর্বঅভ্যাস আমাকে তুলে দেয়। একেই কি বলে অভ্যেস? সেই ছোটবেলাতে, বাবা ওই সময় এ আমাকে যোগ ব্যায়াম , প্রাণায়াম অভ্যাস করাতো আর আমি শুধু ফাঁকি দিয়ে ঘুমোতাম। খুব ছোটবেলাতে অবশ্য বাড়ির মধ্যে আমিই সব থেকে দেরি করে ঘুম থেকে উঠতাম, রুগ্ন মেয়ে বলে আদুরেও কম ছিলামনা, অনেক আদরে , সাধ্য সাধনা করে ঘুম থেকে তোলা হতো আমায়। বড় হয়ে সেই আমি কিভাবে যেন ভোর কে খুব ভালোবেসে ফেললাম। সেই বিএসসি এম এসসি থেকে আরো বেশি করে। বাবার থেকে দূরে তখন। খুব মন কেমন করতো আর বাবা যা যা শেখাতে চাইতো আমায় আরো বেশি করে সেই জিনিস গুলো প্রতিদিনের অভ্যাসের মধ্যে এনে ফেলি। 
তারপর যখন আরো দূরে বা হয়তো বা আরো বেশি কাছের হয়ে গেলাম বাবার, জানিনা ঠিক, তবে ঠিক তখন থেকেই সূর্য্যও যেন বেশি করে আমার কাছে চলে এলো। মনে হতো আমাকে জেগে যেতে হবে, ওই সূর্যোদয় এর সাক্ষী হতে হবে, সাক্ষী হতে হবে ওই বিদায়ী ক্ষণের। আর তখন থেকেই কিভাবে যেন আমার প্রতিটা দিন, দিনের প্রতিটা মুহূর্ত আমার কাছে এক অন্যভাবে ধরা পড়লো। কত আনন্দ লুকিয়ে আছে এই এক একটা মুহূর্তের মধ্যে,কত ভালোলাগা, হয়তো বা অনেক খারাপ লাগাও , কিছু আদর হয়তো কিছু অনাদর তবুও সব সবকিছু খুব সুন্দর। একে অন্যের থেকে আলাদা, অভিনব অনুভব এ জড়ানো।  

আজও ঠিক সেভাবেই ঘুম ভাঙ্গে। যান্ত্রিক অ্যালার্ম এর দরকার পড়েনি , এমনি ই ঘুম ভাঙ্গে, চোখ খুলতেই মুখের ওপর উছলে উঠলো একরাশ আলো। ভোর তো তখন ও হয়নি, ওমা , জানালার দিকে তাকাতেই দেখি, একদম আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসছে শেষ রাতের সুধাকর। সাথে, ঠিক পাশেই আছে শুকতারা। কি অসম্ভব সুন্দর সে মুহূর্ত। চোখ ফেরানো যাচ্ছিলোনা যেন। কি অনুপম তার রূপ। কিছুদিন আগেই পূর্ণিমা ছিল, তাই ভরা যৌবনের সমস্ত মাধুর্য্য নিয়ে চন্দ্রমা এসে দাঁড়িয়েছিল যেন। 
কালকে শোবার সময় চাঁদ দেখিনি, ছোট্ট মিষ্টি একজন মানুষ তাকে খুঁজেওছিলো নাকি, শেষে বলছিলো, চাঁদের নাকি কষ্ট হয়েছে, তাই সে আসেনি। শেষ রাতে চাঁদ বোধয় তার সমস্ত কষ্ট কে একটানে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে শুধু আমাদের মুহূর্তকে সুন্দরতা তে ভোরে দেবে বলে অমন ভুবন ভোলানো হাসিতে চারিদিক ভাসিয়ে দিতে এসেছিলো। ছোট্ট শুকতারা, মুচকি হেসে তার পাশে থেকে তাকে সাহস জোগাচ্ছিলো। শুয়ে শুয়েই তাকিয়ে ছিলাম সেই দিকে, তারপর  উঠে পড়ি, সাক্ষী হলাম সেই ব্রাহ্ম মুহূর্তের। দিবাকরের রশ্মিতে এক হয়ে মিশে গেলো আমার চাঁদের আলো আর সারাদিন বারবার আমার মনে পড়তে লাগলো সেই যুগলবন্দীকে।

আস্তে আস্তে সূর্য্যের তেজ বাড়লো, মধ্যাহ্ন পেরিয়ে পড়ন্ত বিকেল আবার ঘোর লাগালো চারিদিকে। সন্ধের ধ্যানমগ্নতা আমাকে আজ করলো একেবারে নীরব। দূরে ওই মৌন্য আরাবল্লী, সন্ধ্যার রঙে রং মিলিয়ে আরো গাঢ়, গভীর হয়ে মিশে যাচ্ছিলো ওই আকাশে। আজ আবীরের বাহুল্য ছিলোনা পশ্চিমে। আজ ছিল শুধু যেন প্রতীক্ষা। কিসের তা ঠিক জানিনা। হয়তো সুরের , হয়তো বা সঠিক ছন্দের। তবে প্রতীক্ষা ছিল নীরব, শান্ত। সেই নীরব প্রতীক্ষার মধ্যে দিয়ে ধীর পায়ে, সন্ধ্যা নামলো।  দূরে ওই বহুদূরে যে ছোট্ট মন্দির টা দেখা যায়, সেখান থেকে খুব অল্প করে ভেসে এলো সন্ধ্যারতির শব্দ। আর এই নিস্তব্ধ নিশিকে স্বাগত জানিয়ে ওই পশ্চিম আকাশেই আপন স্তিমিত মুখ খানি মেলে ধরলো আমার শুকতারা। 












Wednesday, 7 March 2018

বেঁচে আছি

ঘুম ভেঙে জেগে উঠে কখনো চাঁদ দেখেছো?
আকাশ ভরা তারা?
দেখেছো কখনো রাতের কান্না 
শুনেছ নৈশব্দের শব্দ। ..
বোধ করেছো তোমার নিশ্বাস কে....
তোমার শ্বাস এর শব্দময়তাকে প্রত্যক্ষ করেছো।....
বুঝেছো কি তুমি বেঁচে আছো? 

Friday, 2 March 2018

প্রতীক্ষা

হটাৎ ঝড়ের পর যখন সবকিছু শান্ত হয়,
তখন কেমন যেন এক ক্লান্তিময় শান্তি আসে চারিদিকে।
কেমন যেন বিষাদ ময় ক্লান্তি।
সেখানে কথা হারায় তার আপন শব্দ,
সুর হারায় তার আপন গতি ,
তাল হারায় তার আপন ছন্দ।
আর ওই সুর তাল গতি সবকিছু হারিয়ে থাকা প্রকৃতি
নিস্তব্ধ হয়ে, নীরব হয়ে, একেবারে স্তব্ধ হয়ে
অপেক্ষা করে।
সঠিক সময় এর।
একেবারে স্তব্ধ হয়ে, নীরব প্রতীক্ষা করে
সবুজ পাতার। ....
কখন গাছে গাছে আবার ভরে যাবে আম্রমুকুল ,
যুথির গন্ধে , বেলির আগমনে বাতাস হবে আমোদিত।
জ্বলবে আলো।
ফিরে আসবে সুর, তাল, বর্ণ , গন্ধ।
বীণা বেজে উঠবে তার আপন ছন্দে।

ততক্ষন থাকনা। ..
থাকনা সবকিছু স্তব্ধ হয়ে
বোলোনা বোলোনা , কোনো কথার
কোনো অজুহাতের , নেই কিছু দরকার।
অযথা কিছু দিয়ে আমার এ প্রতীক্ষা কোরোনা ভঙ্গ তুমি।
সুরে সুর আজ মিলছেনা ,
তাল গেছে কেটে।

তার থেকে চলো ঠিক সুরটাকে খুঁজি মোরা-
সুন্দর কে আনি।
ততক্ষন সবকিছু থাক নাহয় থেমে ,
নাহয় না থাক কোনো বাণী।







Thursday, 1 March 2018

তুমি তেজ, আমাতে তেজ স্থাপন করো

প্রতিদিনের সূর্য্য প্রতিদিনের ভোর, তবু সে কত নতুন। তার সৌন্দর্য্য কখনো ক্ষয় হয়ে যায়না, নিত্য নতুন ভাবে তোমার আমার সবার প্রতিটা মুহূর্ত কে সাজিয়ে দিয়ে বিদায় নিয়ে যায়, আবার পরের দিনে নতুন আলোর সন্ধান দেবে বলে। 

আজ আমার জন্ম তিথি, আমি নাকি দোল পূর্ণিমার দিনে এই পৃথিবীতে এসেছিলাম। আমার মা তাই আমার নাম রেখেছিলো দোলা, কিন্তু বাবা চেয়েছিলো আমাকে নদীর গতি দিতে। তাই পরে নদীর নামে আমার নাম রেখেছিলো। মা এর হাতের পায়েস আর বাবার আদর ছাড়া জন্মদিন বা জন্মতিথির অন্য কোনো মানে আমার কাছে কখনোই কোনোভাবে ধরা পড়েনি। না কখনোই, এখানকার cake কেটে মোমবাতি জ্বালিয়ে আমাকে দেওয়া এদের হাজার আদরকে কখনোই ছোট করিনা আমি। আমাকে দেওয়া আমার প্রিয় মানুষটার, এখানের সবার--  কণা কণা আদর আমাকে সমৃদ্ধ করেছে, বেশি করে ভালোবাসতে শিখিয়েছে নিজেকে, অন্যকে। তবু কি জানি দামি রেস্তোরাঁ থেকে ঘরে আসন পেতে কাঁসার থালা আর প্রদীপের শিখাই আমাকে বড় বেশি শান্তি দেয়। 

প্রতিটা দিন প্রতিটা মুহূর্তই একে অন্যের থেকে কত আলাদা, কত অন্যরকম, অথবা সব ই এক রকম। ঠিক জানিনা। আজকের দিনটাও বিশেষ কিছুই নয়। শুধু মা বললো আজ তোর জন্মতিথি। আর আমার মনে হলো, সেই যে কতগুলো বছর আগে আমি এসেছিলাম , ছোট্ট আমি। কত আদর, হয়তো কিছু অনাদর , কিছু আঘাত আবার অনেক ভালোবাসা আমাকে আজকের অমিতে এনে দিলো। কি করলাম আমি এতো গুলো বছর ধরে, কি ই বা করতে পেরেছি এই এতো গুলো বছর ধরে। জানিনা। তবে যখন ফিরে তাকাই, দেখি কোথাও এতটুকু খারাপ লাগা নেইতো। 
তাই আজ এখন এই শান্ত শীতল সকাল বেলা, মন থেকে খুব বলতে ইচ্ছে করছে ধন্যবাদ, হে আমার পরম মঙ্গলময়,  যা কিছু দিয়েছো আমায়, এ আমার অনেক বেশি পাওয়া। আর যা কিছু চেয়েছি, পাইনি বলে আক্ষেপ করেছি তা হয়তো আমার কখনো ছিলোনা। আমাকে বোধি দিও, যে বোধি আমাকে তোমাতে কখনো ভুল বুঝতে দেবেনা। যে বোধি আমাকে আজকের আনন্দের সুরের সাথেও সুর মিলিয়ে দেবে দূরের বেদনা রিক্ত কোনো মুখের। যে বোধি আমাকে এই পলাশ এর লাল এর মাঝেও বারবার কোনো দূরদেশে শিশুর রক্তাক্ত ছোট্ট শরীর টাকে চোখের সামনে তুলে আনছে। হয়তো আমার কিছুই করার নেই। তবু ওই বোধটাকে রেখো ঠাকুর, যে বোধ থেকে আমি প্রাণপণে প্রার্থনা করতে পারি, ওই ছোট্ট দেহ, ওই অসহায় আর্তি যেন আর কখনো কাউকে দিওনা ঠাকুর। আমার পলাশের রং পৌঁছে দাওনা, দাওনা ওখানে। সত্যিকারের শান্তি আসুক। 

জানিনা প্রার্থনা পৌঁছবে কিনা, তবু প্রার্থনা করি, প্রার্থনা করি সেই অমর  অক্ষয় শান্তির। বেদ  এর ভাষায় বলি, আমার বুদ্ধের ভাষায় বলি-
"Dear God
Thank you for this life, this wonderful life. Thank you for this life experience on this earth.
We as an earth family join together in this moment in eternity, from this space in the heart to pray together for peace. We pray for peaceful diplomacy among world leaders. We pray for unity among the religious and spiritual leaders. We pray for a rise in intelligence and compassion.
We pray that we relate to each other as souls and not just the physical body that we inhabit.
We pray for peace, love, unity and cooperation among all of us".

আর আমার ওই সর্ব শক্তিমান সূর্য কে বলি, আমাকে শক্তি দাও, সকল আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা দাও, মনের দৃঢ়তা দাও, হরণ করো আমার চঞ্চলতা। 

"Om, tejo-asi tejo mayi dhehi;
Om, viryam asi viryam mayi dhehi;
Om, balam asi balam mayi dhehi;
Om, ojo-asi ojo mayi dhehi;
Om, manyur-asi manyum mayi dhehi;
Om, saho-asi saho mayi dhehi;"

তুমি তেজ, আমাতে তেজ স্থাপন করো 
তুমি বীর, আমাতে বীরত্ব স্থাপন করো 
তুমি বল , আমাতে বল প্রদান করো 
......

আর বারবার বলি -
     "ॐ असतो मा सद्गमय ।,
तमसो मा ज्योतिर्गमय ।,
मृत्योर्मा अमृतं गमय ।,
ॐ शान्तिः शान्तिः शान्तिः ॥"

asato mā sad gamaya,
tamaso mā jyotir gamaya,
mṛtyor mā amṛtaṃ gamaya,
Om shanti~ shanti~ shanti hi~~

Lead me from falsehood to truth,
Lead me from darkness to light,
Lead me from death to the immortality
Om peace peace peace
আমাকে অসত্য থেকে সত্যের পথে আনো , 
আমাকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখাও 
আমাকে মৃত্যু থেকে অমরত্বের পথ দেখাও 
ওঁম শান্তি শান্তি শান্তি 










আলো

আজ দোল পূর্ণিমার আগের রাত। জ্যোৎস্নার আলোতে চারিদিক আক্ষরিক অর্থেই যেন ভেসে যাচ্ছে। শহরের কোলাহল এখানে পৌছোয়না। শুধু সবুজ সীমাহীন দিগন্ত নামনা জানা পাখির ডাকে চমকে চমকে উঠছে। আকাশ বাতাস জুড়ে এক অদ্ভুত মুগ্ধ স্তব্ধতা। এখুনি এক আলতো হাওয়া চারিদিক এলোমেলো করে চলে গেলো আর কানে কানে, প্রায় ফিসফিসিয়ে বলে গেল- কথা নয় কথা নয়। সাথে দিয়ে গেলো কোনো এক আধফোটা ফুলের আলতো সুবাস। কি যেন এক মন কেমন করা মন মাতানো গন্ধে আমার সমস্ত মন প্রাণ আচ্ছন্ন হয়ে রইলো। কি অপরাসীম, অবর্ণনীয় সৌন্দর্য্য। গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। ভালোলাগা যেন কান্না হয়ে ঝরে পরতে চাইছে। কি অপার্থিব শান্তি অথচ কি অসহনীয় বেদনায় সমস্ত মন কানায় কানায় ভরে উঠছে। 

আচ্ছা, সেই যে আজথেকে কতগুলো বছর আগে, এক বাবা তার আদরের ছোট্ট কণা কে আকাশ দেখা শিখিয়েছিলো, শিখিয়েছিলো, কালপুরুষ কেমন করে দাঁড়িয়ে আছে, পায়ের কাছে ওই যে দেখছো ওটা কিন্তু ওর শিকারী কুকুর। আর ওই যে দেখা যায় জিজ্ঞাসা চিহ্নের মতো ওটা হচ্ছে সপ্তর্ষি মন্ডল। নাম গুলো। ...নাম গুলো কেন মনে পড়ছেনা বাবা।....আমাকে আর যে কেউ ওই সাত টা তারার নাম মনে করিয়ে দেবার কেউ নেই গো....আজ আবার বড্ডো ইচ্ছে করছে, তোমার কাছে, ছাদের ওপর মাদুর পেতে বসে গল্প শুনি, তুমি আমায় নাম গুলো শিখিয়ে দিও...আবার বার বার। জানো বাবা, তোমার কোলের কাছে শুয়ে, মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে থাকার মতো নিরাপদ নিশ্চিন্তের আশ্রয় আর কোথাও নেই, নেই কোনোখানে। এই যে আজকের চরাচর, ওই যে অপার সৌন্দর্য্যের মুগ্ধতায় নিজেকে মৌন করে রেকেছে। ওই মুগ্ধতা দেখার দৃষ্টি তো তুমি ই দিয়েছো। তোমার সেই বোধ ই তো আমায় ফিরিয়ে দেয় পরম শান্তির বোধিকে। শোক করা তুমি ঘৃণা করো তাই শোক আমি করিনা। এ আমার শোক নয় হয়তো এ আমার তোমাকে আবার পাবার পরম আকুলতা। 

সৌন্দর্য্যই তো সত্যের বোধকে আরো পরিষ্কার করে দেখায়, তাই আজ এই অপার সৌন্দর্য্যের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার প্রশ্ন করে চলেছি ' কে আমি? কি আমি ? কেন আমি ?  আর প্রাণপণে প্রার্থণা করছি আমাকে পথ দাও , দিশা দাও। আলো দাও। সুর দাও। বাণী দাও। তুমি কি সত্যি ই তারা হয়ে গেছো বাবা, পাইনা কেন তোমায়।....যদি তাই হও , তবে তুমি শুধু হয়ো দ্রুবতারা।  জীবনের শেষ দিন পর্য্যন্ত পৌঁছে দিও , ঠিক সেই প্রথম দিনের মতন করে। আজ বোলোনা আমায় কান্না মুছতে, বোলোনা আমায় না কাঁদতে, এই চোখের জলে ধুয়ে যাক আমার সব না পাওয়ার বেদনা, সব পাওয়ার আনন্দ। কান্না তো পরাজয় নয়, কান্না গ্লানি নয়, আমি জানি কান্না বড় পবিত্র। ওই চোখের জলের ভেতর দিয়ে আমি যেন আরো আরো বেশি করে গ্রহণ করতে পারলাম এই স্তব্ধ নীরব সৌন্দর্য্যকে। 

আর আমার চাঁদ, আমার বড্ডো নিজের। আমি জানি সে আমাকে কখনো ফেরায়না।  সে শান্ত, স্থির , পরম ধৈর্য্যময়। তার নীরব স্নিগ্ধ আলো আদর হয়ে আমাকে ছুঁয়ে থাকুক আর আমার দুচোখের পাতায় নেমে আসুক এই গভীর রাতের মুগ্ধতা। 










GOd Help them who help themselves . ভগবান তাকেই সাহায্য করে, যে নিজে নিজেকে সাহায্য করে

 আমাদের জীবনে অনেক রকম phase আসে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রত্যেক মুহূর্তের নিজস্ব কিছু কারণ থাকে, কিছু purpose যা অনেক পরে আমরা বুঝতে পারি। কখ...