Wednesday, 12 December 2018

ইতি প্রথম সর্গ


সেবারে ঠান্ডাটা শুরু হয়েছিল একটু আগেই,
এই ধরো এই রকম ই কোনো এক দিন।
ডিসেম্বর এর প্রথম সপ্তাহ।
ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন চারিদিক,
এক হাত দূরের জিনিস ও আবছা লাগছিলো,
আর ঠিক এমন ই ঘন কুয়াশা সরিয়ে-
কাউকে দেখা গেছিলো,
যেন বহু বছরের অস্পষ্ট কুয়াশা সরিয়ে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়েছিল সেই উপস্থিতি।
তারপর।.কুয়াশা কেটেছে।.. সূর্য্যের আলোর মতন করে উঠেছে চারিদিক ঝিকমিক।
সেই যে মেয়েটা কোনো এক কুয়াশা মাখা সকালে,
গরম কফির কাপ হাতে নিয়ে হটাৎ ই কাউকে খুঁজে পেয়েছিলো?
মনে হয়েছিল কি যেন এক ভুল আছে, আর পাঁচজনের চেনার আড়ালে।
আর ছেলেটার মনে হয়েছিল, জীবনের সবটা বোধয় এখন ই শুধুই তিঁতকুটে নয়, তার মধ্যে কোথায় যেন এক মিষ্টি মদিরতা, এখনো লুকিয়ে আছে আবছায়া আবডালে।
ধরো এই গল্প টা তাদের নিয়ে।...
শীতের শুষ্ক কাঠিন্য দিয়ে যে পথ চলা শুরু হয়েছিল,
বসন্তের লাল আভায় সে হলো লাজে রাঙা,
গরমের প্রচন্ডে দাবদাহে বিদগ্ধ,
শরতের শিউলি আর কাশের হাতছানি মাখা-
শুভ্র মাধুরীর নিস্তব্ধ ভোর,
হেমন্তের শিশির সঙ্গে নিয়ে-
আবার পৌঁছে দিলো শীতের শুষ্ক সান্নিধ্য।
মন যেন, ঠিক সেই শেষের কবিতার অমিতর মতো করে বলে উঠলো 'ইতি প্রথম সৰ্গ / আমাদের রয়ে সয়ে সর্গ।
পথের প্রান্তে এসে, মেয়েটি বললো এই বেশ হলো। এবার থামা যাক।
ঠিক জায়গাটাতে এসে পথ আমাদের দাঁড় করিয়েছে।
এতটা পথে কেমন আমরা পেলাম বসন্তের পলাশ,
স্বপ্নঘন পূর্ণিমার আলো , শরতের শিউলি,গ্রীষ্মের চাঁপাকে।
এর পরে আর চললে, যদি চেনা সৌন্দর্য্য হারায়?
ছন্দপতন সইবোনা।
সেই শুরু হলো তর্ক , বোঝায় কাকে-
ছেলেটি বললো  মনে নেই শাপমোচন,
আসল ছন্দ ফিরে এসেছিলো হয়ে ভুল ছন্দের পতন।
তারপর বেজেছিল মধুর বিনা-
সেইরকম ই ঠিক ছন্দটা বাজতে দেনা-
তাছাড়া আর সব ফুলের মাঝে , মিতা,
ভুললি কেমনে আমাদের অপরাজিতা?
সেতো সারা বছর ই হয়, আমার দুহাত ভোরে আছে সেই নীল ফুলে
অবশ্যই তোর ই ভুলে , কিন্তু এখন আমি কি করি
অপরাজিতার ঘন নীল করেছে আমাকে মাতাল,
বুকের ভেতরে চাপা সমুদ্র হয়েছে উত্তাল-
শান্ত হয়েছি বাইরের আমি, বুঝতেও পারি অনেক।
শুধু তোর এই কথা শুনবনা আমি, তুই আমি যে একেবারে এক।
বুকের ভেতরে লক্ষ দামামার শব্দ।
ক্ষণিক দুজনেই একেবারে নিস্তব্ধ।
তারপর।....
ঝগড়া করার প্রচন্ড প্রস্তুতি নিয়ে মেয়েটি বসলো অনেক যুক্তি সাজিয়ে-
ছেলেটি বড্ডো চালাক, সেসব কিছুকে একেবারে পাশ কাটিয়ে
সোজাসুজি দাখিল করলো
তার স্বপ্নরাজ্যের পরিকল্পনা।...
(ছেলেটি)কোন সে তেপান্তরের মাঠের পরে অপরাজিতা আর মাধবিলতা মোড়া এক সবুজ স্বপ্নদ্বীপ
যেখানে থাকবে আমাদের আনাগোনা-
সদ্য স্নাত চুলের জলে নাহয় আমার ঘুম ভাঙালি,
ভিজিয়ে দিলি।
রক্ত রাঙা সূর্য্য নাহয় মুচকি হেসে লজ্জা পেলো।
সেই লাজেতেই ভরলো নাহয় সকাল শুধু আলোয় আলো।
শান্তি স্তবের মধ্যে দিয়ে সন্ধ্যা নামাস-
একটু পরে ছাদের ওপর পেতে ফরাস,
কোনো নাহয় গল্প শোনাস, নাহয় একটা গান গাস-
সেই সুরেতে রাত্রি নামুক সুন্দরের ই আলিঙ্গনে,
আরো নাহয় গভীর হোক চাঁদনী রাতের শিহরণে-
সবসময় তো আর পূর্ণিমা না-
একাদশীর বাঁকা চাঁদ।....স্বপ্ন দেখাক।...আকুল করে-
ওভাবেই যে যায় পাওয়া যায় সুন্দর ওই আগামীরে।
এসব যে সব তোর ই বলা-
আজ কেন চুপ, বদল কোথা।..
একসাথে কি যায়না চলা,
জীবন কেন হয়না শুধুই নাবলা কোনো গল্পকথা।

আমার কাছ থেকে চলে যেতে চাস কেন , আমার প্রাণ ফিরিয়ে নিতে চাস?
এ নতুন জীবন যে তোর দেওয়া ? জানিসনা তুই?
কত পথ পার হয়ে, আমি তপ্ত মরুর বুকে মরুদ্যান খুঁজে পেয়েছি।
শুষ্ক বিদগ্ধ অশ্রুসজল অশান্তির মাঝে আমি পেয়েছি শান্তির ছায়া-
কোনো নিঠুর হয়ে সব কেড়ে নিয়ে চলে যেতে চাস।

(মেয়েটি)'তোমার ভুল ভাঙ্গাবো বলে' উত্তর এলো
(ছেলেটি)ভুল যদি ঠিক হয়ে আমার জীবন কে সাজিয়ে দেয় , দিকনা
ঠিক ভুলের বিচারে আমরা কে, যদি এ ভুল হয়, তবে আমার তাই ভালো
(মেয়েটি)জীবন কারোর দেওয়া হয়না, পারেই না,
(ছেলেটি)থাকনা। ..
এসব কথা থাক নাহয় আজ
(মেয়েটি)তোমার স্বপ্ন আমি চাইনা দেখতে
ভয় করে,
শুনতে পাওনা তুমি বাঁধ ভাঙার আওয়াজ
স্রোতের টান যে সাংঘাতিক
(ছেলেটি)ভাঙুক না বাঁধ, ভাসাক স্রোত,
(মেয়েটি)যদি হারায় দিকবিদিক
সবকিছু যদি হয় বেসামাল
(ছেলেটি)করুক না,..মন যে আমার হয়েছে যে দামাল
(মেয়েটি)না...
(ছেলেটি)বেশ তাহলে সামলে নিস্।
সে দায়িত্ব ও যদি হয় শুধু তোর,
আমার আমাকে আগলে রাখিস।
কর না আমায় একটু জোর।
চেনা গন্ডির মধ্যে থেকে
রোজ এভাবে সঙ্গে নিস্।
সীমারেখা টা জানি আমি
আর জানি তুই ভালোবাসিস।
স্বার্থ ছাড়া সত্যিকারের ভালোবাসার ভীষণ বালাই।
তাই যে কাছে থাকতে চাই।
(মেয়েটি)বোঝোনা কেন , আমিও যে তোমায় কাছে রাখতে চাই।
ক্লান্ত তুমি ফিরলে বাড়ি,
থাক সেকথা বলতে নাড়ি
(ছেলেটি)নাবলা তোর সকল কথা  আমার জানা
জানি বলতে মানা
তবু বলি, এইটুকু মোর স্বপ্নচয়ন
এইটুকু মোর শক্তি দেয়
সমস্ত দিন দৌড়ে বেড়াই এটাই শুধু করে মূলধন
এবার তবে ঝগড়া থামুক,
আকাশ জুড়ে বৃষ্টি নামুক।
ইচ্ছে তো হয় যাই ভেসে,
যার সাথে যাই ভাসতে-
বাধা যে সে নিজেই যে।
সমস্ত দিন গেল বৃথাই
করে শুধু ঝগড়া লড়াই
দিনের শেষে একটা কথাই বলি এসে,
যা কিছু আমাদের তা থাকবে শুধু আমাদের ই যে।
আর যা কিছু সঙ্গে নিয়ে চলবে নদী কলকলিয়ে।
ভাঙবেনা পাড় , পাসনা ভয় ,
এতদিনের অভিজ্ঞাতায় সেটুকু বোধ হয়েছে সঞ্চয়।

সন্ধ্যে নামলো, বাবলা গাছের মাথার ওপরে বাঁকা চাঁদ।
জীবন তুই সহজ বড়।
নেই তো কোথাও কোনো জটিলতা, কোত্থাও নেই পাতা কোনো ফাঁদ।
(ছেলেটি)জীবন যেন এক আরশি,
যেমন ভাবে দেখি তাকে
ঠিক সেভাবেই ফিরে পাচ্ছি।
তাই হয়তো বেশি করে মানছি ভালোবাসি।
ভীষণ কাছে চাইছি তোকে,
নিজের করেই চাইছি।
ভাঙা কিছু জুড়ে গেছে আজ,
তাই  বোধ হয় পালাতে চাস।
যাসনা সরে, ভালোই নাহয় বাসলি একটু
বাসবো তোকে ভুবন জুড়ে।
বিশ্বাস কর, ধরনারে হাত, ঠকবিনা যে দিলাম কথা
শুধু আমায় দিস সাজাতে আমাদের এই নকশিকাঁথা।
কোপাইয়ের ধার সাক্ষী হবার
মিথ্যে নাকি সে অঙ্গীকার
বাদাম ভাজাটাও থাকবে সাথে
আমার সব লেখা তোকে পড়াবো সেই সে রাতে।
(মেয়েটি)ইশ..ছানি পড়া চোখে কাঁপা কাঁপা হাতে
পড়বো কি করে, বাদাম খাবো কিভাবে বাঁধানো সে দাঁতে
(ছেলেটি)ওই ভারটা আমার থাক
আর না এখন ভাবিসনা তুই
শুধু তুই আমায় রাখ।

(কবিকথা) রইলো পরে ঝগড়া ঝাঁটি,
মিথ্যে রাগ আর কথা কাটাকাটি,
দিনের রবি বসেছেন পাটে।
আবির মাখানো দিগন্ত জুড়ে অস্তাচলের মায়া-
রাতের রানীর স্মিত হাসি নিয়ে মুখ খানি তুলে চাওয়া
ফুল পাখি নদী ঝিকিমিকি আলো
কচি পাতা গাছ ঝর্ণা-
এই যা কিছু এই শুধু চিরন্তন, অবিনশ্বর আর হয়না।
পথের ভাবনা নয়কো কারোর,
শুধু পথ টুকু চলা চাই।
পথের বাঁকে দাঁড়িয়ে পরে যদি পিছু ফিরে চাই ,
দেখবো শুধু পরে আছে আলো
যা কিছু হয়েছে আর যা আছে
সবটুকু শুধু ভালো
যেটুকু পথ, যার সাথে চলা
যতটুকু হাসি যা কিছু বলা
সব যেন করা আছে ঠিক।
ভগবান বলো অথবা ঈশ্বর
এসব তার কারসাজি
ওই দ্যাখো কেমন মুচকি হাসছেন, করিয়ে তোমায় রাজি।
মুছে দিয়ে যত মান অভিমান, ভালো টুকু এস খুঁজি
সবখানেতে সবটুকুতে শুধু ভালোই চলো বুঝি।
দেখবে কেমন জিতে যাই জীবনে তে
দরকার নেই হারাবার কাউকে
শুধু ভালোবেসে মরি আর বেঁচে উঠি ভালোবাসতে।

Wednesday, 28 November 2018

did you do it

আজ ও আকাশে চাঁদ। কার্তিক মাসের হিম হিম নিস্তব্ধতা, জঙ্গল থেকে ভেসে আসা ঝিঁঝি পোকা আর ও কত অদ্ভুত শব্দ মাঝেমাঝে এই শীতল নিস্তব্ধতাকে ভেঙে খানখান করে দিচ্ছে। ব্যালকনিতে বেশিক্ষন দাঁড়িয়ে থাকলে ঠান্ডা লাগছিলো, আবার ঠিক সেখান থেকে সরেও আসতে ইচ্ছে করছিলোনা। হাতে পড়েছিল  কাজ, সেগুলোর দিকেও ঠিক মন বসাতে পারছিলামনা। এমন সময় ওই যে রাত জাগা পাখি, এক ঝাপটাতে উড়ে যেতে যেতে যেন মনে করিয়ে দিয়ে গেল। মন বসাও। মন বসাও। 
মন হলো ভারী এক অদ্ভুত জিনিস। ছোটথেকেই আমার একা থাকতে ভয় হতো। অথচ, কি পরিহাস দ্যাখো, দিনের বেশিরভাগ সময়টাই কাটতো আমার একা একা। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা থাকতো বাবার বাড়ি ফেরার। কারণ বাবা মানেই যে ছিল গল্প, হাসি, মজা। হাজার আনন্দ। 
বড় হবার পর থেকেই থিতু হতে চাইতাম। স্থিরতা চাইতাম। কিন্তু যত বেশি স্থিরতা চেয়েছি, ভাগ্য ততবেশি আমাকে অস্থিরতার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ফেলেছে। বিএসসি করার সময় থেকেই শুধু ভাবতাম যাহোক করে একটা চাকরি নিয়ে বিয়ে করে সংসার করবো চুটিয়ে। জানি, এমন কথা শুনে অনেকের ই চোখ কপালে উঠবে, ছি ছি করার মতো কথা তো বটেই। কিন্তু কি করবো আমি যে একদম সাধারণ এক মেয়ে। অকপটে এ কথা স্বীকার করতে আমার দ্বিধা নেই যে এমন কথা আমি সত্যি ই ভাবতাম। অতন্ত্য ছাপোষা সাধারণ এক মেয়ে আমি। যে সন্ধ্যে কে আনতে চায় ধুপ ধুনোর স্নিগ্ধ সান্নিধ্যে, চায়ের গরম কাপের মধ্যে দিয়ে, রাত্রে যার একা থাকতে ভয় করে, সূর্য্যপ্রনামের মধ্যে দিয়ে যার দিন শুরু হয়। দুচোখে স্বপ্ন নিয়ে অথচ সচেতন ভাবে যে স্বপ্নের মতো জীবন যাত্রা চায়। থিতু হতে চায়। 

থিতু হতে আমি পারিনি এখনো। শুধু অন্ধের যষ্ঠির মতন সহায় আছে এখনো আমার জ্ঞান পিপাসা টা। আর যেন কোথাও কিছু নেই। হটাৎ চোখ জ্বালা করে উঠলো। পরক্ষনেই হাসি পেলো। এখনো বুঝি অভিমান হয়। এখনো বুঝি ঝগড়া করিস ঠাকুরের সাথে, নিজের মনেই নিজেকে জিজ্ঞাসা করলাম। নাহ , এখন আর অভিমান হয়না। সবকিছুতে, সবকিছুর মধ্যে মনে হয় ঠিক আছে। সব ঠিক আছে। all okay . everything is okay. 
আমার জুনিয়র রা বলে, আমি নাকি আলাদা, ডিস্টিংক্ট, বলে নাকি আমার মধ্যে ক্ষমতা আছে স্ট্রেস handle করার, সহ্য করার। হাসি আবার। কিজানি বা, হবে হয়তো। হয়তো আছে, আর ঠাকুর সেইজন্যেই হয়তো আমাকে সুখী গৃহকোনের কোণ টা তে এনে ফেলেনা কিছুতেই। একটা, সুন্দর, নিস্তরঙ্গ , থিতু জীবন দেয়না হয়তো তাই। নাহ , এসব কি ভাবছি। এই যে আদিগন্ত চরাচর ভাসিয়ে আমার চাঁদ তার স্মিত মুখখানি তুলে তাকিয়ে আছে, ওই যে গভীর ঘন জঙ্গল। নাহয় বন ফায়ার ওখানে হচ্ছেনা, violin বাজিয়ে গান ও নয়। তবু এইসব ও কম বা কি। জীবন যেভাবে যখন যা দেয় , তাকেই যে দুহাত ভোরে গ্রহণ করতে হয়। নাহলে ওই যে, ধরো তোমাকে সর্বস্ব দিয়ে কেউ যত্ন করতে চাইছে, ভালোবাসছে, খেয়াল রাখছে, কিন্তু তুমি তাকে অবহেলায় দূরে সরিয়ে রাখছো, বুঝতেই পারছোনা, সে না চাইতেই তোমাকে ভরিয়ে রাখতে চাইছে। তারপর একদিন অবহেলা করতে করতে তুমি তাকে হারিয়ে ফেললে, আর খুঁজেই পেলেনা কোথাও। তখন? তখন সেই সমস্ত কিছুকে একটু ছোঁবার জন্যে তুমি আকুল হবে। কিন্তু আর পাবেনা। আজকের ওই রাত জাগা did you do it বলা ওই লম্বা লম্বা ঠ্যাং এর পাখিটাও যেন ঠিক তাই বলে গেলো আমায়। গ্রহণ করো। গ্রহণ করো। প্রতিটা মুহূর্ত এর অমৃত সুধা আকণ্ঠ পান করো। দুঃখ তো একটা নেশার মতো, দুঃখের কথা ভাববে, একের পর এক দুঃখ ভেসে আসবে মনে। এই পাইনি, ওই পাইনি। পায়নি কি তা ভাবতে ভাবতে যে যা পাচ্ছ সেটা হারিয়ে যাচ্ছে। তাই পাইনি নয়, পেয়েছিও যে কত কিছু। কত কিছু। চোখটা আবার জ্বালা করে উঠলো। সত্যি তো এমন মায়াবী রাত। দুধসাদা জ্যোৎস্না। নরম চাদরের মতন একটা গভীর রাত। এইসব যে আমার জন্যে আছে। পাখিটা আবার ডেকে উঠলো, did you do it ? নারে পাখি, করিনি আমি, অনেক কাজ এখনো বাকি পরে আছে। করা হয়ে ওঠেইনি। করবো। তুই শুধু মাঝেমাঝে মনে করিয়ে দিস তো, বলিস আমায়, বকিস, ডাকিস did you do it . আমি আমার সবটুকু ক্লান্তি কাটিয়ে আবার হাসি মুখে এই পৃথিবীকে দেখবো আর বাকি পরে থাকা কাজগুলোকে সম্পূর্ণ করবো। 










Saturday, 24 November 2018

নীল আকাশ আর নস্যি রঙের চাদর

বছরের প্রতিটা সময়ের আলাদা আলাদা গন্ধ আছে, আলাদা রং, আলাদা হাওয়া। একদম আলাদা আলাদা। distinct . এখনের এই শিরশিরে ঠান্ডা উত্তরে আবেশ , ঝকঝকে গাঢ় নীল আকাশ ও ঠিক সেইরকম একেবারে এই সময়ের নিজস্ব কি যেন একটা নিয়ে বারবার আমার দরজায় এসে কড়া নাড়ছে। কি যে, সেটা ঠিক বুঝতে পারছিলামনা। রান্না ঘরে চা বসিয়ে সোয়েটার টা ভালো করে পড়তে পড়তে ওই রোদে ঝলমলে নীল আকাশ টাকে দেখতে দেখতে মনে মনে বললাম,না বাপু এই সাত সকালে এমন ঝলমলে দিনটাকে মনখারাপ দিয়ে মাটি করার দরকার নেই কোনো। তার থেকে বরং যা কিছু মনখারাপ আর আবোল তাবোল ভাবনার ঝুলি নিয়ে আজ যাক বসা। আমার ইচ্ছেখাতার কাছে। ইচ্ছেখাতার পাতাগুলোর সাথে অনেক গল্প করা বাকি থেকে গেছে। অনেকদিন অপেক্ষা করে আছে ওরা। আমিও অপেক্ষা করতে থাকলাম, দিনের সব টুকু কাজ শেষ করে, কখন বসবো ওই আমার আবোল তাবলের ঝুলি নিয়ে। আর সব কাজের , সব কিছুর মাঝে বারেবারে শুধু চোখ চলে যেতে থাকলো ওই নীলের দিকে। নীলটা আজ সত্যি ই যেন খুব অন্যরকম। গভীর। গম্ভীর, মৌন। কিন্তু কাছের নয়। যেন না বলা অনেক কিছুর দূরত্ব দিয়ে ঘেরা। দূরত্ব তো আছেই। চাইলেই যে কোনো দূরত্ব এক নিমেষে মুছে ফেলা যায় আবার কখনো কখনো এক হাত দূরের দূরত্ব ও হয়ে যেতে পারে যোজন মাইল এর বেশি। আজকের নীল টা ছিল না ঘোচাতে চাওয়া দূরত্বের মতো। মনে হলো থাক। জীবনের যা কিছু spontaneous , আপনা হতে পাওয়া। তাই সুন্দর। তার মধ্যেই ওই হটাৎ পাওয়ার zeal টা থাকে। আর যা কিছু অনেক ভেবেচিন্তে প্ল্যান করে করা, তার মধ্যে যেন কি যেন একটা থাকেনা। ওই যে স্বাভাবিকতার বদলে এক অস্বাভাবিক কৃত্রিমতা সমস্ত পাওয়ার আনন্দকে মাটি করে দিয়ে চলে যায়। ঠিক ওই ঘিসঘিষে বাংলা বা হিন্দি serial গুলোর মতো। চলছে চলছে তো চলছেই। এর পরে কি হবে, serial এর হিরো কি ডায়লগ বলবে বা নায়িকা কিভাবে তাকাবে সব ই লোকজনের মুখস্থ , তবু প্রতিদিন এক ই সময়ে ওই এক ই তাকানো বা এক ই কথা শোনার জন্যে অধীর অপেক্ষা। 

সে যাই হোক, মনে হলো থাক। ওই নীলের দূরত্ব থাক আজ। আমার জীবনে সময় মতো, মানে অন্যদের তুলনায় যেকোনো কিছুই পেয়েছি অনেক পরে, আমার সিনিয়র, জুনিয়র, batchmate এরা যখন PhD শেষ করে একটা দুটো পোস্ট ডক করে ফেলেছে, ভাগ্যের চাকা তখন ও আমাদের ওই এক ই যাঁতাকলে ঘুরিয়েছে। না তখন ও দোষ দিনি ভাগ্যকে। তাকিয়ে থেকেছি আমার সময়টাকে চেনার জন্যে। সময় এসেছে তার মতো করে। এখন ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, সেই সময়ের মূল্য। আর এখনো জানি, ওই যে আকাশের নীল আমাকে আজ বারবার হাতছানি দিচ্ছে, আর আমি নিজেকে আমার চেনা গন্ডির মধ্যে আটকে রেখে তার দিকে দেখছি বারবার, অনেক দিন পরে এই সব কিছু আবার তার সমস্ত মাধুরী টুকু নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসবে। 
আজ খুব হাওয়া দিচ্ছে। হিমেল হাওয়া। শীত যে আমার খুব ভালো লাগার সময়, তা কিন্তু নয়, বরং শীত মানেই আমার মনে হয় বিষণ্ণতা। সবাই যখন পুরো বরফে ঢাকা সাদা ধূসর ছবি দেয় চারিদিকে, আমি তখন তাড়াতাড়ি সেখান থেকে চোখ সরিয়ে খুঁজতে থাকি একটু রং। বাইরের দেশে শীত শুরুর আগে প্রকৃতি কেমন নিজেকে সাজিয়ে রাখে, দুচোখ ভোরে আমি ওই রং দেখি। হয়তো প্রকৃতির চরম কাঠিন্য তাকে রিক্ত করে দেবার আগে, প্রকৃতি প্রাণপণে নিজেকে তার সমস্ত সুন্দরতা দিয়ে সাজিয়ে রাখতে চায়। যাতে এর পরের ভয়ঙ্কর কাঠিন্য তাকে শেষ না করে দিতে পারে, প্রচন্ড লড়াই শুরুর আগে যেন নিজের মাধুরীকে সঞ্চিত রাখা। যাতে লড়াইয়ের ময়দানে তার সেই মাধুরী তাকে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবার জন্যে শক্তি যোগান দিতে পারে। 

বাইরের দেশ শুধু বলছি কেন, আমার নিজের দেশের শীতের ও তো কত রং। শীত এ বাবা আমাকে সবসময় আগলে রাখতো। যাতে এতটুকু ঠান্ডা না লাগে, শীত শুরুর আগেই শুরু হয়ে যেত সেই পরিচর্যা।কোথায় তুলসীর রস, চব্যানপ্রাশ। বাবার কাছ থেকে নিজের অজান্তেই কখন সেই স্নেহ, মমতা, পরিচর্যা আমার কাছে চলে এসেছে, বুঝতেই পারিনি। আমার আশেপাশের এই সব মানুষ গুলো এখন যখন দেখি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, আমার বকুনি দেওয়া বা জ্ঞান দেওয়া টাকে খুব উপভোগ করে। ষাট পেরিয়ে যাওয়া মানুষ গুলো যখন ছেলেমানুষ হয়ে গিয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করে চব্যানপ্রাশ টা কিভাবে খাবো, কখন খাবো, তখন অজান্তেই ঠোঁটের কোণে হাসির সাথে সাথে চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরে। খুব মনে পরে যায় আমার জীবনের সেই একজন মানুষের কথা। শীত মানে যে উষ্ণ উষ্ণতা। শীত মানে শুষ্ক কাঠিন্য নয় বরং,  স্নেহমাখা নরম পরিচর্যা। যে উষ্ণতা আজ আমি হয়তো কিছুটা দিতে পারছি কিন্তু এই উষ্ণতার আসল বোধটা যার থেকে পাওয়া। যার গলা থেকে একটু জোরে কোনো শব্দ উচ্চারণ হলে আমার চোখ উঠতো জলে ভোরে। যার সাথে অনর্গল গল্প করা যেত পাশের বাড়ির মেনি বেড়াল টা কিভাবে গাছে উঠছিলো বা কুট্টুস আজ কি করেছে বা স্যার আশুতোষ এর সন্দেশ খাওয়ার কথা। বাবার চোখ দিয়ে শীত টাকে দেখেছি। তাই হয়তো আমার মধ্যবিত্ত মন winter ফ্যাশন এ সামিল হতে পারেনা মন খুলে, বারবার মনে পরে যায়, নলপুর স্টেশন এর সামনে বসা অনিল কাকুর বিড়ির দোকানে দরজা ছিলোনা ভালো, বাবার খুব চিন্তা ছিল অনিল কাকুর ঠান্ডা লেগে যাবে সেটা নিয়ে। এইসময়ে চারপাশে হওয়া ছোট্ট ছোট্ট তুলোর বলের মতো কুট্টুস ছানা গুলোকে নিয়েও আমার আর বাবার ভাবনার অন্ত ছিলনা, মনে আছে , মা স্কুল এ বেরিয়ে গেলে, আমার, দিদির আর বাবার চলতো পুরোনো জামা কাপড় খুঁজে ওদের ঢেকে আসার এক্সপেডিশন। শীত মানেই barbique তে কাবাব বানানোর বদলে, তাই আমার মধ্যবিত্ত মন এ ভেসে ওঠে ফুটপাতে কুঁকড়ে শুয়ে থাকা ওই দেহগুলোর কথা। না এসব ই আমার মধ্যবিত্ত চিন্তাভাবনার বহুল বিলাসিতা। যা আমার বাবাকে কোনোদিন "বড়লোক" হয়ে উঠতে দেয়নি। আমার স্কুল মাষ্টার বাবা, হাসি মুখে ওই সবার কথা ভেবে চোখ ভিজিয়ে শুধু "বড়োমানুষ" হয়েই থেকে গেছে , কিন্তু কখনো "বড়োমানুষী" আর দেখিয়ে উঠতে পারেনি।  আজ বারবার খুব মনে পড়ছে , ওই মানুষটাকে আজীবন শুধুমাত্র দুটো চাদর আর দুটো হাফ সোয়েটার পড়তে দেখেছি। একটা চাদর আর হাফ সোয়েটার বাইরে পড়ার মানে সেটা বাবা স্কুল এ পরে যেত, আর একটা চাদর আর হাফ সোয়েটার বাড়িতে পড়তো। হাসিমুখে, খুশিমনে। কোনোদিন মনেও হয়নি যে বাবার ওটাতে দুঃখ ছিল কোনো বা আজ ও ফিরে তাকালে কোথাও কোনো অভাব, অভিযোগ, দুঃখ , চাহিদা কিছু খুঁজে পাইনা। 

জামাকাপড় গোছাচ্ছিলাম। একরাশ জামাকাপড়। সোয়েটার , জ্যাকেট, হাজার রকমের শীত বস্ত্রের মাঝে বারবার শুধু চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগলো সেই এক জোড়া নস্যি রঙের চাদর। ঝকঝকে দুটো চোখ আর ভীষণ উজ্জ্বল , অমলিন একটা হাসিমুখ। 
বাইরে রোদ ঝলমলে শীতের দুপুর।  

Thursday, 8 November 2018

কেন দিলে
বৃন্ত হতে তুলে আনা
ওই নীল অপরাজিতা
ধরিয়া রাখিতে নারি
ফিরে ফিরে দেখি তারি
যতবার দেখি
যেন
সবকথা হয়ে যায় কবিতা 

Wednesday, 31 October 2018

ফিরে দেখা

জীবন মাঝেমাঝে অদ্ভুত কিছু মোড় নেয়। তারপর আমরা চলার নিয়মে সেই মোড় ধরেই চলতে শুরু করি। আর তারপরে অনেকটা চলে আসার পরে যদি পিছন ফিরে তাকাই আর দেখি কেমন ছিল সেই পথ টা , তখন কখনো ঘিরে ধরে বিষন্নতা, কখনো হয় রাগ, কখনো কষ্ট আবার কখনো কখনো অদ্ভুত একটা ভালোলাগা ঘিরে ধরে। বুঝতে পারি ওই মুহূর্তের তাৎপর্য্য। যা সেইসময় দিয়েছিলো শুধুই অবাক অভিজ্ঞতা। তাই আবার সেই পথ ফেলে আসার পরে তুলে ধরে সেই সময়ের সুন্দরতা। প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততায় রোজনামচা হয়ে ওঠা অনেক কিছুই হটাৎ করে ফিরে পায় তার স্বমর্যাদা, ভীষণ ভাবে আবার চাই সেই সমস্ত কিছুকে মনে করতে যা আমাদের ফেলে আসা বন্ধুর পথে হাত ধরেছে, একসাথে হেঁটে আসা পথটাকে দেখি তাকিয়ে, হয়তো অজান্তে আঁকড়ে ধরতে চাই আলগা হয়ে যাওয়া হাতের আঙ্গুল। সম্পর্কের বুনিয়াদি কে আর একবার দেখে নি যত্ন করে , মজবুত আছে কিনা। আর এই ফিরে দেখতে গিয়ে অনেক সময় ই নতুন করে খুঁজে পাই অনেক কিছু, অনেক মুহূর্ত যা তার নিজ নিজ তাৎপর্য্য আর বোধ নিয়ে আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসে। "ফিরে দেখা " তাই বোধয় কখনো কখনো খুব দরকার। 

আজকের দিনটা শুরু হয়েছিল ঠিক এমন ই কিছু শিরশিরানি অনুভূতি দিয়ে। বছরের প্রতিটা মুহূর্তের , প্রতিটা সময়ের আলাদা কিছু অনুভব আছে, আলাদা গন্ধ, আলাদা বর্ণ , আলাদা আলাদা, distinct feel . এবারে ঠান্ডাটা বোধয় একটু আগেই পড়েছে, একটু বেশি ই আর কিছু আগেই হয়তো বা। আর তাই নভেম্বর এর শুরুতেই কেমন ডিসেম্বর এর বোধ এনে দিয়েছিলো। সময়ের আগু পিছুতে হটাৎ উপুড় হয়ে গেছিলো স্মৃতির ঝাঁপি। এক একটা শব্দ , এক একটা ভালোলাগা, কিছু ভালোবাসার অকপট প্রকাশ হটাৎ করে চোখ ভরিয়ে দিলো, দুচোখ ছাপিয়ে গাল  ভিজিয়ে দিতে থাকলো বারবার। চোখের জলকে আমি আটকাইনা , কিন্তু তবুও কি যে হয়েছে ছাই , সেই গত কাল সন্ধে থেকে এ যেন বন্ধই হতে চাইছেনা। বেয়েই চলেছে। উফ কি যে করি একে নিয়ে, থামাতেই পারছিনা যে। 

যদিও গত কাল সন্ধের সেই জলের মধ্যে ছিল যেন এক অদ্ভুত অন্যরকম কষ্ট। আর আজকের এই জলের মধ্যে সেই কষ্টের বোধ নেই, কি যে ঠিক আছে তাও ঠিক তেমন যে জানি তা নয়, তবে কষ্ট নয়, কেমন যেন এক শান্ত স্তব্ধ শান্তির বোধ। যা চোখে জলের সাথে সাথে ঠোঁটের কোণে টেনে দেয় হাসির রেখা। সেই যে ঠান্ডার মধ্যে বাবা এসে গায়ে যখন চাদর জড়িয়ে দিতো, সেইরকম গরম উষ্ণ একটা ভালোলাগা আমার সারাদিন টাকে কেমন এক উষ্ণ নিশ্চিন্ততা দিয়ে জড়িয়ে রাখলো যেন। কেন জানো ? ওই যে, ফেলে আসা পথ টার দিকে যখন তাকালাম তখন দেখলাম সেই পথে খানা খন্দ , চড়াই উৎরাই হয়তো ছিল অনেক, কিন্তু সেসব আমরা খুব সুন্দর করে পেরিয়ে এসেছি, আর গোটা পথটা যেন শুধু ওই বেলি, গন্ধরাজ, মাধবীলতার গন্ধে ভোরে আছে। অপরাজিতা , শিউলি আর কাশ ফুলে ফুলে সে পথ ভোরে আছে, আছে চাঁদনী রাতের স্নিগ্ধতা, আছে নতুন ভোরের আহ্বান, আছে পলাশের হাতছানি, গোধূলির রক্তিম মায়া। আর এই সবকিছুর মায়া যেন কেমন অদ্ভুত এক টান তৈরি করছে। ভীষণ এক বিশ্বাস। ভালোলাগা, যা থেকে অমলিন ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। বুঝলাম ওই যে ওপরে যিনি বসে আছেন, তিনি হয়তো ঠিক তাই চান, শেষ হবার হলে হটাৎ শুরুর মতো আবার হটাৎ শেষ ও হয়তো হয়ে যেতেই পারতো , অমলিন হবার হলেও হয়তো লাগতেই পারতো তাৎক্ষণিক glitter এর আড়ালে অমলিনতার দাগ। কিন্তু হয়নি। শেষ ও হয়নি। অমলিন ও হয়নি। বরং ওই যে, আরো বেশি সুবাসিত হয়েছে। পেয়েছে সকালের পবিত্রতা। জীবনের বিশ্বাস। বাঁচার আনন্দ। 

এই প্রথম জানিনা কেন ভীষণ এক টান অনুভব করছি। ভীষণ টান। অদ্ভুত ভালোলাগা। আলোর মতো আনন্দ। নিজের প্রতি বিশ্বাস। অন্যের প্রতি বিশ্বাস। বেঁচে থাকার প্রতিটা দিনের আনন্দ। প্রতিটা মুহূর্তের উজ্জ্বলতা। 
মনে পড়ছে 'fireflies', যা ঠিক ওই জোনাকির মতোই যেন নিভে জ্বলে আমাদের আলোকিত করছে, অন্ধকারে পথ দেখাচ্ছে। শান্তিনিকেতন কি শুরু থেকেই একদম অগোচরে, অজান্তে শান্তির নিকেতন তৈরি করে রেখেছে? বারবার নাহলে কেন ওই বুড়ো লোকটা তার সমস্ত ছন্দ, বর্ণ নিয়ে সেতু বন্ধনের কাজ করে গেছে ? হটাৎ সেই সকালে নাহলে কেন খুঁজে পেয়েছিলাম
"আজ নিখিলের আনন্দধারায় ধুইয়ে দাও,
মনের কোণের সব দীনতা মলিনতা ধুইয়ে দাও ।"

ওই বুড়ো লোকটা কি তার ছন্দে ছন্দে সত্যি সত্যি দেবদারু তলা সাজিয়ে রাখছে? কিজানি। হয়তো বা। যার কাজ সে করুক, আমরা কিছু ভাববোনা। 😊 আমরা বরং হাঁটতে থাকি, চলার আনন্দে। অনেক কাজ বাকি, অনেক কিছু জানার, অনেক কিছু বোঝার, অনেক কিছু শেখার বাকি। অনেকটা পথ বাকি, ক্লান্ত হলেও চলবেনা, থেমে গেলেও চলবেনা। পথের শেষে হয়তো কেউ ঝালমুড়ি বানিয়ে, বাদাম ভাজা নিয়ে অপেক্ষা করবে, দেখাই যাকনা, এই পথ সেই দেবদারুতলায় গিয়ে লাল কাঁকরের পথে মেশে কিনা। 😊 ততক্ষন চলো সৃষ্টির আনন্দে স্রষ্টার প্রতিটা মুহূর্ত ভরিয়ে দিয়ে নিজেদের করি সমৃদ্ধ, আর সেই আনন্দে আমাদের 'আমি' রা যেন চারিদিক মঙ্গলময় করে তুলতে পারে। 

আর একটু পরেই গোধূলি নামবে, দিনের শেষে দিন শুরুর সেই এক ই কথা বারবার করে বলতে ইচ্ছে করছে
"আমার পরান-বীণায় ঘুমিয়ে আছে অমৃতগান—
তার নাইকো বাণী, নাইকো ছন্দ, নাইকো তান ।
তারে আনন্দের এই জাগরণী ছুঁইয়ে দাও ।
বিশ্বহৃদয়-হতে-ধাওয়া প্রাণে-পাগল গানের হাওয়া,
সেই হাওয়াতে হৃদয় আমার নুইয়ে দাও ॥
আলোকের এই ঝর্নাধারায় ধুইয়ে দাও ।
আপনাকে এই লুকিয়ে-রাখা ধুলার ঢাকা
ধুইয়ে দাও ॥"


Monday, 15 October 2018

পঞ্চমী তিথি

পঞ্চমীর সন্ধে পেরিয়ে এখন রাত। ঢাকের শব্দ, রাস্তায় লোক জনের ঢল আর আলোর রোশনাই এখান থেকে চোখে পড়ছেনা। একটু ফাঁকা লাগছিলো তাই আজ বিকেল থেকে। ইচ্ছে করছিলো, বাড়ির ambience টা পেতে। অনেক লোকজন, আত্মীয় স্বজন, হৈ হৈ, এটা ওটা খাওয়া, রান্না, আলতা সিঁদুর শাঁখা শাড়ি। দুপুর বেলা আধশোয়া হয়ে জানলা দিয়ে এসে পড়া ওই বাঁকা রোদটাতে শুয়ে শুয়ে আনন্দমেলার পাতা ওল্টানো। বিকেল বেলা বাড়িতে বসে ভাই বোনদের জমজমাটি আসর। ছোটথেকে একটু একা একা বড় হওয়ার জন্যে ওই জমজমাটি আসর আর আত্মীয় স্বজন দের ভিড় আমার খুব ভালো লাগে। বিয়ের পরে তাই আমার বন্ধুবর টির বড় ফ্যামিলি কে এককথায় আষ্টে পৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরতে বেশি সময় তো নয় ই কোনো সময় ই লাগেনি আমার। কিন্তু ওই যে হয় কি, যে সহজেই পেয়ে আসে অনেক কিছু তার তাতে অনীহা আসে আর যে পায়না তার থাকে পাওয়ার পিপাসা। তাই সবথেকে ভালো হয় যদি কেউ কিছু না পাওয়া থেকে হটাৎ কিছু পায়। সঠিক মূল্যায়ন হয় হয়তো তাতে। 
সে যাই হোক, কি কথা থেকে কি কথা এসে যাচ্ছে। আসল ব্যাপারটা হলো আজ পুজোর দিন। ছোটবেলার পুজোর ছুটি নেই, নতুন জামার গন্ধ নেই, নতুন পড়ার অপেক্ষা নেই। আনন্দমেলা শুকতারার কাড়াকাড়ি নেই। বাবা কে প্রণাম করা নেই। তবুও আজ পঞ্চমীর রাত। বাতাসের শিরশিরানি শীত শীত ভাব, নীল আকাশ আর ঝকঝকে রোদ্দুর বলে দিচ্ছে পুজো এসেছে। 

'নেই'তো আমাদের জীবনে কতই থাকে,তবু আছেও তো কত কিছু। সেই থাকার মধ্যে দিয়ে বারবার মনে পড়ছে গত কাল সেই সন্ধের সময় কালীবাড়ি গেছিলামনা? সেখানে দেখা গাঢ় নীল অপরাজিতা আর গোলাপি পদ্মের একশো আটটা মালা দিয়ে সাজানো মা এর কথা। কালকে সব ঠাকুরের ছিল হলুদ এর সাজ। চওড়া লাল পাড় হলুদ তাঁতের শাড়ি আর গলায় গাঢ় নীল অপরাজিতা আর একশো আট গোলাপি পদ্মের মালা। সন্ধ্যারাতির সেই এক ই ঘোর। সন্ধ্যারতির একটানা শব্দ ছাড়া চারিদিক খোলা মন্দিরটা তে আর কোথাও কোনো শব্দ নেই। ধুপ, ধুনো কর্পূরের গন্ধ। প্রদীপের আলো। ধীরে ধীরে কেমন সব কিছু শান্ত স্থির হয়ে এলো। হটাৎ করে চোখে জল চলে এলো। 
আমাদের দৈনন্দিন চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিকেশে আমরা এতটাই জর্জরিত থাকি যে অনেক সময় ই আমাদের চারপাশের ভালোলাগা গুলোকে খুঁজে পেতেই ভুলে যাই। হয়তো মিথ্যে ভার্চুয়াল দুনিয়ার মধ্যে নিজের সুখ খুঁজতে ছুটে যাই সোশ্যাল মিডিয়ার কাছে। হটাৎ করে অনেক কিছু প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করে থাকি অন্য কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটার আশায় অথবা আমাদের নিজেদের ই তৈরি কিছু অভ্যেস এর কাছে। কিন্তু ভুলে যাই, যে অভ্যেস একদিন হটাৎ তৈরি হয়ে গেছিলো, কিছু ভেবে নয়, কিছু আশা করে নয়, এমনি ই সহজাত আকুলতা আর সম্পর্কের মিষ্টতা থেকে আসা সেই অভ্যেস এর মধ্যে থাকে এক সহজাত spontaneous ভালোলাগা। ঠিক ওই চাঁপা বা শিউলির মতো, যেভাবেই ফুটুক যেখানেই ফুটুক সেই এক ই সুবাস, সেই এক ই মিষ্টতা আসবেই তার থেকে। এও যেন ঠিক তেমন।  সেই সুবাসিত প্রস্ফুটিত শিউলি বিছানো পথে আগামীর দিনগুলো ভোরে উঠুক শুধু  বাধ্যবাধকতার হাজার টানা পোড়েনে ওই শিউলি যেন নিষ্পেষিত না হয়ে যায়।
আমাদের চলার পথে গড়ে ওঠে কত শত ঘটনা, কত সম্পর্ক, কত জানা, কত চেনা, সময় এগিয়ে চলে, কারোর জন্যে থেমে থাকেনা। আমরা চাই বা না চাই আমরাও সেই সময়ের সাথে সাথে এগিয়ে চলি। দিন শেষে অস্তগামী বিদায়ী সূর্য্যকে সাক্ষী রেখে পরের দিনের উদয় এর আশা বুকে নিয়ে চাঁদের আলোয় দিগন্ত ভেসে যায়। আবার সেই চাঁদ ও ঢলে যায়, নতুন ভাবে নতুন দিনের শুরু হয়। আর এইভাবেই কেটে যায় মাসের পর মাস বছরের পর বছর। কাল যা ছিল আজ যে তা থাকবেই তাও সবসময় সত্যি হয়না। পরিবর্তনশীল জগৎ সংসারে কেউ কেউ অপরিবর্তনীয় ভাবে থেকে যায় অচঞ্চল আবার ঘটনার প্রবাহে কেউ নিজেকে ভাসিয়ে দেয় সেই স্রোতে। তবে যাই ঘটুক বা যাই ঘটতে চলুক ই  না কেন, আমি তো জানি এর পিছনে কারসাজি ওই একজন এর ই। সবার ওপরে বসে সে মুচকি মুচকি হাসে আর বলে, কেমন পারলিনা তো স্থির থাকতে? ভেসে চলে গেলি? ফিরিয়ে দিলি তাকে? যাকে পাঠালাম তোর হাত ধরতে? চিনতে পারলিনা? দেখি এবার কি করিস? অথবা বলে কিরে পারবিতো সবকিছুকে শক্ত হাতে সামলে রাখতে? ভুল করবিনাতো? ঠিক বুঝবিতো? এইরকম কত কথা তার, কত তার ইশারা, কত তার মায়া , কত স্নেহ। রাগ হলেও আমি তার সাথে ঝগড়া করি, অভিমান হলে মুখ ফিরিয়ে থাকি কষ্ট হলে কেন কেন করে অস্থির হয়ে যাই। আবার জানি, যা কিছু হয় বা যা কিছু যা কিছু হচ্ছে তা কোনো এক সুন্দরের, এক শুভ চিন্তায় হচ্ছে। এতো কিছু ভেবে আমরা কি করবো, আর ভাববই বা কেন। আমাদের তো শুধু আমাদের প্রতিটা দিনের প্রতিটা মুহূর্তের সমস্ত দায়িত্ব কর্তব্য সঠিক ভাবে পালন করার কথা। না ঠান্ডা গলার শুখনো দায়িত্ব নয়। মন থেকে ভালোবেসে, উষ্ণ কর্তব্য। উত্তপ্ত নয় মিষ্টি কথোপোকথন। সত্যি কারের আত্মার বন্ধন। আমরা শুধু এই টুকু করি? বাকি যেটুকু করার আর যার করার, তিনি সব করে দেবেন। আমাদের পথ নির্দিষ্ট। সেই পথে চলার সময়টুকু কিভাবে কার সাথে ভাগ করে নেবো তাও। আমাদের শুধু দেখতে হবে ওই পথের সৌন্দর্য্য যেন অমলিন থাকে। বাকি দিলাম ছেড়ে সবকিছু ওই মহাকালের হাতে। কালের নিয়মে সবকিছু আপন আপন ক্ষেত্রে, আপন ছন্দে স্পন্দিত হবে। এর মধ্যে আমি নেই তুমি নেই, আমরা কেউ নেই। আর যতবার ই সেই অসীম মহিমার কাছে নিজেকে সমর্পন করে দি, অমনি মনে হয় যেন চারিদিকে কোথাও কোনো "নেই" নেই, আছে শুধু নিরঞ্জন আনন্দএর বোধ আর অসীম নিশ্চিন্ততার স্নিগ্ধতা। কি শান্তি, কি স্বস্তি, কত আলো আর একরাশ ভালোলাগা। আমার খুব প্রিয় সেই সুর মনে নিয়ে ঘুমোতে গেলাম আজ "তুমি সুন্দর যৌবনঘন রসময় যাবো মূর্তি,
                                                                     দৈনভরণ বৈভব তব অপচয় পরিপূর্তি। 
                                                                      নৃত্য গীত কাব্য ছন্দ কালগুঞ্জন বর্ণগন্ধ-
                                                                      মরণহীন চিরনবীন তব মহিমাস্ফুর্তি। 








Saturday, 13 October 2018

Wednesday, 3 October 2018

কোনোদিন অভিমান হয়েছে? ভীষণ অভিমান?
চিৎকার করে দৌড়ে গিয়ে অনেক ঝগড়া করতে হয়েছে? ইচ্ছে?
অভিমানে বুকের মধ্যেটা করেছে ? তোলপাড়?
ঝগড়া করে, মেরে, ধরে নাড়িয়ে দিয়ে বলতে পেরেছো কখনো? বোঝোনা?
কেন বোঝোনা?
কষ্ট হয় যে...বোঝোনা?
অভ্যেস গুলো ছিল তোমার দেওয়া,
আর কখন তা মিশে গেল আমার সাথে-
অভ্যেস গুলো আমাদের 'বদভ্যেস'
তবু সেই অভ্যেস গুলো থেকে একটু সরে এসে যেই আমাদের একজন দাঁড়ায় একটু এদিকে
অন্যজনের হয় ভীষণ অভিমান।
সেই অভিমানে করতে পেরেছো সবকিছু এলোমেলো?
তুফান উঠেছে?
ঝোড়ো হাওয়ায় সব অগোছালো এলোথেলো করে দিয়ে
পেরেছো বলতে?
কেন কেন কেন
দৌড়ে গিয়ে, ঝাঁপিয়ে পরে, সমস্ত অভিমান কে গলিয়ে দিতে পেরেছো বৃষ্টি করে?
সেই বৃষ্টিতে ভিজেছে কখনো তোমার বুকের বোতাম?

GOd Help them who help themselves . ভগবান তাকেই সাহায্য করে, যে নিজে নিজেকে সাহায্য করে

 আমাদের জীবনে অনেক রকম phase আসে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রত্যেক মুহূর্তের নিজস্ব কিছু কারণ থাকে, কিছু purpose যা অনেক পরে আমরা বুঝতে পারি। কখ...