Saturday, 14 September 2019

ভানুসিংহের পদাবলী


কবিগুরু মাত্র ১৬ বছর বয়সে আস্বাদন করেছিলেন ব্রজবুলি  ভাষার বৈষ্ণব পদাবলীর। আর তার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রচিত হয় ভানুসিংহের পদাবলীর। যার প্রতিটা ছত্রে ছত্রে লুকিয়ে আছে অসামান্য প্রেম পূজা। ভানুসিংহের পদাবলীতে আছে মোট  ২২ টি গান
  • "Boshonto aoulo re" ("বসন্ত আওল রে")
  • "Shunoho shunoho balika" ("শুনহ শুনহ বালিকা")
  • "Hridoyoko shadh mishaolo hridoye" ("হৃদয়ক সাধ মিশাওল হৃদয়ে")
  • "Shyam re, Nipoto kothino mon tour" ("শ্যাম রে, নিপট কঠিন মন তোর")
  • "Sajani sajani radhika lo" ("সজনি সজনি রাধিকা লো")
  • "Bodhua, hiya 'por ao re" ("বঁধুয়া, হিয়া 'পর আও রে")
  • "Shuna shokhi, bajoto bashi" ("শুন সখি, বাজত বাঁশি")
  • "Gohono kushumokunjo-majhe" ("গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে")
  • "Shotimiro rojoni, shochokito shojoni" ("সতিমির রজনী, সচকিত সজনী")
  • "Bojao re mouhan bashi" ("বজাও রে মোহন বাঁশি")
  • "Aju shokhi, muhu muhu" ("আজু সখি, মুহু মুহু")
  • "Shyam, mukhe tobo modhur odhorome" ("শ্যাম, মুখে তব মধুর অধরমে")
  • "Shojoni ga" ("সজনি গো")
  • "Badoroborokhono nirodogorojono" ("বাদরবরখন নীরদগরজন")
  • "Modhobo, na koho adorobani" ("মাধব, না কহ আদরবাণী")
  • "Shokhi lo, shokhi lo, nikoruno Madhob", ("সখি লো, সখি লো, নিকরুণ মাধব")
  • "Bar bar shokhi, baron koronu" ("বার বার সখি, বারণ করনু")
  • "Hom jobo na robo shojoni" ("হম যব না রব সজনী")
  • "Morono re" ("মরণ রে")
  • "Ko tuhu boulabi mouye" ("কো তুঁহু বোলবি মোয়")
  • "Shokhi re, pirit bujhobe ke" ("সখিরে, পীরিত বুঝবে কে")
  • "Hom shokhi darido nari" ("হম সখি দারিদ নারী")

রবীন্দ্রের রাবেন্দ্রিক ভাব অভিন্ন রেখে এই ভানুসিংহএর পদাবলীকে যদি আমরা আমাদের ভাষায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে আনতে চাই তাহলে খুঁজে পাই এক প্রেমাতুর প্রেমিক হৃদয়ের যে তাঁর প্রিয় মিলনের আশায় কোনো এক মিলন কুঞ্জ সাজিয়ে অপেক্ষা করছে আর অবিরত তার আবাহন করে চলছে। বলছে , সখি এস, ভয় না পেয়ে , লোকলজ্জা ত্যাগ করে আমার কাছে এস। তোমার প্রেমপূর্ণ হৃদয় কে নীল অন্তর্বাসে আচ্ছাদিত করে, তোমার ওই হরিণচোখে বিমল হাসি এনে আমার এই কুঞ্জবনে এস। ফুলের সৌরভে ভরা পাখির সুরে মদির এই জ্যোৎস্না রাত যে বৃথাই চাঁদের সৌরভে ভেসে যায়।

গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে মৃদুল মধুর বংশি বাজে,
বিসরি ত্রাস-লোকলাজে সজনি, আও আও লো।
পিনহ চারু নীল বাস, হৃদয়ে প্রণয়কুসুমরাশ,
হরিণনেত্রে বিমল হাস, কুঞ্জবনমে আও লো॥
ঢালে কুসুম সুরভভার, ঢালে বিহগ সুরবসার,
ঢালে ইন্দু অমৃতধার বিমল রজত ভাতি রে।
মন্দ মন্দ ভৃঙ্গ গুঞ্জে, অযুত কুসুম কুঞ্জে কুঞ্জে,
ফুটল সজনি, পুঞ্জে পুঞ্জে বকুল যূথি জাতি রে॥
দেখ সখি, শ্যামরায় নয়নে প্রেম উথল যায়,
মধুর বদন অমৃতসদন চন্দ্রমায় নিন্দিছে।
আও আও সজনিবৃন্দ, হেরব সখি শ্রীগোবিন্দ
শ্যামকো পদারবিন্দ ভানুসিংহ বন্দিছে॥


এরপরে মিলন কাতর প্রিয় সম্মুখে লজ্জানত প্রিয়া কে দেখে সে আকুতি করে তার মুখপানে চেয়ে দেখার জন্যে। তার আগমনে যখন প্রিয়া বক্ষের কুসুমহার খসে পড়বে, খসে পড়বে সেই নীল আচ্ছাদন তখন হয়তো সেই মিলন আরো মধুময় হয়ে উঠবে সহচরী বৃন্দের মিলন গীতের মধ্যে, এ মিলন ওই নৃত্য গীতের মতোই আনন্দময় আবার গৃহবধূর স্বামী মঙ্গল কামনায় রাঙা সিঁথির মতোই পবিত্র। ওই মিলন কুঞ্জ আকাশ তখন মদির হয়ে উঠবে, মৌমাছি গুঞ্জরণে হবে চঞ্চল, আমার প্রিয়ার সোনার বর্ণ মঙ্গল দীপের মতো সেই আকাশ আলোকিত করে রাখবে তার নিজ গন্ধে সুরভিত হয়ে থাকবে ওই কুঞ্জ গৃহ।


সজনি সজনি রাধিকা লোদেখ অবহুঁ চাহিয়া,মৃদুলগম শ্যাম আওয়েমৃদুল গান গাহিয়া।পিনহ ঝটিত কুসুমহার,পিনহ নীল আঙিয়া।সুন্দরী সিন্দূর দেকেসীঁথি করহ রাঙিয়া।সহচরি সব নাচ নাচমিলন-গীতি গাও রে,চঞ্চল মঞ্জীর-রাবকুঞ্জগগন ছাও রে।সজনি অব উজার মঁদিরকনকদীপ জ্বালিয়া,সুরভি করহ কুঞ্জভবনগন্ধসলিল ঢালিয়া।মল্লিকা চমেলী বেলিকুসুম তুলহ বালিকা,গাঁথ যূথি, গাঁথ জাতি,গাঁথ বকুল-মালিকা।তৃষিতনয়ন ভানুসিংহকুঞ্জপথম চাহিয়ামৃদুল গমন শ্যাম আওয়ে,মৃদুল গান গাহিয়া।



যুথী বেলি মল্লিকা চামেলীর কুসুম্ভারে ভরা সেই পথ এর দিকে মিলন আশায় হয়তো যুগ যুগ ধরে কত ভানুসিংহ তৃষিত নেত্রে তাকিয়ে আছে। এমন জ্যোৎস্না ভরা রাতে এ লেখা কে ভীষণ ভাবে জীবিত করার জন্যে। 

Saturday, 17 August 2019

রক্তনীল 'অপরাজিতা

আজ নাহয় বৃষ্টি নামুক
ভাঙ্গুক নীরবতা -
আজ নাহয় পাগল হাওয়ায় ,
হোক মাতাল কেবল রক্তনীল 'অপরাজিতা'.
আজ নাহয় বাঁধন খুলুক ,
ভাসুক তরী -
দূর দিগন্তে দূরে
আজ নাহয় আবার তুমি ধরলে কলম
বাঁধলে আমায় নব্য সুরে।।

Thursday, 15 August 2019

রাখী পূর্ণিমা

ছোট থেকেই আমি  ,ইশ আমার বেশ একটা ভাই থাকতো। বেশ কেমন দিদি দিদি বলে সঙ্গে সঙ্গে ঘুরতো। রাখী বা ভাইফোঁটার দিন গুলোতে আমার পিসতুতো মাসতুতো দাদা দিদির বন্ধুরা এদের সবাইকে নিয়ে অবশ্য  খুব ভালোই কাটতো। স্নান করে, একটু বড় হতেই আবার পাকামি করে কেঁদে কেটে শাড়ি পড়তাম, প্রদীপ জ্বালিয়ে শাঁখ বাজিয়ে ঘটা করে হতো ভাইফোঁটা বা রাখিপূর্ণিমা পালন। বাইরে থাকাকালীন ও ভাই দাদা ঠিক ই কারোর না কারোর হাতে রাখি পড়িয়ে বা ফোঁটা দিয়ে তবে জল খাই, আর পোস্ট এ এখনো রাখি গিয়ে পৌঁছয় কাঙ্খিত জায়গায়, তবু যেন কি যেন একটা থাকেনা, কি যেন একটা নেই। পাঁশকুড়াতে থাকাকালীন একদল বাচ্ছা ছেলেমেয়ে আসতো , ওদের হাতে রাখি পড়াতাম আর ওরা খুশিমনে যেত। 
আজকে একটা অন্যরকমের খুশির সাক্ষী হলাম। সকালে কাজের দিদি আসবেনা বলে গেছিলো, কালকে যখন পা ঘষছিলো, মনে হলো কিছু বোধয় দরকার। বললাম কিগো দিদি, বললো না কিছুনা, বুঝলাম, বলতে ইতস্তত করছে। দুজনে আমরা থাকি, তার মধ্যে এই দিদি কখন যেন নিজেদের ফ্যামিলি মেম্বার ই হয়ে গেছে। হাতে কিছু টাকা দিলাম, বললাম ছেলে মেয়েকে মিষ্টি কিনে দিও। খুব খুশি হয়ে গেলো। ওর খুশি দেখে হটাৎ যেন কেমন ঘোর লেগে গেল, মনে হলো এই টুকুতেই এত খুশি, কিছুই যে করতে পারিনা, তাতেই। মনে পরে গেল, আমাদের ছোটবেলার আরতি পিসির কথা। যে স্কুল এ যাবার সময় আমাকে ভাত খাইয়ে দিতো জোর করে। আমি কিছুতেই খেতে চাইতামনা, তারপরে আবার তাকেই খাইয়ে দিতাম আমার থালা থেকে, আমার বাবাকে সেই পিসি ফোঁটা দিতো। নিজের যতটুকু সামর্থ তাই দিয়ে বাবাকে লুঙ্গি গেঞ্জিও দিতো মনে আছো। হটাৎ আমার কি মনে হলো, আরো কিছু টাকা আমাদের এই দিদির হাতে দিয়ে বললাম কালকে রাখী তো? এই নাও তোমার ভাইয়া তোমার জন্যে রেখে গেছে। ও অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে চাইলো, আরে ভাইয়া তো বলো, ভাই হয়না তোমার? রাখীতে তোমাকে সে কিছু না দেয় কেমন করে ? ওর চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে থাকলো। হাত দুটো আধা নমস্কারের ভঙ্গিতে তুলে কোনোরকমে বললো "ইতনা ইজ্জত মুঝে আজতক কিসিনে নেহি দিয়া, মেরি আপনি ভাই ভি নেহি ", ইজ্জত, দিতে পেরেছি তবে? আমার চোখ ও শুষ্ক থাকলোনা। 

Thursday, 8 August 2019

So many times when I prayed you give me light
On a sudden I felt that that is hidden insight
On a sudden when I see this floating sky
Green grass blue sky
Gentle wind slows down
Let me see, let me touch
Let me flow and blow on
Time passes left some marks
We decide which to carry or let go
On our works

নীল আকাশ, সাদা সাদা  মেঘ
সকাল থেকেই দিনটা ছিল উড়ো উড়ো
পুজোর আগের আবেশ, পুজো আসার আমেজ
ছোটবেলার স্মৃতি হটাৎ করে এসে এলোমেলো করে দেওয়া কাজের আয়েশ
ডেডলাইন গুলো জমা হতে থাকলো
ডেস্ক এ কাজ হতে থাকলো পেন্ডিং
কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথেও সেই আবেশের হলোনা হের্ ফের
দুঃখ বেশিক্ষন রাখতে আমি পারিনা,
বেশিক্ষন দুঃখ নিয়ে ঘ্যানঘ্যান করতেও ভালো লাগেনা
তবু কোনো কোনোদিন হটাৎ হটাৎ বিষণ্ণতায় মুড়ে যায় একেবারে
আবার এই আজকের মতন,
হটাৎ কোনো কারণ ছাড়াই আনন্দের মেজাজ নকশীকাঁথা পেতে বসে থাকে
গল্প বোনার জন্যে
ইঁট কাঠ পাথরের শহর তখন হয়ে যায় রাপুঞ্জেলের রাজত্ব
সেখানে আরব্য রজনীর জিনি র আসতে থাকেনা কোনো বারণ
আর হটাৎ করে এই ভরা দুপুরে অজস্র deadlines আর analysis সরিয়ে
জানালা দিয়ে উঁকি মেরে যায় একফালি আকাশ
এই মেয়ে আসবি নাকি?
ডানা দেব, উড়বি ?
সময়ের পালতোলা নৌকো কখন ভাসিয়ে নিয়ে যায় দুঃখ, নাপাওয়া, ম্যান কষাকষি, ঝগড়া
ওই সাদা সাদা মেঘের হাত ধরে শিরশিরানি বাতাসের সুরে সুরে
শুধু পরে থাকে অজস্র ভালো বাসাবাসি।

ভালোলাগার অনুরণনে কাঁপা কাঁপা সুরে
আমোদিত আকাশ মদির হয়ে তখন চোখ বন্ধ করে ফেলে
ভেতরের আনন্দ বাইরে যাতে উদ্দামতা না নিয়ে আসে
তাই সংযত করতে থাকে নিজেকে
হাতের মুঠোয় বন্ধ আর এক হাত নিষ্পেষিত হয়ে যাওয়ার রোমাঞ্চকতায়
উচ্ছকিত হয়ে লাল হয়ে পরে
সেই স্পর্শিত উষ্ণ উপলব্ধি।
শৃঙ্খলিত চিকণ সবুজ দূর্বা মুখ তুলে তাকায়
আর বন্ধ চোখের ভেতরে নিজের মধ্যের আলোয়
সমস্ত অন্ধকার দূর হয়ে গিয়ে যেন পুনরায় সকাল হয়।


Monday, 5 August 2019

এইরকম ই কোনো এক সময় ছিল সেটা। বৃষ্টি বৃষ্টি, ভেজা ভেজা দিন। season চেঞ্জ এ জ্বর হলো। অল্প অল্প ঘুষঘুষে , ঘ্যান ঘ্যান করে কাঁদতাম। ক্লাস সেভেন কি এইট তখন। মুখে কিছু ভালো লাগছেনা। বাবা সকালে দেখে গেছে জ্বর। তখন ফোন ছিলোনা বাড়িতে। খবর নেবার উপায় নেই, জ্বর যে তেমন তা নয়, তবু বাবার মন বসছিলোনা স্কুল এ তে। ক্লাস শেষ করেই তারতারি বাড়ি ফিরলো, হাতে কাঁচা পেয়ারা আর সেবারের প্রথম শারদীয়া আনন্দমেলা। 

Sunday, 28 July 2019

নাবলা যত গল্প ছিল আমার মনে
তোমার সনে
সব পাপড়ি হয়ে ছড়িয়ে আছে
হয়তো কৃষ্ণচূড়ার বনে
নীল আকাশ মেঘের ভেলা
উতল হাওয়ায় ধায়
আমার বলার ছিল
শুধু তোমার শোনার ছিলোনা আর দায়
এবারে আমি চুপ করলাম
জানি নেই নেই আর কিছু প্রয়োজন
তুমি তোমায় পেয়েছো ফিরে
রাখা রইলো সব আয়োজন
চাঁপার আলো , জুঁই এর সুবাস
থাকলো অপেক্ষায়
তোমার নেই আর কোনো দায়
তোমার সকল নিয়েই তোমায় পাওয়া
দুঃখ এবং সুখে
তোমার কথা কঠিন করে
বড় কঠিন করে বাজে এ বুকে
তুমি থেকো তোমার মতো
সুরের পথ টি চিনে
শুধু নাবলা কত যেন গল্প ছিল আমার মনে
তোমার সনে
রইলো পরে পাপড়ি হয়ে
কুড়িয়ে নিও কখনো
যদি তোমার কখনো পরে মনে
একটু করো যত্ন। 


Friday, 19 July 2019

বদলে যাওয়া পৃথিবীতে থমকে যাওয়া আমি
আমার বৃষ্টিস্নাত স্নিগ্ধ বেলায়
কেন বিষন্ন বনভূমি
মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি, ভেজা হাওয়ায়
বাণিহারা সবকিছু
থাকনা নাহয়
উতল হওয়া মানা
তবু মনে আমার বেজেই চলে
"ও যে মানে না মানা ".......

শব্দের ভারে বাতাস হয়েছে ভারী
তাই আজ নাহয় লেখা হোক চুপকথা।
নাহয় কিছু স্তব্ধ মুহূর্তের, মৌনতায় ধরা দিক গভীরতা।
ধ্যানমগ্ন চারিদিক, মুখরিত নীরবতা।
আজ সব ছেড়ে দিও
শুধু প্রাণ পাক সঁপে দেওয়া সখ্যতা।।

ধ্যানমগ্ন পৃথিবীতে মুখর নীরবতা
মৌন হয়েই প্রাণ পাক শুধু সঁপে দেওয়া সখ্যতা 

Friday, 12 July 2019

বেহিসেবি সময় কখনো কখনো হিসেবি হয়ে ওঠে খুব। বিকেলবেলার পড়ন্ত রোদ টা যখন কাঁচের জানলা দিয়ে উঁকি মেরে যায়, আর মন না বসা মন কিছুতেই আর work desk এ বসে না থেকে আকণ্ঠ ডুবদিতে চায় পাশের সবুজ টাতে। ঠিক তখন আনমনে হাত হটাৎ না বলা মোবাইল তুলে নেয়। একসময় কথা ফুরোতোইনা। হোয়াটস্যাপ, এমনি msg , ঘন্টার পর ঘন্টা ফোন কল। তারপরেও মনে হতো কিছুই তো বলা হলোনা। যেন মনে হতো জন্ম জন্মান্তর ধরে জমে আছে কত না বলা কথা। তারপর হটাৎ করে বেহিসেবি সময় চোখে চশমা লাগিয়ে হিসেবের খাতা খুলে বসে। পাওয়া না পাওয়ার নিক্তি তে বিচার হয় সম্পর্ক। যত্নে লাগানো ফুলগাছ গুলোর মাঝখান গুলোতে হটাৎ একরাশ শূন্যস্থান। একসময় সেই শূন্যস্থান ভরাতে যত্ন নিতো ফুলের পাপড়ি, প্রজাপতির পাখারা। আজ সেখানে হটাৎ জন্মে যায় আগাছা। একেবারে ভর্তি হয়ে যায়। অঘ্রানের শিশির টুপটুপিয়ে পড়তে গিয়েও থমকে দাঁড়ায়, ও এখানে তাহলে আগাছার ই থাকার কথা ছিল। 
বাতাস ও বইতে গিয়েও ইতস্তত করে। যাবো কি যাবোনা। হটাৎ সবকিছুর মধ্যে থেকে সহজাত spontaneity নিয়েছে বিদায়।  বেহিসেবি মন ভয় পায়। আপন নিয়মে চলার গতি থমকে যায়। হিসেবের পাতায় মাপা হতে থাকে দিন রাত্রির কমা বাড়া। আদুরে রাত্রি হটাৎ মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে ওঠে। বাধাহীন পথ ও আর অনন্ত হয়না, একটু এদিক থেকে ওদিকে গেলেই নেভিগেটর লেডি ও যান্ত্রিক গলায় বলে ওঠে, u have to take the right turn or ১০ mins to reach ur destination . বেহিসেবি পথ হিসেবি হয়েছে। 

Wednesday, 10 July 2019

আদর মাখা ছোটবেলাতে বিকেলবেলা গুলো আসতো ভীষণ মিষ্টি হয়ে। মা চুল টানটান করে দিয়ে দুপাশে দুটো ঝুঁটি বেঁধে দিতো। বাবা একদম একটা করে চুল বাঁধা পছন্দ করতোনা। কোঁকড়ানো চুলে দুটো করে চুল বাঁধলে ঠিক যেন ফুলের মতন থোকা হয়ে থাকে। চুল বাঁধা হয়ে গেলে মা কাজল পড়াতে চাইতো আর বাবা বলতো না কাজলে চোখ নষ্ট হয়ে যাবে। ফলত অনেক বড় বয়স পর্যন্তই আমি মায়ের হাতে ঘরে পাতা কাজল পড়েছি। আর য্খন actually মেয়েরা কাজল এমনকি eyeliner tiner ও কি জিনিস জেনে গেছে , তখন থেকে আর কাজল পড়াই হয়নি আমার। ফলে অভ্যেসটাই চলে গেছিলো কাজল পড়ার। 
চুল বেঁধে কখনো সাদা, কখনো নীল কখনো সেই প্রিয় লাল রঙের ফুলফুল ফ্রক পরে বাবার হাত ধরে আমি বেড়াতে বেরোতাম। দিদি বলতো ওই যে বেড়াতে চললেন মহারানী। আমি লাফিয়ে লাফিয়ে প্রথমেই যেতাম পাশের মাঠে, যেখানে বাদামি রঙের গরুটা বাঁধা থাকতো, সেখানে। তাকে খাওয়াতাম কচি বাঁশপাতা। আর ওর গলায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে কি যে গল্প করতাম কিজানি। তারপরে আমাদের গন্তব্যস্থল হতো সামনের ছোট্ট কালভার্ট টা। সেখানে একদিক থেকে পাতা ভাসাতাম আর অন্য দিকে সেই পাতাটা ভেসে বেরোচ্ছে কিনা দৌড়ে দেখতে যেতাম। তারপরে সামনের মাঠ এ তে একটু বসে ফিরে আসা। এই ছিল আমার আর বাবার প্রাত্যহিক রুটিন। ক্লাস চেঞ্জ হয়, একটা একটা করে ধাপ বদলায়, কালভার্ট এর পাতা ভাসানোর সাথে সাথে শিখে ফেলি স্রোতের অঙ্ক , জোয়ার ভাঁটার হিসেব , গতি এমন কত কি। তবে শুধুই অঙ্ক , বিজ্ঞান নয়, ওই পাতা খাওয়ানো আর স্রোতের যাওয়া আসা দেখতে দেখতে কখন বাবা তার ছোট্ট মেয়ের মধ্যে দিয়ে দিয়েছিলো আরো অনেককিছু। কোনো কোনোদিন সেই বেড়াতে যাবার ব্যতিক্রম হলেই মনখারাপ হতো। তারপর আরো বড় হলাম, কখন বেড়াতে যাওয়া রূপান্তরিত হলো দাবার প্রাকটিস আর সন্ধের ছবি আঁকার মধ্যে। তারপর আরো...আরো....এখন আর সেই বিকেল আসেনা, ল্যাব থেকে যাতে বিকেলে বেরোতে পারি, তারজন্যে সবাই খুব রাগায় ও আমায়। কি করে বোঝাই ওদের বাড়িতে যে আমার এক আকাশ বিকেল আছে, সন্ধে আছে। আছে মরসুমি পাখির ঘরে ফেরা। 

তবু সেই বিকেল আসেনা। এখানের গরু গুলো ও যেন আর আদর করে ঘাড় নেরে দাঁড়িয়ে থাকেনা। চারিদিকের পৃথিবীর মতন এরাও বড় হয়ে গাছে যেন, ব্যস্ত হয়ে গেছে, মুডি হয়ে গেছে। কচি পাতাও আর হাতের নাগালে থাকেনা, ডাল নুয়ে দেবার ও কেউ নেই যে আর ওরাও বোধয় ওই যে সবার মতো মুডি হয়ে গেছে, ইচ্ছেমতন আসবে বা আসবেনা। তাই আর ছুঁতে যাইনা ওদের কাছে, দূর থেকেই দেখি, ভালো আছে। সিম্প্লিসিটির হিসেব গেছে হারিয়ে। তবু সেই সব কিছুর মধ্যে আমার বাবার সেই জোয়ার ভাঁটার গল্প সাথে নিয়ে আজ ও সন্ধ্যে বেলার আমি অবাক হৈ। কখনো মনখারাপ লুকিয়ে কখনো মনখারাপ  ভুলে হেসে উঠি। বুকের মাঝের তোলপাড় গলার কাছে কি যেন একটা আটকে রেখে যখন সেই বিকেলের কালভার্ট খুঁজে চলে মনে মনে, বাইরে অচঞ্চল হাসিতে তখন হয়তো কেউ বলে ওঠে তুই তো খুব খুশি। আর আমার ভেতরের আমিটা চোখ বন্ধ করে দেখতে পায় , কখনো স্রোতের টানে, কখনো স্রোতের প্রতিকূলতায় পাতাটার এগিয়ে চলা, নিজ গন্তব্যে। পাঁকে আটকে গেলে হবেনা। চরৈবেতি চরৈবেতি। এগিয়ে চলাই জীবন। স্থির অচঞ্চল ভাবে এগিয়ে চলা। 

GOd Help them who help themselves . ভগবান তাকেই সাহায্য করে, যে নিজে নিজেকে সাহায্য করে

 আমাদের জীবনে অনেক রকম phase আসে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রত্যেক মুহূর্তের নিজস্ব কিছু কারণ থাকে, কিছু purpose যা অনেক পরে আমরা বুঝতে পারি। কখ...