Thursday, 4 November 2021

ভূত চতুর্দশী, চোদ্দ প্রদীপ, অলক্ষী বিদায়, লক্ষী পুজো, কালীপুজো

আমাদের ছোটবেলাতে দিওয়ালি কি জানতামনা, জানতাম শুধুই কালীপুজো। আর জানতাম এটা সবথেকে আনন্দের দিন। দূর্গা পুজো চলে যাবার পরে , শীত শীত ভাবটা ক্রমশঃ বাড়ছে, দূর্গা পুজো চলে যাবার মনখারাপ তখন ও ছেড়ে চলে যায়নি, এমন এক সময় থেকে কালীপুজোর প্রস্তুতি। প্রস্তুতি বলতে বিশেষ কিছুইনা, একদম ছোটবেলাতে বাবা মোমবাতি কিনে আনতো আর ফুলঝুরি, রংমশাল, চরকি। সেই সাদা সাদা প্যাকেট এ ধপধপে সাদা মোমবাতি আর কাগজের প্যাকেট এর একপাশে একটা মেয়ে ফুলঝুরি হাতে দাঁড়িয়ে, অপরপাশে একটা বাচ্ছা ছেলে মোমবাতি হাতে দাঁড়িয়ে এইরকম ছবি দেওয়া কাগজের প্যাকেট এর ভেতরে ঈষৎ স্লেট কালার এর ফুলঝুরি, এই দুটো জিনিস দেখলেই বুকের ভেতরটা আনন্দে লাফিয়ে উঠতো। গোটা বাড়ি সাজানো হবে মোমবাতি দিয়ে, মা মাঝখান থেকে আধখানা করে দিতো মোমবাতি গুলোকে, তখন বুঝতামনা, ভাবতাম ওটাই বোধয় করতে হয়, এখন বুঝি, সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার এ আনন্দের সরঞ্জাম কেও রেখেঢেকে বুঝে শুনে খরচ করতে হতো। তিরিশ বছর আগে একথা জানা সবার ই ছিল হয়তো, কিন্তু এখন প্রাচুর্য্যের পরিমানের মধ্যে সেদিনের সেই ইতিহাস ঢাকা পরে গেছে। অর্থ আর আনন্দ সামন্তলারে কোনোদিন ই চলেনি, তাই ওই বুঝে খরচের মধ্যে কোথাও কখনো আনন্দের ঘাটতি হয়নি, বরং, ওই মোমবাতি, ফুলঝুরি , চরকি থেকেই আবার বেশ কিছু বেঁচে যেত, পরের বছরের জন্যে, বাবা বলতো এই দেখো আমার মিতব্যয়ী মেয়ে, এখান থেকে আবার বাঁচিয়ে রাখছে। আমার দিদা মানে মেজদিদা বলতেন, কিপ্টে বলে বদনাম করোনা তোমরা ও আমাদের লক্ষী মেয়ে। মেজদিদা এ পৃথিবী থেকে চলে যাবার আগে পর্যন্ত আমাদের বেশির ভাগ ছোটবেলায় কেটেছে, মেজদিদা দাদুদের পাঁচলার বাড়িতে। বিশাল তিন মহলা জমিদার বাড়ি, এত পুরোনো হয়ে গেছে যে জায়গায় জায়গায় ইঁট খুলে পড়া , বালি পড়া, ভেঙে পড়া পাঁচিল, ফুটিফাটা মেঝে। বিশাল বাগানে চাঁপা, হাস্নুহানা, নারকেল সুপুরি থেকে কোন এমন ফলের বা ফুলের গাছ বাকি ছিলোনা , লতিয়ে লতিয়ে তিনতলার ছাদ পর্যন্ত ওঠা মাধবীলতা আর অপরাজিতা, ছাদ টা ছিল আমার সবথেকে প্রিয় জায়গা, বিশাল ছাদ , একপাশে ঠাকুরঘর। ছাদের কোথাও ভাঙা, কোথাও খুব শেওলা, সেসব জায়গায় যাওয়া বারণ। একদম মাঝের চাদটাতেই যাবার অনুমতি ছিল। সেটাও কম কি, একধারে শুকোতো তেঁতুল, ছোবড়া, এসব। দূরে দেখা যেত দীঘি, শোনা যেত সন্ধ্যায় আজানের শব্দ। দূরের কালীবাড়িতে সন্ধ্যারাতির ঘন্টাধ্বনি। আমি আর দিদি হাঁ করে শুনতাম, দেখতাম। এঘর ওঘর করতাম দিদার পায়ে পায়ে, দুপুরে বড় বড় জানলায় বসে পাথরের থালায় রাখা গুড় তেঁতুল খেতাম চুরি করে, বিছানায় শুয়ে শুয়ে বাঁটুল দি গ্রেট পড়া বা দিদার কাছে শুয়ে শুয়ে পুরাণের গল্প শোনা। ভেতর বাড়িতে বড় পুকুরের ধারেই ছিল তুলসী তলা , দিদা চান করে উঠে তুলসী তলায় পুজো করে তবে ভেতরে ঢুকতো। আমি মেনি বেড়ালের মতন পায়ে পায়ে ঘুরতাম। লক্ষী পুজো , কালীপুজো র সকালে আল্পনা দেওয়া শেখাতো দিদা, আমি আর দিদি দিতাম। সিঁড়িতে সিঁড়িতে লক্ষীর পা আঁকা, সেই তিনতলার ঠাকুর ঘর পর্যন্ত।ঠাকুর ঘরটা ছিল সবথেকে আকর্ষণীয় আমার কাছে। লোহার শেকল খুলে ভেতরে ঢুকলেই ধুপ ধুনো কর্পূর চন্দন সবকিছু মিলেমিশে এক অদ্ভুত সুন্দর গন্ধ থমকে থাকতো, অনেকটাই বড় ঠাকুরঘর। একদিকে লাল বেদির ওপরে ঠাকুরেরা সবাই তারপরে মাথার কাছে লক্ষীর ঝাঁপি টাঙ্গানো , লম্বা একটা জানালা। তার নিচে কতগুলো বই রাখা, কি কি বই ছিল সব এখন আর মনে নেই। কালীপুজোর রাতে ছাদে এই এত্ত বড় করে আল্পনা আঁকা হতো, মাঝখানে থাকতেন লক্ষী, নারায়াণ, কুবের। দূরে প্রায় অন্ধকারে থাকতো গোবরে তৈরি অলক্ষির মূর্তি , সন্ধেবেলায় গা ধুয়ে এসে কোনোরকমে জড়ানো চুলের গোছা ভালো করে আঁচড়ানোর পরে চিরুনিতে উঠে আসা চুল দিয়ে তৈরি হতো ওই অলক্ষীর মাথার চুল। সব বর্ণনা ঠিক মনে নেই আমার, আমার এক দিদি রিসেন্টলি খুব সুন্দর করে বর্ণনা করেছে কালীপুজোর দিনের এই অলক্ষি বিদায় আর লক্ষী পুজোর। আমার মনে আছে ঠাকুর মশাই এসে বাঁ হাতে কোনোরকমে একটি ফুল ফেলে দিলে, তাকে কুলোর বাতাস দিয়ে দূরে পুকুরের ধারে বা বাঁশবনে বিদায় করে আসা হতো। আর ছাদের মাঝখানে মস্ত করে করা আল্পনার মধ্যে শুরু হতো লক্ষী নারায়ণ কুবেরের পুজো। আলো আর মঙ্গল শাঁখ এর মধ্যে লক্ষী স্থাপিত হতো অন্দরে। সমস্ত অন্ধকার জায়গায় জ্বলে উঠতো আলো। 







Monday, 13 September 2021

বেশ অনেকগুলো দিন পরে, আবার এই সময় টাতে আমার অকাজের জায়গা বা আমার খুব নিজের জায়গাটা খুলে বসলাম। আগে, ২০১৮ এর অনেকটা সময় বিশেষ করে, ওই যে মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন ...এই সময় ১০টা নাগাদ রাতের খাওয়া শেষ করে, দিনের কাজ গুলো গুছিয়ে রেখে, সেদিনের মতো সব কাজ শেষ করে এসে বসতাম আমার এই মোহনার ধারে, সারাদিনের রোজনামচা লিখে রেখে তবে শুতে যেতাম। আর চোখ থাকতো স্ক্রিন এর ওপরে, ডানদিকে গুগল+ এর নোটিফিকেশন এর ওপরে, ওই যে লাল হয়ে যেটাতে লেখা থাকতো, সেইদিনের কোনো বিশেষ বার্তা এলো কি এলো না, এইভাবেই আমার কাজের সময়ের কিছুটা চুরি করে আমি সযত্নে দিয়ে রাখতাম এই মোহনার ধারে বসার জন্যে। আর মনের মধ্যে থাকতো এক অনন্য অস্ফুট অপেক্ষা। এই মোহনার ধারের অদ্ভুত ওই নোনা হাওয়ায় যেন আমায় সত্যি এক স্বপ্নরাজ্যে নিয়ে যেত। 

কাটলো একটা বছর। সময়ের আড়ালে আবডালে, আদোরে আবদারে, বাস্তব আর স্বপ্নের মেল্ বন্ধনে অনস্বীকার্য পরিবর্তনের আলতো ছোঁয়ায় পুরোনো কিছু সময় বারবার উঁকি দিয়ে যেতে থাকলো। এ এক মহা মুশকিল আমার, স্মৃতিশক্তি টা বাবার আনুকূল্যে ছোটথেকে একটু বেশিমাত্রায় প্রখর। কোনোকিছুই ভুলিনা ছাই। তার ওপর আবার আছে commitment আর consistency এর জ্বালা। একবার কোনো অভ্যাসে পেয়ে বসলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে রীতিমতো নিজের সাথে যুদ্ধ করতে হয়। করছিলাম ও এই কয়দিন ধরে। সমাধান পেলাম ওই যে সেই একটাই জায়গায়। লাল শাড়ি তে গাঢ় ঘন হয়ে আসা সন্ধের শাঁখ ঘন্টা ধুপ ধুনো আর ঢাকের শব্দের মধ্যে দিয়ে সেই আমার পরম শান্তির জায়গা থেকে ভেসে আসা অমোঘ আশ্বাস, যা বহুবার বহুরকম ভাবে আমাকে আগলে রেখেছে। সেই জায়গা। সেখান থেকে কিছুটা বকুনি ই খেলাম যেন, যেন মনে হলো, আবার তুই এসব ভাবতে বসলি বুঝি? মনখারাপ এর সব আয়োজন তোমার নিজের ই করা। খুব বোধয় ভালোলাগে? মনখারাপ করতে? বলেছি না সব কিছু কালের নিয়মে ছেড়ে দিতে। এইরকম ই কত কি। চারপাশে তখন ঘোর লাগানো নিস্তব্ধতার মধ্যে শুধু ওই সন্ধ্যারাতির একটানা অবিরাম ব্যাপ্তিহীন শব্দ আমার বুকের মধ্যে উথাল পাথাল লক্ষ দামামার শব্দকে খুব ধীরে ধীরে শান্ত করে দিলো। 

চোখের সামনে রইলো শুধু জ্বলজ্বলে ওই ত্রিনয়ন, গলায় লাল জবা আর অপরাজিতার মালা, আর চারপাশে ধুপ ধুনো কর্পূরের গন্ধ। আমাদের বোঝার বাইরে, আমাদের জানার আড়ালে প্রতিনিয়ত আমাদের নিয়তিকে যে অসীম শক্তি পরিচালনা করে চলেছে, সেই শক্তির অনুভূতি আমাকে যেন কি নিশ্চিন্তের এক জায়গা দিয়ে গেল। তাকে বর্ণনা করার ভাষা আমার নেই। তাকে শুধু বোধহয় অনুভূত করা যায়। আপনা হতেই সেই শক্তির কাছে হাত জড়ো হয়ে যায়, মাথা নত হয়ে যায়, ভালোবাসা আর আর ভক্তি কখন যেন এক হয়ে সমস্ত ভয় ভাবনা কে চোখের জলের সাথেই ভাসিয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাস এ পরিপূর্ণ করে দিয়ে যায়। সীমাহীন কে সীমার মধ্যে, আমাদের একান্ত আপনার করে ধরে রাখার কি অমোঘ সৌন্দর্য্য, কি অসীম পরিতৃপ্তি, কি অপার শান্তি, কি অসীম ব্যাপ্তি। পথ চলে পথিক, সুধাই তোমায়, বলো তুমি কিবা চাও, যা চেয়ে তবে মুখপানে চাই, কেন কিছু নাহি পাই/ ওপর থেকে হেসে কয় সেই শান্তিদায়িনী মূর্তি, পথ চলে চল, স্থির রাখ নিজ কর্মে সকল শক্তি/ চোখের জলেতে অধর কাঁপে, তাকাই অবোধ চোখে, করো শান্ত রাখো ধরে তোমার সকল সত্য/ সুন্দর করে প্রকাশিত হোক, তব সুন্দর কান্তি/বলো বারবার আছো তুমি, আছি আমি, আছে সুন্দর শান্তি। 

Monday, 19 July 2021

গত বছরে প্যান্ডেমিক এর মধ্যে এক নতুন দেশের নতুন শহরে এসে একলা ঘরবন্দি হয়ে যখন কাজ শুরু করলাম তখন কাজে মনবসানোর জন্যে আশ্রয় নি আমার সেই ছোটবেলার পুরোনো পন্থায়, অর্থাৎ গল্পের বই এর। কিন্তু সময়টা আলাদা, ছোট বেলার মতন সেই অখণ্ড অবসর এখন তো আর নেই। তাই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে খুঁজে ফেললাম বেশ কিছু অডিও বুক এবং শ্রুতি বলে এক প্রবাসী বাঙালির পছন্দের তালিকাতে নিজের পছন্দের লেখক ও লেখণীদের পেয়ে যার পারনাই আল্হাদিত হয়ে উঠলাম। 
একের পর এক ফিরে ফিরে আসতে লাগলো স্কুল থেকে দৌড়ে দৌড়ে বাড়ি ফিরে বই নিয়ে বসার সেই ছেলেমানুষি বিকেল অথবা গ্রীষ্মের ছুটির অলস দুপুরের কাকাবাবু সন্তুর এডভেঞ্চার, শীর্ষেন্দুর মজার ভুত বা এলেমদার চোর অথবা সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এর জীবন বোধ। জীবন যে কত সুন্দর, কোনোরকম কমপ্লিকেশন ছাড়া কত সহজ সিম্পল হয়ে থাকতে পারে, তা যেন আবারো বারবার উপলব্ধি করতে পারলাম। কর্মজগতে তখন আমি সিঙ্গেল সেল এর রহস্য ভেদ করছি আর অল্প অল্প করে কোডিং এর মজার জগতে পা রাখছি, নতুন কিছু শেখার আনন্দ সর্বদাই আমাকে ছেলেমানুষের মতো উছ্বল করে তোলে। সেই উচ্ছলতা সঙ্গে আমার প্রিয় জগৎ কে এতদিন পরে খুঁজে পেয়ে, নিউ ইয়র্ক নিজেই যেন এক অসাধারণ রূপকথার জগৎ হয়ে আমার কাছে ধরা দিলো। 
এমত সময়ে কোনো অজ্ঞাত কারণে আমার প্রিয় সেই অডিওচ্যানেল টি বন্ধ হয়ে যায়। কিছুদিন এদিক ওদিক খুঁজতে থাকি, মনোমতোন গল্প ভান্ডার পুরোপুরি না পেয়ে আমার এই নিজের বাংলা চ্যানেল টিতে নিজের সাথেই এক কমিটমেন্ট করলাম। তা হলো, প্রতিদিন এক ঘন্টা হোক বা আধ ঘন্টা মিন ২০ যাই হোকনা কেন, আমি আমার প্রিয় লেখকদের লেখনীতে নিজেকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যাবো। আর তা নথি বদ্ধ করে রাখবো এই চ্যানেল এ। এতে আমার ব্যক্তিগত লাভ হবে দুটো, এক আবারো সেই রচনার সান্নিধ্য পাওয়া আর দুই পরবর্তী কালে আবারো যখন ই ইচ্ছে হবে এগুলো পড়ার তখন হাতের কাছে বই না থাকলেও এগুলো শুনে নিতে পারবো। আর উপরি পাওনা হবে অবশ্যই আমার মতন কোনো বই প্রেমী যদি আমার এই উদ্যোগের মধ্যে দিয়ে তাদের নিজেদের ভালোলাগা খুঁজে পায়। 
প্রথম গল্পপাঠ হলো শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের "পাগলা সাহেবের কবর" এর পরে ইচ্ছে আছে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এর "ইতি পলাশ" বা "রুকু সুকু" , এবং আরো অনেক অনেক কিছু নিয়ে আসার। 

Saturday, 5 June 2021

চেনা সবুজের মধ্যে দিয়ে অচেনা কে চিনে নেওয়া

আমার permanent address এ সবসময় থাকে vill + post Raghudevbati , Dist Howrah , Nalpur . আমি যে তথাকথিত শহুরে নয়, বরং ভীষণ ই এক গ্রাম্য পরিবেশ এ বড় হয়ে ওঠা একজন মানুষ , একথা ভাবতে এবং বলতে আমার খুব ভালোও লাগে গর্ব ও হয়। শিকড় আলগা করে দিলে সে গাছ যে একদিন ঝড়ে পরেই যায়। তাই পৃথিবীর যেখানেই থাকি সে দিল্লি ই হোক বা ওয়ার্ল্ড/স বেস্ট সিটি তেই হোক খুঁজে ফিরি আমার গ্রাম বাংলার সেই সবুজকে, বৃষ্টি ভেজা গাছের পাতা এখানেও এক ই ভাবে ঝিকমিক করে, চাঁদের আলো কিন্তু এখানেও ওই রকম ই নরম হয়ে পড়ে। নিউ ইয়র্ক এর ক্রিস ক্রস রাস্তা গুলো আমার খুব  ভালো লাগে, হারানর ভয় নেই, কেমন যেন যে পাড়া টা দিয়ে অত্রীদের কাছে ফিজিক্স পড়তে যেতাম সেরকম লাগে যখন ই আমি ম্যানহাটান এর এই ৮থ এভিনিউ এর দিকে আসি, কেমন চুপচাপ। এখানের তুলনায় কিছুটা নিচু বিল্ডিং, এগুলোকে নাকি ফ্লেমিংগো স্টাইল এর বিল্ডিং বলে, কিজানি কেন বলে। 

চেনা সবুজের মধ্যে দিয়ে অচেনা কে চিনে নেওয়া 

কিছুদিন আগে লোটাকম্বল পড়ছিলাম, সেখানেই এই ওয়েস্ট ম্যানহাটান এর একটা বাড়ির এক ঘটনার কথা বলা আছে, দেখতে দেখতে যাচ্ছি, কিছুইনা কখন চোখে পড়ে যায়, আর মেলাতে শুরু করবো হয়তো কত বছর আগের কোনো ঘটনাকে। মানুষ চলে যায়, রেখে যায় তার কীর্তি, ঐতিহ্য বহন করে থাকা কিছু সাক্ষী। নতুন প্রজন্ম আসে, এভাবেই এক প্রদীপ থেকে আর এক প্রদীপ জ্বলতে থাকে। দেখতে দেখতে যাচ্ছি, বিশ্ব যুদ্ধের সময়ের পুরোনো বিল্ডিং কত, আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা হয়তো কত অজানা কাহিনী। যত্নে কোথাও অযত্নে রক্ষিত ফুলের ঝাড়। আর এই হলো এক ভীষণ চেনা ছবি। এগুলো হলো আমার খুব প্রিয় আর চেনা সেই পাখি, দিল্লিতে যারা ছিল নিত্যসঙ্গী, ঠাকুমার মতো করে গুটিগুটি হাঁটা আর নেচে নেচে ঘুরে ঘুরে দানা পাতি খাওয়া। 

Monday, 14 December 2020

 হটাৎ কখন এলোমেলো বৃষ্টি এলো আকাশ জুড়ে ,

হটাৎ কখন বাঁধভাঙা সেই কান্না এলোই কেমন করে ;

আটকে রাখা পাগল আমি ;

বাঁধ ভাঙলেই পাগল পারা। 

ভুল করে আজ আবার তাকাই ,

না হাঁটা পথ ঝরাপাতায়। 

সময় গেছে বদলে অনেক, যাবেও জানি আরো কিছু 

তবুও আমি থেকেই গেলাম পুরোনো আমি আর অনেক অবুঝ। 

আমাদের সেই রূপকথাদের বুকের মাঝে আগলে রেখে,

রইলো তোমার সোনাঝুরি, পথ পাহারায় একলা বসে 

চাঁদের আলোয় শীতের রাতের নিঝুম তারা দেখবে ? এসে?



Saturday, 21 November 2020

 ভালোবেসে বা অভিমান এ কিভাবে যখন চলে এলাম এত দূরে, একা একা কেটে গেল কত গুলো মাস। একা বড় একা। আমার ওই সন্ধ্যে বেলার উষ্ণতা টাকে বড্ড মনে পরে। বড্ড বেশি কান্না পায়। খুব বোকা আমি। 

Saturday, 26 September 2020

বার্তা

রোদ্দুরে ভরা সোনালী বিকেল গুলো হটাৎ কেমন ছোট্ট হতে শুরু করে দিয়েছে। দিন যেন আদুরে অভিমানী প্রেমিকার মতন ঠোঁট ফুলিয়ে অপেক্ষা করছে তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে যেন কেউ আটকে রাখে দুহাতে। তাই এক পা চৌকাঠের বাইরে রেখেও যাবো কি যাবোনা করে আর এক পা চৌকাঠের ভিতরে রেখে অভিমানী মুখ অল্প ঘুরিয়ে আশা করে আছে সে ডাকের। কিন্তু সে ডাক আসেনা, সময়ের আবর্তে ক্রমশ তার অভিমান গাঢ় থেকে গাঢ় তর হতে থাকে, গুটি গুটি পায়ে রাত্রি নামে আর বুকের মধ্যে অস্ফুট কান্না জমতে জমতে রাতের অন্ধকারের কাছে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে একসময়। আলোর প্রয়োজন ক্রমে ম্লান হয়ে এসে রাতের কান্না হয়ে বিলীন হয়ে যায়। অভিমানী মেয়ের আদুরে আবদার গুলোর ওপরে কেমন যেন অবহেলা ভরে ধুলো জমতে থাকে। 
পরিবর্তন অমোঘ এবং অনস্বীকার্য। না চাইতেও আগের সেই অনেকটা লম্বা রোদ ঝকমকে দুপুর হটাৎ করে শেষ হয়ে গিয়ে ঝুপ করে সন্ধে নেমে আসে। আকাশে আজ রং এর খেলাও দেখা যায়না, মনখারাপের জানালা দিয়ে উঁকি দিতে থাকে শুকতারা, আসন্ন শীতের কাঠোরতাকে মেনে নেবার কেমন যেন এক নাবলা প্রস্তুতি চারিদিকে। একটা, দুটো করে আলো জ্বলে উঠতে থাকে। ধূমায়িত কফির কাপ এর আমোদিত গন্ধ ঝকঝকে skyline এর সীমানা পার করিয়ে চোখের ওপর ফুটিয়ে তোলে শীতের ধোঁয়াশা বিকেল, মখমলের মতন সবুজ মাঠের এধার থেকে ওধার পর্যন্ত একটা মোটা হয়ে থাকা ধোঁয়ার লেয়ার। কেমন একটা ধোঁয়া ধোঁয়া ভাব, পুজো পুজো গন্ধের মধ্যে দিয়ে একটা দুটো করে শিউলি ফোটার শুরু, সারারাত ধরে ফুটবে তারা। আর ভোর বেলায় বিছিয়ে পরে থাকবে, কোনো কিশোরী দুটো হাতের নরম অঞ্জলি ভোরে কখন তাদের ঘরে গিয়ে রাখবে সেই অপেক্ষায়। এভাবেই অপেক্ষায় থাকে সময়, ঘরে ফেরার, ঘরে আসার অথবা ঘরে আনার। আলোয় আলো রাস্তা, এ শহর ঘুমায়না, উইকেন্ড এর উচ্চকিত আলো আর জলসার আওয়াজ পেরিয়ে কানে ভাসতে থাকে সামগাছঅধ্যন।.......

Sunday, 19 July 2020

উত্থান

রবীন্দ্রনাথ কে আমি মনে করি, মনে করি, একান্ত নিজের স্বার্থে। যখন ই মনে হয় কেমন দম বন্ধ হয়ে আসছে, বা বিভিন্ন অপ সংস্কৃতির হাত থেকে মন চাইছে একটু সুগন্ধি চিত্ত স্নান , তখন ই মনে হয় স্নান করি ওই গীতবিতান এর পাতায়। নিজের অশান্ত মন কে শান্ত করার জন্যে মনে করি। মনে করি তাতে লাগাম দেবার জন্যে।

হয়তো তাই জন্যেই কখনো কখনো যখন মন সত্যি ই লাগাম ছাড়া হতে চেয়েছে, চেয়েছে সমস্ত ঠিক ভুল এর চিন্তা বিসর্জন দিয়ে আত্ম সম্পর্পন, তখন ও ওই ভালোলাগার গভীর সুপ্তি থেকে নিজেকে বেদনার্ত জায়গায় উত্থিত করে আনতে পেরেছি।

জানিনা, এই জীবন আমাকে কিভাবে কি দেবে, কি এর মানে, কি এর পথ, তবুও সন্ধ্যে পেরিয়ে রাত্রির আলিঙ্গনে আমাদের দিন যখন খুঁজছে নিজের আশ্রয়, করছে সমস্ত দিনের হিসেব , এমন সময়ে , এই চন্দন এর গন্ধে আমাদের ওখানের দখিনা হাওয়ার মতো এলোমেলো হাওয়াতে আমার মন হয়ে চলেছে উদ্বেল। তখন আবার আমি নিজেকে খুঁজলাম ওই রবীন্দ্র সৃষ্টির মাঝে। আজ অনেক দিন পরে লিখতে বসলাম কিছু। সৃষ্টির আনন্দে স্রষ্টার যে আনন্দ, সে আনন্দ অসীম, অক্ষয়। সে যা কিছুই সৃষ্টি হোকনা কেন। যত তুচ্ছ, যত মহৎ ই হোকনা কেন, তবু সে ভীষণ নিজের। আপন মহিমায় মহিমান্বিত। আমরা এক খুব অন্যরকম সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি, পাওয়া না পাওয়া, চাওয়া , ইচ্ছে, এই সমস্ত শব্দ এখন কিরকম যেন থমকে গিয়ে অপেক্ষার মোড়কে নিজেদের বন্দি করেছে। মাঝেমাঝে কেমন যেন ক্লান্ত লাগে, মনে হয়, থাক , আর কিছু ভাববোনা। সমস্ত পৃথিবীর মতন আমিও নিজেকে সকল ভাবনা থেকে বিরাম দি। এমনিতেই সব কিছু কত ভঙ্গুর , কত ক্ষণস্থায়ী, কালকে যা ছিল, আজ তা নেই। কালকের ইমোশন আজ হয়তো অর্থহীন। আবার আজকের অর্থহীনতা আগামী দিনে হয়তো অর্থ পূর্ণ হয়ে সামনে এসে দাঁড়াবে, হতেই পারে। আমি যখন আমার সব থেকে কাছের মানুষ, আমার বাবাকে হারালাম, আর তারপরেও জীবন থিম গেলোনা, তখন ই বুঝেছিলাম জীবন তার নিজস্ব গতিতে চলে। এ মহা বিশ্বের কোনো কিছুতেই কোনো কিছু হয়না। কারোর বিহনে কিছু থেমে যায়না। সেটাই সত্যি।
আমাদের কাজ হলো, জীবনের ওই গতিটাকে ধরতে পারা। তাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলা। প্রতিটা দিন কিছু বলতে চায়, প্রতিটা দিনের নিজস্ব কিছু বার্তা থাকে, সেই বার্তা কে বুঝে নিয়ে এগিয়ে চলা। আর আজকের যা কিছু তাকে গ্রহণ করে আগামীর জন্যে নিজেকে প্রস্তুত করা। হে ঠাকুর আমাকে শক্তি দিও, আমি যেন সেই নক্ষত্রের পথ অবলম্বন করে চির শান্তির পথে নিজের লক্ষে স্থির থেকে এগিয়ে যেতে পারি। আমার সঙ্গে থেকো। বেদনা যেন আমার আনন্দ কে আবৃত না করে ফেলতে পারে। আর আমার আনন্দ যেন পার্থিব আর বস্তুত হয়ে গিয়ে নিজেকে গন্ডি তে আবদ্ধ না করে ফেলে। তা যেন আকাশের মতো উদার হয়, আর এই সকল সৃষ্টি রস এ নিমজ্জিত থাকে।

"তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূরে আমি ধাই
কোথাও দুঃখ, কোথাও মৃত্যু, কোথা বিচ্ছেদ নাই
তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূরে আমি ধাই
মৃত্যু সে ধরে মৃত্যুর রূপ, দুঃখ হয় হে দুঃখের কূপ
তোমা হতে যবে হইয়ে বিমুখ আপনার পানে চাই
তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূরে আমি ধাই
হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে যাহা-কিছু সব আছে, আছে, আছে
নাই নাই ভয়, সে শুধু আমারই, নিশিদিন কাঁদি তাই
অন্তরগ্লানি, সংসারভার, পলক ফেলিতে কোথা একাকার
জীবনের মাঝে স্বরূপ তোমার রাখিবারে যদি পাই
তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূরে আমি ধাই
তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূরে আমি ধাই"

Tuesday, 14 July 2020

কুচ কামিনী, সুধা যামিনী/ বধূয়া, বৃথা বিনে তব
এই গন্ধসলিলা সুখ রজনী

আমাদের মন জল এর মতন, যে পাত্রে রাখবে , যে ঢালে ঢালবে সেই ঢালে সেই মতন ই সে ঢলবে।আবার কি জানো , জল কে যেমন ফোটাতে হয়, ফিল্টার করতে হয় তেমনি মন কেও ফোটাতে হয়, ফিল্টার করতে হয়। ভালো কথা, ভালো গান, সুর, ভালো সঙ্গের মধ্যে দিয়ে তাকে নিয়ে যেতে হয়, সৎ সংকল্পের মধ্যে তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। শিশুর মতন সরল জিজ্ঞাস্য নিয়ে এ পৃথিবীর সকল কঠিন রাস্তা কে অনায়াস এ সহজ করে নিতে হয়। এই ভাবে নিজেকে প্রতিদিন উন্নীত করতে হয়, কেউ আসবেনা তোমার সাধুতা বিচারে, তুমি নিজেই নিজের বিচারক। তবে একদিন সময় তোমাকে এর প্রতিদান দেবে। দেবেই। তাই যদি তুমি এই কঠিন পৃথিবীর সুন্দরতম দিক টি খুঁজে নিতে চাও তবে সেই সুন্দরের কাছে যাও। কিন্তু কোথায় পাবে সেই সুন্দরকে। পাবে তোমার মননে, ভালো সঙ্গে, সুন্দর ফুল, ভালো লেখা।খুঁজে নাও সেই পুরা পুরাতনী পুরাণের ধারা, ঢেলে ফেলো তাকে আধুনিকতার ঢালে। মেঘমল্লার এর সুরে খুঁজে পাও বিরহী যক্ষ আর যোগিনী উমাকে। 

শুধু এখন বলি, হে প্রেমিক, যে উমার কালজয়ী প্রেম মহেশ্বর কে সাধনা করে লাভ করিতে হইয়াছিল, তাহাকে অমন দৈনিন্দিন করিয়া দিওনা। তাহাকে সযত্নে সাজায়ে রাখিয়ো। দেখোনা, সব পূজার সব ফুল হয়না, সব ঋতুতে সব ফুল ফোটেনা, জনিবে রাতের শিউলি রাতে আমন করে ফুটত পারে বলেই ভোরে তা সবুজ ঘাসের গালিচাকে অমন পবিত্র করিয়া তুলতে পারে। অপেক্ষা করিয়ো সেই শুভক্ষণ সুন্দর মুহূর্তের জন্যে।গহীন রাতের তামসাবৃত হয়ে শুধুই কামনার বশবর্তী হয়ে নারী পুরুষের একে অপরের যে কাছে আসা তাতে কামনা অধিক হয়ে ওঠে।প্রেম যায় হারিয়ে সে কাছে আসার মধ্যে কামনা সন্তুষ্ট হয় বটে তবে মনের গহীনে লুকোনো যে সুপ্ত সুন্দর তাহা জাগ্রত হয়না। সে সুধা আস্বাদনের সৌভাগ্যই বা কজনের হয়েছে, সে সুধার খবর জানেই বা কজনে, যে জানে সে মৃগনাভীর সুগন্ধে মাতোয়ারা মৃগ যেমন হন্যে হইয়া শুধুই সেই মৃগনাভিতেই বিলীন হতে চায়, সেও তেমনি করিয়া শুধু ওই সুধাতেই নিজেকে মগ্ন করিতে পারে।শুধু সব কথা, সব ভাব সব জায়গায় অনিয়ো না, তাহাকে যত্নে রাখিয়ো, রাতের মালকোষ যেমন চাঁদনী রাতের গভীরতাতে সম্পূর্ণতা পায় , তেমনি ই প্রকৃত মুহূর্তএ সম্পূর্ণতা পায় তোমার সকল অপ্রাকৃত প্রাকৃত ইচ্ছা কামনা বাসনা। 

বাসনা স্বাভাবিক তবে তাকে ভিতরে রাখো, সেই গভীর রাতের গহীন মোহে যখন চাঁদ নরম হয়ে স্নেহ ভোরে তাকিয়ে থাকে, সেই রাতের নীল আকাশের মতন গভীর রঙের শাড়িতে নিজে হাতে করে তোমার প্রিয়াকে সাজিয়ো। পরিয়ে দিও যুথির মালা, রজনীগন্ধা, বেলি, মোমের আলোয় যত্ন করে তৈরি কোরো সেই পরিবেশ যা জন্ম জন্মান্তেরেও মানুষ পায়না। সব শরীর কবিতা হয়না, সব শরীরে কবিতার ছন্দ রুদ্ধ হয়ে যায়না, সবাই সব ছন্দ খুঁজে নিতেও পারেনা। খুঁজে নিও সেই ছন্দ , চিনে নিও সেই গন্ধ। শুধু অপেক্ষা কোরো সেই প্রকৃত মুহূর্তের জন্যে। তার আগে কিছু বোলোনা। বোলোনা। দিওনা সেই মুহূর্ত, সেই সময় নষ্ট করে। 
সন্যাসীর জীবন আলাদা, মনন আলাদা, আর সংসারের মনন আলাদা। ওরে সংসারী মন, সংসার ই যদি করবি তো সেভাবে কর যেভাবের ঘোরে মহেশ্বর নিজেকে উমা পতি করে উমা চরণে নিবেশিত করেছিল। সেই ভাব খুঁজে নে। সেই মন কে তৈরি কর। 

Thursday, 11 June 2020

আমি ভাবি, এ মানুষ্য জন্মের কারণ, তার উদ্দেশ, তার নির্দেশ। ওই মেঘ এর কথা, চেষ্টা করি শোনার। আমার প্রবাসী জীবনে, একাকী জানালার ধারে ভাবনারা আপন পাখা মেলে দেয় নিঃসংকোচে। কখনো তা মেঘদূতের মতন একের বার্তা পৌঁছে দেয় অপর প্রান্তে। কখনো তা অভিমানে মুখ লুকোয়। আর আমি ভাবতেই থাকি, আমার ভাবনারা ডানা মেলে উড়ে যেতে যেতে আজ আটকে গেছিলো ওই যে নিচের গাঢ় সবুজ ? ওর মাঝখান টাতে , আর বললো, সময় যে বড় কম। অভিমান হলে মুখ লুকোসনে কেমন, বরং বৃষ্টি হয়ে নিঃসংকোচে ঝরে পরিস বুকে, আবার খুশিতে মেঘ হয়ে উড়ে যাস নাহয়। কিন্তু অভিমান নিয়ে দূরে সরে থাকিসনা কেমন। এই ক্ষয়িষ্ণু সময়ে, হাজারো স্মৃতির ভিড়ে এমনিতেই যে সব কেমন হারিয়ে যেতে থাকে, ঠিক ওই মেঘ গুলোর মতন। তাই তার মাঝে আর অভিমান এর দেওয়াল দিয়ে যেটুকু সময় আমাদের হাতে আসে, তাকে আর বাধা দিসনা বরং আপন মনের সবটুকু মাধুরী সাবলীল ভাবে মিশিয়ে দিয়ে এসে দাঁড়ালি নাহয়, নাহয় অনেক ঝগড়া করলি, চিৎকার করে ভুল ধরলি, তবু সামনেই থাকলি নাহয়।  কোন সে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে, মানুষ ভেবে এসেছে, আচ্ছা আমি ই কেন, কি আমার কাজ। আমি ডেটা এনালাইসিস করি, পাইথন এর এক একটা টার্মিনাল এ ঝড় ওঠে, ও আমার ভালোবাসা। আবার এই মেঘ, আমার এই ভাবনার নিঃসংকোচ ভেসে যাওয়া, এও আমার ভালোবাসা। আর এই দুয়ের মধ্যে জাগতিক আমি? সে কোথায় আছে তবে? মানুষ তো নিজেকেই সব চাইতে বেশি ভালোবাসে তাই না, নিজের আমি, নিজের সংসার, সন্তান, এই ঘিরেই আবর্তিত হতে থাকে, আমাদের সকল সুখ দুঃখ , ভাবনা ভালোবাসা, ভালোলাগা।
যাও মেঘদূত দিও প্রিয়ার ও হাতে, আমার বিরহ লিপি, লেখা কেয়াপাতে।...দিনশেষে সূর্যদেব যখন পাটে বসেছেন, তখন আমি বসে এই জানালায়, আবার ডানা মেলতে দিলাম আমার ভাবনাকে। মেঘেদের সঙ্গে সঙ্গে একটার পর একটা প্রেক্ষাপট পাল্টাতে লাগলো, বদলে যেতে থাকলো মেঘেদের রঙ , ধরন , এই কখনো ঘন কালো তো এই আবির রঙে রাঙা তো এই আবার পালক সাদা। মনকেমন করে উঠলো। নিচের সবুজেরা মাথা নেড়ে নেড়ে বলে উঠলো, অভিমানে মুখ লুকিয়ে থাকিসনা কেমন, তার চেয়ে বরং বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়িস, বাজ হয়ে গর্জন করে উঠিস, কিন্তু অভিমানে দূরে সরে থাকিসনা। এমনিতেই সময়ের যে বড় অভাব। এই ক্ষয়িষ্ণু সময়ে, হাজারো স্মৃতির ভিড়ে এমনিতেই যে সব কেমন হারিয়ে যেতে থাকে, ঠিক ওই মেঘদের মতন। তাই তার মাঝে আর অভিমানের আড়াল নাহয় নাইবা রইলো বরং আপন মনের সবটুকু মাধুরী দিয়ে সাবলীল ভাবে সামনে এসে দাঁড়াস। ঠিক ভুল সুখ দুঃখ মহাকালের স্রোতে কালের নিয়মে আপন ছন্দে এই সন্ধের পবিত্র সান্নিধ্য নিয়ে দিশা দেখিয়ে দিয়ে যাবে। শুকতারার নির্দেশে পথ ভ্রষ্ট না হয়ে রচনা হবে নব অধ্যায়। অযথা তাকে অভিমানের আড়াল দিওনা দোহাই আমার। 



এ পথ গেছে সেইখানে

  দেখতে দেখতে এক বছর হয়ে গেলো, ছোট্ট ছেলেটা স্কুল এ যাচ্ছে। স্কুল মানে playschool বা daycare. এদেশে ওয়ার্কিং পেরেন্টস দের ছোট্ট ছোট্ট ছানা...