Wednesday, 31 January 2018

মেলবন্ধন

আজকে এক অন্যরকম টানে আমি ল্যাব থেকে প্রায় দৌড়ে দৌড়ে রুম এ ফিরি। শুধু মনে হচ্ছিলো আজকের সূর্যাস্ত টা যেন miss না হয়ে যায় , কেন মনে হচ্ছিলো জানিনা, কিন্তু কি জানি এক অদ্ভুত মায়ায় আমাকে ল্যাব থেকে উপরে সোজা ছাদে নিয়ে গেলো। এতো তারতারি আসছিলাম যে হাঁপিয়ে গেছিলাম। কিন্তু গত কালের যে ধ্যানমগ্ন বিদায় ক্ষণের সাক্ষী হওয়ার জন্যে এতো উতলা হয়ে আসছিলাম, তাকে পেলামনা। সূর্য অস্ত হয়েছিল।

বিদায়কালে দুহাত ভরে নিজের সমস্ত আদর যেন সূর্যদেব ছড়িয়ে দিয়েছিলেন পশ্চিমের আকাশে। আকাশে আজ বোধয় ছিল হালকা কিউমুলাস মেঘ। আবীর মাখা দিগন্ত জুড়ে তারা যেন মুক্তির আনন্দে ডানা মেলে উড়ে চলেছিল। পশ্চিম আকাশে যখন এই অসাধারন কর্মকান্ড চলছে পুব আকাশে তখন ধীরে ধীরে আপনার স্মিত শান্ত মুখ তুলে তাকিয়েছে চন্দ্রমা। কি অসাধারন কি অস্মভব সুন্দর সে দৃশ্য। একদিকে লালে লাল আকাশ এ অস্তমিত দিবাকর আর অপরদিকে রুপোর থালার মতো শশিরেখা, জানান দিচ্ছে মধুনিশির। ইমন আর মালকোষ যেন হটাৎ একসঙ্গে একসুরে বাঁধা পড়লো। এ কি সৌন্দর্য্য, এ কি মেলবন্ধন, এ কি অপূর্ব ভালোবাসা। এমন সৌন্দর্য্য কি শুধু একা উপভোগ করা যায়? বাতাসে যে আজ মাতন লেগেছে। আসন্ন বসন্তের খবর পাতায় পাতায় শিহরণ তুলেছে। চারিদিকের এতো মায়া , এতো মধু , এতো প্রেম এ কি শুধুই আমার একার। "যাও  মেঘদূত , দিও প্রিয়ার ও হাতে, আমার বিরহলিপি লেখা কেয়া পাতে "....--জানি আবার এক ই ভাবে সন্ধ্যা হবে, নিশি অবসানে ম্লান স্তিমিত ইন্দুকে বিদায় জানিয়ে ঝলমলিয়ে উঠবেন 'ভানু '...আবার সেই জ্যোতির্ময় ও দিবাবসানে চন্দ্রমার স্মিত হাসি দেখে নেবেন বিদায়। তবু আজকের যে ক্ষণ যে মায়া তা যে ঠিক এই মুহূর্তের জন্যেই। ...."আর কি কখনো কবে / এমন ও সন্ধ্যা হবে " -

Monday, 29 January 2018

রোদ্দুর

সেই গত সপ্তাহ থেকে শুধু মেঘ, বৃষ্টি, ঘন কুয়াশা। আমার রোদ্দুর এর জন্যে বড্ডো মনকেমন  করছিল। 
আজ সকাল বেলাতে কুয়াশা থাকলেও দিন বাড়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে সমস্ত কুয়াশা কেটে গিয়ে আকাশ ঝলমল করে উঠলো রোদ্দুর। জানলার বাইরের রোদ ঝলমল ঘন গাঢ় নীল আকাশ আর ওই সবুজের গালিচা অনেক্ষন থেকেই আমাকে উস্কাছিলো বাইরে বেরোনোর জন্যে। শেষে আর পারলামনা, মাথাটা যন্ত্রনা তে ফেটে যাচ্ছিলো। না তেমন কিছুই নয়, মাথা থাকলে ব্যাথা তো হবেই। seasonchange, কুয়াশা, ঠান্ডা লাগা, জ্বর জ্বর ভাব ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এই আদুরে রোদ্দুরের জন্যে সে সব কিছু তুচ্ছ করাই যায়। রাস্তার দুধারের ঝরা পাতা যেন শীত কে বিদায় সম্ভাষণ জানাছিল। মনে পরে গেলো সেই ছোটবেলার পড়া "আমলকি বন্ কাঁপে যেন তার বুক করে দুরু দুরু / পেয়েছে খবর পাতা খসানোর সময় হয়েছে শুরু" যদিও রবি ঠাকুর এটা শরৎ কালের জন্যে লিখেছিলেন , কিন্তু আমি কি করব, আমার এটাই এখন খুব appropriate মনে হচ্ছে। সব কিছু কি আর সব সময় বাঁধা নিয়মে চলে। 

চারপাশে আজ ছিল অনেক রঙের সমারোহ। না বসন্তের মাতাল করে দেওয়া বাঁধাহীন উন্মত্ত রং নয় এ। এ যেন প্রকৃতির নীরব কান্নার পরে শান্ত সমাহিত হয়ে সূর্যাস্ত দেখা। সেখানে কোনো চাওয়া নেই, পাওয়া নেই, প্রত্যাশা নেই। কথা নেই, বার্তালাপ নেই। শুধুই যেন যাওয়া আসার মাঝে এক স্থির, শান্ত, ধ্যানমগ্ন ভাবমূর্তি। রাস্তার দুধারে পথের পরে কেমন যেন মায়াময় হয়ে ঝরেছিলো হালকা হলুদ হয়ে আসা শুখনো পাতা। দুপাশের গাছ, কোথাও কোথাও সেখানে ম্লান হয়ে আসা সবুজ আবার কোথাও বা নতুন এর আগমন এ গর্বিত কচি পাতা। আর ওই দূরে, যেখানে বৃক্ষরাজি তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে জয় করে এসেছে সব বদল, সেখানে নেই কোনো আসা যাওয়া। অনেক পরিবর্তন, আগমন বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে আজ তারা স্থির, অচঞ্চল, ধ্যানমগ্ন, নিষ্পলক। কেমন এক গাঢ় গম্ভীর গায়ের রং ওদের, যা মনের মধ্যে এক সম্ভ্রম নিয়ে আসে, মনে হয় বাবার মতো, দাদুর মতো, বড়দের মতো। সবার মাথার ওপরে দাঁড়িয়ে, সবাইকে রক্ষা করে চলেছে। বড় বেশি করে যাদের আমি রোজ খুঁজি। বড় বেশি করে যাদের অভাব আমি রোজ অনুভব করি। 

দিন যতই দুপুর গড়িয়ে বিকেলের দিকে পৌঁছতে শুরু করলো, নিজেকে ল্যাব এ আটকে রাখা আর সম্ভব হলোনা আমার। বিকেল ৫টার একটু পরেই বেরিয়ে এলাম। বাইরে বেরিয়েই যেন শিহরণ খেলে গেলো। কি এক অদ্ভুত , উন্মনা হাওয়া আমায় জানান দিয়ে গেলো বসন্ত আসছে। এই কয়েক বছরে এখানে দেখলাম যে বাংলার বাইরে হলেও বাংলার সমস্ত ঋতু গুলো অনেক বেশি সুস্পষ্ট ভাবে এখানে ধরা পরে। বসন্ত আসা, তার থাকা, চলে যাওয়া এই সমস্ত কিছু বড় মধুর ভাবে এখানে আমাদের জানান দেয়। এক ভীষণ অন্যরকম, গ্রীষ্মের ছোঁয়া লাগানো অথচ শিরশিরানি শীত শীত অনুভব যেন আমার সমস্ত মন টাকে একেবারে জড়িয়ে ধরে রাখলো। ঘরে ঢুকে তাড়াতাড়ি পর্দা সরিয়ে দিতেই পড়ন্ত বিকেলের একরাশ আদর আমার বিছানার ওপর উছলে উঠলো। অপূর্ব এক মাদকতা তখন সমস্ত ঘর জুড়ে। ব্যালকনির ঠিক নিচ দিয়ে উড়ে গেলো দুটো ময়ূর। ও হ্যাঁ , আজ তো আমি নীলগাই ও দেখেছি দুপুরে হাঁটার সময়। আবার দেখলাম। দূরের জঙ্গল টা দিয়ে দল বেঁধে কোথায় গেলো , ঘরে ফিরলো কি? কি জানি, তাই বোধহয় হবে। ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়াতেই আবার সেই মনকেমন করা, বাঁধন হারা হাওয়া। দূরে সূয্যি তখন পাটে বসেছেন। ধ্যানমগ্ন পৃথিবী। সবাই যেন একদম চুপ করে, শান্ত হয়ে, স্থির হয়ে সাক্ষী হতে চলেছে পশ্চিম আকাশে ঘটে যাওয়া সেই চির পুরাতন চির নতুনের মহা কর্মযজ্ঞের। আপনা হতে হাত জড়ো হয়ে গেলো। 

                                 "ॐ असतो मा सद्गमय ।,
                                 तमसो मा ज्योतिर्गमय ।,
                                 मृत्योर्मा अमृतं गमय ।,
                               ॐ शान्तिः शान्तिः शान्तिः ॥"

      "Lead me from falsehood to truth
Lead me from darkness to light,
Lead me from death to the immortality
         ওঁম শান্তি শান্তি শান্তি "

















Sunday, 28 January 2018

কবিতার শেষ

আজ এই রবিবারের মধ্যাহ্নে , এক অভিনব নেশায় আমার মন হয়েছে আচ্ছন্ন। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার শক্তি যেন আর নেই, হয়তো ইচ্ছাও নেই।  বুঁদ হয়ে আছি সেই নেশায় আমি, কিছুতেই বেরিয়ে আসতে পারছিনা, শিলং পাহাড়ের ওপর থেকে।..

আচ্ছা রবি ঠাকুর তো অমিত কেতকী আর লাবণ্য শোভনলাল এর বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেই হলেন ক্ষান্ত, ঠিক যেমন সমস্ত সিনেমা তে প্রেম থেকে বিয়েতে পূর্ণতা লাভের মধ্যেই ঘটে "মধুরেণ সমাপয়েৎ"...তারপরে নায়ক নায়িকার জীবন নিয়ে পাঠক বা দর্শক কেউ আর মাথা ঘামায়না।..কিন্তু জানতে তো ইচ্ছে হয়...কেমন আছেন সেই মানুষগুলো।..জীবন যে কাব্য নয়...প্রতিদিনের ঘাত প্রতিঘাত এ  কিভাবে বেঁচে থাকছে সেই অনুপম প্রেম।...হটাৎ করে যদি আবার কখনো 'মিতা' আর 'বন্যা' এর দেখা হয়...কেমন হবে সেই দেখা হওয়া?...

এই পর্যন্ত পরেই সমস্ত রবীন্দ্রপ্রেমী নিশ্চই এ আমাকে রৈরৈ করে মারতে আসছেন, দুঃসাহস যে অতীব , রবীন্দ্র চরিত্রের ওপর কলম চালানো? মাপ করবেন, রবীন্দ্র চরিত্র অবিনশ্বর, তার ওপর কলম চালানো আমার স্বপ্নাতীত। .এ শুধু আমার নিজের মনের এক জিজ্ঞাসা , আমার নিজের রবীন্দ্রনাথ এর ভাঙা গড়া , সামনে থাকলে জোর দেখিয়ে বলতাম, গড়ুন তো আপনার অমিত লাবণ্য কে আবার, এখানকার মতো করে, এই দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মধ্যে একটু বসন্তের হাওয়া বইয়ে দিয়ে জাননা। ...

শেষের কবিতা যেখানে শেষ, মনে করা যাক এ লেখা সেখান থেকে হলো শুরু।..শুধু তখনকার সময় কাল থেকে অমিত কেতকী, শোভনলাল লাবণ্য আরো সমস্ত চরিত্রকে একদম উৎপাটিত করে নিয়ে আসা হলো একদম এখানকার কঠোর বাস্তবে। বিয়ের পরে বেশ কয়েক বছর হয়েছে অতিবাহিত। যে যার জীবনে নিজের নিজের মতন করে তাঁরা হয়েছেন স্থির। সুখী রাখতে পেরেছেন পাশের মানুষ গুলোকে, না শুধু সুখী রাখাই নয়, বরং তাঁদের সুখ কে কেন্দ্রে বসিয়েই বেয়ে চলেছেন এ জীবন তরী। ১০ টা ৫ টার কর্মজীবন এবং সংসারের বিভিন্ন দরকারি অদরকারী খুঁটিনাঁটির মধ্যেও আছে এক নৈসর্গিক আনন্দ, সে আনন্দে গা ভাসাতে দেরী করেনি কেউ ই।  শোভনলাল, নাহ শোভনলাল কে বরং যুগোপযোগী করে শুভ করে দেওয়া যাক, এতো বড় নামের ভার আমার এ নগন্য লেখা হয়তো বা না সইতেও পারে। 
তা যেকথা বলছিলাম শুভ, লাবণ্যের শুভ , একজন সত্যি কারের ভালোমানুষ। একটু কাজপাগল, একটু অগোছালো, অল্পেতে রেগে যাওয়া কিন্তু একজন মানুষ হিসাবে সত্যি ই অসামান্য। শুভ, লাবণ্য কে কাছে পাবার পরে তার ওপর আপন জীবনের সমস্ত দায় দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে হয়েছিল একেবারে নিশ্চিন্ত। লাবণ্য এতটুকুও বিরক্ত হয়নি তাতে, বরং স্নেহের সঙ্গে নিজের মনের সমস্ত মাধুরী মিশিয়ে দিয়ে সে দায়িত্ব পালন করে চলেছে, এ যে তার বিবাহিত জীবনের এক পরম পাওয়া। ওই যে পাশের মানুষ টা , যে তার নিজের মনের সব কথা ঠিক গুছিয়ে বলে উঠেতে পারেনা, শুধু আশা করে লাবণ্য নিজে তার সব কিছু বুঝে নিয়ে তাকে গুছিয়ে দেবে, ওই মানুষটার প্রতি যত দিন গ্যাছে  লাবণ্য তত তার ভালোমন্দ খারাপ লাগা ভালোলাগার সাথে ওতপ্রোত ভাবে গ্যাছে জড়িয়ে। শেষে বিয়ের ৩/ ৪ বছর পরে আসে পাশের লোকেরা এমনকি শুভর মা পর্যন্ত বলতে লাগলো, ছেলেটা যে একেবারে কুঁড়ে হয়ে যাবে, ওকেও কিছু কিছু দায়িত্ব নিতে দিও।  আর সে ছেলে পরম নিশ্চিন্তে নিজের সমস্ত দায়  আর একজনের ওপর দিয়ে নিজের কাজের মধ্যে দিলো ডুব। ওর তাতেই আনন্দ। লাবণ্য সেটা জানতো। তাই ওর কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী হয়ে, সহধর্মিনী হয়ে পাশে থেকেছে, স্ত্রী র সমস্ত ইচ্ছে বা অধিকার নিয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি কোনোদিন ই। শুধু যখন চাঁদনী রাতে সমস্ত আকাশ বাতাস আমোদিত হয়ে চাঁদ উঠতো, তখন কখনো বা শোভনলাল এর ঘুমন্ত কপালে আলতো ঠোঁটের ছোঁয়ায়  আবার কখনো বা তার কর্মরত গালে একটু আদর ঢেলে লাবণ্য চলে যেত ছাদে। আকাশ তখন তার অকৃপণ হাতে নিজের সমস্ত মাধুরী কে অশ্রু জলের রূপে ঢেলে দিতো লাবন্যকে। সেই সুধা আকণ্ঠ পান করে সে ফিরে পেতো তার প্রাণশক্তি। আবার শুরু করতে পারতো আপন কর্মযজ্ঞ। শুভ বুঝতো, কোথাও লাবণ্য অধরা থেকে গ্যাছে তার কাছে, কিন্তু কিভাবে সেই লাবণ্য কে ধরতে পারবে, বুঝে উঠতে পারতোনা। সেই লাবণ্য কে বোধহয় শুভ ধরতেও চাইতোনা, মনে হতো ধরলেই বোধয় সব স্বপ্ন ভেঙে যাবে, তার থেকে প্রতিদিনের নানান কাজের সাথে যুক্ত যে লাবণ্য সে যেন অনেক বেশি নিজের অনেক কাছের অনেক সহজলভ্য। সেই লাবণ্য এর সান্নিধ্যেই সে পেয়েছে শান্তি। তবে অধরা কে ধরার একটা কষ্ট ও তাকে কুরে কুরে খায় মাঝে মাঝে। এ বেদনা লাবণ্যের মন কে খুব স্পর্শ করতো, বুঝে উঠতে পারতোনা, কিভাবে তা সে দূর করবে, কিন্তু এখানে যে তার কিছু করার ও ছিলোনা, নিজেকে তো সে লুকিয়ে রাখতে চায়নি তার কাছের মানুষটির কাছ থেকে, বরং অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থেকেছে, কখন সে সব বুঝবে, খুঁজে পাবে তাকে বেহালার করুন সুরে , diary এর ছেঁড়া পাতায়, কবিতার মধ্যে, গাছের পাতার মধ্যে, সবুজের স্নিগ্ধতার মধ্যে, সূর্যের কিরণের মধ্যে, দূর থেকে ভেসে আসা মন্দিরের ঘন্টার শব্দে বা বিষন্ন বিকেলের মসজিদের আজানের মধ্যে। অপেক্ষা যখন অন্তহীন এর দিকে পা বাড়ায়, লাবণ্য তখন নিজেকে ভুলে থাকার চেষ্টা করে। আর বারবার তার ভালোলাগার ঝাঁপি উপুড় করে দিয়ে শুভর কাছে প্রমাণ করে তার ভালো থাকার কথা। আর এভাবেই চলে দুজনের যৌথ সংসার। ভালোবাসা, বিশ্বাস, ভরসা, নির্ভরতা কোনো কিছুর ই অভাব সেখানে ছিলোনা, নেই ও। একটা সম্পর্ক অটূট বাঁধনে বেঁধে রাখতে গেলে যা যা দরকার সব কিছুই আছে , ছিল, থাকবেও। শুধু দুজনের মধ্যের একজন মানুষের মনের একটা অংশ কে প্রতিদিন যেন নিশ্বব্দে দিতে হচ্ছিলো প্রাণ। কিন্তু এ সত্যি এমনকিছুই নয়, যেখানে অনেক মানুষের কাছে বেঁচে থাকাটাই হচ্ছে এক সংগ্রাম, সেখানে এতটুকু কষ্টের ভার কি সত্যি ই খুব বেশি? না সত্যি ই এভার অসহনীয় নয়। একথা লাবণ্য ভীষণ ভাবে স্বীকার করতো এবং এই সত্যি কে সে মন থেকে মেনে চলতো। জীবন চলতে থাকে। ... হয়তো সবসময় জীবনের তাগিদে নয়, কখনো কখনো তা চলতে থাকে জীবিকার তাগিদে। কিন্তু চলে। ...

এমন সময় হটাৎ ই একদিন লাবণ্য খুঁজে পায় তার অমিত কে। না, পাবে বলে কোনোদিন সে ভাবেওনি, চায়েওনি। অমিত যে এভাবে লুকিয়ে ছিল, এভাবে যে কখনো সামনে আসতে পারে, একথা সে জেনে হয়েছে ততোধিক বিস্মিত। অমিত ছিল লাবণ্যের অনেক কাছেই, হাত বাড়ালেই হয়তো ছোঁয়া যেত, কিন্তু হাত বাড়ানো তো দূরের কথা কখনো ফিরে ও তাকানোর অবসর হয়নি লাবণ্যের সেদিকে। একালের অমিত, একালের লাবণ্যের দৃষ্টি সম্মুক্ষে থেকেও ছিল চিরকাল দৃষ্টির অগোচরে। না পেরেছে অমিত তাকে দেখতে, না পেয়েছে লাবণ্য তাকে দেখতে। এমন সময় সৃষ্টিকর্তার কি এক অলীক খেয়ালে, অদৃশ্য জাদুকাঠিতে, দুটি নিষ্পাপ শিশু চোখের বেদনা র অনুভব, বন্যা কে এনে দিলো মিতার জীবনে। একেবারেই নিঃশব্দে, গোপনে। 
যে মন টাকে এতদিনের সাধনায় সযতনে লাবণ্য রেখেছিলো সকলের অগোচরে, যা ছিল তার একান্ত গোপন, কষ্টের বহু সঞ্চিত ধন , আজ কিকরে তা ধরা পরে গেলো আর একজনের কাছে। ধরা দিতে লাবণ্য চায়নি, কিন্তু শত চেষ্টাতেও তাকে আটকে রাখতে পারলো কই। কিছুদিন এর জন্যে, নীল আকাশ আরো একটু গাঢ় হয়ে নেমে এসেছিলো পৃথিবীর বুকে। চন্দ্রমা, যেন হয়েছিল আরো স্নিগ্ধ। লাবণ্য ভুলেই গেছিলো, গোপন কুঠুরিতে বন্ধ হয়ে থাকা তার সেই আর একটি মনের কথা, নিত্য দিনের নিঃশেষ দায়িত্বের মধ্যে ভেবেছিলো সে আজ বুঝি আর বেঁচে নেই। এখন বুঝলো সে বেঁচে ছিল। খোলা আকাশ দেখে ডানা ঝাপটিয়ে বেরিয়ে পড়লো। লাবণ্য আর আগের মতো তাকে শিকলে বাঁধলনা। অনেক দিন পরে বেহালার ভাঙ্গা ছর এ আবার রজোন দেওয়ার তাগিদ অনুভব করলো সে, ছিঁড়ে যাওয়া ছর কে সারানোর জন্যে মন উন্মুখ হয়ে রইলো। প্রতিদিনের ভোর হওয়া, সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত্রি নামার মধ্যে যে আনন্দ এতদিন সে আনন্দ ছিল ওর একান্ত আপনার, সে আনন্দ অন্য কারোর সাথে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে এতো খুশি আছে, এতো সুখ আছে ? না আগে সত্যি ই কখনো বোঝেনি, যে সবুজের মধ্যে সে পা ফেলে হাঁটে, অন্য কেউ ও যদি অনেক দূর থেকে সেই সবুজের সতেজতা অনুভব করতে পারে, তার মধ্যে এতো আনন্দ আছে। ছিল ? আকাশ বাতাস যেন কি এক মধুর বাঁশির নাম না জানা সুরে সমস্ত বোধকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিলো। ঘোর লেগেছিলো বোধয় সব কিছুতে। সেই ঘোরে প্রতিদিনের নিত্য নৈমিত্তিক কাজ যেন আরো আরো সুন্দর হয়ে উঠলো। সব কিছু এক অপরূপ লালিত্যে ভিজিয়ে দিতে থাকলো যেন। রোজকারের হাতের কাজ, ঘর গোছানো, এমনকি রান্না ঘরের শিশি কৌটো, জামাকাপড় ও যেন হেসে উঠতে লাগলো। 

লাবণ্যের মনে হলো এই ঘোরের মধ্যে নিজের সব থেকে পাশে থাকা মানুষটাকেও তো আনা দরকার, নাহলে এ আনন্দ যে কিছুতেই পরিপূর্ণতা পাচ্ছেনা ! আর সেই ভাবনাই লাবন্যকে তার স্বপ্নের জগৎ থেকে এক ঝটকায় টেনে নিয়ে এলো বাস্তবের কঠিন মাটিতে। শুভকে লাবণ্য চাইলো কিছুটা হলেও তার এই আনন্দের ভাগ দিতে। লাবন্যকে নিয়ে শুভর মধ্যে কোনোদিন ই অনিশ্চয়তার লেশ মাত্র ও ছিলোনা, বরং লাবণ্য  যে একান্ত ভাবে শুধু তার ই এর এক অনুপম গর্ব ছিল ওর মধ্যে। লাবণ্য সে গর্ব উপভোগ করতো। ওদের একে অপরকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন। লাবণ্য চাইতো শুভর যেন স্বপ্নপূরণ হয় আর শুভ চাইতো লাবণ্য যেন অনেক অনেক বড় হয়, অনেক নাম হয়, খ্যাতি হয়। লাবণ্যের খ্যাতির মোহো কোনোদিন ই ছিলোনা, তার শুধু একান্তিক চাওয়া ছিল ওই রোদ্দুর যেন তার আপন সংসারে ঝলমল করে ওঠে আর ওই জ্যোৎস্না যেন আরো সুন্দর আরো স্নিগ্ধ হয়ে তার ঘরে উঁকি দিয়ে যায়। না, তার এই ভাবনার কথা অনেক চেষ্টাতেও সে পৌঁছে দিতে পারেনি শোভনলাল এর মধ্যে। এ নিয়ে তার কোনো অনুযোগ নেই। কোথাও একটু কষ্ট ছিল, আজ আর তাও নেই। তবু তার বড় ইচ্ছে হলো, তার নিত্য ভাললাগার সঙ্গী করে নিতে তার সব থেকে কাছের মানুষটিকে, বড্ডো ইচ্ছে হলো কুয়াশার মধ্যে একসাথে জঙ্গলে ঘুরে আসতে বা সারা রাত জেগে ভোর হওয়া দেখতে, অথবা এই নরম আদুরে শীত এ ঝাড়লণ্ঠনের তলায় কিংবা প্রদীপের আলোয় ফুলের গন্ধের মাঝে, শুধু দুজনে রবীন্দ্রনাথ কে নিয়ে রাত জাগতে। বা প্রিয় কোনো লেখার মধ্যে বুঁদ হয়ে যেতে। ভুল করে ফেললো সেখানেই, শোভনলাল এর এতটুকু দোষ নেই এতে, আপন বোঝাপড়া, সমঝোতার সংসারে লাবণ্য কেনই বা এ চিন্তা নিয়ে এলো, মনে হলো মেয়েটা দূরে চলে যাচ্ছে, নিজের কর্ম ক্ষেত্র থেকে বহুদূরে নিজেকে নিয়ে চলে যাচ্ছে, প্রথমে রাগ হয়ে গেলো তারপর কষ্ট হলো, ওকে না বোঝার একটা কষ্ট কুরে কুরে খেতে লাগলো নিজেকে। বললো সে কথা লাবণ্য কে। 
ঝড় উঠেছিল সেদিন বন্যার মনে। ঠিক ভুল, খারাপ ভালোর দোলা চলে নিজেকে অস্থির করে ফেলেছিলো, নিজের জীবন থেকে এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়েছিলো তার মিতা কে। কিন্তু এ কি হলো, চারিদিক এমন শূন্য হয়ে গেলো কেন, এতো খালি, এতো নিরাশা আগে তো আসেনি। স্বভাব বিরুদ্ধ প্রগলভতায় সেদিন সে বুঝতে পেরেছিলো তার মনোজগতে তার মিতার অবাধ বিচরণের কথা। শিউরে উঠেছিল লাবণ্য, স্বীকার করেছিল নিজের কাছে, তার মিতার কাছেও। 
আসতে আসতে, অন্য আর পাঁচ টা দিনের মতো সেদিন ও গোধূলী নেমেছিল পৃথিবীর বুকে, অস্থির লাবণ্য আশ্রয় নিয়েছিল তার চির নিশ্চিন্তের আশ্রয় ঠাকুর ঘরে। খালি হাতে ফিরতে হয়নি তাকে। ধুপ, ধুনো , ফুল চন্দনের মধ্যে দিয়ে তার আপন হাতের সযতনে রচিত সংসারের মধ্যে দিয়ে নেমে এলো এক অপূর্ব স্থির শান্তি। অনেক না বোঝা কথা সেদিন বুঝেছিলো সে। বুঝতে পেরেছিলো সব সম্পর্ক কোথাও আপন আপন মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে আছে, এর মধ্যে কোনো গ্লানি নেই, কোনো মালিন্য নেই। কোনো কলুষতা নেই। বড় পবিত্র এ সব কিছু। এর মধ্যে কোথাও কোনো ভান নেই। শোভনলালের প্রতি অপরিসীম স্নেহ অনুভব করেছিল সে, মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিল, ওর না বোঝাকে আর কখনো ভুল বুঝবোনা। নিজের মনের এই সমস্ত বোধ উজাড় করে দিতে ইচ্ছে হয়েছিল অমিতর  কাছে , কিন্তু অমিত ও তাকে ছুতে পারলোনা। ভুল বুঝলো লাবন্যকে। নিজেকে কোনোদিন ই কারোর কাছেই তুলে ধরতে পারেনি লাবণ্য, সেদিন ও পারলোনা। আর শোভনলাল এর নিন্দা, সে তার কাছে নিজে হাতে বিষপানের সমান। না, কিছু বোঝাবার বা কিছু খুলে বলা তার কাছে হয়েছিল  নিষ্প্রয়োজন। শুধু আর্জি জানিয়েছিল তাকে বুঝতে না পারুক যেন ভুল না বোঝে। কিন্তু বোঝেনি। তার নিজের মিতার তাকে না বোঝা, চাবুকের মতো এসে পড়লো তার কাছে। রাত পেরিয়ে ভোর হলো। লাবণ্য বুঝলো তার কাছ থেকে ভোর হওয়ার খবর না পেলেও চলবে অমিতর। একদিন হটাৎ ই যে 'বন্যা' আর 'মিতা' কে পথ এক সুরে 'মিতা' করে দিয়েছিলো, হটাৎ করে ওই একটা রাত তাদের এনে ফেললো সহস্র যোজন দূরে। লাবণ্য অপেক্ষায় ছিল। তাদের নিজেদের জগৎ টার কাছে যেতে বারবার ইচ্ছে হচ্ছিলো। এর পরের আরো এক রাত পেরিয়ে ভোর হলো- সেই ভোর হওয়ার একটি শব্দ ও যখন অমিতর কাছ থেকে লাবণ্যের কাছে এসে পৌঁছালোনা, তখন ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নিলো বন্যা। রাতের শিশিরে কুয়াশার মধ্যে ঠান্ডার মধ্যে অনেক্ষন বসে ছিল সে, ভোরের আশায়। ভোর হলো। আলাদা আলাদা ভাবে। কুয়াশা সিক্ত অশ্রু সিক্ত, ঠান্ডায় ম্লান বেদনায় ক্লান্ত, রিক্ত লাবণ্য এর কাছে ধরা দিলো এ সকাল। অন্যভাবে। সুন্দর কে দেখা একটা নেশার মতো, সেই সুন্দরকে ভাগ করে নিতে পারা বোধহয় আরো বড় এক নেশা। সেই নেশায় বুঁদ হয়ে গেছিলো সে, ঘোর ভাঙছে, বড় ভয় ছিল। ভেবেছিলো ঘোর ভাঙুক , কিন্তু তা যেন সুন্দরকে খণ্ড না করে দেয়। অসুন্দরের ভার আর অনাদরের ভার বহন করবার শক্তি নেই লাবণ্যের। কোনোদিন ই ছিলোনা তা। তাই সমস্ত শক্তি দিয়ে আজ সারাদিন সে যেন শুধু বলে চললো।....সুন্দর হোক , সুন্দর হোক , সুন্দর হোক.......

সুন্দর হয়ে তারকাছে আবার সব কিছু দেখা দেবে কিনা।..আমার সত্যি জানা নেই। ...তবে এভাবেই বোধহয় শেষের কবিতা শেষ হলো.....এ লেখার তাই নাম দিলাম "কবিতার শেষ"। 

Friday, 8 September 2017

গরম চা

কাগজের কাপ থেকে একটু গরম চা চলকে হাতে পড়লো। সকালে চা টা হাতে নিয়েই ক্যাম্পাস এর সবুজ ঘাস এর ওপর পা রেখেছিলাম। দিনের শুরুর ওই সময়টা আমার খুব প্রিয়, খুব ভালোলাগার আর একান্ত আপনার। ওই সময়টা সাধারণত কারোর সাথে ভাগ করতে আমার ভালো লাগেনা। কেমন যেন ছোট থেকে আমার বিশ্বাস যে ওই সময় টাতে সূর্যদেব তার সমস্ত মিষ্টতা ঢেলে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন, দেখেন সারাদিন টা আমরা কিভাবে সাজিয়ে তুলি, তাই আমার ওই সময়টাতে সারাদিনের প্ল্যানিং করতে খুব ভালো লাগে, সব সময় যে সে প্ল্যানিং মেনে চলা হয় তা নয়, বরং উল্টোটাই হয় বেশি তবু এ যেন আমার এক বিলাসিতা। 

আজ ও সেরকম ই বিলাসিতায় নিজেকে ভাসিয়ে চা এর কাপ এ চুমুক দিচ্ছিলাম।  কাগজের পাতলা চা এর কাপ। চা হাতে পড়তেই হটাৎ মনে পড়লো কলকাতার কোনো এক বর্ষার বিকেলের কথা। আমার ই কোনো কাজে আমি আর বাবা গিয়েছিলাম মৌলালি, ফেরার পথে বাবার একটু চা খেতে ইচ্ছে হয়েছে , বিকেলবেলা। বাবা চা খেলে আমিও যথারীতি সেটাই খাবো , অন্য কিছু নয়, অতএব আমিও জোর করে চাই নিলাম। কাগজের কাপ নয়, মাটির ভাঁড় এর ধোয়া ওঠা চা, কিন্তু কিছুতেই চুমুক দিতে পারছিনা, ভয় হচ্ছে যদি জিভ পুড়ে যায়? অবশেষে বাবা দেখিয়ে দিলো কিভাবে জিভ কে না লাগিয়ে শুধু ঠোঁট লাগিয়ে আলতো করে চা চুমুক দিয়ে খেতে হয়।  বাড়িতে মা এর কড়া শাসন এ চা এর বদলে তখন ও দুধ, আর বাবা আর দিদির আদরে সেই আমি তখন কলেজ যেতে শিখে গেলেও বড় হওয়ার চৌকাঠ পেরোয়নি তখনো, তাই দোকানের মাটির ভাঁড় এ চা এর চুমুক দেয়াটা ছিল একটা দারুণ ব্যাপার তখন। আর একটা খুব বড় এক প্রশ্ন ছিল আমার মনে, দুধ ঢকঢক করে খেতে হয় কিন্তু চা কেন লোকে চুমুক দিয়ে খায়? আর দুধ খেলে জিভ পুড়ে যায়না, কিন্তু চা খেলে কেন পুড়ে যায়? বাবা আর দিদির ওপরেই ছিল আমার যত প্রশ্নের জুলুম, ওই দুটো মানুষের ধৈর্য ও ছিল খুব। মন দিয়ে সব উত্তর দিতো তারা। 
আজ সকাল বেলায় অল্প একটু চা হাতে পড়াতে সঙ্গে সঙ্গে সেটা মুছে নিয়ে আবার চুমুক দিতে দিতে হটাৎ নিজেকে কেমন একটা বড় কেউ মনে হোলো , আমার সেই ছোট্ট আমিটা কেমন একটা অবাক চোখে যেন আমাকেই জিজ্ঞেস করতে লাগলো আর তোমার গরম লাগলোনা হাত এ ? এতো তাড়াতাড়ি চা কফি কিকরে খাওগো তুমি? এটাতো দুধ নয়, জিভ পুড়ে গেলোনা? 

নাহ আর আমার জিভ পুড়ে যায়না, আর গরম লাগেনা। 

Thursday, 7 September 2017

ছিন্নপাতা

আজ অনেকদিন পরে আবার লিখতে বসলাম। সম্পর্ক গুলো  খুব বেশি রকমের কৃত্রিম হয়ে যাচ্ছে। না ঠিক তও নয়। তবু যেন কেমন একটা হয়ে যাচ্ছে। আঘাত দিতে চাইনা কাউকে, তবু যে অনেক আঘাত দিয়ে ফেলি, যা বলতে চাইনা, যা আমার  নয় তাই সবাইকে বলি, আর যে কথা আমার মানের তাকে লুকিয়ে রাখি।.কিন্তু কেন? কিসের জন্যে এই লুকোচুরি, কিসের এই টানাপোড়েন, কি চাইছি, কি হচ্ছে র কি বা করছি কিছু জানিনা।
শুধু বারবার ছুটতে ছুটতে চলে যেতে ইচ্ছে করছে আমার সেই গোধূলি বেলার খোলা ছাদে।  সেই যে যেখানে ওই এতটুকু একটা মেয়ে তার ছোট্টমনে কোথাও কোনো দুঃখ কি তার কষ্ট সে যতই ক্ষুদ্র হোকনা কেন, তা বলতে ছুটে যেত ছাদে , সূর্যাস্ত দেখতো অপলক চোখে, কেমন যেন ঘোর লেগে যেত দেখতে দেখতে নিচে যেই দেখতে পেতো তার বাবা আসছে সাইকেল করে স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে , অমনি সব দুঃখ সব কষ্ট ভুলে সেই শিশুমন ঝলমল করে ছুট্টে যেত তার জীবনের সব থেকে প্রিয় মানুষের কাছে। আজ এই যে এত অসহিঞ্ষুতা, সেটাকি ওই একজন মানুষের অভাবে। যে মানুষ টাকে কোনো কিছু বলতে হতোনা, বোঝাতে হতোনা মুখ ফুটে, যে আপনি ই সব বুঝে যেত আজ সেই মানুষ টাকে যদি একবার পেতাম, একবার যদি আমাকে সে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলতো কি হয়েছেরে বোকা মেয়ে, এই তো আমি আছি...সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তে বিদায় নিতো আমার এই অস্থিরতা, আমি আবার ফিরে যেতে পারতাম আমার রূপকথার পৃথিবীতে, কি নিশ্চিন্ততা, কি শান্তি। কেন ওই শান্তি ভগবান কেড়ে নিলো জানিনা, আমার সূর্য তো এখনো সেই এক ই ভাবে অস্ত যায়, এক ই ভাবে ফিরে  আসে, তাহলে আমার চেনা পৃথিবী কেন বদলে গেলো। কি যেন পাচ্ছিনা, কি যেন নেই, কিসের যে অভাব, জানিনা আমি বাবা। শুধু একবার তোমাকে জড়িয়ে ধরে আমার জীবনের গভীর নিশ্চিন্ততা পেতে চাই।  আর কিছু চাইনা। সে

Friday, 3 April 2015

আমার দেখা "মানুষের মত মানুষ " (১ম পর্ব শৈশব)

১৯৫০ সন ২৩ শে জানুয়ারী। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে বাড়ির অঙ্গন এ সামনের আঁতুর ঘর থেকে ভেসে এলো সদ্যজাত শিশুর ক্রন্দন। দিদিমা শাঁখ বাজিয়ে উলু দিয়ে সেই সদ্যজাতকে আবাহন করলেন এ পৃথিবীতে, তাঁদের সেই ছোট বাড়ি টিতে। শিশুটির পিতা অস্থির ভাবে পায়চারী করছিলেন, বলে উঠলেন, আমি কি এখনো ওখানে যেতে পারিনা, এ সব কি আপনাদের নিয়ম , কতবার বলেছি ও আমি মানিনা। ভিতর থেকে দাইমা বাইরে আসিলেন, ঘোমটায় মুখ ঢাকিয়া মৃদু হাসিয়া বলিলেন "পুত্র সন্তান , আজ থেকে তুমি ছেলের বাবা হলে গো , বাপ্ , যাও চিনি বাতাসা নিয়ে আইস।"  
শিশুর প্রশস্ত ললাট , মাথা ভর্তি ঘন কালো চুল, টুকটুকে ফর্সা, আর যে বয়সে চোখের দৃষ্টি ই আসেনা, তখন ই এ কেমন বড় বড় চোখে চারিদিক দেখছে। পিতা অবাক হয়ে নিজ পুত্রকে নিরীক্ষণ করতে লাগিলেন, তাঁর আরো এক কন্যা সন্তান আছে, এছাড়াও সদ্যজাত শিশু তিনি আগেও দেখেছেন, কিন্তু এমন দেবতুল্য পরিণত শিশু তিনি আগে কখনো দেখেননি। বুকের ভেতর টা কেমন যেন করে উঠলো ওনার , পাশেই ছিলেন ওনার শাশুড়ি , ছেলের দিদিমা, তিনি মেয়ে জামাইকে সম্বোধন করে বললেন, "দেখ আমাদের গরিবের ঘরে রাজা এসেছে।" "রাজা নয় মা, সাক্ষাত ভগবান এসেছেন। কিন্তু কেন তিনি আবার মনুষ্য জন্ম ধারণ করলেন, আবার তো তাহলে সব দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা সহ্য করে নীরবে চলে যেতে হবে।" বিড়বিড় করে বললেন পিতা। "এ কি বলছেন আপনি", মা এর চোখ ছাপিয়ে জল উপচে পড়ল ," সন্তান ভূমিষ্ঠ হাতে না হতেই আপনি, আপনি তার যাবার কথা বললেন , ছি ছি। এ কি অমঙ্গল এর কথা।" "না না স্বর্ণ এর থেকে মঙ্গল আর পুন্যের কিছু নেই , আমাকে ভুল বুঝনা। শোনো আমি ওর  নাম দিলাম রনজিত , যে যুদ্ধ এ জয় লাভ করে জয়ী , সেই রনজিত।"
শুরু হলো শিশু রনজিত এর পথ চলা। মা দিদিমার রণ , বাবার খোকা আর দিদির ভাই। ছোট থেকেই অসাধারণ মেধা, পর্যবেক্ষণ শক্তি আর ধৈর্য্য ছিল তাঁর। কিন্তু দুষ্টু বুদ্ধিতেও কিছু কম যেতেন না তিনি , পাড়ার বড় রা তাঁর দৌরাত্ব্যে অস্থির হয়ে যেতেন। আর ছোটরা পেতেন আরো উত্সাহ। নিজেদের বিশাল আম, জাম , কাঁঠাল , কলা, নারকেল এর বাগান। তবু অন্যের বাগান থেকে ফল পেড়ে খেতে ছোটদের দল এর ছিল বেজায় উত্সাহ। পুকুর ঝাঁপানো, এ পার থেকে ও পার করা, গাছে গাছে ঘুরে বেড়ানো, গুলতির এক টিপ এ দূর থেকে লক্ষ্য ভেদ এ সব এ তার বেজায় উত্সাহ। শান্ত শিষ্ট মা, কিছুতেই ছেলেকে সামলাতে পারেননা, বাবা ধরে ফেললে, পিটুনি তো অবধারিত, কিন্তু ধরতে পারলে তো, দিদি অন্ত প্রাণ ছিল তাঁর। কিন্তু দুষ্টুমির সময় কাউকে ধরা দেবেনা সে, শুধু হি হি হাসি। আর দৌড়ে দৌড়ে পালানো। কিন্তু একজন এর ডাক কে উপেক্ষা করতে পারতেননা। তিনি হলেন দিদিমা। দিদিমা ডাকতেন ও না বেশি। উনি সব জানতেন, কোথায় আছে, কি করছে, সে ছিল ওনার আর নাতির মধ্যের একান্ত বোঝাপড়া। চুলে তেল মাখান, জোর করে স্নান করানোর  জন্যে পুকুরে নিয়ে যাওয়া , সেখান থেকে তুলে আনা, খেতে বসানো, রাত্রে শুএ শুএ গল্প বলা এ সব ছিল দিদিমার কাজ। 
                                 সেই দুরন্ত , কিন্তু কখনো কখনো এমন শান্ত হয়ে যেত, যে বাড়ির লোক খুঁজতে বেরিয়ে পরতেন , ছেলে কোথায়, ছেলে কোথায়, গিয়ে  দেখেন চুপ করে পুকুর ধারে গাছের গুড়িতে হেলান দিয়ে বসে কোনো বই পড়ছে তাঁদের রণ। সে পড়ার হোক কি গল্পের , বাহ্য জ্ঞান লুপ্ত হয়ে যেত তাঁর বই হাতে পেলে। 
                                                                                                                               (পরবর্তী অংশ পড়ুন ) 

Saturday, 28 March 2015

রচনা

নীরব , নিভৃত অলস মধ্যাহ্ন। বসন্তের মিষ্ট রৌদ্র, শয্যা তে আসিয়া পড়িয়াছে , বাহিরে ককিলের কুহু স্বর্গ লোকের আকাশ করেছে মুখরিত।  পারিজাতের মৃদু সুগন্ধ এ চারিদিক হইয়াছে আমোদিত।   
দেবরাজ ইন্দ্র তাঁর দ্বিপ্রহরীক আহার সাঙ্গ করিয়া সুখ শয্যায় আসিয়া আধ শোওয়া হইয়া , তাম্বুলদানী হইতে একটি তাম্বুল মুখে দিলেন। আর দেবী ইন্দ্রানী তখন আপনার সিক্ত কেশরাশি সযত্নে কপ্পুর দানীর উপর হইতে সরাইয়া ওনার পাশে আসিয়া আবদার করিলেন একটি গল্প বলার। 
                     দেবরাজ ইন্দ্র কহিলেন "দেবী , আজ তোমাকে মর্তবাসীর এক মজার গল্প বলিব শুন।" "না দেব, অনুরোধ করি, এখন এই বিশ্রাম এর সময় , এমন কিছু  বলিয়া ও শুনিয়া আমি আমাদের এই মুহূর্ত বিষন্ন করিতে চাহিনা, কারণ মর্তবাসীর গল্প মানেই তো অবিশ্বাস, দুঃখ , বেদনা, হানাহানি, খুনোখুনি, গালি ,সেখানে কোনো সম্পর্ক নেই, কেহ সম্পর্ক তৈরি করিতেও জানেনা, করিলেও রাখিতে পারেনা , উহাদের কথা আমি আর শুনিতে চাহিনা। কহিলেন দেবী। 
                       "না , না, দেবী , ইহা তোমার ভ্রম। যদিচ তুমি ঠিক ই কহিয়াছ বেশির ভাগ মানুষ্ ই উপরোক্ত গল্প এর ই চরিত্র হতেই প্রয়াসী ,  তবে অনেকে এমন  এখনো আছে, যারা সুন্দর পৃথিবী কে সুন্দর রাখিতে জানে আর তারা প্রতি নিয়ত রচনা করিয়া চলেছে এক সুন্দর রূপকথা।তাদের একান্ত আপনার অথচ কাউকে আঘাত না করা এক পুষ্প কোমল মন কে শত ঝঞ্ঝা তেও তারা ঠিক বাঁচিয়া রাখিতে পারিয়াছে। কিন্তু তাদের আশপাশ এর পাশবিক আঘাত? যা বারংবার তাদের দিকে ধেয়ে আসিয়াছে, আসিবেও হয়ত আবার ও, তাকে সুন্দর ভাবে সযত্নে পাশ কাটিয়া জানো ইহারা রচনা করিয়া চলিয়াছে এদের আপনার স্বর্গ। জানো দেবী, সে স্বর্গ ও কিন্তু কিছু কম নয় আপনার এই স্বর্গের অপ্পেক্ষা। আর জানো এই সুন্দরের পূজারীরা ও কিন্তু সংখ্যা লঘু নয়, শুধু এদের যুদ্ধ , এদের জয় , বড় নীরব , তাই তুমি শুধু ওই অসুন্দরের ধ্বজাধারী দের দেখিয়া মর্ত হইতে মুখ ফিরিয়া নিওনা প্রিয়ে , অসুন্দরের মধ্য হইতে আইস আমরা সুন্দর কে  লই।" 
দেবরাজ ইন্দ্র র ছলছল চক্ষুর দিকে চাহিয়া দেবী কাছে আসিয়া স্বামীর হস্ত আপনার হস্তে লইয়া কহিলেন " বলো। "


(চলবে )

Friday, 27 March 2015

I am the proud fool

আমি বোকা, আমি গর্দভ আর সত্যি ই তো চিরকাল ই বোকারা ভালবাসে, আঘাত পায়। সহজ কথা সহজ ভাবে চলা যদি ভুল হয় তো ভুল, কিন্তু তার কারণে আমি বাঁকা পথে হাঁটতে পারবনা, কি অদ্ভুত তাই না, আমি ভাবছিলাম আমার সাথে কেউ ভালো করে কথা বলল তারা বুঝি কাছের ভাবে, কিন্তু ভুল করেছিলাম। যে কথা আমি কোনদিন ই mean করিনি সে কথা যখন কেউ মানে প্রাণে বিশ্বাস করে, তবে সেখানে কিছু বলা বা বোঝানো যায়না, তবে আগে জানতে ইচ্ছে করত কেন এই বিদ্বেষ এই রাগ, এই ভুল্ বোঝা? জানাতেও ইচ্ছে করত যে কি খুশি হয়েছিলাম নিজের কথা বলতে পেরে, মানে হয়েছিল অনেক দিন পরে এক নির্ভেজাল বিজ্ঞান আলোচনা হলো, অসহায় হয়েই। গেছিলাম , কাঁদুনি গাইতে নয়। কিন্তু আর নয়, এ যেন শুধুই এক ভুলের ওপর আর এক ভুল। ভুলের রাশি। সব যদি সত্যি হয় সময় ই এর উত্তর দেবে। 

ছি:

আজ আমি নিন্দে করব। একদম প্রাণ খুলে প্রচুর নিন্দে। অনেক দিন অনেক কারোর 'শুধুই নিন্দে' কে অগ্রাহ্য করে এসেছি কিছুটা শুধুই অগ্রাহ্য করে, কিছুটা ভালবাসায়, কর্তব্য বোধে, কিছুটা বলুক, আমি তো জানি আমি কি ভাবি না ভাবি, মিথ্যেই যখন তখন কি হবে তাতে কান দিয়ে, আর কিছুটা এই কারণে যে অন্যের নিন্দে করে সময় নষ্ট করা মানে নিজেকে আরো আরো পাঁকে নামানো। কিন্তু আর সত্যি পারলামনা, পাঁকে আজ আমিও নামলাম।
এর আগে এমন ঘটনা আমার সঙ্গে হয়েছে যে যেখানে আমি সত্যি ই হয়ত শুধুই আমার মনের খারাপ লাগা, ভালোলাগা নিজের মত করে লিখতে গেছি আর তাতে লোকজন ঝাপিয়ে পরে বোঝাতে গ্যাছে যে তুমি আসলে নিন্দে করছ (যা আদতে নিন্দে ছিলনা ) এবং এটি প্রচন্ড গর্হিত কাজ , যাকে যার মতন থাকতে দেওয়া উচিত। অর্থাত কিনা বাক স্বাধীনতা বা লেখনী স্বাধীনতা শুধু আমার একার , আমি দিন রাত এক করে দিয়ে শুধুই লোকের নিন্দে করব। তোমার ও নিন্দে করব , কিন্তু তুমি কে হে , তুমি আমাদের পর্যালোচনা করতে আস , আমরা সব বড় বড় হনু, আমরা যা করব সেটাই ঠিক এবং সেটাই বিশ্বে প্রথম হলো, এরপর যে যে সেই এক ই কাজ করবে , সে আমাদের দেখে ঈর্ষান্বিত হয়েই করবে। নিজের ইচ্ছে বা শখ এ তো হাতেই পারেনা, কারণ ওই যে সমস্ত কিছু বোঝা, জানা , ভাবা, করা এসব আমার বা আমার সাথে যারা যুক্ত আছে তাদের, অধিকার। অন্য কেউ নৈব নৈব চ। ও ফটো তুলেছে ? নিশ্চই আমার দেখে? আমাকে টেক্কা দেবে বলে। ও প্রোফাইল picture চেঞ্জ করলো কেন এতদিন পরে , নিশ্চই কোনো কারণ আছে, ঠিক ধরেছি এটা তো আমাদের দেখে করা, দেখেছ হিংসে তে একদম জ্বলে পুড়ে গেছে। আরে ওরা উত্তরের ওই ওখানে বেড়াতে গেল, দাড়াও কেন গেছে জানি, আমাদের দেখে দেখে আবার কি? অর্থাত কিনা, তুমি ওদের কথা ভাব বা না ভাব , ওরা কিন্তু সাদা সর্বদা তোমার বা তোমাদের এবং আরো কত লোকের কথা ভেবে কাটাচ্ছে কে জানে। তুমি কিন্তু এ সম্পর্কে বিন্দু বিসর্গ জাননা, শুনলে, খারাপ লাগলো তারপর আবার ভুলে গিয়ে নিজের জীবনের মধ্যে মশগুল হয়ে গেলে, অথচ তাদের দুর্দশার কথা ভাব, মহানতা তাও দেখো একবার,দ্যাশের ও দশের কথা ভাবতে ভাবতে তো জীবন দুর্বিষহ। চব্বিশ ঘন্টা তো অন্য কে নিয়ে কাটাতে হচ্ছে, আবার ওপরে ওপরে একটা নির্লিপ্ততা , সাধু সাধু ভাব ও দেখাতে হচ্ছে, তারপর অন্যে তো সব সময় ওদের হিংসে করে তাই না, অত এব নিজেদের জীবনের অভিনবত্ব বজায় রেখে, কিকরে অন্য কে আরো আরো হিংসা দেওয়া যায়, তার চেষ্টা করতে হবে।
                           সত্যি আমি এমন লোক দেখেছি, যারা ঘোর সংকট এর মধ্যে একটি রোগগ্রস্ত জীবন কাটাচ্ছে। psychology তে এ রোগের কি নাম আছে আমি জানিনা, কারণ  এটি একটু বিরল রোগ, যে রোগ এর প্রধান লক্ষন হলো , এরা কারোর মধ্যে ভালো কিছুই খুঁজে পায়না, আর ঠিক যে জিনিস গুলো নিয়ে সব সময় এরা নিন্দে করে থাকেন, নিজেদের প্রাত্যহিক জীবনে এরা ঠিক সেই কাজ টি ই করে থাকেন। এরা আরো মনে করেন যে চারপাশের মানুষ্ জন  তো বটেই পারলে গোটা বিশ্বের লোক এঁদের জীবন যাত্রার দিকে উঁকি মারতে চায়, একদিকে এরা বলেন, এঁরা প্রকৃত শান্তির সন্ধান পেয়েছেন , আবার আর অন্যদিকে অন্যের এই উঁকি ঝুঁকি (ওদের assumption বা hypothesis অনুযায়ী ) তে ওনাদের সেই শান্তি এমন বিঘ্নিত হয়, যে মানুষ্ কে "ছোটলোক" আখ্যা দিতেও এদের কোথায় আটকায়না। এরা কি সত্যি কারের মানুষ্ ? নাকি নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে ভুক্ত এক প্রাণী। যারা কিছুতেই জীবন কে সোজা পরিস্কার চোখে দেখতে পায়না, ভাবতে ই পারেনা যে মানুষ সত্যি ই মানুষের কাছে এমন ই কিছুক্ষণ দাড়াতে পারে, তার পেছনে কোনো মতলব না থাকাটাই স্বাভাবিক , প্রত্যেকের জীবনেই problem আছে, তোমার জীবনে কিছু সমস্যা নেই, ইশ শুধু আমার জীবনেই আছে, এসব না চিন্তা করেই সহজ ভাবেই সাহায্য নিতে বা করতে মানুষ্ ই তো পারে। কোন মোহের অন্ধকূপের মধ্যে ঘুরপাক খেতে খেতে শুধুই বিষোদগার করে চলেছে, আঘাত করে চলেছে, একের পর এক। 
আগে কষ্ট হত এই সব মানুষ্ গুলোকে দেখে, এখন করুণা হয়, এরা বোধহয় কখনই সুস্থ জীবন যাপন করতেই পারবেনা। বুঝতেই তো পারছেনা, সহজ সরল ব্যবহার এর অর্থ। ভালবাসা? সেত আরো অধরা , ভালোবাসা বোঝার মত বা ভালবাসার মত মন কি আর জীবিত রেখেছে এরা ? সবেতেই তো মানে খুজতে বসেছে , এদের কাজ কর্ম দেখে তো মনে হচ্ছে, শুধু অন্যে কি কাজ করে সেটা খোঁজা আর তার নিন্দে করা, এই পরম সৌভাগ্যের কাজ ই এদের জীবনের ব্রত। সত্যি জানেন , এমন লোক দেখেছি যারা ভাবেন তারা ছাড়া অন্য কেউ ই আর কিছু করতেই পারেনা, কারোর মন নেই, কোনো ইচ্ছা নেই, কিছুনা। অভূত লাগবে কিন্তু এমন সত্যি আছে, ধরুন আপনি কিছুদিন আগে পাহাড়ে ঘুরতে গ্যাছেন , ফটো লাগালেন কোনো পাবলিক ফোরাম এ, তার কিছুদিন পরে আপনার চেনা কেউ ও পাহাড়ে ঘুরতে গেল আর ফটো লাগালো , তখন কি আপনি ভাবতে বসবেন যে দেখেছ আমার দেখে দেখে ও হিংসে করে ঘুরতে গেছে আর ফটো লাগিয়েছে। অথচ এমন মানুস আছে জানেন, যারা ভাবে অন্যে যা কিছু করছে সব তাদের ই দেখে, কি অদ্ভুত না? হয়ত আপনি ওদের জীবন যাত্রা সম্পর্কে বিন্দু বিসর্গ খোঁজ খবর রাখেনা বা উত্সাহিত ও নয়, আপনার উদ্দেশ্য শুধুই একটি সহজ সম্পর্ক বজায় রাখা, কিন্তু সেখানেও অসুবিধা। আপনি যেভাবে ফটো লাগাবেন সেটা যদি কোনভাবে ওনার স্টাইল এর সাথে match করে যায়, অতএব লোকে ভাবতে বসবে যে নিশ্চই আমাকে কপি করেছে। একবার ও ভাবতে পারেনা যে কেন কপি করতে যাবে আমায় , আমি কি একাই এরকম ফটো তুললাম, নাকি, ফুল গাছ পাথর, পাহাড় এসব কি আমার একার ই আছে নাকি, ফটোশপ এ একটু আধটু ফটো কে এদিক ওদিক করার ক্ষমতা আমার একার ই। আমি ই ফটো প্রথম সাদা কালো করলাম , আমি ই প্রথম ছবি আঁকলাম , আমি ই প্রথম লেখক , আমি ই প্রথম গায়ক , আমি ই প্রথম সব কিছু। 
                            এসব কি? সত্যি ই কি এরা অসুস্থ ? সাংঘাতিক ব্যাধি আক্রান্ত ?
জানেন আমি এমন লোক দেখেছি যাদের কে "ওরে আমাকে একটু খাওয়াবি "? এরকম ভাবে বলার পরে ও  তারা শুধু ভাবতে পারে যে বাড়িতে না ডেকে , একটু রান্না করে নিয়ে এসে দেবে, যদিও হয়ে ওঠেনা তা, অথচ সেই এক ই লোক কে অন্য কেউ নিমন্ত্রণ করে যদি অন্য আর নিমন্ত্রিত দের খেতে দিয়ে দেয় , তাদের খিদে পেয়েছে বলে এবং খেতে বসেও নিজে তার মায়ের সাথে না খেয়ে অপেক্ষা করে, তবে সেই তারাই তাকে এমন ভাসায় কথা বলে, যা একজন কোনো শিক্ষিত লোক বলতে পারেনা, এতে তারা শুধু তাদের নয়, সেই শিক্ষার অপমান করলো। 

হটাত কিছুদিন ধরে facebook নিয়ে প্রচন্ড কথা হচ্ছে, এবং অন্যের  facebook ব্যবহার নিয়ে যে কেউ বা কারা এত ভাবতে পারে তা, facebook নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে আমার এক অপরিচিত লেখিকার লেখা না পরলে জানতেই পারতামনা। লেখাটি শুধুই হাস্যকর নয়, তার ভেতর প্রধান বিষয় বস্তু থেকে এটাই বোঝা গেল যে লেখিকা facebook বলতে শুধুই বোঝেন স্টেটাস আপডেট দেওয়া বা না দেওয়া, আর তার জন্যে তিনি বসে বসে সবার activity লক্ষ্য করেছেন, এবং যথারীতি সব ই তার কাছে নিন্দনীয় লেগেছে।  অথচ facebook প্রথম কেন আসে বা কোন দরকার থেকে এ প্রথম শুরু হলো ,  বা কে এটি বানিয়েছিলেন সে সম্পর্কে ওনার বিন্দুমাত্র মাথা ব্যথা নেই। google তো আছে , আবার কাউকে 'আমরা কত বড়' বোঝানোর সময় google খুলে দেখে নিলেই তো হলো। আমি এই বিষয় টি নিয়ে প্রাণ খুলে জোর গলায় নিন্দে করতে এই জন্যেই পারি যে facebook অনেক অন্য কাজে লাগানো যায় , আমি নিজেই facebook এর মাধ্যমে স্যাম্পল কালেকশন করি। আর লোকেরা কে কি ভাবছে, কে কেন কি ভেবে কিছু লিখছে বা লিখছেনা, আমি কি সেই অন্তর্যামী হয়ে গেছি যে আমি তা বলব। আমি এতই বড় হয়ে গেছি, এতই মহান হয়ে গেছি , যে এ সম্পর্কে অনায়াসে আমি মন্তব্য করতে পারি ? লোককে , তার চিন্তা ভাবনা, কাজকে বিচার করার মত যোগ্যতা কি আমার আছে? আমি যা করি সব ই কি ঠিক? আমি অন্যেকে নিন্দে করছি? আমার এই শুধুই নিন্দের একটিভিটি কি ক্রমশ আমাকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছেনা? বা আমি কি আদৌ কি তা ঠিক করলাম, অন্যের activity র ভুল ব্যাখ্যা করলামনা তো আমি , হয়ত একদিন যে লোকগুলো আমার কাছে ভালবাসার ঝাপি খুলে নিয়ে বসেছিল, ডালা সাজিয়ে দিয়েছিল শ্রদ্ধার , তা আমি সজোরে পায়ে করে সরিয়ে দিলামনা তো? শুধুই নিজের মনের অন্ধকার, insecurity আর egoistic problem এ ভুগে, আমার নিজের জায়গাটা নামিয়ে দিলাম্ নত? আমার এখন দরকার নেই বাইরের লোকের ভালবাসা হয়ত, কিন্তু যে মহা সত্যের কথা আমি বলি, বুঝি বলে ভাবি, তার অপমান করে ফেললাম নত? এত বই, এত কিছু সব নিষ্ফল, স্বাধারণ ঘর সাজানোর সামগ্রী হয়ে গেলনা তো ? কিজানি শুধুই নিন্দার হাত ধরে আমি কি পরম সত্য খুঁজে পাব?



Wednesday, 25 March 2015

চারটি বছর ধরে

দেখতে দেখতে চার বছর হতে চললো 
তোমাকে দেখিনি।
সামনে থেকে

দূর থেকে তো তোমাকে রোজ ই দেখি
ওই যে তুমি ওই ওখানে আছ.......
দেখছ তোমার আদরের অভিমানিনী খেয়েছে কিনা,
ঠিক মতো ঘুম হয়েছে কাল রাতে?
চোখের তলায় কি দাগ ওটা?
দেখেছ কালি পড়েছে ঠিক ....
রাত জাগতে হচ্ছে কি ওকে?
বড্ড বেশি কাজের চাপ?
আহ , দুধ, ডিম টা খাচ্ছে তো ঠিক ঠাক
নজর দেবার সেরকম তো কেউ নেই
দুজনেই যে ছেলেমানুষ বড়ই। .....
মন মেজাজ ভালো আছে তো ওদের
দুঃখ যেন কক্ষনো না পায়
আহ, মেয়েটা আমার এমন ছেলেমানুষ, একটুতেই বড্ড কেঁদে ভাসায়
দাঁড়া এমন একটা গল্প বলব না, মন খারাপ? দেখ কেমন হয় উধাও। .......
এই লেখাটা আলাদা করে রাখি, দেখা হলে বলতে হবে ওকে,
কোন ল্যাব টার কথা বেশ বলছিল ও...... আজ একটা পেপার বের হলনা। ...
কত কি যে বলার আছে ওদের দেখা হলে শেষ ই হবেনা। ....
..........

তোমার মেয়ে হয়েছে অনেক বড়
দুধ ডিম সব ঠিক মতন খায়
কাজের চাপে যখন একা থাকতে হয়,
তখনো সে সময় মতো খায়.....
ঠিক মতো ঘুমিয়েছি আমি
দেখ একটুও নেই চোখের তলায় কালি
সবার সামনে মোটেও কাঁদিনা আমি,
সে যে আমার নিভৃত গীতাঞ্জলি
বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে নিয়ে,
মন খারাপ এ আর গল্প বলবে কে....
লড়াই করতে দেখেছি তোমায় আমি
হাসপাতাল এর লোহার বেড এ শুয়ে।
আজ থেকে প্রায় চার টি বছর আগে। ...

বড় হবার সুযোগ দিয়ে গেলে
আরো বড় হতে বলে গেলে
যে হাত শুধু তোমার হাত চিনত
সেই দুহাতে আরো চার হাত দিয়ে গেলে
এত বড় দায়িত্ব কেন দিলে, সে প্রশ্ন আর করিনা আমি
শুধু বলি, তোমার কথা বুঝতে পেরে আমি
আবার তৈরি করছি পায়ের নিচের ভূমি
সব সময় হাসি মুখে থাকি, যেমন ঠিক চাইতে আমায় তুমি
আরো দুজনের মুখের দিকে চেয়ে
বাঁচছি আবার , বাঁচার মতো করে। .....
আজ এই চারটি বছর ধরে

আজ এই চারটে বছর ধরে
তোমার মেয়ে জেনেছে অনেক কিছু
বুঝেছে তার ও বেশি
তাই এখন সে আর যখন তখন কাঁদেনা,
কান্না তার থাকবে জমা করা। .....
দেখা হলে থামাতে হবে তোমায়
অনেক অনেক গল্প মনে রেখো তাই
নইলে কিন্তু মোটেও সে থামবেনা। .......
আমার কাছেও আছে অনেক কিছু
জমা করা রইল রইল সে সব এখান 
থাকবে প্রতিদিনের সকল অভিজ্ঞতা
নতুন নতুন গল্প আর অনেক অনেক কথা
.............

তোমার মেয়ে তোমায় বুঝতে পেরেছে
পেয়েছে তোমায় আরো অনেক কাছে
অনেক অনেক গল্প জমা রইল
একবার যাই, দেখি থামাও তুমি কিসে।....
এবার তো আর একা আমি নয়
ভালবাসার আর এক ভাগীদার যে আছে
ভাগ দিতে আমি রাজি যদিও নই
কিন্তু জানো, নাছোর বান্দা যে সে ,
 তাই
থাক সাথে ও সে। ......


তোমাকে ছেড়ে সেই আশাতেই আছি,
জানি তুমি আছ আমার কাছে
রাস্তা ভুল করলে
হাত ধরে ঠিক পথ দেখিও
এবার তবে ঘুম এর দেশে যাই
সেখানে তো আর কোনো বাধা নেই
সেদেশে আমার সক্কল কে চাই।
ঘুমের মধ্যে চাদর পরে গেলে
জানি তুমি ঠিক করে দেবে এসে
হাত থেকে বই টা তুলে রেখে
ল্যাপটপ টা বন্ধ করে দেবে।

এবার তবে 'টাটা হাম চকাস '
ভুবন ভুলিয়ে হাসো বাবা, একবার।
ভালো থেক সব সময়...........
মন খারাপ আমার একটুও নেই আর।
দেখো আমি হাসছি কেমন করে,
কথা দিলাম, হাসব আমি এভাবেই সব সময়
আমার হাসিতে আর যে দুজন হাসে
তাদের হাসি বন্ধ হবেনা না কখনো।
ভালো করে থেকো তুমি বাবা ,
নিও শরীরের যত্ন।






  

এ পথ গেছে সেইখানে

  দেখতে দেখতে এক বছর হয়ে গেলো, ছোট্ট ছেলেটা স্কুল এ যাচ্ছে। স্কুল মানে playschool বা daycare. এদেশে ওয়ার্কিং পেরেন্টস দের ছোট্ট ছোট্ট ছানা...