Saturday, 31 March 2018

প্রতিধ্বনি

একটা অবাক করা গোধূলী হটাৎ আমাকে নিয়ে গিয়ে ফেললো আমার এক স্বপ্নের জগতে। কিভাবে সম্ভব হলো। কেমন করে আমার ভালোলাগার কথা আমার ই সামনে এসে পৌঁছলো। বলিনি তো কখনো। তাহলে কিভাবে হলো এই মেলবন্ধন।
সূর্য্য তখন পাটে বসেছে, অস্তগামীর বিদায় বেলায়, বোধয় বিদায় সম্ভাষণ জানাতে, পুব আকাশে ধীরে ধীরে আপন মুখ তুলে তাকিয়েছিলো কুমুদিনী। সেই অপূর্ব মেলবন্ধন। সেই সময় হটাৎ দূর থেকে আমার কাছে ভেসে এলো কিছু স্বপ্ন। সে স্বপ্নে অনেক কথা ছিল, অনেক সুর ছিল, ভয় ও ছিল, পাছে ওই  স্বপ্নের ঘোর চোখে লেগে যায়। 

তাড়াতাড়ি স্বপ্ন থেকে জেগে উঠতে উঠতেও যেটা পারলামনা সেটা হলো, ওই স্বপ্নের থেকে একটা শব্দ কেন কিজানি আমার মনে আমার নিজের একেবারে নিজের এক স্বপ্নকে মনে করিয়ে দিলো। দোলনা। দোলনা আমার ভীষণ প্রিয়। আমার স্বপ্ন দিয়ে সাজানো একটা জগৎ ছিল, আজ আর নেই তা বলবোনা, তবে ওই যে জীবিকার তাগিদে জীবন কে বন্ধ করে দিতে হয়েছে। তবু স্বপ্ন তো আছেই, আজ হটাৎ করে আমার সেই স্বপ্নের প্রতিধ্বনি শুনতে পেলাম। কিভাবে, এ সম্ভব হলো আমি জানিনা, কখনোতো বলিনি, তবু কিভাবে এক ই রূপ, রং, রস , গন্ধ নিয়ে আমার স্বপ্ন আমার ই সামনে এসে দাঁড়িয়ে আমাকে একেবারে স্তব্ধ করে দিলো বেশ কিছুক্ষনের জন্য। 

স্বপ্ন হয়তো খুব পার্থিব। অপার্থিব কিছুই নেই এখানে। হয়তো বা বড় বৈষয়িক ও। তবু এ আমার বেঁচে থাকার অঙ্গ। তাই ভাবলাম থাকনা, আজ নাহয় আমার ভালোলাগা, আমার কথা হয়ে, পার্থিব স্বপ্ন কে বয়ে নিয়ে থাক এখানে লেখা। অনেক দিন পরে যখন কখনো অন্য কেউ বা অন্য আমি বা এই আমি ই পড়বো , তখন ভাববো আজকের ই মতো, ঠিক এই আজকে যেমন আমার হটাৎ মনে পরে গেলো একটা আমার পার্থিব স্বপ্নের কথা....একটা বাড়ি, বাগান দিয়ে ঘেরা। বাড়িটার ২ টো দেওয়াল হবে শুধু কাঁচ এর। ঠিক আমার nbrc এর ঘর টার একটা দেওয়াল যেমন শুধু কাঁচের। ঐরকম কাঁচের হবে। পুরোটা। আর পুবদিকে জানালা থাকবে, অনেক বড় বড়। চাঁদনী রাতে সেখান দিয়ে চাঁদের আলো ভাসিয়ে দিয়ে যাবে আমার বিছানা, পড়ার টেবিল, লেখার খাতা, পেন রাখার জায়গা, violin এর তার আর ফুলদানি তে রাখা ফুল ও ওই চাঁদের আলোয় হয়ে উঠবে মায়াবী। আর চৈত্র মাসে ভেসে আসবে গন্ধরাজ আর বেলির আদর। শরতের শিউলির আলতো হাসিও আমি দেখতে চাই ওই জানলা দিয়েই। কিন্তু এতো হলো ঘরের ভিতরের কথা। আসল সুর শুরু হবে আমার ওই ঘরের বাইরের বাগান থেকে। বাগানের গেট টা হবে ঠিক আমার ছোটবেলার বাড়ির আগের গেট টার মতো। আধখোলা, রক্তনীল করা অপরাজিতা আর মাধবীলতায় মোড়া। বসন্তের পরে যখন গাছে গাছে কচি পাতারা খেলা করবে, বাতাস যখন বারবার এলোমেলো করে দেবে আমাদের সমস্ত ভাবনার ডালি, তখন চাঁদনী রাতে ফুলের গন্ধের মাঝে একটা দোলনা থাকুক না.....আর সেই দোলনা যদি ফুলের হয়,?জানি ভাবনা বোধয় একটু বেশি ই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে। ক্ষতি কি, এ আমার একান্ত আপনার স্বপ্ন চয়ন। আমার সেই ফুলের দোলনা, একটা ছোট্ট নীল পদ্ম দীঘি। হালকা ভাবে কখনো তা দেবে আমাদের ভিজিয়ে আবার কখনো তার পাড়ে বসে হবে নতুন কোনো স্বপ্ন চয়ন।  থাকবে একরাশ শিউলির কোলাহল। গন্ধরাজের পাগলপারা আহ্বান। সবুজ ঠিক এখানকার যে সবুজ টা আমার ভীষণ প্রিয়, সেই চিকন সবুজ রঙের মাঝে আমার স্বপ্নদ্বীপ এ সবসময় হবে একটা ঝকঝকে সকাল , দুপুর আসবে মদির হয়ে, আলোছায়ার স্বপ্ন জাল বুনে। সন্ধ্যা হবে শান্তি স্তব এর মধ্যে দিয়ে আর রাত্রি নামবে নিস্তব্ধ, সুন্দরকে আলিঙ্গন করে। সেখানে চাঁদনী রাতে ঝুলন এর রোমাঞ্চতা শিহরণ জাগিয়ে যাবে, একাদশীর বাঁকা চাঁদ দেবে স্বপ্ন দেখার আহ্বান। গাঢ় অন্ধকার এর রাতে থাকবে হাজার তারার রোশনাই। আর এই সব কিছুর মধ্যে দিয়ে আমরা অপেক্ষা করে থাকবো আগামীর। আর দুচোখ ভরে স্বপ্ন দেখবো। বেঁচে থাকাটা প্রাণ ভরে, প্রতিনিয়ত অনুভব করে চলবো। আর স্বপ্ন এঁকে নেবো বারবার, ওই মায়া কাজল চোখে দিয়ে চলোনা আমরা আমাদের প্রতিদিনের প্রতিনিয়ত সকল ঘাত প্রতিঘাত কে অস্বীকার করে, স্বপ্ন দেখি। চলো বাঁচি আবার বাঁচার আনন্দে।
একদিন এই স্বপ্ন আমি প্রতিনিয়ত দেখতাম। আমরার আর একজন কে, তা জানার তখন প্রয়োজন ও ছিলোনা , তার অনুভব ও ছিলোনা, আজ সময়ের সাথে সাথে সে স্বপ্ন এর বীজ ঘুমিয়ে পরেছিল. হটাৎ দূর থেকে ভেসে আসা এক প্রতিধ্বনি খুব অন্যভাবে, অন্য মায়ায় আবার আমার সেই স্বপ্ন, স্বপ্নমাখা দোলনাকে মনে করিয়ে দিয়ে গেল। 






Friday, 30 March 2018

পরিচয়

যে আসন দিলে তুমি আমায়,
তার যোগ্য আমি নয়।
বোলোনা বোলোনা আমায়
 হয় বড় ভয়।
কিভাবে, কেমনে জানিনা
হলো এই পরিচয়।
শেষ হয়ে সব কিছু হয় নাই শেষ
মন কেন ভেসে যায়
হায় এ কোন আবেশ।
চাঁদ বলে আয় আয় ,
পাখি যায় ডেকে।
আমি শুধু চুপ করে
দেখি দূর থেকে।
আকাশে বাতাসে আজ সর্বনাশের খেলা ,
মেঘ আর চাঁদে মিলে ভাসিয়েছে ভেলা।
কখনো লুকায় শশী তার ওই মুখ,
মেঘ তাকে ডাকে কাছে -
পেয়ে সর্ব সুখ.
আবার কখনো বা চন্দ্রমা
দিগন্ত ভুলায় ,
মেঘ তার পিছে চলে হয়ে নিজহারা
এভাবে অভ্র কুমুদের আপন মায়ায়
ভেসেছে আমার নিশি হয়ে বাণিহারা।
আপনি মাধুরীতে শশী আপনি সুন্দর,
ভাবে সে বোধয় ওই সরসীর এ এক কৌশল।
চাঁদের জ্যোৎস্নায় ভাসি ,
সরসী বলিছে হাসি ,
আমি কেউ নয়।
আকাশে ভূমিতে আর কি বা পরিচয়।
তোমার তুমিতে তুমি আপনি মহান ,
নিজ গুণে পেয়েছো সবা মাঝে স্থান।
ভুলেছিলে তুমি তব আপন কিরণ।
তাই দেখে আমি শুধু দেখিয়েছি
তোমার নিজ প্রতিফলন।
আমি খুশি এই দেখে  তুমি আছোভালো ।
যে আলো তোমার  অধিকার ,
তা তুমি জ্বালো।।



Monday, 26 March 2018

রূপকথা

শেষের কবিতার অমিত বা গোড়ার গৌড়মোহন, গুরুগম্ভীর পন্ডিতমশাই ই হোন বা আমাদের মতো ১০টা পাঁচটার চাকায় নিষ্পেষিত কোনো মানুষ, কোথায় যেন সবার মাঝে লুকিয়ে আছে সেই এক ছোট্ট মিষ্টি বীরপুরুষ। একটা অনুভূতি প্রবণ, কল্পনা প্রবণ, স্বপ্নের জগতে বেঁচে থাকা মন যেখানে যা কিছু ঘটে সবকিছুকেই মনে হয়,  আমি পারি সব পারি। বড় বড় ইমারত, ইঁট কাঠ পাথর নয়, কিছু নরম নরম মিষ্টি আবেগ, একটু আদর আর ছোট্ট ছোট্ট মিষ্টি অভিমান ফল্গু ধারার মতো বয়ে চলে আমাদের সবার ভেতরে। রোজকারের বেঁচে থাকার যুদ্ধ তাতে প্রলেপ দিয়ে দেয় কাঠিন্যের। সময়ের আগেই হয়তো কখনো অজস্র দায়িত্বের ঘেরাটোপে আমাদের ভেতরের সেই প্রাণবন্ত বীরপুরুষ অভিমানে ঠোঁট ফুলিয়ে একেবারে চুপ করে, মনের এক কোণে নিজেকে বন্দী করে রাখে। সময়ের সাথে সাথে , তার বন্দীত্বের মেয়াদ দীর্ঘ্য থেকে দীর্ঘ্যতর হয়, আর তারপর কখন সে ভুলেই যায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে।  তার নিজের সেখান থেকে বেরোনোর ইচ্ছেটাই একেবারে চলে যায়।

আজ জানো, তোমাদের এক বীরপুরুষের গল্প বলবো, শুনবে? সেই যে মনে আছে? যখন যুদ্ধ চলছিল "ঢাল তলোয়ার ঝনঝনিয়ে বাজে"....সেই রকম যুদ্ধ। .প্রতিনয়ত। .যুদ্ধক্ষেত্র হয়তো আলাদা হয়, কিন্তু যুদ্ধের বিরাম হয়না, যুদ্ধ শেষে কখনো তাতে আমাদের সবার ভেতরের সেই বীর,..কখনো তারা জয়লাভ করে, কখনো বা ক্লান্ত হয়ে পরে। সেইরকম এক যুদ্ধ ক্লান্ত বীরপুরুষ একদিন এসে বসেছিল এক নদীর পাশে, নদী চলছিল তার আপন নিয়মে, সে নিয়ম কখনো ভাঙ্গেনা। ভাঙলেই যে বড় ভয় , যদি সবকিছু ভেসে যায়, তাই সে সবসময় নিজেকে ওই নিয়মের গন্ডীর ভেতরে রাখে, ওই সীমারেখা সে আপনি টেনেছে, ওর ভেতরে থেকেই সে ছুটে চলেছে দূর থেকে দূরে, বর্ষায় উচ্ছসিত হয়েছে, শীত এ শুষ্ক, গরমে বিদগ্ধ। কিন্তু তার ওই গণ্ডীর ভেতরে।

একদিন দূর থেকে যখন সে দেখলো, ওই মিষ্টি বীরপুরুষ ক্লান্ত হয়ে গেছে বড়। হু হু করে উঠেছিল বুকের ভেতরটা। মনে হয়েছিল তার সমস্ত জল টুকু দিয়ে ভিজিয়ে দি ওই ক্লান্তিটুকু, মুছিয়ে দি সমস্ত পরাজয়। আর তারপর অনেক আদোরে অনেক যত্নে সেই বীরপুরুষ স্নিগ্ধ ছায়াতে তার দুচোখে স্বপ্ন এঁকে নিক তারপর আবার দিগ্বিজয়ে বের হোক। নদীর সে কথা শুনতে পেয়েছিলো বুঝি মানুষটা।ধীর পায়ে এগিয়ে এলো সে। তারপর পারে বসে কত কথা হলো দুজনার। নদী বললো তার চলার কথা আর বীরপুরুষ বললো সে এক রাজকন্যা কে আনতে যাচ্ছে, তার জন্যেই এ যুদ্ধ। তারপর ধীরে ধীরে সূর্য্য পাটে বসলো, যে ভোরের সূচনা একসাথে হয়েছিল, সন্ধ্যাকাশের ওই শুকতারা জানান দিয়ে গেল দিবাবসানের কথা। সেদিন রাতে ছিল একটা ফালি চাঁদ, আর চৈত্র মাসের আকাশ ভরে গেছিলো তারায় তারায়। যুদ্ধে ক্লান্ত বীরপুরুষ ঘুমিয়ে পড়েছিল, নদী তার ছলাক ছলাক শব্দে চেষ্টা করছিলো তার সবটুকু ক্লান্তি দূর করে এই পৃথিবীর সমস্ত সুন্দর কে ওই দুচোখে ঘুমের ছলে এনে দিতে। দূরে কোথাও থেকে ভেসে আসছিলো বেহাগ এর সুর।

তারপর হটাৎ ঝড় উঠলো , বৃষ্টি আর বজ্রপাতের আওয়াজে ঘুম গেলো ভেঙ্গে, চোখে তখনো স্বপ্নের রেশ লেগেছিলো তার, বাঁশির শব্দ তখনো যাচ্ছিলো শোনা। ভালো করে কিছু বোঝার আগেই তৈরি হয়ে নিতে হলো যুদ্ধের জন্যে। নদী তাকে সঙ্গ দিলো। মনে করিয়ে দিলো, রাজকন্যা কে আনতে যেতে হবে যে। নিজে হাতে যুদ্ধবেশে সাজিয়ে রণভূমিতে পাঠিয়ে দিলো। তলোয়ার যেমন রইলো সে হাতে, ঢাল ও তুলে দিলো নদী নিজে অপর হাতে। নদী জানতো, এ যুদ্ধে সে জয়ী হবেই। আর মনে মনে রাজকন্যা কে বললো, দেখো কন্যে, আমার বীরপুরুষ কে সামলে রেখো। বড় অভিমানী মন তার, যত্ন করে, আদরে মুড়ে দিও তাকে। যুদ্ধশেষে সে এখনো খোঁজে একটা স্নেহময়ী হাত, একটা ভালোবাসার কোল। তাই যুদ্ধশেষে যখন তোমাকে জয় করে আনবে সে, তখন ওই কোল পেতে দিয়ো, যে অপার ভালোবাসায় তুমি তার কাছে ফিরে এলে, সে ভালোবাসা দিও তাকে উজাড় করে।

কোনো এক পড়ন্ত বিকেলের আবীর রঙে রাঙিয়ে রাঙা ঘোড়াকে সঙ্গে নিয়ে সেই ছোট্ট বীরপুরুষ তার  নদীর কাছে এসে বসেছিল। দুজনের কেউ ই বুঝতে পারেনি যে কখন এক মধুর মিতালি হয়ে গেছিলো। সে মিতালীতে ছিল একে অপরকে নিজ নিজ গন্তব্যে এগিয়ে চলার নির্দেশ। সে "বন্ধনহীন গ্রন্থি" তে ছিল স্বপ্ন দেখার আহ্বান। সেই সখ্যতার মধ্যে কখনো ছিল ছোট্ট ছেলের দামালপনা, কখনো বা মা এর মতো শাসন, আবার কখনো বা খেলার সঙ্গী হারানোয় দুই শিশুর মতো একে অপরের কাছে অশ্রুসজল অবোধ অনুযোগ।

আজ আবার এক পড়ন্ত বিকেল। নদীর পারে সূর্য্য আবার পাটে বসেছেন। ধ্যানমগ্ন শান্তিতে নদী স্থির করেছে নিজেকে। ছোট্ট বীরপুরুষ এখন অনেক বড়, সে তার ঘোড়া ছুটিয়ে চলে গেছে অনেক দূরে। নদী জানে, যে যুদ্ধ এখন চলছে, সে যুদ্ধ শেষ হবেই। যুদ্ধজয়ী পরিণত বীর খুঁজে পাবে তার সুখী গৃহকোণ। রাজকন্যের হাত ধরে সেই ঘরের কোণে সন্ধ্যারতির মধ্যে দিয়ে নেমে আসবে শান্তি। আর নদী, নদী সেই সুখী গৃহকোণের শান্তিবারিতে নিজেকে করবে স্নিগ্ধ, করবে সমৃদ্ধ। আর মনে মনে বলবে, দেখো কন্যে, আমার বীরপুরুষ কিন্তু সত্যি ই বড় বীর। অসীম তার ধৈর্য্য, সহ্য। যত যুদ্ধই চলুক, দেখো সে যেন আহত না হয়। আর বীরপুরুষ, তার জন্যে শুধু একটাই কথা, যেকথা বলতে চেয়েছিলো, কিন্তু তখন আর বলা হয়নি, সেটা হলো, তোমার ওই দামাল মনটাকে শিকলে বেঁধোনা, খুব নরম তো, জোর করে বাঁধলে লাগবে, তাকে যত্নে রেখো। আদরে। আর ভালো থেকো।। খুব।







Sunday, 25 March 2018

প্রদীপের শিখা

সেই ছোট্ট বেলা থেকে একটি ছোট্ট মেয়ে তার মনের যা কিছু ঠাকুরকে জানাতো। মনে পরে ক্লাস ফাইভ এর এডমিশন টেস্ট এর আগে ঠাকুরকে বড় বড় দুটো চিঠি লেখা হয়েছিল, তাতে কখনো ভালোবেসে কখনো রীতিমতো শাসিয়ে ঠাকুরকে বলা হয়েছিল একটা কথাই, যেন ওই এডমিশন টেস্ট এ যেন তার হয়ে যায়। তখন ওটাকেই জীবনের সব থেকে বড় পরীক্ষা বলে মনে হয়েছিল কিনা, তাই মনে হয়েছিল ফাইভ এর ওই এডমিশন টেস্ট এ পাশ করে গেলেই ব্যাস আর কিছু চাইনা। মনে আছে, পরে যখন মা এর হাতে পরে চিঠিগুলো, বাড়িতে খুব একচোট হাসির ঝড় উঠেছিল। এখনো পর্যন্ত সেই গুলো নিয়ে সবাই ওকে রাগায়। শুধু একজন মানুষ, একজন মানুষ কিন্তু ওকে নিয়ে হাসাহাসি করেনি, আস্তে করে, লজ্জায় আধখানা হয়ে যাওয়া সেই ছোট্ট মান্তুকে ঘর থেকে বের করে, আদর করে বলেছিলো, "বেশ করেছিস, এবার থেকে যা মনে হবে, বলিস তুই ঠাকুরকে। তোর ই তো ঠাকুর।" 
বাবার বুকে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিল বাবার আদরের মান্তু। কেন কেঁদেছিলো সেটা সে নিজেও জানেনা। কিন্তু ছোট থেকেই চাপা স্বভাবের মেয়েটা যখন একটা জায়গা নিজের মনে করে সেখানে তার চাওয়া , পাওয়া, অভিমান, ভালোবাসা সব উজাড় করে দিয়েছিলো আর ওর সেই জায়গাটা সবার সামনে হাজির হয়ে যাওয়াতে বা সবার সামনে হাসির খোরাক হয়ে যাওয়াতে, খুব রাগ হয়েছিল। খুব কষ্ট হচ্ছিলো। কষ্টটা কি ঠিক সে নিজেও সেই বয়সে বুঝতোনা। কিন্তু ওই একটা মানুষ, ওই একটা মানুষ বুঝেছিলো।

আর তখন থেকে মান্তুর ছিল দুটো জায়গা। একটা তো সেই জন্মাবস্থা থেকেই তার নিজের। ওই সদা হাস্যময় মানুষটা। আর একটা ওই মানুষটার থেকে গ্র্যান্টেড হয়ে যাওয়া ওই ঠাকুরের আসন। সেই থেকে আজ ও ওই ঠাকুরের আসন তাকে খুব শান্তি দিতে পারে। এখন যখন আর এডমিশন টেস্ট নয়, প্রতি নিয়ত অজস্র পরীক্ষা দিতে দিতে খুব ইচ্ছে করে সেই ছোট্ট বেলার মতো বাবার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়তে, যখন খুব ইচ্ছে করে বাবার সঙ্গে টিনটিন, asterix বা পাগলা সাহেব কে ভাগ করে নিতে, তখন শুধু এই একটা জায়গাই যেন ওকে খুব যত্নে কাছে বসিয়ে সেই পাগলামো গুলোকে প্রশ্রয় দেয়। একবার ও মনে করিয়ে দেয়না সময় নষ্টের কথা। একবারো তাড়া দেয়না।

ধীরে ধীরে সন্ধে নামে। শাঁখ ঘন্টা ধুপ ধুনোর মধ্যে দিয়ে অনেক প্রতীক্ষার মধ্যে দিয়ে, হয়তো অনেক প্রশ্নের উত্তরের মধ্যে দিয়ে,রচিত হয় শান্তি। সেদিনের সেই ছোট মেয়েটা আজ অনেক বড় হয়ে গেছে। এখন আর পরীক্ষাতে ভালো করে উত্তীর্ণ হলে আনন্দ উৎসব হয়না, তবু বাবার সেই কথাটা সবসময় মনে পরে , satisfaction . বাবা কখনো জিজ্ঞেস করতোনা পরীক্ষা কেমন হয়েছে, বলতো "তুই satisfied তো?" ব্যাস। ওই একটা মানুষ যে সবসময় তার মনের ওই সন্তুষ্টির খোঁজ নিয়েছে। হাসি মুখের পিছনে অন্য কোনো দুঃখের কথা সেই মানুষটা ঠিক বুঝে যেত। সাত বছর পেরিয়ে গেছে , সামনে এসে কেউ হয়তো জিজ্ঞাসা করেনি। তবু ওই যে চোখ বন্ধ করে যখন খুঁজি ওই কথাটা ঠিক শোনা যায় "তুই satisfied তো ?" হ্যাঁ বাবা, তোমার মান্তু নিজেকে কখনো কষ্টে থাকতে দেবেনা। তুমি ই তো শিখিয়েছিলে, সবসময় যদি ভালো কথা ভাবা যায়, ভালো কথা, ভালো গান, ভালো মানুষদের সংস্পর্শের মধ্যে দিয়ে নিজেকে নিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে আর কোথাও কোনো কষ্ট থাকেনা। কোনো দুঃখ থাকেনা। আমারও ঠিক তাই হয় জানো, এখনো, বেশিক্ষন কোনো মনখারাপ, কোনো দুঃখই আমাকে কষ্টে থাকতে দেয়না। তুমি কিছু ভেবোনা বাবা। তোমার মান্তু খুব ভালো আছে। 

বাইরে তখন চলছে 
Khandana bhava-bandhana jaga-vandana Vandi-tomay; Niranjana nara-rupa-dhara Nirguna guna-may.
Mochana agha-dushana jaga-bhushana Chid-ghana-kay; Jnananjana vimala-nayana Vikshane moha jay.
........................................................
........................................................
Nirbhaya gata-samsaya drira-nischaya Manasavan; Nishkarana bhakata-sarana Tyaji jati-kula-man.

তুমি কিছু ভেবোনা বাবা। তোমার মান্তু খুব ভালো আছে। এই যে প্রদীপের শিখা যা এখুনি আমি জ্বালিয়ে রাখলাম, সে আলো তে আমার, আমাদের চারপাশের কোনো কারোর অন্তরাত্মা কে আমি কখনো আঁধারে রাখবোনা। ওই যে, বড় সাধ আমার এই প্রদীপের শিখার, ক্ষুদ্র সে, সাধ্য নেই, তবু সাধ সব জায়গায় সব খানে সব অন্ধকার যেন দূর হয়ে যায়। জানি একদিন তা হবেই। ঘরের কোণায় কোণায় জ্বলে উঠবে হাজার বাতি। আমাকে তখন আর কারোর কোথাও মনে পড়বেনা হয়তো, সে না পড়ুক, আমি কিন্তু দুচোখ ভরে দেখবো ওই হাজার আলোর রোশনাই। আর মনে মনে বলবো "প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে , মোরে আরো আরো দাও প্রাণ। "




Saturday, 24 March 2018

Lovely saturday night

It's twelve now,
O my lovely Saturday night.
It's not necessary to get you in my arms
o dear-
but it's true that I always found love everywhere,
and laughter in every single thing.
and it's true that it's a wonderful night.
even if there is nothing-
nothing to dance or sing or recite,
but still, I found everything in my life
and happy not to get many too
and there's no denying
that
its my lovely lovely saturday night.

Thursday, 22 March 2018

semicolon

রাস্তা আমাকে সবসময় ভীষণ টানে। দুপাশে বিশাল বিশাল গাছ আর মাঝখান দিয়ে একটা লম্বা রাস্তা। শুধু যেন বলে এগিয়ে চল এগিয়ে চল। তবে শুধু সেই রাস্তাই বা কেন , ওই যে সকাল বেলাতে যখন ক্যাব করে বা অটো করে আসি, সকাল বেলাতে তখন রাস্তা ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। আমার তো বেশ লাগে সেটা দেখতে। দিল্লিতে সকাল একটু দেরিতেই হয়, মানে একটু পশ্চিমে তো তাই আমাদের ওখানকার থেকে একটু দেরিতে আমার সূয্যি হেসে ওঠে এখানে, তবে এখানে মানুষজনের সকাল খুব তাড়াতাড়ি শুরু হয়। একদম ঘুম ভেঙেই কাজের মধ্যে লোকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেটাও আমার খুব ভালো লাগে। বাবা মা সবসময় বলতো সকাল হলো কাজের সময়। আর কি জানি কেন,  কেমন যেন আমার মনে হয়, ওই যে রাস্তা পরিষ্কার, ওইখান থেকে শুরু হয় আমাদের দিনের। বিগত রাতের যত মলিনতা, আগের দিন এর যা কিছু না পাওয়া, সব কিছু সাফ করে, নতুন করে সুন্দর করে শুরু হয় আমাদের দিন। সেই এক ই রাস্তা, আবার নতুন করে সেজে ওঠে, নতুন পথ চলা। সব না পাওয়া, ব্যর্থতাকে পিছনে ফেলে আগামীর দিকে তাকানো। কি সুন্দর। 

ঘুম থেকে উঠে যখন ব্যালকনিতে এলাম। একটা ঠান্ডা হাওয়া চলছিল। গত কাল রাতে একটু বৃষ্টিও হয়েছিল, সেই বৃষ্টি আমার মনখারাপের সঙ্গে মিশে গিয়ে কেমন এক শূন্য বাতাবরণের সৃষ্টি করেছিল। সকালেও তার রেশ যায়নি, ঘুম থেকে ওঠার আগেই চোখ বন্ধ করেই ভাবছিলাম বৃষ্টি হচ্ছে কি? সকালে বৃষ্টি আমার খুব মনখারাপ করায়। 
বারান্দায় এসে কিন্তু এক অদ্ভুত সুন্দর  সময়ের সাক্ষী হলাম। দেখলাম, পশ্চিম আকাশে কালো মেঘ আর পুব আকাশে লাল সূর্য্য। আর এই দুয়ের মাঝে, হালকা হালকা কালো লালে মেশানো রঙে সমস্ত আকাশ একদম আদুরে হয়ে ঘুম চোখে তাকাচ্ছে। যেন কোনো ছোট্ট শিশু ঘুম ভেঙে চোখ রগড়াতে রগড়াতে মা এর আঁচল খুঁজছে। কেমন ঘোর লেগে যাচ্ছিলো আমার। ঘোর কাটলো নিচে জমাদারের রাস্তা পরিষ্কারের শব্দে। দিন শুরু র সুর, একটু হয়তো কর্কশ, কিন্তু তাতে কি? খুব সত্যি যা কিছু হয়ে থাকে, তাওতো সবসময় মধুর হয়না, কখনো কখনো তো খুব কর্কশ ও তো লাগে, মেনে নিতে কষ্ট হয়, মনে হয়, এই সময় এই সত্যি টা কি আমাকে না বললেই হতোনা। তবু সত্যি টাকে ইনিয়ে বিনিয়ে মিথ্যে করে সাজিয়ে গুছিয়ে না বলে সোজাসুজি পরিষ্কার করে বলে দেওয়াই বোধয় ভালো। প্রথমে কর্কশ লাগলেও, সময়ের সাথে সাথে, মিথ্যের বাহ্যিক চাকচিক্য খসে পরে যায়, কিন্তু সত্যি তার আপন সৌন্দর্য্যে আরো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। 

একটু পরে দিনের শুরুর সাথে তাল মেলাতে মেলাতে আমার আজকের চলা হলো শুরু। রাস্তা তখন পরিষ্কার হয়ে গেছে , কুট্টুস গুলো লেজ নাড়তে নাড়তে অলস ভাবে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্কুল কলেজ এর ছেলে মেয়েরা দাঁড়িয়ে, ছেলেরা কেউ একটু আড়চোখে কেউ বা একটু desparately মেয়েদের কে দেখার চেষ্টা করছে। বেশ মজা লাগে আমার। ওদেরকে দেখলে মনে হয় এখনো প্রাণ আছে, এখনো প্রাণ ছড়িয়ে আছে চারিদিকে। হয়তো ওই একটু চাহনি একটু হাসি বারবার ক্লাস এর মাঝে মনে পড়বে ওদের। অপেক্ষা করে থাকবে আবার পরের দিনের ওই একটু চাহনির জন্যে। কি মিষ্টি, নিষ্পাপ চাওয়া। সময়ের সাথে সাথে হয়তো এরা আর কেউ ই কারো সাথে থাকবেনা, বা থাকলেও হয়তো সেই চাহনির চাহিদা থাকবেনা, আবার হয়তো বা নিশ্চই কেউ কেউ ওই চাহিদা ধরে নিয়ে এক ই ভাবে পথ চলবে। সে যাই হোকনা কেন, যা কিছু হবে খুব ভালোই হবে। যে যার মতো করে নিজের মতো করে পথ বাছবে, সেই পথে চলবে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কতজনের সাথে দেখা হবে।কখনো বন্ধুর, কখনো মসৃন পথ। কত মোড়, কত বাঁক। কোন বাঁকে কি অপেক্ষা করে আছে আমরা কেউ জানিনা। destiny , কোথায় কিভাবে কাকে চেনাবে কিছু জানিনা। তবু ওই পথ বড় সুন্দর। বড় নেশা আছে চলার মধ্যে। আর ওই পথ দিয়ে হেঁটে আসা সবকটা ধাপ, সমস্ত stepping সেই সময়ের জন্যে যাই হোক না কেন, পরে যখন আমরা ফিরে তাকাবো, দেখবো ওই স্টেপ গুলোই ছিল হয়তো আমাদের জীবনের জন্যে বেস্ট। আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়ে গেছে জীবনকে। 

গতকাল রাত থেকে একটা মনখারাপ, একটা শূন্যতা, ঠিক ভুল এর এক দোলাচল এর মধ্যে ছিলাম। কেমন যেন এক ক্লান্তি আমার সারাদিনটাকে শ্রান্ত করে দিছিলো বারবার। ভীষণ এক যুদ্ধ চলছিল মনের মধ্যে। একটা অদ্ভুত টানাপোড়েন এ বড় পরিশ্রান্ত হয়ে যাচ্ছিলাম বারবার। 
বিকেলের কফি, খুব প্রিয় আমার। পড়ন্ত রোদে ক্যাফেটেরিয়ার সামনের বাগানটা খুব মায়াবী হয়ে ওঠে। একটা proof কারেকশন নিয়ে কথা হচ্ছিলো। আমাকে দিয়ে একজন বললো, তুমি ই দেখো, এটা , probably you are the best person to do a unbiased judgment. আমি কেন বলাতে সে বললো because you could see things more simply. উফ এই লেখাটা যে লিখেছে, এতো ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে জটিল করে লিখেছে যে তার থেকে সার বস্তু খুঁজে বের করাই মুশকিল। you do it.
সত্যি তো যে সত্যি আর সিম্প্লিসিটির আমি বড়াই করি, যে সিম্প্লিসিটি আমি খুঁজতে পারি বলে, লোকে unbiased judgment করাতে চায়, সেই আমি জীবনের আসল দিক টা যে ভুলেই যাচ্ছিলাম। simplicity. অনেক বেশি কিছু না ভেবে সোজা ভাবে থাকাই তো জীবন। জীবন তো এত জটিল নয়। একটা সরল রাস্তা যে। সেই রাস্তায় পাশে হেঁটে যাওয়ার মধ্যে কোনো জটিলতা নেই। ভালোলাগার মধ্যে কোনো গ্লানি নেই। কোথাও কাউকে এতটুকুও কোনো ঠকানো নেই, ফাঁকি নেই। বরং ভালোলাগাটা কুড়িয়ে নিয়ে, সত্যি টাকে সাথে করে পাশের মানুষটার হাত কি শক্ত করে ধরা যায়না? পড়ন্ত বিকেলের রোদ , সকালের নরম ভাবনা গুলোর মিষ্টতাকে আবার ফিরিয়ে দিয়ে গেলো, আর তার  সাথে মিলেমিশে এক হয়ে অনন্য মায়াজাল তৈরি করে দিলো। মনে হলো ঠিক যেন একটা রাস্তা, আর কেউ যেন হাত ধরে রাস্তা পার করে দিলো।

আর আমি প্রথম সেন্টেন্স টাতেই দেখলাম একটা সেমিকোলন। সেমিকোলন, A semicolon is when an author could have chosen to end a sentence, but chose not to. 
আঃ. beutiful . Life is beautiful .











Tuesday, 20 March 2018

Akash amar vorlo aloy

Vabnar var lekhonite ujar Kore na diye thakte parlamna sesh parjanto. Har manlo mathar asahyo jantronao. Ekta chera pata urte urte ese pouchechilo Amar hate. Se lekhar govirata amar marmosthal parjanto jano shihorito Kare dilo...ak akdvut bedona abar ak nirbak shantite amar duchokh chapiye jol uchle uthche aj. Bujhlam se jal thamano amar nijer khamotar baire. Buker vetor ajasro na bola kathar dheu shudhu balish vijiye dite laglo. Tai abosheshe ashroy khunjlam ei Android er blog e.
Sabkatha guchiye balar moto sharirik ba manosik abosthay aj Ami nei. Moner sab Katha Tai tule dharte parchina. Shudhu sei lekhoker uddeshye boli.. appekkhay thakbo. Tumi janona kabi, tomar lekhoni baro Maya jarano, ador makhano. Oi lekhonir jore tumi sab na paoake prapti dio, ghrina ke valobese hayo garbito, swapno diye vore jak tomar ghareo sabkata deoal. R oi je tomar baganer je golaper kuri? Dekho r kadiner madhyei charidik alo Kare se hese uthbe.

Monday, 19 March 2018

খুব ক্লান্ত লাগছে। 
ভীষণ এক শূন্য, স্তব্ধ , ক্লান্তি।  
হে আমার মহিমাময়, আমার শক্তি হয়ে জড়িয়ে রাখো আমায়।

Why again

An old pic-
Some old words,
Made me walk in the down memory lane.
Felt the same warmth on my cheek,
That same feel-
Why again?

Sunday, 18 March 2018

নিস্তব্ধতা

নিস্তব্ধতা যখন খুব গভীর হয়, তখন ভীষণ অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে। আজ সারাদিন বাতাস ছিল একেবারে স্থির। নিস্তব্ধ। কি যেন একটা ভারে এই মন হয়েছিল মৌন। খুঁজছিলো এক স্থির, নিরবিচ্ছিন্ন ভালোলাগা। সন্ধের আরতি তাকে পূর্ণতা দিলো। 
যখন পৌঁছলাম কালীবাড়িতে, সূর্য্য তখন সবে অস্ত গেছে। আকাশে তার সোনার বীনার রেশ তখনো মিলিয়ে যায়নি। শিব মন্দিরে আরতি শুরু হয়ে গ্যাছে তখন। সেই শাঁখ ঘন্টা ধ্বনির মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামলো। মাকে আজ ও বড় সুন্দর করে সাজানো ছিল। ফুলে ফুলে ভোরে ছিল মা এর সিংহাসন। পরনের শাড়ি ছিল আজ গাঢ় বেগুনি। ধুপ, ধুনো, ফুল, বেলপাতা, একটানা ঘণ্টার শব্দ আর ওই স্নেহদৃষ্টি। বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠেছিল। বুঝতে পারিনি, ওই জায়গাটা আমার এতটা নিজের। আস্তে আস্তে কখন দেখলাম, সন্ধ্যে নেমেছে। বুকের ভেতর লক্ষ হাতুড়ির শব্দ আর সামনে ওই নির্মল স্মিত মুখ। ধীরে ধীরে সব কোলাহল কোথায় মিলিয়ে গেল। চোখের সামনে রইলো শুধু ওই প্রদীপের ওঠানামা। সন্ধ্যা আরতির একটানা সুর। চারিদিকের কোলাহল, শব্দ, কথা , কোথায় যেন সব ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল, শুধু মনে হলো ওই সামনের মা আর মা এর স্নেহদৃষ্টি যেন আমাকে সিক্ত করে দিচ্ছে। কালকে থেকে বড় নদীর কাছে যেতে ইচ্ছে করছিলো, শান্ত বাতাস, একটু স্থির শান্তি। আজ যেন ওই দৃষ্টির মধ্যে দিয়ে সেই শান্ত সমীরণ আমাকে ছুঁয়ে গেল। আপনা থেকে হাত জড়ো হয়ে গেল, ক্ষুদ্র এ মন। প্রার্থনা ছাড়া আর কিছু যে দেবার নেই। শুধু সেই অন্তরের সমস্ত শুভ ইচ্ছা কে এক করে এ মন বলে উঠলো, এই শান্ত মলয় যেন সবার কাছে পৌঁছে যায়। যে শান্তির স্পর্শে আমার অন্তরাত্মাকে আমি বারবার জাগিয়ে রাখি, সেই শান্তি সবার সব ঘরের কোণ কে যেন ছুঁয়ে যেতে পারে।
বাড়ি ফিরে এলাম। যে প্রদীপ আজ এখানে জ্বলে উঠলো, সেই প্রদীপের সাধ্য খুব সামান্য কিন্তু বড় সাধ তার সমস্ত অন্ধকার কে দূর করে আলো জ্বালানোর। সে আলো আমার ঝড়ের রাতেও নিভবেনা, বৃষ্টির শব্দ তাকে রোমাঞ্চিত করতে পারে, কিন্তু নিভিয়ে দেবেনা। সেই আলো যাকনা , যাকনা জ্বলে। আর ওই বাতাস প্রার্থনা হয়ে বয়ে যাক। দুচোখে দিক ভালোলাগার হাত বুলিয়ে। 

GOd Help them who help themselves . ভগবান তাকেই সাহায্য করে, যে নিজে নিজেকে সাহায্য করে

 আমাদের জীবনে অনেক রকম phase আসে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রত্যেক মুহূর্তের নিজস্ব কিছু কারণ থাকে, কিছু purpose যা অনেক পরে আমরা বুঝতে পারি। কখ...