Sunday, 12 April 2020

সন্ধ্যে নামছে। ঠিক সন্ধ্যে নয়, গোধূলী। সূর্য্য সবে পাটে বসেছে। এবারে আসতে আসতে অস্তাচলে পাড়ি দেবে। কোনো কোনোদিন মাঝেমাঝে কত দীর্ঘ্য হয়ে যায়, আবার কোনো কোনোদিন কেমন চট করে চলে যায়। সব ই , সবকিছুই বোধয় perspective তাহলে। আমাদের ভালোলাগার ওপরে নির্ভর করে চলে সবকিছু। তাহলে অনিত্য কি। অনিত্য কি। কিছুই নয়। কিছুই স্থির নয় বোধয়। সব ই কেন পরিবর্তনশীল। সময়ের সাথে সাথে কেন সব বদলে যায়, কেন যেভাবে যা কিছু আমরা পাই তাই কেন আমরা চাইনা। আর চাওয়া, সেই চাওয়ার ও কত প্রকার, কত ধরণ। কেউ চায় রাশি রাশি বিলাসিতা। কেউ চায় সুখী গৃহকোণ। মনের মতো করে রান্না করে গুছিয়ে খাওয়াতে। এ পৃথিবীর মধ্যে স্থির শান্তি কেন নেমে আসেনা? ধরিত্রী কেন তার আপন মাধুরী এক ভাবে সবার সামনে এক রকম করে তুলে ধরেনা ? কেন কখনো কখনো এমন বিষাদ ময় বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে মন। কেন মনের মধ্যে শুধু বলে চলি কেন কেন কেন। অথচ সে কেনো এর কোনো উত্তর আসেনা, কোনো উত্তর পাইনা। শুধুই আরো আরো বিষণ্ণতা ঢেকে আসে। 

আকাশ যেন আজ গভীর নীল রঙে ধ্যানমগ্ন। আসতে আসতে সূর্য্য তার দিনের সবটুকু কাজ গুটিয়ে ধীরে ধীরে আবীর রঙে সবকিছুকে রাঙিয়ে আজকের মতো বিদায় নিচ্ছেন। ভীষণ শান্ত, নিস্তব্ধ চারিদিক। কোথাও এতটুকু কোনো শব্দ নেই। যেন সমস্ত প্রকৃতি একসাথে হাত জড়ো করে দিনের দিবাকর কে বিদায় সম্ভাষণ জানাচ্ছে। আসতে আসতে আমার বিক্ষিপ্ত মন থিতু হচ্ছে। কেমন যেন ঘোর লাগছে। ঠিক ভুলের বিচারে, তিরস্কৃত ক্লান্ত শ্রান্ত মন এই ধ্যানমগ্ন প্রকৃতির সাথে একাত্ম হচ্ছে। জাগ্রত হচ্ছে বোধি। প্রাণপণে খুঁজছে তার নিরবিচ্ছিন্ন শান্তির স্থল। চোখের জল এর মধ্যে কেমন যেন একটা পবিত্রতা আছে। চোখের জল যেন আমাদের অন্তরস্থল কে গভীর স্নেহে অভিষিক্ত করে যায়। লেখার মধ্যে একটা অদ্ভুত কিছু ঘটলো। এই এখন ই লিখতে লিখতে হটাৎ এক ঝলকআলো এসে পড়লো আমার মুখে, ভেজা চোখে। অস্তগামীর বিদায় রশ্মি। দিনের শেষ আদর টুকু। কি ছিল ওই আলোর মধ্যে, দিনের বিষাদ এর জন্যে তিরস্কার, নাকি বা ভীষণ মায়া। ভীষণ যত্ন। যে মায়া , যে যত্ন টুকুর জন্যে সবসময় আমার মনের মধ্যে হাহাকার করে, যে যত্ন যে মায়া টুকু আমি কাউকে দেবার জন্যে উন্মুখ হয়ে থাকি। যে যত্ন সম্পর্ক বোঝেনা, বোঝেনা অধিকারের হাজারো বেড়াজাল, সেই যত্ন যেন পিতার কাছে তাঁর স্নেহের কন্যার কাছে আসার মতো করেই আমাকে ছুঁয়ে গেলো। 

আকাশ আরো লাল, চারিদিক আরো শান্ত আরো নিস্তব্ধ। শাঁখ এখানে বাজেনা, ধুপ জ্বালাবো। চন্দন ধুপ। বসবো আজ অনেক্ষন আজ আমার ঠাকুরের কাছে। না কোনো অভিযোগ নেই আমার তাঁর কাছে, কোনো জিজ্ঞাসা নেই। শুধু নিজের দিনের প্রাপ্তি টুকু নিবেদন করার আছে। কোনো এক গভীর বোধের গোপন প্রাপ্তি আমাকে এনে দিলো এক নির্বেদ, নির্লিপ্ত শান্তি। প্রার্থনা করি এই শান্তি যেন ছুঁয়ে যায় তোমাকেও, যে টানাপোড়েন তোমার মধ্যে চলছে, অস্থির করে রেখেছে, ক্লান্ত করে দিয়েছে, মুক্তি পাও তুমি তার থেকে। স্থির নিস্তরঙ্গ এই শান্তির জলে অবগাহনএর পরে ঝড় থামুক। বেল ফুলের নরম পাপড়ির মতো তোমার মন কে আগলে রেখো সকল আঘাত থেকে। 


Saturday, 11 April 2020

মাঝেমাঝে হটাৎ চারপাশ টা কিরকম শূন্য হয়ে যায়। চেনা মানুষ চেনা মুখ কিভাবে বদলে যায়।  চেনা? না চেনাই বা কিকরে, ভুল তো আমি করেছি। খুব কম জনেই মনে করতে পারে, একটা মানুষ একলা ঘরে এতদিন সবাইকে ছাড়া কিভাবে একাকী আছে, খুব কম মানুষ ই একলা রাতের মধ্যে বুক ফাটা কান্না টা বুঝতে পারে। কেনই বা বুঝবে কেউ? কি দায় তার? ভুল যা সব ই শুধুই যে আমার। এই কান্নাও তাই আমার। একান্ত আমার প্রাপ্য। মানুষ না বুঝে তাকে ভুল জায়গা দিয়ে দেওয়া। সেই দায় আমার। এই একলা ঘর এর দায় আমার। এ কান্না আমার। এই অন্ধকার রাত্রি দমবন্ধ করা হাহাকার আমার। এত কষ্ট হতে পারে, এইরকম দম বন্ধ করা কষ্ট। ভীষণ কষ্ট। ভীষণ ভীষণ। 

Sunday, 5 April 2020

তোমাকে মনে পড়ছে। খুব বেশি করে। পারছিনা কিছুতেই। ভীষণ ভাবে বারবার মনের মাহে উঁকি দিয়ে যাচ্ছ তুমি শুধু তুমি। 

অবসরের জানালায় সবার জন্যে খোলা চিঠি

Hi, কথা বলছি নিউ ইয়র্ক থেকে। হ্যাঁ , ঠিক ই বুঝেছেন। করোনার epicentre যে নিউ ইয়র্ক সেখান থেকেই। গত পরশুদিন গোটা USA তে মারা গেছে হাজারের ও বেশি মানুষ। আমার দেশ এও সংখ্যা বাড়ছে, তার থেকেও বেশি বাড়তে চলেছে না খেতে পেয়ে থাকা মানুষের সংখ্যা। আমার পুরোনো প্রতিষ্ঠানের দুজন কলিগ এর থেকে জানলাম প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান গুলো অর্থনৈতিক মন্দা বন্ধ করতে কিভাবে স্যালারি কম করে দিতে চাইছে। মরিয়া হয়ে খুঁজছে কিছু ফরেন collaboration , যেখান থেকে খড় কুটোর মতো ভেসে থাকতে চাইছে। এসব তথ্য এই আমাদের সবার জানা। তবু আমাদের অনেকের মন ই কিছুতেই আর ঘরের মধ্যে থাকতে চাইছেনা। মনে হচ্ছে ইশ পাড়ার দোকান টাতে বসে কবে যে আড্ডা দেব। এখানের চিত্র ও এরকম ই কিছুটা। আমার জানালার নিচেই আছে এক সবুজ পার্ক। সেখানে প্রতিদিন ই স্বাস্থ সচেতন মানুষ বোধয় খোলা আকাশের নিচে আলো হাওয়া নেবে বলে আসে এবং নাকে মুখে কিছু না বেঁধেই আসে , নাকে মুখে কিছু বেঁধে এলে আলো বাতাস একটু কম ভেতরে প্রবেশ করতে পারে তো। এবং সব বয়সের লোকেদের ই বেশ হলিডে মুড এ একটা পিকনিক পিকনিক মেজাজে জগিং করতে, হাঁটতে এবং গল্প করতে দেখা যায়। ফলত USA এর সংখ্যা যে কেন বাড়ছে সেটা বুঝতে বিশেষ অসুবিধে হয়না। আমার এই অবসরের জানালাতে বসে আমি সারাদিন ধরে এই আকাশ টিকে দেখি। এই যে আকাশ টি দেখছেন। এই আকাশ টি। তো এই আকাশ আমাকে দিয়েছে নিজের মধ্যে একান্ত নিজের মতন করে থিতু হবার আর ভাবনার সময়। এই ভাবনার মধ্যেই চলতে থাকে আমার দৈনন্দিন কাজ, ঘরের কাজ, গবেষণার কাজ, অল্প অল্প আঁকা, লেখা, কবিতা, গল্প, গান। অনেকদিন পরে আবার আকণ্ঠ ডুব দিতে পারছি গল্পের বই এর দুনিয়াতে। পাচ্ছি ঠাকুরের সামনে বসে নিরবিচ্ছিন্ন ধ্যান মগ্ন সন্ধ্যার সান্নিধ্য। আর আপাতত কফির কাপ এ চুমুক দিতে দিতে না ভাবতে চেষ্টা করছি যে আমি আমার কাছের মানুষদের থেকে অনেকদূরে, কবে কোথায় তাদের দেখতে পাবো জানিনা বা আমি একা , বা আমার একলা বয়স্ক মা কিভাবে হাসিমুখে লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছে। এইসব। কারণ গোটা দুনিয়া আজ যে গভীর সংকট এর মধ্যে দিয়ে চলেছে বা চলতে যাচ্ছে, তার সামনে আমরা যারা নিজেদের চাল ডাল টা অন্তত আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখতে পারছি , তাদের নিজ নিজ ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ তুচ্ছ হয়ে যায়। অন্যমনস্ক হতে চাইছি আমাকে গতকালকে পাঠানো একটি ছবি থেকে, এক পিতার ছবি, যে দুটো ভাতের আশায় একদিন নিজের জায়গা ছেড়ে হরিয়ানার রাস্তা তৈরির কাজে এসেছিলো, আজ এই অতিমারীতে সেই দুমুঠো ভাতের আশা অনির্দিষ্ট কালের জন্যে বন্ধ হয়ে যাওয়াতে, পায়ে হেঁটে প্রায় মৃতপ্রায় ক্ষুধার্ত অবস্থায় নিজের জায়গাটা তে ফেরার চেষ্টা করছে, যেখানে অন্তত মাথার ওপরে একটা ছাদ আছে। ছবিটি সত্যি। অসংখ্য মানুষ এইভাবে এক ই কারণে বাড়ি ফিরছেন, আমার পুরোনো প্রতিষ্ঠানের কিছু সহকর্মী চাঁদা তুলে এদের হাতে তুলে দিয়েছে কিছুটা রাস্তার রসদ আর বেসিক কিছু স্বাস্থ্য সচেতনতা। তাই এছবি আমার কাছে পৌঁছেছে। কিন্তু এও জানি, তাদের প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের কিছুই সাধ্য ই নেই কিছু করার। শুধু একটা জিনিস ছাড়া , সেটা হলো এই ভাইরাস টিকে কিছুভাবেই কোনো হোস্ট বডিএর প্রশ্রয় না দেওয়া অর্থাৎ কিনা আমরা আপনারা যারা কিনা বাড়ি থেকে না বেরিয়ে খেতে পড়তে পারছি তারা অন্তত চেষ্টা করি বাড়িতে থাকতে। যত সঠিক ভাবে আমরা এইটা পালন করবো তত তাড়াতাড়ি ওই দিন আনতে দিন খাওয়া মানুষ গুলো আবার হাসি মুখে কাজ করে খেতে পারবে। তত তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হবে আমাদের চারপাশের ছবিটা। কিছুদিন পরে আবার কিন্তু আপনাকে আমাকে ট্রেন ট্রাম বাস মেট্রোতে ভিড়ে ঝুলে ঝুলে বসার জায়গার জন্যে লড়াই করতে করতে বা tarffic জ্যাম এর মধ্যে গাড়ি নিয়ে আটকে পরে শুরু করতে হবে গ্রাসাচ্ছাদনের চিন্তা। তখন ও আমি নিশ্চিত আমাদের কারোর কারোর মনে হবে বেশ চিলত quarrnatine এর সময় টা, ফেইসবুক জুড়ে আবারো আস্তে শুরু করবে those time বা missing corona এলেও আশ্চর্য্য হবোনা। আমরা সবসময়েই সময় চলে যাবার পরে তার মূল্যটা বুঝতে পারি আর সেই সময় টা কি নেই এর হিসেবে করতে করতে কি আছে সেটা দেখতেই ভুলে যাই, পরে হা হুতাশ করতে বসি। তার থেকে বরং এই সময়টাকেই উপভোগ করি। আসুননা। চারপাশের জগৎ টাকে তো দেখাই হয়না, মোবাইল এর ছোট্ট স্ক্রিন ই মুখ ডুবিয়ে যাওয়া আর আসা। আজ যখন প্রকৃতি সুযোগ দিয়েছেন, দেখে নিন চারপাশটাকে কে বলতে পারে, হটাৎ করে খুঁজে পেলাম কোনো নতুন সঙ্গীকে। ধরুন আপনার পাশের বাড়ির দস্যু বেড়াল টা যে একলা দুপুর বেলা কেমন ঘন্টার পার ঘন্টা ওই আম গাছের তলায় একটা গাছের দল নিয়ে খেলা করে চলে, আপনি হটাৎ ই আবিষ্কার করলেন তা।অথবা সেই কবে থেকে কে জানে, আপনার বাড়ির সামনের জামরুল গাছে থাকা এক সুন্দরী অথিতি বিহঙ্গ যে আপনাকে রোজ সকালে ঘুম ভাঙ্গায়, একদিন হটাৎ ই সায়াহ্ন এর আলোছায়ায় আপনার সাথে দেখা হয়ে গেলো তার। কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধুর হাতে আঁকা ছবি আমাকে ভীষণ ভাবে মুগ্ধ করে দিয়েছিলো। সে নিজেও হয়তো জানতোনা তার মধ্যে এত সুন্দর এক শিল্পী সত্বা লুকিয়ে আছে। আমাদের জীবনটা বারো সুন্দর। চারপাশের সবকিছুও। আর সময়ের ও বারো দাম। আজ পাচ্ছি, কালকে এই সময় আর নাও থাকতে পারে। এতগুলো বছর তো সবার ভালো থাকার জন্যে রোজগার করে গেছেন, আজ একটু নাহয় নিজের আকাশটা দেখলেন, সারাদিন রান্নার পরে আজ নাহয় চট করে একটু খোলা হাওয়ায় গিয়ে দাঁড়ানোই হলো। নিজের হাতে যদি রান্না করে সবাইকে খাওয়ানোর সুযোগ না পেয়ে থাকেন রোজ, তবে এই কদিন সেই সুযোগ টাকে ব্যবহার করুন প্রাণ ভোরে।
কি জানেন আমরা জানি ই না যে আমাদের মনের কোণে কোথায় লুকিয়ে আছে কোনো গায়ক, বাদক, শিল্পী, ফটোগ্রাফার, সুর তাল ছন্দ মায়ায় ভরা মানুষ। দৈনিন্দিন ব্যস্ততার মধ্যে তা কোথায় চাপা পরে গিয়ে হারিয়ে যায় একসময়। রাজকুমারীর দরকার নেই আমরা নিজেরাই নিজেদের ভেতরের সেই সুপ্ত বীরপুরুষের ঘুম ভাঙাতে পারি একটু সোনার কাঠির ছোঁয়ায়। সময়ের সাথে সাথে সবকিছু হালকা ভাবে নিয়ে এখন ই বেরিয়ে পড়বেন না। অসংখ্য ডাক্তার নার্স পুলিশ প্রশাসন অনলস চেষ্টা করে চলেছে আমাকে আপনাকে সুরক্ষিত রাখতে, দিনের পার দিন বাড়ি যেতে পারছেনা। ডাক্তার দের মুখে মাস্ক এর দাগ হয়ে গেছে , আপনি আমিতো শুধু  শুয়ে বসে বাড়িতে আছি। এটুকুই তো করণীয়। এটুকুই করি। 

 আবারো বলছি  যত তাড়াতাড়ি আমরা না বেরিয়ে সমাজকে সংক্রামন মুক্ত করে ফেলতে পারি, তত তাড়াতাড়ি আমরা তো বটেই ই ওই দিন আনি দিন খাই মানুষগুলোও আবার বেরোতে পারবে। বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভবিষ্যতের চিন্তায় শয্যা নিয়েছেন সত্যি। আমি জানি আপনারা এসব ই জানেন এবং মনে করছেন আমি আবার জ্ঞান দিচ্ছি। হা দিচ্ছি। রোজ দিনা। আজ দিচ্ছি। কারণ আমাদের মধ্যে অনেকেই আমার ছেলে মাংস ছাড়া ভাত খেতে পারেনা বা টাটকা মাছ ছাড়া খাবো কিভাবে বলে বেরোচ্ছেন এবং মাছের পেট টিপে, রসিয়ে রসিয়ে কচুর লতি হাতে ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরছেন। যদি আপনার পাঁচ বছরের ছেলে এখন ই বিশেষ কোনো পদ ছাড়া ভাত না খেতে পারে, তবে এটুকু বলে দিতে অসুবিধে হয়না যে , আপনার ছেলেকে কিন্তু ভবিষ্যতে তাহলে বেশির ভাগ সময় ই নাখেয়েই কাটাতে হবে।  কারণ সাধের খাবার  টুকু কোলকাতাতে সহজলভ্য হলেও কলকাতা থেকে বাইরে বেরিয়ে বেশি দূরে নয় দিল্লি তে গিয়ে থাকলেই ওটাকে বিলাসিতা মনে হবে। বাস্তবিক ই জানেন দিল্লিতে থাকাকালীন বহু জিনিসকে আমাদের বিলাসিতা মনে হয়েছে, যেমন প্রতিদিন ২৫টাকা piece এর রসগোল্লা খাওয়াটা। তাই কস্মিৎ ক্কাল ছাড়া দিল্লিতে কখনো রসগোল্লা কিনে খাইনি। খেতে ইচ্ছে করলে নিজে বাড়িতে দুধ থেকে ছানা কাটিয়ে বাড়িতে রসগোল্লা তৈরি করে ফেলেছি। এবং এরকম বহু জিনিস ই দু ঘন্টা দু ঘন্টা চার ঘন্টা যাতায়াত এর পরেও নিজে হাতে রান্না করে পরিবেশন করে দেখবেন খারাপ লাগেনা। বাচ্ছাকে অযথা প্যাম্পার করে ভবিষ্যৎ টি ঝরঝরে না করে তাকে সবরকম পরিস্থিতে মানিয়ে নিতে সেখান। কষ্ট হচ্ছে শুনতে তো? খারাপ লাগছে? মনে হচ্ছে, নিজের ছেলে হলে বুঝতিস। হ্যাঁ। কিজানেন নিজের ছেলে বা মেয়েকে আমি তার এইরকম কোনো বায়না মিটিয়ে দিতামনা এবং ভবিষ্যতেও দেবোনা। বরং এই বয়স থেকেই চেষ্টা করতাম তাকে ওই ক্লান্ত, ক্ষুধার্থ, আর্ত , অসহায় মানুষগুলোর চিত্রটার সঙ্গে পরিচিত করতে এবং বোঝাতে যে খাবার বিলাসিতা নয় খাবার হোলো নেসেসিটি। আর তারপরেও সে যদি মুখ ভার করে থাকতো, তাহলে বুঝতাম মানুষ করতে পারছিনা আমি। 
আর একটা কথা আজ না বলে পারছিনা, ভুল কম বেশি সবাই করে থাকে, আপনি আমি সবাই। তাই অযথা কোনো এক বিশেষ সম্প্রদায়ের দিকে আঙ্গুল না তুলে আসুননা, একটু মানুষ হয়ে তাকাই একে অপরের দিকে। এতো মানুষের মৃত্যু, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে রোগী ডাক্তার এর এত অজস্র কাহানি তো সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় পাতায়, তবু কি একটু বদলাতে পারিনা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিকে। আগে সময় ছিলোনা ভাবার, এখন তো পেয়েছি সময়, আসুননা নিজেদের অন্তরে একবার গভীর ভাবে তাকিয়ে দেখি, সেখানে কি শুধুই অসহিষ্ণুতা? compassion নেই? empathy ? এগুলো কি শুধুই বইতে পড়া শব্দ?  আমাদের ভেতরের সেই আমি টাকে জাগিয়ে তুলি চলুন। মানুষ তো আমরা। আমরাই পারবো। জানেন এই সময় কিভাবে আমাদের কত মানুষ চিনিয়ে দিয়ে যায়, এই যে সারাদিনে কত অজস্র ফোন, msg আমার খবর জানতে চেয়ে আমার কাছে আসে। এমন কত মানুষ আছে, যারা প্রতিদিন শুধু একবার তিস্তা? লিখে চুপ করে থাকেন। বছরের পার দেখা না হওয়া কত মানুষ স্যুধু একটি বার নিজের মুখে শুনতে চাইছে কেমন আছি, বাইরে বেরোতে বাড়ান করছে, ভালো ভালো বই পাঠাচ্ছে হোয়াটস্যাপ মেসেঞ্জার এ। তাদের আন্তরিকতায় বুক ভোরে যায়।  এইতো। কে বলে আমরা যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছি। আমরা পারছি। আমরা পারবো ও. চলুন সবাইকে নিয়ে একসাথে এই সময়টাকে পেরিয়ে যাওয়া যাক। জীবনে এক সাথে চ্যালেঞ্জ নেবার সত্যি সময় এসেছে এবার। শাড়ি পাড়ার মধ্যে ভালোলাগা থাকতে পারে, চ্যালেঞ্জ যদি নিতে চান এইসময় সহিষ্ণুতা দেখিয়ে নি চলুন। আর আপনাদের এ ঘরের কোনো মেয়ে, বৌ অথবা বন্ধু যদি এক অজানা দেশে মাটি থেকে ১০ য়ালা উঁচুতে একটি এপার্টমেন্ট একা টিভি ছাড়া, নেটফ্লিক্স, হৈচৈ কিছুর দরকার বোধ না করে , লোকজনের মুখ না দেখে, শুধু এই জানালা দিয়ে আকাশ দেখে বৈচিত্র মে করে তুলতে পারে নিজের জীবন। তাহলে আমি নিশ্চিত, আপনারা সাছন্দে নিজেদের সময়টা উজাড় করে নিজেদের আরো একটু বেশি ভালোবেসে আর সমৃদ্ধ করে গৃহ বন্দী হয়ে থাকতে পারবেন। 

অবসরের জানালায় সবার জন্যে খোলা চিঠি 














Wednesday, 1 April 2020

এইরকম নিরম্বু একা এতগুলো দিন কোনোদিন থাকিনি। একেবারে একা। তার ওপরে নতুন দেশ, নতুন পরিস্থিতি। হটাৎ করে এক ঝলক বাতাসের মতোই দৈনিন্দিন জীবনে দিয়ে গাছে অবসর। চিন্তার ভাবনার এক প্রশস্ত পরিসর। আমার সকাল শুরুর ওই জানালার ধার দিয়ে কখনো আসে ঝকঝকে আকাশ, কখনো আসে মেঘলা দিন। আর আমি ভাবতেই থাকি, ভাবতেই থাকি। ভাবনা আমার বড় প্রিয়। ব্যস্ততার দিন গুলোতে যখন স্থির ভাবে কিছু ভাবতেও সময় পেতামনা, পরপর পরপর কাজের সারি, চিন্তাকেও একমুখী করে দিতে বাধ্য করে, এমন সময়ে আমার ভেতরের ভাবনার দল ডানা ঝাপটিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে চায়। আজ তারা বাইরে বেরিয়ে এসেছে। 

সময়ের নিক্তিতে ঠিক ভুলের বোঝাপড়া রা ভীড় করে আসে। নিজের দুরন্ত আবেগ এখন সংযত। ভাষাহীন ভালোবাসা গভীর আঘাত আর ব্যাথা থেকে নিতে শুরু করে জীবনের শিক্ষা। জীবন সিনেমা নয়, জীবন যে জীবন ই। আমার সেই স্থির শান্তি আর বিশ্বাস আজ যেন সমূলে নাড়িয়ে দিয়েছে কেউ। কেন করলাম এ ভুল। কেন হলো আমার এ ভুল। আমিতো এমন ভুল করার নয় কেউ। তবু কেন হলো, কিকারেই বা হলো। সব ই কি ভুল ই ছিল তবে। এ হাহাকার যেন আজ সারাদিনে কেমন এক শূন্যতা বয়ে আনতে লাগলো। আমি বোধয় হেরেই গেলাম। জিতেও হেরেও গেলাম। নিজের বোধ, বিশ্বাস। বড় অহংকার ছিল নিজের ওপরে। আজ যেন সব কেমন এলোমেলো। আমি ভুল করেছি। এতবার জিজ্ঞাসা করছি ঠাকুর তোমায়, বলছোনা কেন? বলোনা আমি ভুল করেছি। 

Tuesday, 24 March 2020

দেখতে দেখতে প্রায় একমাস  হতে চললো। আমি নতুন দেশে, অজানা অচেনা শহরের মাঝে। ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিচ্ছি নিজের জায়গাটা। দশ তলার ওপরে এই এক কামরার ছোট্ট এপার্টমেন্ট এ চড়ুই আসেনা। আসেনা সেই পায়রা গুলো। কিজানি ওদের আর খাওয়া হয়না বোধয়। আমি রান্না ঘরে গেলেই কেমন আমার সাথে কথা বলতে আসতো। 

চারদিকে মৃত্যুর স্তব্ধতা। পৃথিবীর ব্যস্ততম শহরে আজ এ কিসের করাল ছায়া নেমেছে। পিনড্রপ সাইলেন্সার মধ্যে এম্বুলেন্সের শব্দ ছাড়া যখন আর কিছু শোনা যায়না, তখন গৃহ পরিজন আপন জনেদের থেকে বহুদূরে এই দশতলার আকাশচুম্বী ফ্ল্যাট এর মধ্যে একাকী বসে যেন মনে আজ সত্যি ই মনে হচ্ছে আমার পৃথিবী কাঁদছে। এ আমার গ্রামবাংলার বৃষ্টি নয়, এ বৃষ্টি দেখে কবি গান গেয়ে ওঠেনা, এ বৃষ্টি দেখে মনে হয়, কাতারে কাতারে অসহায় প্রাণ যেন তাদের শেষ ভিক্ষা নিয়ে প্রকৃতির কাছে নতজানু হয়ে বলছে ফিরিয়ে দাও। আমার প্রবাসের একাকী জীবন যেন হটাৎ পেয়েছে অখণ্ড অবসর। চরম ব্যস্ততার পরে সেই অখণ্ড অবসর আমাকে দিয়েছে অসীম সুদূর প্রসারী ভাবনার। চেতনার কোন এক সুপ্ত স্তর থেকে যেন মন বলে উঠছে তবে কি সময় হয়েছে, এ পৃথিবীর সেই চরম মুহূর্ত ঘনিয়ে এসেছে কি? কোনো এক মহাপুরুষ বলেছিলেন প্রকৃতি কে তোমরা যদি লালন না করো , প্রকৃতি কিন্তু নিজের মতন করে নিজেকে লালন করে নেবে। আর সে বড় ভয়ঙ্কর। আজ কি তবে সেই সময় এসেছে? যখন প্রকৃতি চাইছে নিজেকে গুছিয়ে নিতে। কিন্তু সে যদি গুছিয়ে নিতে শুরু করে, তবে তো সে কিছুই দেখবেনা। staticstics  এবং Evolutionary এর ভাষায় একে বলে random selection  under a certain  circumstances irrespective of everything when a few get selected from a larger population. প্রকৃতির সেই সিলেকশন যে বড় ভয়ঙ্কর হয়।  সে দেখেনা কে কার ভাই বন্ধু মা বাবা সন্তান স্বামী। এইভাবেই তো কালের নিয়মে সৃষ্টি ধ্বংস চক্রাকারে চলেছে। সভ্যতার বড়াই করে আধুনিকত্বের ভুল ব্যাখ্যায় মানুষ যখন শুধুই ভোগ লালসা মদেমত্ত হয়ে আছে, সব কিছুকেই যখন অবজ্ঞায় হেসে উড়িয়ে দিতে চায়, মনে করে পৃথিবীটা যেন তাদের হাতের মুঠির ভেতরে তাদের ই নিয়ন্ত্রণে আছে। তখন অলক্ষ্যে বসে বিধাতা হাসেন বৈ কি। অযত্নে অবহেলিত প্রকৃতি স্বার্থান্বেষী লোভী এবং এই আমিত্বময় মানব জগৎ কে গোড়া থেকে নাড়িয়ে দিয়ে জানান দিতে হয় যে হে অবলা , ওঠো জাগো, সময় হয়েছে নিজের অন্তর স্থলের গভীরে কতদিন তাকিয়ে দেখোনি, তাকিয়ে দ্যাখো তার দিকে। স্বার্থ , লোভ, পরান্মুখতা ত্যাগ করে একবার আবার চলো তাকিয়ে দেখি চরাচরে।










Sunday, 12 January 2020

সামনে থেকে তো দ্যাখে সবাই / তুমি দেখো দেখার বাইরের চোখ দিয়ে/ বিশ্বাস করি, হারিয়ে যা খুঁজি / শুধু এই বুঝি / তুমি খুঁজে দেবে , বন্ধুর পথে / জ্যোৎস্না ভেজা রাতে / অথবা দুর্ভেদ্য কুয়াশা সরিয়ে। 

Sunday, 13 October 2019

আমার দুর্গা আজও আমার ঘর আলো করে
মাটির দুর্গা নাহয় গেলেন মণ্ডপ ছেড়ে 
সে যাওয়া যে নয়গো যাওয়া ওগো সে যে নিজের ঘরে গমন 
মা রে তুই যে আমার নিজের নিজের আমার বড় আপন 
দূর্গা হয়ে কোরো মা আমার দুর্গের (ঘর) রক্ষণ 
লক্ষী রূপে থাক মা আমার এই ঘরে নিরুক্ষন। 

তুই আমার দূর্গা মারে, রাতের কোজাগরী 
তুই আমার বীণাপাণি , আদোরে আদুরী। 

Wednesday, 9 October 2019

বিজয়া

নিশি পোহাইলো , উমা গেল চলি কৈলাশ অভিমুখ
বিরহী যক্ষ পাইলেন তাঁরে সংসার সম্মুখ
পতি সোহাগে সতী সোহাগিনী
যুগ যুগ ধরে তাঁরে খুঁজি
যেভাবেই পাই সেভাবেই চাই যতটুকু যা বুঝি
কৃষ্ণপ্রেম যবে মিশে যায় কালিদাস রচনায়
বুঝি সেইক্ষণে কি অমোঘ কারণে ভেদাভেদ মুছে যায়
বৈষ্ণব হোক  কিংবা শৈব, বিধিমতে বা বিরোধে
মূল কথা শুধু হলো প্রেম, লোক মতে, অমতে।
দুই দেহ, মন, শুধু অনুক্ষণ, লোক চোখ কিবা আসে
মায়াময় এ ভুবন অটুট বন্ধন  বেসো ভালো শুধু তার ই আশে।


Saturday, 14 September 2019

ভানুসিংহের পদাবলী


কবিগুরু মাত্র ১৬ বছর বয়সে আস্বাদন করেছিলেন ব্রজবুলি  ভাষার বৈষ্ণব পদাবলীর। আর তার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রচিত হয় ভানুসিংহের পদাবলীর। যার প্রতিটা ছত্রে ছত্রে লুকিয়ে আছে অসামান্য প্রেম পূজা। ভানুসিংহের পদাবলীতে আছে মোট  ২২ টি গান
  • "Boshonto aoulo re" ("বসন্ত আওল রে")
  • "Shunoho shunoho balika" ("শুনহ শুনহ বালিকা")
  • "Hridoyoko shadh mishaolo hridoye" ("হৃদয়ক সাধ মিশাওল হৃদয়ে")
  • "Shyam re, Nipoto kothino mon tour" ("শ্যাম রে, নিপট কঠিন মন তোর")
  • "Sajani sajani radhika lo" ("সজনি সজনি রাধিকা লো")
  • "Bodhua, hiya 'por ao re" ("বঁধুয়া, হিয়া 'পর আও রে")
  • "Shuna shokhi, bajoto bashi" ("শুন সখি, বাজত বাঁশি")
  • "Gohono kushumokunjo-majhe" ("গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে")
  • "Shotimiro rojoni, shochokito shojoni" ("সতিমির রজনী, সচকিত সজনী")
  • "Bojao re mouhan bashi" ("বজাও রে মোহন বাঁশি")
  • "Aju shokhi, muhu muhu" ("আজু সখি, মুহু মুহু")
  • "Shyam, mukhe tobo modhur odhorome" ("শ্যাম, মুখে তব মধুর অধরমে")
  • "Shojoni ga" ("সজনি গো")
  • "Badoroborokhono nirodogorojono" ("বাদরবরখন নীরদগরজন")
  • "Modhobo, na koho adorobani" ("মাধব, না কহ আদরবাণী")
  • "Shokhi lo, shokhi lo, nikoruno Madhob", ("সখি লো, সখি লো, নিকরুণ মাধব")
  • "Bar bar shokhi, baron koronu" ("বার বার সখি, বারণ করনু")
  • "Hom jobo na robo shojoni" ("হম যব না রব সজনী")
  • "Morono re" ("মরণ রে")
  • "Ko tuhu boulabi mouye" ("কো তুঁহু বোলবি মোয়")
  • "Shokhi re, pirit bujhobe ke" ("সখিরে, পীরিত বুঝবে কে")
  • "Hom shokhi darido nari" ("হম সখি দারিদ নারী")

রবীন্দ্রের রাবেন্দ্রিক ভাব অভিন্ন রেখে এই ভানুসিংহএর পদাবলীকে যদি আমরা আমাদের ভাষায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে আনতে চাই তাহলে খুঁজে পাই এক প্রেমাতুর প্রেমিক হৃদয়ের যে তাঁর প্রিয় মিলনের আশায় কোনো এক মিলন কুঞ্জ সাজিয়ে অপেক্ষা করছে আর অবিরত তার আবাহন করে চলছে। বলছে , সখি এস, ভয় না পেয়ে , লোকলজ্জা ত্যাগ করে আমার কাছে এস। তোমার প্রেমপূর্ণ হৃদয় কে নীল অন্তর্বাসে আচ্ছাদিত করে, তোমার ওই হরিণচোখে বিমল হাসি এনে আমার এই কুঞ্জবনে এস। ফুলের সৌরভে ভরা পাখির সুরে মদির এই জ্যোৎস্না রাত যে বৃথাই চাঁদের সৌরভে ভেসে যায়।

গহন কুসুমকুঞ্জ-মাঝে মৃদুল মধুর বংশি বাজে,
বিসরি ত্রাস-লোকলাজে সজনি, আও আও লো।
পিনহ চারু নীল বাস, হৃদয়ে প্রণয়কুসুমরাশ,
হরিণনেত্রে বিমল হাস, কুঞ্জবনমে আও লো॥
ঢালে কুসুম সুরভভার, ঢালে বিহগ সুরবসার,
ঢালে ইন্দু অমৃতধার বিমল রজত ভাতি রে।
মন্দ মন্দ ভৃঙ্গ গুঞ্জে, অযুত কুসুম কুঞ্জে কুঞ্জে,
ফুটল সজনি, পুঞ্জে পুঞ্জে বকুল যূথি জাতি রে॥
দেখ সখি, শ্যামরায় নয়নে প্রেম উথল যায়,
মধুর বদন অমৃতসদন চন্দ্রমায় নিন্দিছে।
আও আও সজনিবৃন্দ, হেরব সখি শ্রীগোবিন্দ
শ্যামকো পদারবিন্দ ভানুসিংহ বন্দিছে॥


এরপরে মিলন কাতর প্রিয় সম্মুখে লজ্জানত প্রিয়া কে দেখে সে আকুতি করে তার মুখপানে চেয়ে দেখার জন্যে। তার আগমনে যখন প্রিয়া বক্ষের কুসুমহার খসে পড়বে, খসে পড়বে সেই নীল আচ্ছাদন তখন হয়তো সেই মিলন আরো মধুময় হয়ে উঠবে সহচরী বৃন্দের মিলন গীতের মধ্যে, এ মিলন ওই নৃত্য গীতের মতোই আনন্দময় আবার গৃহবধূর স্বামী মঙ্গল কামনায় রাঙা সিঁথির মতোই পবিত্র। ওই মিলন কুঞ্জ আকাশ তখন মদির হয়ে উঠবে, মৌমাছি গুঞ্জরণে হবে চঞ্চল, আমার প্রিয়ার সোনার বর্ণ মঙ্গল দীপের মতো সেই আকাশ আলোকিত করে রাখবে তার নিজ গন্ধে সুরভিত হয়ে থাকবে ওই কুঞ্জ গৃহ।


সজনি সজনি রাধিকা লোদেখ অবহুঁ চাহিয়া,মৃদুলগম শ্যাম আওয়েমৃদুল গান গাহিয়া।পিনহ ঝটিত কুসুমহার,পিনহ নীল আঙিয়া।সুন্দরী সিন্দূর দেকেসীঁথি করহ রাঙিয়া।সহচরি সব নাচ নাচমিলন-গীতি গাও রে,চঞ্চল মঞ্জীর-রাবকুঞ্জগগন ছাও রে।সজনি অব উজার মঁদিরকনকদীপ জ্বালিয়া,সুরভি করহ কুঞ্জভবনগন্ধসলিল ঢালিয়া।মল্লিকা চমেলী বেলিকুসুম তুলহ বালিকা,গাঁথ যূথি, গাঁথ জাতি,গাঁথ বকুল-মালিকা।তৃষিতনয়ন ভানুসিংহকুঞ্জপথম চাহিয়ামৃদুল গমন শ্যাম আওয়ে,মৃদুল গান গাহিয়া।



যুথী বেলি মল্লিকা চামেলীর কুসুম্ভারে ভরা সেই পথ এর দিকে মিলন আশায় হয়তো যুগ যুগ ধরে কত ভানুসিংহ তৃষিত নেত্রে তাকিয়ে আছে। এমন জ্যোৎস্না ভরা রাতে এ লেখা কে ভীষণ ভাবে জীবিত করার জন্যে। 

এ পথ গেছে সেইখানে

  দেখতে দেখতে এক বছর হয়ে গেলো, ছোট্ট ছেলেটা স্কুল এ যাচ্ছে। স্কুল মানে playschool বা daycare. এদেশে ওয়ার্কিং পেরেন্টস দের ছোট্ট ছোট্ট ছানা...